প্রধান মেনু খুলুন

বিল হিচ

ইংরেজ ক্রিকেটার
(Bill Hitch থেকে পুনর্নির্দেশিত)

জন উইলিয়াম বিল হিচ (ইংরেজি: Bill Hitch: জন্ম: ৭ মে, ১৮৮৬ - মৃত্যু: ৭ জুলাই, ১৯৬৫) ল্যাঙ্কাশায়ারের র‌্যাডক্লিফে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন।[১] দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন বিল হিচ

বিল হিচ
1193364 Bill Hitch.jpg
ক্রিকেট তথ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৫০
রানের সংখ্যা ১০৩ ৭৬৪৩
ব্যাটিং গড় ১৪.৭১ ১৭.৮১
১০০/৫০ -/১ ৩/৩২
সর্বোচ্চ রান ৫১* ১০৭
বল করেছে ৪৬২ ৫৬৯১৭
উইকেট ১৩৮৭
বোলিং গড় ৪৬.৪২ ২১.৫৬
ইনিংসে ৫ উইকেট - ১০১
ম্যাচে ১০ উইকেট - ২৪
সেরা বোলিং ২/৩১ ৮/৩৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/- ২৩০/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

ল্যাঙ্কাশায়ারীয় বিল হিচ কেমব্রিজশায়ারের একটি ক্লাবে বোলিং করাকালীন সারের ব্যাটসম্যান টম হেওয়ার্ডের সুদৃষ্টিতে পড়েন। এরপর তিনি তাকে ওভালে খেলার জন্যে সুপারিশ করেন। ১৯০৭ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এর পরপরই অন্যতম সেরা দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারদের একজনরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯০৮ সালে ৫৮ উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, ওভালে কেন্টের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় ১৩ উইকেট পেয়ে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন। ১৯১০ সালের দ্বিতীয়ার্ধ্বে নিজেকে দর্শকদের সামনে উন্মোচিত করেন। ব্যাটিং অনুপযোগী উইকেটেও মিডলসেক্সের বিপক্ষে ৭৪ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলেছিলেন। নর্দাম্পটনে ৫৪ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ১০১ রান খরচায় ৯ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। রেজর স্মিথের সাথে এক ওভার বাদে উভয় ইনিংসে একাধারে অপরিবর্তিত অবস্থায় বোলিং করে যান।

ইংল্যান্ডে ১৯১১ সালের অস্বাভাবিক গ্রীষ্মেও ১৫১ উইকেট শিকার করে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। সচরাচর ধারনা করা হয়েছিল যে, তিনি তার সেরা ক্রীড়াশৈলী উজাড় করে দিয়েছেন ও অবশিষ্ট কিছুই আর রাখেননি যা শীর্ষস্থানীয় বোলারের সমমানসম্পন্ন নয়।

১৯১২ সালের গ্রীষ্মে ফাস্ট বোলারদের সফলতা দুরূহ ছিল। ঐ অবস্থায়ও তিনি লেটনে এসেক্সের বিপক্ষে খেলার ইতিহাসে কিছু দ্রুতগতিসম্পন্ন ও বিপজ্জ্বনক বোলিং করেন। এ সময়ে তার গতিবেগ ছিল প্রায় ৯৫ ৯৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা (১৫৩ কিমি/ঘ) মাইল। ১৯১৩ সালে বোলিংয়ের নিখুঁততা ধরে রেখে ১৭৪ উইকেট পেয়েছিলেন। খেলায় তিনি সাতবার দশ উইকেট পান। ফলশ্রুতিতে ১৯১৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন।[২] ১৯১৪ ও ১৯১৯ সালে এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেও এরপর থেকেই তার প্রচণ্ড গতি কমতে শুরু করে। তবে এর প্রতিদানস্বরূপ ১৯২১ সালে ত্রিশোর্ধ্ব গড়ে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ মিনিটে ঝড়োগতিতে ৭৪ রান তুলেন। এছাড়াও, ১৯২২সালে বাথে সমারসেটের বিপক্ষে মাত্র ৭০ মিনিটে খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯১১-১২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনের জন্যে তাকে দলে রাখা হয়েছিল। ১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেন। এছাড়াও তিনি ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে ১৯২০-২১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ও ১৯২১ সালে নিজ দেশে খেলেন। তবে সাত খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র ১১ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে ১৯২১ সালে ওভালে মাত্র ৪০ মিনিটে ৫১ রান তুলেছিলেন।

অবসরসম্পাদনা

১৯২৫ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে চার বছর খেলেন। এরপর গ্ল্যামারগনের কোচ মনোনীত হন তিনি। এছাড়াও, এ সময়কালে তিনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন। ৭ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে কার্ডিফে ৭৯ বছর বয়সে বিল হিচের দেহাবসান ঘটে।

খেলার ধরনসম্পাদনা

নীচেরসারিতে হৈহুল্লোরপূর্ণ অবস্থায় ব্যাটিংয়ে নামতেন। সাধারণ উদ্যমী শক্তির অধিকারী হিসেবে দর্শকদের জনপ্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। বিল হিচ কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করে ক্রিকেটবোদ্ধাদের কাছ থেকে সুনাম কুড়ান। সারের অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্মিথের অনেকগুলো উইকেট লাভে অংশীদার হন। ১৮৯৩ থেকে ১৮৯৭ সময়কালে টম রিচার্ডসন তার সেরা দিনগুলোয় এ জাতীয় সহায়তা পেয়েছিলেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Surrey players". CricketArchive. Retrieved 10 August, 2017.
  2. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা