প্রধান মেনু খুলুন

লেন ব্রন্ড

ইংরেজ ক্রিকেটার

লিওনার্দ চার্লস ব্রন্ড (ইংরেজি: Len Braund; জন্ম: ১৮ অক্টোবর, ১৮৭৫ - মৃত্যু: ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) বার্কশায়ারের ক্লিউয়ার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।[১] ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারেসমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন লেন ব্রন্ড। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ ব্রেক বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন তিনি।

লেন ব্রন্ড
Len Braund.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামলিওনার্দ চার্লস ব্রন্ড
জন্ম(১৮৭৫-১০-১৮)১৮ অক্টোবর ১৮৭৫
ক্লিউয়ার, বার্কশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫(1955-12-23) (বয়স ৮০)
পুটনি কমন, লন্ডন, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৩১)
১৩ ডিসেম্বর ১৯০১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২১ ফেব্রুয়ারি ১৯০৮ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৮৯৬-১৮৯৮সারে
১৮৯৯-১৯২০সমারসেট
আম্পায়ারিং তথ্য
টেস্ট আম্পায়ার৩ (১৯২৬–১৯২৯)
এফসি আম্পায়ার৩৭৪ (১৯২৩–১৯৩৮)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৩ ৪৩২
রানের সংখ্যা ৯৮৭ ১৭৮০১
ব্যাটিং গড় ২৫.৯৭ ২৫.৬১
১০০/৫০ ৩/২ ২৫/৭৫
সর্বোচ্চ রান ১০৪ ২৫৭*
বল করেছে ৩৮০৫ ৫৩৭০৯
উইকেট ৪৭ ১১১৪
বোলিং গড় ৩৮.৫১ ২৭.২৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ৮০
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৬
সেরা বোলিং ৮/৮১ ৯/৪১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩৯/– ৫৪৬/১
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ২৮ আগস্ট ২০১৭

খেলার ধরনসম্পাদনা

অল-রাউন্ডার হিসেবে ব্যাটিংকালীন খেলার গতিধারা অনুসরণে কখনো রক্ষণাত্মক কিংবা আক্রমণধর্মী ভূমিকা নিতেন। লেগ ব্রেক বোলার হিসেবে উইকেট লাভের জন্য নিখুঁত বোলিংয়ের চেয়ে বলের বৈচিত্র্যতার দিকেই নজর দিতে বেশী। এছাড়াও তিনি তার সময়কালে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্লিপ ফিল্ডার ছিলেন তিনি।[২]

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণসম্পাদনা

১৮৯৬ সাল থেকে সারে দলের পক্ষে খেলার পর ২১ বছর সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেন।[৩] কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে খেলার জন্য আবাসিক মর্যাদালাভের শর্ত পালন করে তিনি সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব সুযোগ লাভ করেন। অভিষেকেই সমারসেটের পক্ষে ১৮৯৯ সালে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মনোজ্ঞ ৮২ রান তুলেন। পরের বছর লর্ডসে মিডলসেক্সের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নশীপে অভিষিক্ত হন। এ খেলাটিই অ্যান্ড্রু স্টডার্টের সর্বশেষ খেলা ছিল। পাশাপাশি যথাযথভাবে যোগ্যতা অর্জন ব্যতিরেকে এমসিসি’র নিয়মের পরিপন্থী হওয়ায় তারও সমারসেটের পক্ষে মৌসুমের শেষ খেলায় অংশ নিতে হয়। অপেক্ষা-পর্ব শেষ হবার পর তিনি ডব্লিউ. জি. গ্রেসের অধিনায়কত্বে লন্ডন কাউন্টি দলের পক্ষে খেলেন।[৪]

মূলতঃ ১৯০১ সাল থেকে ব্রন্ডের সঠিকভাবে খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটে। তিনি তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমে সহস্রাধিক রান ও শতাধিক উইকেট লাভ করেন। হেডিংলিতে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ২৩৮ রান পিছিয়ে থেকে সমারসেট দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৩০ রান তুলে। এতে তিনি করেন ১০৭ রান। খেলায় তার দল ২৭৯ রানে জয় পায়। ব্রন্ড চার উইকেট নেন ও আয়োজক দল দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রানে অল-আউট হয়। ঐ মৌসুমে ইয়র্কশায়ার তাদের একমাত্র পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করে। ১৯০২ সালেও সমারসেট এ সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটায়। রুদ্ধশ্বাসপূর্ণ খেলায় দল মাত্র ৩৪ রানে জয় পায়। খেলায় তিনি ৭১ রানে ১৫ উইকেট পান। তন্মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজস্ব সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৯/৪১ দাঁড় করান।[২] ঐ দুইটি কাউন্টি খেলাগুলো বাদে ব্রন্ড টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯০১-০২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। টেস্টে আশানুরূপ সাফল্য লাভ করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯০১ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক ঘটে। টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ৫৮ রান সংগ্রহের পাশাপাশি খেলায় সাত উইকেট পান। তন্মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৬১ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। সিডনিতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংসের ব্যবধানে সফরকারী ইংল্যান্ড দল পরাজিত করেছিল।[৫] অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ১০৩* রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।[৬] সিরিজে তিনি মোট ২১ উইকেট দখল করে ইংরেজ বোলারদের মধ্যে শীর্ষস্থানে ছিলেন।[৭]

১৯০২ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনীত হন।[৪] ঐ মৌসুমে পাঁচ টেস্টের সমন্বয়ে গড়া অ্যাশেজ সিরিজের সবকটিতেই অংশগ্রহণ করেন। এ সময়ে অনেকগুলো ঘটনার সাথে নিজেকে জড়ান যার অধিকাংশই বেশ কাছাকাছি ছিল। এজবাস্টনে জর্জ হার্বার্ট হার্স্টের বলে স্লিপ থেকে দৌড়ে লেগ সাইডে ক্লেম হিলের ক্যাচ নেন। খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল মাত্র ৩৬ রানে গুটিয়ে যায় যা তাদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বনিম্ন সংগ্রহ। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪৪/৫ থাকাবস্থায় মাঠে নামেন ও ৬৫ রান তুলেন। স্ট্যানলি জ্যাকসনের সাথে ১৪১ রানের জুটি গড়েন। একই খেলায় বোলিংয়ে নেমে জো ডার্লিংকে মারতে উদ্বুদ্ধ করলেও ফ্রেড টেট ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। ফলে অস্ট্রেলিয়া নাটকীয়ভাবে ৩ রানে জয় পায়।

১৯০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো সফরেও ব্রন্ড সফল ছিলেন। সিডনিতে ১০২ রান করেন। ঐ একই টেস্টে টিপ ফস্টার ২৮৭ রান তুলে তৎকালীন রেকর্ড গড়েছিলেন। মেলবোর্নের চূড়ান্ত টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি ৮১ রান দিয়ে ৮ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে তুলনামূলকভাবে কম সফল হন। কিন্তু এর মাঝেই ১৯০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৪ রান তুলে তৃতীয় শতক হাঁকান। দলটিতে ১৯০৫-০৬ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম জয়ের সাথে জড়িত গুগলি বোলারদের অংশগ্রহণ ছিল।[২]

২৩ টেস্টে অংশ নিয়ে ৯৮৭ রান ও ৪৭ উইকেট লাভ করেন ব্রন্ড। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৯০১, ১৯০২ ও ১৯০৩ মৌসুমে তিনবার ১,০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ডাবলের সাথে জড়িত তিনি। ১৯২০ সাল পর্যন্ত চলমান প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ১৭,৮০১ রান ও ১,১১৪ উইকেট পান তিনি। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে বলকে স্পিন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন ও বেশ রান দিতে থাকেন। ১৯১০ সালের দিকে সমারসেটের পক্ষে অধিকাংশ সময়ই ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে থাকেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৫৪৬ ক্যাচ নেন।[১]

 
লেন ব্রন্ডের সিগারেট কার্ড চিত্র

অবসরসম্পাদনা

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ১৮ মৌসুম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ারিত্ব করেন। ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সময়কালের মধ্যে ৩ টেস্টে আম্পায়ারিত্ব করেছেন তিনি।

বন্ধুবৎসল ব্যক্তি হিসেবে লেন ব্রন্ড মদ্যপান ও ঘোড়দৌড়ের মাঝেই জীবনকে উপভোগ করেছেন। কিন্তু জীবনের শেষদিকে দূর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ায় খিঁটখিটে মেজাজের অধিকারী হয়ে যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছিল তার। তাস্বত্ত্বেও মৃত্যু পূর্ব-পর্যন্ত লর্ডসের নিয়মিত দর্শক ছিলেন তিনি। ১৯৪৯ সালে এমসিসির সম্মানসূচক সদস্যপদে ২৬জন সাবেক পেশাদার ক্রিকেটারদের অন্যতম ছিলেন লেন ব্রন্ড।

২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে লন্ডনের পুটনি কমন এলাকায় ৮০ বছর বয়সে তার দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Player profile: Len Braund"ESPNcricinfoESPN। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৫ 
  2. Obituary: Len BraundWisden Cricketers' Almanack 1956। পৃষ্ঠা 968 – ESPNcricinfo-এর মাধ্যমে। 
  3. "First-class batting and fielding for each team by Len Braund"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৫(সদস্যতা নেয়া প্রয়োজন (সাহায্য)) 
  4. Cricketer of the Year: Len BraundWisden Cricketers' Almanack 1902 – ESPNcricinfo-এর মাধ্যমে। 
  5. "1st Test: Australia v England at Sydney, Dec 13–16, 1901"ESPNcricinfo। ESPN। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১১ 
  6. "England tour of Australia, 3rd Test: Australia v England at Adelaide, Jan 17–23, 1902"ESPNcricinfo। ESPN। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৫ 
  7. "Records / The Ashes, 1901/02 / Most wickets"ESPNcricinfo। ESPN। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৫ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা