রেজ পার্কস

ইংরেজ ক্রিকেটার

রেজিনাল্ড টমাস ডেভিড রেজ পার্কস (ইংরেজি: Reg Perks; জন্ম: ৪ অক্টোবর, ১৯১১ - মৃত্যু: ২২ নভেম্বর, ১৯৭৭) হেয়ারফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়াও, ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেন রেজ পার্কস। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন তিনি। পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন।

রেজ পার্কস
রেজ পার্কস.jpg
ওরচেস্টারশায়ারে অবস্থানকালীন রেজ পার্কস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরেজিনাল্ড টমাস ডেভিড পার্কস
জন্ম(১৯১১-১০-০৪)৪ অক্টোবর ১৯১১
হেয়ারফোর্ড, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২২ নভেম্বর ১৯৭৭(1977-11-22) (বয়স ৬৬)
ওরচেস্টার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৯৫
রানের সংখ্যা ৮৯৫৬
ব্যাটিং গড় - ১২.২০
১০০/৫০ -/- -/১৪
সর্বোচ্চ রান ২* ৭৫
বল করেছে ৮২৯ ১১৬০৭৪
উইকেট ১১ ২২৩৩
বোলিং গড় ৩২.২৭ ২৪.০৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৪৩
ম্যাচে ১০ উইকেট - ২৪
সেরা বোলিং ৫/১০০ ৯/৪০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ২৩৮/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ২৮ জুলাই ২০১৭

১৯০২ সালে তার বাবা টমাস পার্কস এমসিসি’র পক্ষে একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

কাউন্টি ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯২৮ সালের শুরুতে ওরচেস্টারশায়ারের মাঠকর্মী হিসেবে প্রথম যোগ দেন। ১৮ বছর বয়সে ১৯৩০ সালে তিনি তার প্রথম মৌসুমে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। উইকেটপ্রতি ২৩ রান খরচায় ৫৯ উইকেট পান। তন্মধ্যে, বৃষ্টিকবলিত উইকেটে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৭/২০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান।

১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কাল পর্যন্ত দীর্ঘকাল ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেন। এ সময় তিনি দলের প্রধান বোলিংস্তম্ভ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রায়শঃই বিশ বা ততোধিক সময়ে নিয়মিতভাবে ত্রিশের অধিক রান তোলায় সক্ষমতা দেখিয়েছেন। তিনবার ধারাবাহিকভাবে তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকান। ১৯৩৫ সালে ২২ রানের কম দিয়ে ১১৯ নেন। পরের তিন বছর পার্কস নিজের ক্রীড়াদক্ষতা বজায় রাখেন। ১৯৩৭ সালে ওরচেস্টারে এসেক্সের বিপক্ষে খেলায় নিজস্ব সেরা ১৫/১০৬ পান। ১৯৩৮ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র ত্রিশ মিনিটে নিজস্ব সর্বোচ্চ ৭৫ রান তুলেন। তাস্বত্ত্বেও প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সর্বাধিক ১৫৬বার শূন্য রান তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন পার্কস।[১] ১৯৩৯ সালে সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। ২০ রানেরও কম দিয়ে ১৫৯ উইকেট নেন। তন্মধ্যে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে তেরোবার পাঁচ বা ততোধিক উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে ক্রিকেট আবারও চালু হলে পার্কসের বয়স ৩৪-এ দাঁড়ায়। কিন্তু, তিনি নিজেকে পূর্বাবস্থায় নিয়ে আসতে না পারলেও খেলোয়াড়ী জীবনের বাদ-বাকী সময়ে ঠিকই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং ওরচেস্টারশায়ারকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের উত্থানে সহায়তা করেছিল। ১৯৪৯ সালে দলটি তৃতীয় ও ১৯৫১ সালে চতুর্থ স্থান দখল করে।

অধিনায়কত্বসম্পাদনা

১৯৫৫ সালে সর্বশেষ মৌসুম পার করেন পার্কস। ঐ মৌসুমে তিনি ওরচেস্টারশায়ারের প্রথম পেশাদার অধিনায়ক মনোনীত হন। শেষ খেলায় হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ৭৯ রানে ৫ উইকেট পান। এরফলে তিনি ধারাবাহিকভাবে ষোলবার ১০০ উইকেটের সন্ধান পান। তার তুলনায় কেবলমাত্র ডেরেক শ্যাকলটনটিচ ফ্রিম্যান এগিয়ে রয়েছেন।

টেস্ট ক্রিকেটসম্পাদনা

২৭ বছর বয়সে ১৯৩৯ সালে দুইটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেন তিনি। শুরুতে তাকে দলে নেয়া হয়নি মূলতঃ দুই খ্যাতনামা অল-রাউন্ডার ওয়ালি হ্যামন্ডবিল এডরিচ এবং সিম বোলার কেন ফার্নেসের অংশগ্রহণের কারণে। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য মনোনীত হন। খ্যাতনামা অসীম সময়ের ডারবান টেস্টের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫৩০ রানের মধ্যে ৪১ ওভার বোলিং করে ৫/১০০ পান যা সিরিজের শেষ টেস্ট ছিল।[২] আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাকে দলে নেয়া হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪৯৮ রানের মধ্যে তিনি ৫/১৫৬ পান। ঐ খেলায় তার বলে ১১ ক্যাচ খসে যায়।[৩] ড্র হওয়া ঐ টেস্টে খেললেও যুদ্ধের কারণে আর খেলতে পারেননি।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Most Ducks in First-Class Cricket"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-১৪ 
  2. "5th Test: South Africa v England at Durban, Mar 3-14, 1939"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৮ 
  3. Selectors' fancies, March 1982

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা


ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
রোল্যান্ড বার্ড
ওরচেস্টারশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৫৫
উত্তরসূরী
পিটার রিচার্ডসন