শাহরিয়ার নাফীস

বাংলাদেশী ক্রিকেটার

শাহিরয়ার নাফীস আহমেদ (জন্ম ১ মে, ১৯৮৬ ঢাকা) একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০০৫ সালে তার অভিষেক ঘটে। বাংলাদেশ দলের প্রথম ইংল্যান্ড সফরে তিনি দলভুক্ত হন যদিও তার আগে মাত্র ৫টি প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। তার আগে তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেন। তার প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ ঘটে ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সেই ম্যাচে তিনি ৭৫ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। নাফিস বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি একদিনের আন্তর্জাতিক শতক করেন যা এখনও বজায় আছে। তার প্রথম টেস্ট শতক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফতুল্লায় যা বাংলাদেশের টেষ্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই টেষ্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ৩৫৫ রান করে যা প্রথম দিনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন।

শাহিরয়ার নাফীস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামশাহিরয়ার নাফীস আহমেদ
জন্ম (1985-05-01) ১ মে ১৯৮৫ (বয়স ৩৫)
ঢাকা, বাংলাদেশ
ডাকনামআবির
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৩)
১২ সেপ্টেম্বর ২০০৫ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ টেস্ট১৭ এপ্রিল ২০১৩ বনাম জিম্বাবুয়ে
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৭৬)
২১ জুন ২০০৫ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ ওডিআই৬ ডিসেম্বর ২০১১ বনাম পাকিস্তান
একমাত্র টি২০আই
(ক্যাপ ১০)
২৮ নভেম্বর ২০০৬ বনাম জিম্বাবুয়ে
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০৫–বর্তমানবরিশাল বিভাগ
২০০৮ঢাকা ওয়ারিয়র্স
২০০৯/১০Barisal Blazers
২০১২-বর্তমানBarisal Burners
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই টি-২০ প্রথম শ্রেণী
ম্যাচ সংখ্যা ২৪ ৭৫ ১২৪
রানের সংখ্যা ১,২৬৭ ২,২০১ ২৫ ৮১৪১
ব্যাটিং গড় ২৬.৩৯ ৩১.৪৪ ২৫ ৩৮.৪০
১০০/৫০ ১/৭ ৪/১৩ ০/০ ১৫/৪৮
সর্বোচ্চ রান ১৩৮ ১২৩* ২৫ ২১৯
বল করেছে ৯৬
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৯/– ১৩/– ১/– ৭৪/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ৯ মে ২০২০

জীবনসম্পাদনা

শাহরিয়ার নাফীস ১৯৮৫ সালের ১ মে ঢাকা সেনানিবাসের সিএমএইচ-এ জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। আর মায়ের নাম সালমা আঞ্জুম লতা। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে নাফীসই বড়। নাফীসের মেজ ভাই ইফতেখার নাইম আহমেদ একজন ক্রিকেটার। আর ছোট ভাই ছোট ভাই ইখতেদার নাজিফ আহমেদ অনূর্ধ্ব–১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন।[১]

১৯৯৬ সালে নাফীস সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং ২০০১ সালে সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন।[২] তারপর তিনি নটর ডেম কলেজে ভর্তি হন এবং ২০০৩ সালে সেখান থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর নাফীস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন।[১]

২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঈশিতা তাসনিমের সাথে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নাফীস-ঈশিতা দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ২০০৭ সালে তাদের বড় ছেলে শাহওয়ার আলী নাফীসের জন্ম হয়। তারপর ২০১৯ সালে তাদের কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।[৩]

ক্যারিয়ারসম্পাদনা

শাহরিয়ার নাফিস একজন বাঁহাতি বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান। জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক হয় ২০০৫ এর ইংল্যান্ড ট্যুরে। ২০০৬ এর এপ্রিলে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান। একই বছর অগাস্টে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিনি প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির সাক্ষাৎ পান। অক্টোবরে ভারতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তিনি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান। এ টুর্নামেন্টেই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিনি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি করেন। নবেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আবারও শতক হাঁকান তিনি। ২০০৮ এর জুনে তিনি ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে (আইসিএল) খেলতে ভারত যান। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে যাওয়ায় বোর্ড তাকে দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি আইসিএল-এর সাথে সম্পর্কছিন্ন করেন। ফলশ্রুতিতে ২০১০ এর অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে তিনি আবারও দলে জায়গা পান। দু'ম্যাচে তিনি যথাক্রমে ৩৫ ও ৭৩ রান করেন। দুটোতেই বাংলাদেশ দল জয় পায়। ইনজুরি কাটিয়ে তামিম দলে ফেরায় জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজে নাফিসকে আবারও সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হয়।[৪]

পুরস্কারসম্পাদনা

  • ২০০৬ - আইসিসি’র বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের জন্য মনোনীত
  • ২০০৬ - বিসিবি বছরের সেরা ক্রিকেটার
  • ২০০৬ - বিসিবি বছরের সেরা ব্যাটসম্যান
  • ২০০৬ - গ্রামীণফোন-প্রথম আলো বর্ষসেরা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব

আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিসম্পাদনা

  • রান কলামে * চিহ্ন অপরাজিত (not out) নির্দেশ করে

টেস্ট ক্রিকেট সেঞ্চুরিসম্পাদনা

রান ম্যাচ প্রতিপক্ষ শহর/দেশ ভেন্যু সাল
১৩৮ 5   অস্ট্রেলিয়া ফতুল্লা, বাংলাদেশ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম ২০০৬

এক দিনের আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিসম্পাদনা

রান ম্যাচ প্রতিপক্ষ শহর/দেশ ভেন্যু সাল
১১৮* ২২   জিম্বাবুয়ে হারারে, জিম্বাবুয়ে হারারে স্পোর্টস ক্লাব ২০০৬
১২৩* ২৮   জিম্বাবুয়ে জয়পুর, ভারত সয়াই মানসিং স্টেডিয়াম ২০০৬
১০৫* ২৯   জিম্বাবুয়ে খুলনা, বাংলাদেশ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম ২০০৬
১০৪* ৪০   বারমুডা St. John's, Antigua Antigua Recreation Ground ২০০৭

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "তিন ভাইয়ের খেলা-পড়ার জগৎ"প্রথম আলো। ২০১৯-০৯-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-০৯ 
  2. BanglaNews24.com। "ক্রিকেটের বাইরে শাহরিয়ার নাফীস :: BanglaNews24.com mobile"banglanews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-০৯ 
  3. ডেস্ক, স্পোর্টস। "বাবা হলেন নাফিস"DailyInqilabOnline (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-০৯ 
  4. Shariar, Nafees (২৮ নভেম্বর ২০১০)। "জিম্বাবুয়ে সিরিজে নাফিস আউট, তামিম ইন"। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১০ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা