লতা মঙ্গেশকর

ভারতীয় গায়িকা

লতা মঙ্গেশকর (মারাঠি: लता मंगेशकर লাতা মাংগেশ্‌কার্‌; জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯২৯) ভারতের এক স্বনামধন্য গায়িকা।[১][২] তিনি এক হাজারের বেশি ভারতীয় ছবিতে গান করেছেন।[৩][৪] এছাড়া ভারতের ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে ও বিদেশি ভাষায় গান গাওয়ার একমাত্র রেকর্ডটি তারই।

লতা মঙ্গেশকর
लता मंगेशकर
Lata Mangeshkar - still 29065 crop.jpg
জন্ম (1929-09-28) ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯২৯ (বয়স ৯১)
কর্মজীবন১৯৪২-বর্তমান
পিতা-মাতাদ্বীননাথ মঙ্গেশকর
শিবন্তী মঙ্গেশকর
আত্মীয়
পুরস্কারভারতরত্ন ২০০১

পদ্মবিভূষণ ১৯৯৯,
দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ১৯৮৯,
মহারাষ্ট্রভূষণ পুরস্কার ১৯৯৭,
এনটিআর জাতীয় পুরস্কার ১৯৯৯,
পদ্মভূষণ (১৯৬৯),

ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার
সঙ্গীত কর্মজীবন
ধরনমারাঠি, চলচ্চিত্রের গান (নেপথ্য সঙ্গীত)
বাদ্যযন্ত্রসমূহকন্ঠশিল্পী
স্বাক্ষর
LataMangeshkar.jpg

১৯৮৯ সালে ভারত সরকার তাকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত করে। তার অবদানের জন্য ২০০১ সালে তাকে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ভারতরত্নে ভূষিত করা হয়; এম. এস. সুব্বুলক্ষ্মীর পর এই পদক পাওয়া তিনিই দ্বিতীয় সঙ্গীতশিল্পী।[৫] ২০০৭ সালে ফ্রান্স সরকার তাকে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা লেজিওঁ দনরের অফিসার খেতাবে ভূষিত করে।[৬]

তিনি ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৫টি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, ৪টি শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ২টি বিশেষ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে লতা সর্বজ্যেষ্ঠ। তার বাকি ভাইবোনেরা হলেন - আশা ভোঁসলে, ঊষা মঙ্গেশকর, মীনা মঙ্গেশকরহৃদয়নাথ মঙ্গেশকর

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

লতা মঙ্গেশকর ১৯২৯ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন ইন্দোর রাজ্যের রাজধানী ইন্দোর (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর একজন মারাঠি ও কোঙ্কিণী সঙ্গীতজ্ঞ এবং মঞ্চ অভিনেতা ছিলেন। তার মাতা শেবন্তী[৭] (পরবর্তী নাম পরিবর্তন করে সুধামতি রাখেন) বোম্বে প্রেসিডেন্সির তালনারের (বর্তমান উত্তর-পশ্চিম মহারাষ্ট্র) একজন গুজরাতি নারী ছিলেন। তিনি দীনানাথের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী নর্মদা শেবন্তীর বড়বোন ছিলেন, যিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন।[৮]

শৈশবে বাড়িতে থাকাকালীন কে এল সায়গল ছাড়া আর কিছু গাইবার অনুমতি ছিল না তার। বাবা চাইতেন ও শুধু ধ্রপদী গান নিয়েই থাকুক। জীবনে প্রথম রেডিও কেনার সামর্থ্য যখন হলো, তখন তার বয়স আঠারো। কিন্তু রেডিওটা কেনার পর নব ঘুরাতেই প্রথম যে খবরটি তাকে শুনতে হয় তা হচ্ছে, কে. এল. সায়গল আর বেঁচে নেই। সঙ্গে সঙ্গেই রেডিওটা ফেরত দিয়ে দেন তিনি।

পুরস্কার ও স্বীকৃতিসম্পাদনা

লতা মঙ্গেশকর তার কর্মজীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা ভারতরত্ন (২০০১), দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ (১৯৯৯), তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে (১৯৬৯) ভূষিত হয়েছেন।[৯] এই সঙ্গীতশিল্পীকে ২০০৭ সালে ফ্রান্স সরকার তাদের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা লেজিওঁ দনরের অফিসার খেতাব প্রদান করেছে। এছাড়া তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৮৯), মহারাষ্ট্র ভূষণ পুরস্কার (১৯৯৭),[১০] এনটিআর জাতীয় পুরস্কার (১৯৯৯), জি সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার (১৯৯৯),[১১] এএনআর জাতীয় পুরস্কার (২০০৯), শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ১৫টি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ৪টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৬৯ সালে নতুন প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তী কালে তিনি ১৯৯৩ সালে ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার এবং ১৯৯৪ ও ২০০৪ সালে দুইবার ফিল্মফেয়ার বিশেষ পুরস্কার অর্জন করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Lata Mangeshkar"The Times of India। ১০ ডিসেম্বর ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৭-২২ 
  2. Yasmeen, Afshan (২১ সেপ্টেম্বর ২০০৪)। "Music show to celebrate birthday of melody queen"Chennai, Tamil Nadu India: The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-১৯ 
  3. "Lata Mangeshkar"The Times of India। ডিসেম্বর ১০, ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৭-২২ 
  4. Yasmeen, Afshan (সেপ্টেম্বর ২১, ২০০৪)। "Music show to celebrate birthday of melody queen"The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-১৯ 
  5. "Lata Mangeshkar given Bharat Ratna"দ্য হিন্দু। ১১ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  6. "Happy Birthday Lata Mangeshkar: 5 Timeless Classics By the Singing Legend"নিউজ এইটিন। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  7. "Unplugged: Lata Mangeshkar"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। সেপ্টেম্বর ২০, ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  8. বশি, অশীষ (সেপ্টেম্বর ২৯, ২০০৯)। "Meet Lata-ben Mangeshkar!"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। আহমেদাবাদ। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  9. "Padma Awards" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার। ২০১৫। ১৫ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  10. "Stage set for felicitation of Lata with Maharashtra Bhushan award"দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  11. "Zee Cine Lifetime Achievement Award (ZCA) - Zee Cine Lifetime Achievement Award Winners"awardsandshows.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

আরো পড়ুনসম্পাদনা

  • Bhimani, Harish (১৯৯৫)। In search of Lata Mangeshkar। Indus। আইএসবিএন 978-8172231705 
  • Bharatan, Raju (১৯৯৫)। Lata Mangeshkar: A Biography। UBS Publishers Distributors। আইএসবিএন 978-8174760234 
  • Kabir, Nasreen Munni (২০০৯)। Lata Mangeshkar: In Her Own Voice। Niyogi Books। আইএসবিএন 978-8189738419 
  • Lata, Mangeshkar (১৯৯৫)। Madhuvanti Sapre and Dinkar Gangal, সম্পাদক। In search of Lata Mangeshkar (Punjabi ভাষায়)। Harper Collins/Indus। আইএসবিএন 978-8172231705 . A collection of articles written by Lata Mangeshkar since 1952.
  • Nerurkar, Vishwas। Lata Mangeshkar Gandhar Swaryatra (1945-1989) (Marathi ভাষায়)। Mumbai: Vasanti P. Nerukar। .
  • Bichhu, Mandar V. (১৯৯৬)। Gaaye Lata, Gaaye Lata (Hindi ভাষায়)। Sharjah: Pallavi Prakashan। আইএসবিএন 978-8172231705 . A collection of articles written by Lata Mangeshkar since 1952.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা