বব কুনেছ

নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার

রবার্ট স্মিথ কুনেছ (ইংরেজি: Bob Cunis; জন্ম: ৫ জানুয়ারি, ১৯৪১ - মৃত্যু: ৯ আগস্ট, ২০০৮) নর্থল্যান্ডের হোয়াঙ্গারেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সময়কালে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন।

বব কুনেছ
Bob Cunis 1967.jpg
১৯৬৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে বব কুনেছ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরবার্ট স্মিথ কুনেছ
জন্ম(১৯৪১-০১-০৫)৫ জানুয়ারি ১৯৪১
হোয়াঙ্গারেই, নর্থল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু৯ আগস্ট ২০০৮(2008-08-09) (বয়স ৬৭)
হোয়াঙ্গারেই, নর্থল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কস্টিফেন কুনেছ (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১০১)
১৩ মার্চ ১৯৬৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট২০ এপ্রিল ১৯৭২ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৫ – ১৯৭৭নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস নাইটস
১৯৬০ – ১৯৭৪অকল্যান্ড এইসেস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২০ ১৩২ ১৫
রানের সংখ্যা ২৯৫ ১৮৪৯ ৪৬
ব্যাটিং গড় ১২.৮২ ১৬.৫০ ১১.৫০
১০০/৫০ ০/১ ১/৬ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৫১ ১১১ ১৮
বল করেছে ৪,২৫০ ২৬৬৯৮ ৭২৮
উইকেট ৫১ ৩৮৬ ১৭
বোলিং গড় ৩৭.০০ ২৬.৬৫ ২২.৪১
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৮
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৭৬ ৭/২৯ ৩/১৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/০ ৩০/০ ৩/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৮ জানুয়ারি ২০১৯

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ ঘটাতেন বব কুনেছ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

শক্ত মজবুত গড়নের ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার বব কুনেছ ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত অকল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। এরপর ১৯৭৫-৭৬ থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের সদস্য ছিলেন তিনি।

১৯৬০-৬১ মৌসুমে অকল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক খেলায় ৬/৭২ ও ২/২৬ নিয়ে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে দলকে আট উইকেটের জয়ে সহায়তা করেন।[১] ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ১৪.১৮ গড়ে ২৭ উইকেট পান। তন্মধ্যে, সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ২/৩১ ও ৭/২৯ নিয়ে দলের জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন।[২] ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমের প্রথম খেলাতেই ৬/৪৪ ও ৭/৪১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে দলকে এক উইকেটের নাটকীয় জয় এনে দেন।[৩]

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমের প্রথম খেলায় নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ৭/৩০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। প্লাঙ্কেট শীল্ডে ৪১.৮৫ গড়ে ২৯৩ রান তুলে সর্বাধিক সফলতম মৌসুম অতিবাহিত করেন। তন্মধ্যে দুইটি অর্ধ-শতক ও সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র শতরানের ইনিংস খেলেন। ওতাগোর বিপক্ষে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১১ রান তুলেছিলেন তিনি। এছাড়াও, ২০.২১ গড়ে ১৯ উইকেট পান।

১৯৬৮-৬৯ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ডের প্রতিযোগিতায় ১২.৬০ গড়ে ৩০ উইকেট নিয়ে অকল্যান্ডকে শিরোপা জয়ে সহায়তা করেন। আরও একবার মৌসুমের প্রথম খেলায় নিজেকে তুলে ধরতে সচেষ্ট হন। ৬/৩৯ ও ৪/৫৪ নিয়ে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে দলকে ইনিংস ব্যবধানের বিজয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন।[৪]

টেস্ট ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমের শেষদিকে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ড্র হওয়া ঐ খেলায় তিনি গ্রেইম পোলকডেনিস লিন্ডসের দুই উইকেট পেয়েছিলেন।

বব কুনেছের জন্যে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমটি মাঝারীমানের ছিল। নিজ দেশে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে কিংবা বিদেশের কোন টেস্ট সফরে খেলার জন্য তাকে মনোনীত করা হয়নি। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ডের খেলায় ১৭.৪৫ গড়ে ২২ উইকেট দখল করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তিন টেস্টের প্রত্যেকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল। ১২১.৫ ওভার বোলিং করে ৩৫.৪৩ গড়ে সাত উইকেট পেয়েছিলেন।[৫] সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সংগ্রহ ৩২/৮ থাকা অবস্থায় রাগবি সেন্টার-থ্রিকোয়ার্টার এলাকায় অবস্থানকারী বব কুনেছ রক্ষণাত্মক খেলায় অগ্রসর হন ও ভিক পোলার্ডের সাথে পঁয়ত্রিশ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে দিনটি পার করে দিতে সমর্থ হন।[৬] তার সংগৃহীত অপরাজিত ১৬ রানই দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল।

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টেস্টে খেলেন। তবে খুব কমই সফলতা পেয়েছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমের শেষদিকে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন টেস্টে অংশ নেন। তন্মধ্যে, সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ২/৭৬ ও ৩/৩৬ নিয়ে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন।

ইংল্যান্ড গমন, ১৯৬৯সম্পাদনা

১৯৬৯ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরের শুরুরদিকে তার খেলা তেমন দর্শনীয় ছিল না। কিন্তু, সাসেক্সের বিপক্ষে ৬/৫৪ লাভের পর তৃতীয় টেস্ট খেলার জন্য দলে রাখা হয়। ঐ টেস্টে ৩/৪৯ ও ২/৩৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন তিনি। ঐ বছরের শেষদিকে ভারতের বিপক্ষে তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেক টেস্টেই তার অংশগ্রহণ ছিল। ১৭.৫৫ গড়ে নয় উইকেট পান বব কুনেছ। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টে ২৩.৫০ গড়ে ছয় উইকেট দখল করেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারী দলের সংগ্রহ ১০১/৮ থাকা অবস্থায় নিউজিল্যান্ড দল তখন মাত্র ৮৪ রানে এগিয়ে ছিল।

জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। পার্থে অনুষ্ঠিত অস্ট্রালাসিয়ান একদিনের প্রতিযোগিতায় ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংকালে তার চোয়াল ভেঙ্গে যায়। তাসত্ত্বেও, কয়েক সপ্তাহ পরই সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে খেলেন। অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টেস্টেই সর্বাধিক সফলতা পেয়েছিলেন বব কুনেছ। তার ক্রমাগত সুনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পাশাপাশি ক্ষুরধান আউট-সুইঙ্গারগুলো ব্যাটসম্যানদেরকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।[৭] ঐ টেস্টে তিনি ৬/৭৬ ও ৩/৫২ লাভ করেন।[৮]

বিশ্ব একাদশের সদস্যসম্পাদনা

১৯৭১-৭২ মৌসুমে বিশ্ব একাদশের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত খেলাগুলোয় খুব কমই নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছিলেন। এর পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। পাঁচ টেস্টে অংশ নিয়ে ১০২.৮৩ গড়ে তিনি কেবলমাত্র ছয় উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, দ্বিতীয় টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস করতে সক্ষম হন। নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে অষ্টম উইকেট জুটিতে বেভান কংডনের সাথে দীর্ঘ ১৯০ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে মূল্যবান ১৩৬ রান যোগ করেন।[৯]

ঐ সিরিজ শেষ রিচার্ড কলিঞ্জ, ডেল হ্যাডলিরিচার্ড হ্যাডলি’র ন্যায় উদীয়মান ফাস্ট বোলারদের দাপটের কারণে টেস্ট দলের বাইরে অবস্থান করতে হয় তাকে। তবে, ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।

মূল্যায়নসম্পাদনা

ডিক ব্রিটেনডেন কুনেছ সম্পর্কে লিখেছেন যে, তার সমগ্র ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন হাঁটুর আঘাতে জর্জরিত ছিল যা তার বোলিংয়ে দারুণভাবে প্রভাব পড়েছে। স্বাভাবিকভাবে দৌঁড়ে বোলিং করতে পারতেন না ও ভুল পদক্ষেপে তাকে দৌঁড়তে দেখা যেতো।[১০]

টেস্ট ম্যাচ স্পেশালের ধারাভাষ্যকার জন আরলট একদা মন্তব্য করেছিলেন যে, এখন কুনেছ ভক্সহল প্রান্তে অবস্থান করছেন। মজাদার সংক্ষিপ্ত নামের অধিকারী কুনেছ না এদিকে, না ওদিকে - কোনখানেই সফলতা পাচ্ছেন না।[১১] তবে, উইজডেনে তার স্মরণে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডীয় একাদশ বনাম সাসেক্সের মধ্যকার খেলায় অবজারভারে এ তামাশাপূর্ণ উক্তিটি সম্ভবতঃ অ্যালান রসের প্রতিবেদনে প্রথম মুদ্রণ করা হয়েছিল।[১২]

পরিসংখ্যানসম্পাদনা

টেস্টে ৫-উইকেট লাভ
# পরিসংখ্যান খেলা প্রতিপক্ষ মাঠ শহর দেশ সাল
৬/৭৬ ১৫   ইংল্যান্ড ইডেন পার্ক অকল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ১৯৭১

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা কর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বব কুনেছ।[১৩] ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ৯ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে নর্থল্যান্ডের হোয়াঙ্গারেই এলাকায় ৬৭ বছর বয়সে বব কুনেছের দেহাবসান ঘটে।

তার সন্তান স্টিফেন কুনেছ ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সময়কালে ক্যান্টারবারির পক্ষে খেলেছেন।[১৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Northern Districts v Auckland 1960–61. Cricketarchive.com. Retrieved on 12 July 2018.
  2. Auckland v Central Districts 1961–62. Cricketarchive.com. Retrieved on 12 July 2018.
  3. Canterbury v Auckland 1963–64. Cricketarchive.com. Retrieved on 12 July 2018.
  4. Northern Districts v Auckland 1968–69. Cricketarchive.com. Retrieved on 12 July 2018.
  5. Wisden 1967, p. 821.
  6. Wisden 1967, p. 844.
  7. Wisden 1972, p. 920.
  8. New Zealand v England, Auckland 1970–71. Cricketarchive.com. Retrieved on 12 July 2018.
  9. Wisden 1973, p. 890.
  10. Dick Brittenden, The Finest Years, A.H. & A.W. Reed, Wellington, 1977, p. 122.
  11. The famous quote. Winston Churchill famously made a similar quip about Alfred Bossom.
  12. Wisden 2009, p. 1599.
  13. Wisden 2009, p. 1598.
  14. Stephen Cunis at Cricket Archive. Cricketarchive.com (17 January 1978). Retrieved on 2018-07-12.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা