প্রধান মেনু খুলুন

২০১৩ অ্যাশেজ সিরিজ

২০১৩ অ্যাশেজ সিরিজ (ইংরেজি: 2013 Ashes series) ইংল্যান্ডঅস্ট্রেলিয়ার মধ্যেকার অনুষ্ঠিতব্য টেস্ট ক্রিকেট সিরিজভূক্ত খেলা। লর্ড’স, ওল্ড ট্রাফোর্ড, ট্রেন্ট ব্রিজ, রিভারসাইড গ্রাউন্ড এবং ওভাল - এ পাঁচটি মাঠে সিরিজের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।[১] কিন্তু লর্ডসে অ্যাশেজের খেলা আয়োজন নিয়ে সংশয় রয়েছে[২] যা ১৮৮২ সালের পর প্রথম। পরবর্তীতে অবশ্য ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে লর্ডসে খেলা অনুষ্ঠানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।[৩] ১ জুন, ২০১২ তারিখে ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজের প্রথম টেস্ট আয়োজনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।[৪]

২০১৩ অ্যাশেজ সিরিজ
২০১৩ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ইংল্যান্ড সফর-এর অংশ
২০১৩ অ্যাশেজ সিরিজ এর লোগো.svg
দি ইনভেসটেক অ্যাশেজ সিরিজ ২০১৩ লোগো
তারিখ১০ জুলাই - ২৫ আগস্ট, ২০১৩
অবস্থানইংল্যান্ড
ফলাফলইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে বিজয়ী
সিরিজ সেরাইয়ান বেল (ইংল্যান্ড) ও রায়ান হ্যারিস (অস্ট্রেলিয়া)
কম্পটন-মিলার পদক:
ইয়ান বেল (ইংল্যান্ড)
দলসমূহ
 ইংল্যান্ড  অস্ট্রেলিয়া
অধিনায়ক
অ্যালাস্টেয়ার কুক মাইকেল ক্লার্ক
সর্বাধিক রান
ইয়ান বেল (৫৬২)
কেভিন পিটারসেন (৩৮৮)
জো রুট (৩৩৯)
শেন ওয়াটসন (৪১৮)
মাইকেল ক্লার্ক (৩৮১)
ক্রিস রজার্স (৩৬৭)
সর্বাধিক উইকেট
গ্রেম সোয়ান (২৬)
স্টুয়ার্ট ব্রড (২২)
জেমস অ্যান্ডারসন (২২)
রায়ান হ্যারিস (২৪)
পিটার সিডল (১৭)
মিচেল স্টার্ক (১১)

২০১৩ সিরিজটি প্রথমবারের মতো পরপর অ্যাশেজ সিরিজ। পূর্বে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে পরবর্তী বছর অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এবার ২০১৩-১৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় পরের সিরিজটি আয়োজনের সময়সূচী করা হয়েছে।

নাইন নেটওয়ার্ক এবং ফক্স স্পোর্টস অস্ট্রেলিয়ায় ও স্কাই স্পোর্টস ইংল্যান্ডে সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়

অস্ট্রলিয়া দল সমারসেট এবং ওরসেস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে দুইটি প্রথম-শ্রেণীর প্রস্তুতিমূলক খেলাসহ প্রথম ও তৃতীয় টেস্টের মাঝামাঝি সময়ে সাসেক্সের বিপক্ষে খেলে। এছাড়াও, চতুর্থ এবং পঞ্চম টেস্টের মাঝখানে নর্দাম্পটনশায়ারের বিরুদ্ধে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করে।

দলের সদস্যসম্পাদনা

২৪ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।[৫] ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফরে ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ আন্তর্জাতিক সিরিজ এবং ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুরো দল রয়েছে। এছাড়াও, ৩৫ বছর বয়সী ক্রিস রজার্স উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পাঁচ বছর পর একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের পর দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও জেমস ফকনার অল-রাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন। গত ১০ অ্যাশেজ টেস্টের ৯টিতে অংশগ্রহণকারী মিচেল জনসন দল থেকে উপেক্ষিত হয়েছেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লেগ স্পিনার ফাহাদ আহমেদ অস্ট্রেলীয় পাসপোর্ট গ্রহণ করতে না পারায় দলে অন্তূর্ভক্ত হতে পারেননি।[৬]

অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয় ৬ জুলাই, ২০১৩ তারিখে।[৭] প্রথম দুই টেস্টে অপরিবর্তিত দল নিয়ে খেলার পর তৃতীয় টেস্টের পূর্বে কেভিন পিটারসনের লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনে আঘাতপ্রাপ্তি ঘটে।[৮] ফলে, তার বিকল্প হিসেবে অনেক চিন্তা-ভাবনা করা হয়।[৯][১০] বিকল্প হিসেবে নটিংহামশায়ারের ব্যাটসম্যান জেমস টেলরকে অন্তর্ভুক্ত ঘটনা হয়।[১১] এছাড়াও নির্বাচকমণ্ডলী স্টিভেন ফিন এবং গ্রাহাম অনিয়ন্সকে তাদের ক্লাবে ফিরে যাবার অনুমতি দেয়া হয়। তাদের পরিবর্তে সিমার ক্রিস ট্রেমলেট এবং স্পিনার মন্টি পানেসারকে সুযোগ দেয়া হয়।[১২]

  ইংল্যান্ড   অস্ট্রেলিয়া
  • পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

খেলাসম্পাদনা

প্রথম টেস্টসম্পাদনা

১০-১৪ জুলাই
স্কোরকার্ড
২১৫ (৫৯ ওভার)
জোনাথন ট্রট ৪৮ (৮০)
পিটার সিডল ৫/৫০ (১৪ ওভার)
২৮০ (৬৪.৫ ওভার)
অ্যাস্টন অ্যাগার ৯৮ (১০১)
জেমস অ্যান্ডারসন ৫/৮৫ (২৪ ওভার)
৩৭৫ (১৪৯.৫ ওভার)
ইয়ান বেল ৯৫* (২২৮)
মিচেল স্টার্ক ২/৬৬ (২৭ ওভার)
২৯৬ (১১০.৫ ওভার)
ব্র্যাড হাড্ডিন ৭১ (১৪৭)
জেমস অ্যান্ডারসন ৫/৭৩ (৩১.৫ ওভার)
ইংল্যান্ড ১৪ রানে বিজয়ী
ট্রেন্ট ব্রিজ, নটিংহাম
আম্পায়ার: আলীম দার (পাকিস্তান) ও কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা)
ম্যাচসেরা: জেমস অ্যান্ডারসন

দ্বিতীয় টেস্টসম্পাদনা

১৮-২২ জুলাই
স্কোরকার্ড
৩৬১ (১০০.১ ওভার)
ইয়ান বেল ১০৯ (২১১)
রায়ান হ্যারিস ৫/৭২ (২৬ ওভার)
১২৮ (৫৩.৩ ওভার)
শেন ওয়াটসন ৩০ (৪২)
গ্রেম সোয়ান ৫/৪৪ (২১.৩ ওভার)
২৪৯/৭ডিঃ (১১৪.১ ওভার)
জো রুট ১৮০ (৩৩৮)
পিটার সিডল ৩/৬৫ (২১ ওভার)
২৩৫ (৯০.৩ ওভার)
উসমান খাজা ৫৪ (১১৩)
গ্রেম সোয়ান ৪/৭৮ (৩০.৩ ওভার)
ইংল্যান্ড ৩৪৭ রানে বিজয়ী
লর্ড’স, লন্ডন
আম্পায়ার: কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা) ও মারাইজ ইরাসমাস (দক্ষিণ আফ্রিকা)
ম্যাচসেরা: জো রুট (ইংল্যান্ড)
  • ইংল্যান্ড টসে জয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • ৪র্থ ইংরেজ হিসেবে ইয়ান বেল অ্যাশেজের পরপর তিনটি খেলায় সেঞ্চুরি করেছেন।[১৩]

তৃতীয় টেস্টসম্পাদনা

১-৫ আগস্ট
স্কোরকার্ড
৫২৭/৭ডিঃ (১৪৬ ওভার)
মাইকেল ক্লার্ক ১৮৭ (৩১৪)
গ্রেম সোয়ান ৫/১৫৯ (৪৩ ওভার)
৩৬৮ (১৩৯.৩ ওভার)
কেভিন পিটারসেন ১১৩ (২০৬)
মিচেল স্টার্ক ৩/৭৬ (২৭ ওভার)
১৭২/৭ডিঃ (৩৬ ওভার)
ডেভিড ওয়ার্নার ৪১ (৫৭)
টিম ব্রেসনান ২/২৫ (৬ ওভার)
৩৭/৩ (২০.৩ ওভার)
জো রুট ১৩* (৫৭)
রায়ান হ্যারিস ২/১৩ (৭ ওভার)
ম্যাচ ড্র
ওল্ড ট্রাফোর্ড, ম্যানচেস্টার
আম্পায়ার: মারাইজ ইরাসমাস (দক্ষিণ আফ্রিকা) ও টনি হিল (নিউজিল্যান্ড)
ম্যাচসেরা: মাইকেল ক্লার্ক (অস্ট্রেলিয়া)
  • অস্ট্রেলিয়া টসে জয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় চতুর্থ দিনে ৫৬ ওভার খেলা হয়।
  • পঞ্চম দিনে বৃষ্টির জন্য মাত্র ২০.৩ ওভার বোলিং হয় ও ১৬:৪০ ঘটিকায় খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

চতুর্থ টেস্টসম্পাদনা

৯-১৩ আগস্ট
স্কোরকার্ড
২৩৮ (৯২ ওভার)
অ্যালাস্টেয়ার কুক ৫১ (১৬৪)
নাথান লায়ন ৪/৪২ (২০ ওভার)
২৭০ (৮৯.৩ ওভার)
ক্রিস রজার্স ১১০ (২৫০)
স্টুয়ার্ট ব্রড ৫/৭১ (২৪.৩ ওভার)
৩৩০ (৯৫.১ ওভার)
ইয়ান বেল ১১৩ (২১০)
রায়ান হ্যারিস ৭/১১৭ (২৮ ওভার)
২২৪ (৬৮.৩ ওভার)
ডেভিড ওয়ার্নার ৭১ (১১৩)
স্টুয়ার্ট ব্রড ৬/৫০ (১৮.৩ ওভার)
ইংল্যান্ড ৭৪ রানে বিজয়ী
রিভারসাইড গ্রাউন্ড, চেস্টার-লি-স্ট্রিট
আম্পায়ার: আলীম দার (পাকিস্তান) ও টনি হিল (নিউজিল্যান্ড)
ম্যাচসেরা: স্টুয়ার্ট ব্রড (ইংল্যান্ড)
  • ইংল্যান্ড টসে বিজয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • মন্দ আলোয় দ্বিতীয় দিনে ৭৬.৪ ওভার খেলা হয়।
  • চতুর্থ দিন মধ্যাহ্নে বৃষ্টিজনিত কারণে খেলা দেরীতে শুরু হয়।

পঞ্চম টেস্টসম্পাদনা

২১-২৫ আগস্ট
স্কোরকার্ড
৪৯২/৯ ডিঃ (১২৮.৫ ওভার)
শেন ওয়াটসন ১৭৬ (২৪৭)
জেমস অ্যান্ডারসন ৪/৯৫ (২৯.৫)
৩৭৭ (১৪৪.৪ ওভার)
জো রুট ৬৮ (১৮৪)
জেমস ফকনার ৪/৫১ (১৯.৪ ওভার)
১১১/৬ ডিঃ (২৩ ওভার)
মাইকেল ক্লার্ক ২৮* (২৮)
স্টুয়ার্ট ব্রড ৪/৪৩ (১০ ওভার)
২০৬/৫ (৪০ ওভার)
কেভিন পিটারসন ৬২ (৫৫)
রায়ান হ্যারিস ২/২১ (৫ ওভার)
ম্যাচ ড্র
ওভাল, লন্ডন
আম্পায়ার: আলীম দার (পাকিস্তান) ও কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা)
ম্যাচসেরা: শেন ওয়াটসন (অস্ট্রেলিয়া)
  • অস্ট্রেলিয়া টসে জয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • বৃষ্টির জন্যে ২য় দিনে খেলা দেরীতে আরম্ভ হয়।
  • বৃষ্টির জন্যে ৪র্থ দিনে খেলা হয়নি।
  • মন্দ আলোকে খেলা শেষ হবার চার ওভার পূর্বে শেষ হয়।
  • ইংল্যান্ডের পক্ষে সিমন কেরিগ্যান, ক্রিস উকস এবং অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জেমস ফকনারের টেস্ট অভিষেক ঘটে।
  • ৫ম দিনে ৪৪৭ রান সংগৃহীত হয় যা যে-কোন অ্যাশেজ টেস্টে সর্বাধিক রানের নতুন রেকর্ড।[১৪]

সম্প্রচারস্বত্ত্বসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Durham to stage 2013 Ashes Test"BBC Sport। ৩০ জুলাই ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  2. Briggs, Simon (৩০ জুলাই ২০০৯)। "The Ashes: Durham give Test in 2013 but Lord's status remains unclear"The Daily Telegraph। London। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  3. "Trent Bridge to host Ashes Tests in 2013 and 2015"BBC Sport। London। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  4. "Ashes 2013: Trent Bridge hosts opening Test"BBC Sport। ১ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১২ 
  5. "Rogers and Faulkner in Ashes squad"Cricinfo। ESPN। ২৪ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১৩ 
  6. "Australia name Brad Haddin as vice-captain for Ashes series". BBC Sport (British Broadcasting Corporation). 24 April 2013. Retrieved 11 July 2013.
  7. Gardner, Alan (৬ জুলাই ২০১৩)। "Root to open as England name Test squad"Cricinfo। ESPN। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৩ 
  8. "Ashes 2013: Kevin Pietersen could miss third Test because of injury"BBC Sport। British Broadcasting Corporation। ২১ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৩ 
  9. "Ashes 2013: James Taylor gets chance to impress selectors"BBC Sport। British Broadcasting Corporation। ২৪ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৩ 
  10. Hopps, David (২৪ জুলাই ২০১৩)। "Four vie for chance to replace Pietersen"ESPNcricinfo। ESPN EMEA। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৩ 
  11. "Ashes 2013: James Taylor hits 121 as Australia draw with Sussex"BBC Sport। British Broadcasting Corporation। ২৮ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৩ 
  12. "Ashes 2013: England recall Taylor, Panesar and Tremlett"BBC Sport। British Broadcasting Corporation। ২৮ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৩ 
  13. "Ashes 2013: Ian Bell says England well placed despite late wickets"BBC Sport। British Broadcasting Corporation। ১৮ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০১৩ 
  14. "Records / Test matches / Team records / Most runs in one day"ESPNcricinfo। ESPN Sports Media। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৩ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা