প্রধান মেনু খুলুন

নারগিস আক্তার

বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালিকা

নারগিস আক্তার হলেন একজন বাংলাদেশী নারী চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক। গঠনমূলক ও শিক্ষনীয় গল্প নিয়ে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে থাকেন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র মেঘলা আকাশ। পরবর্তীতে তিনি পরিচালনা করেছেন মেঘের কোলে রোদ (২০০৮), অবুঝ বউ (২০১০), পুত্র এখন পয়সাওয়ালা (২০১৫) ও পৌষ মাসের পিরীত (২০১৬)।[২] মেঘলা আকাশঅবুঝ বউ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি দুইবার শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম নারী।[৩]

নারগিস আক্তার
জন্ম
নারগিস আক্তার

২০ নভেম্বর[১]
বাসস্থানঢাকা, বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
যেখানের শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাচলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক
কার্যকাল২০০১–বর্তমান
উল্লেখযোগ্য কর্ম
মেঘলা আকাশ
মেঘের কোলে রোদ
অবুঝ বউ
পুরস্কারজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২য় বার)

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

নারগিস আক্তার বাংলাদেশের ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈতৃক বাড়ি মাদারীপুরে[১]

কর্মজীবনসম্পাদনা

নারগিস আক্তার চলচ্চিত্র নির্মাণের আগে বেশ কিছু তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। ২০০১ সালে তিনি মেঘলা আকাশ দিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালকের খাতায় নাম লেখান। এইডস নিয়ে সচেতনতামূলক এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী, শাকিল খানপূর্ণিমা। এছাড়া বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও মুম্বাইয়ের আইয়ুব খান এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ছয়টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে এবং তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার অর্জন করেন। তার পরবর্তী চলচ্চিত্র চার সতীনের ঘর। এতে আলমগীরের বিপরীতে চার সতীনের চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা, দিতি, শাবনূর ও ময়ূরী।[৪] ২০০৮ সালে মোহাম্মদ রফিকুজ্জামানের কাহিনীতে পরিচালনা করেন মেঘের কোলে রোদ। এইডস নিয়ে সচেতনতামূলক ত্রিভুজ প্রেমের এই ছায়াছবিতে অভিনয় করেন রিয়াজ, পপিটনি ডায়েস। চলচ্চিত্রটি পাঁচটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।[৫] ২০১০ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প সমাপ্তি অবলম্বনে নির্মাণ করেন অবুঝ বউ[৬] এটি এক গ্রাম্য দুরন্ত কিশোরীর পরিণীতা হওয়ার গল্প। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন প্রিয়াংকা। এছাড়া অন্যান্য ভূমিকায় ছিলেন ফেরদৌস আহমেদ, ববিতা। চলচ্চিত্রটি ৩৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে এবং তিনি দ্বিতীয়বারের মত শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার অর্জন করেন।[৭] ২০১৫ সালে মুক্তি পায় তার পরিচালিত পুত্র এখন পয়সাওয়ালা। এতে পুত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেন মামনুন হাসান ইমন ও মায়ের ভূমিকায় ছিলেন ববিতা[৮] পরের বছর নরেন্দ্রনাথ মিত্র রচিত গল্প রস অবলম্বনে তার চিত্রনাট্যে নির্মাণ করেছেন পৌষ মাসের পিরীত[৯] এতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন পপি ও টনি ডায়েস।[১০] এছাড়া নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন রচিত মঞ্চনাটক যৈবতী কন্যার মন অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার থেকে অনুদান পান।[১১] কিন্ত এখনো চলচ্চিত্রটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি।

চলচ্চিত্রের তালিকাসম্পাদনা

বছর চলচ্চিত্র পরিচালক চিত্রনাট্যকার সংলাপ রচয়িতা প্রযোজক ভাষা টীকা
২০০১ মেঘলা আকাশ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ না বাংলা বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার
২০০৫ চার সতীনের ঘর হ্যাঁ হ্যাঁ না হ্যাঁ বাংলা
২০০৮ মেঘের কোলে রোদ হ্যাঁ হ্যাঁ না হ্যাঁ বাংলা
২০১০ অবুঝ বউ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ না বাংলা বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার
২০১৫ পুত্র এখন পয়সাওয়ালা হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ না বাংলা
২০১৬ পৌষ মাসের পিরীত হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ না বাংলা
২০১৭ যৈবতী কন্যার মন হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ না বাংলা নির্মাণাধীন

টেলিভিশনসম্পাদনা

টিভি অনুষ্ঠানসম্পাদনা

বছর অনুষ্ঠান উপস্থাপক চ্যানেল টীকা
২০১৪ বৈশাখী টেলিভিশন লাইভ অনুষ্ঠান
সিটিসেল তারকা কথন চ্যানেল আই লাইভ অনুষ্ঠান
বিটিভি
বেলা শেষে এসএ টিভি
একুশে টিভি লাইভ অনুষ্ঠান[১]

সমালোচনাসম্পাদনা

নারগিস আক্তার ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার থেকে যৈবতী কন্যার মন চলচ্চিত্রের জন্য ২৪,৮৬,০৪১ টাকা অনুদান গ্রহণ করেন।[১২] কিন্তু যথাসময়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ না করতে পারায় তার বিরুদ্ধে পিডিআর অ্যাক্ট অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়।[১৩]

পুরস্কার ও সম্মাননাসম্পাদনা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

বছর বিভাগ চলচ্চিত্র ফলাফল
২০০৩ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার মেঘলা আকাশ (২০০১) বিজয়ী
২০১২ অবুঝ বউ (২০১০) বিজয়ী

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "চলচ্চিত্র পরিচালক নারগিস আক্তারের জন্মদিনে শুভেচ্ছা"মহীয়সী ডটকম। ঢাকা, বাংলাদেশ। নভেম্বর ২০, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "চলচ্চিত্রের ৬০ বছরে ১৪ নারী নির্মাতা!"প্রাইমনিউজ। ঢাকা, বাংলাদেশ। মার্চ ১১, ২০১৬। ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  3. মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন (৮ মার্চ ২০১৪)। "চলচ্চিত্র পরিচালনায় নারীদের আগ্রহ বাড়ছে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা"দৈনিক মানবজমিন। ঢাকা, বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  4. "চলচ্চিত্র: চার সতীনের ঘর"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ঢাকা, বাংলাদেশ। ১৬ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  5. নাজমুল আলম রানা (১৫ মার্চ ২০১০)। "১০ মে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান"দৈনিক সমকাল। ঢাকা, বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. ভাস্কর বৈদ্য (মে ১৪,২০১৪)। "কবিগুরুর নাটক-চলচ্চিত্র"দৈনিক যায় যায় দিন। ঢাকা, বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  7. বিশেষ প্রতিনিধি (৪ এপ্রিল ২০১২)। "ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আলোকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন"দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা, বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  8. "নারগিসের ছবিতেই ববিতার শেষ অভিনয়"বাংলাদেশ প্রতিদিন। ঢাকা, বাংলাদেশ। ১৪ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  9. "এই ভাদ্রেই নারগিসের পৌষ মাস"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইমদাদুল হক মিলন। ২৬ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  10. জাকিয়া আক্তার (২৭ আগস্ট ২০১৬)। "'পৌষ মাসের পিরীত'র জন্য পপি একদম পারফেক্ট'"চ্যানেল আই অনলাইন। ঢাকা, বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  11. "সেলিম আলদীনের 'যৈবতী কন্যার মন' নিয়ে চলচ্চিত্র"বাংলানিউজ। ঢাকা, বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  12. ফারুক আহমেদ (১৯ জুলাই ২০১৬)। "অনুদানের ছবির ৫ নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে"দৈনিক যুগান্তর। ঢাকা, বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  13. ফারুক আহমেদ (১৯ জুলাই ২০১৬)। "মামলা হচ্ছে ৫ চলচ্চিত্র পরিচালকের নামে"দৈনিক যুগান্তর। ঢাকা, বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা