প্রধান মেনু খুলুন

ফিলিপি কৌতিনিউ

ব্রাজিলীয় ফুটবলার
(ফিলিপে কৌতিনহো থেকে পুনর্নির্দেশিত)

ফিলিপি কৌতিনিউ কোরেয়া (ব্রাজিলীয় পর্তুগিজ: [fiˈlipi kowˈtʃĩj̃u]; জন্ম ১২ জুন ১৯৯২) হচ্ছেন একজন ব্রাজিলীয় পেশাদার ফুটবলার যিনি একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার অথবা লেফট উইঙ্গার হিসেবে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলে থাকেন।

ফিলিপি কৌতিনিউ
20180610 FIFA Friendly Match Austria vs. Brazil Philippe Coutinho 850 1692.jpg
২০১৮-এ ফিলিপে কৌতিনিউ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম ফিলিপে কৌতিনিউ কোরেয়া[১]
জন্ম (1992-06-12) ১২ জুন ১৯৯২ (বয়স ২৭)
জন্ম স্থান রিও দি জেনেরিও, ব্রাজিল
উচ্চতা ১.৭১মি[২]
মাঠে অবস্থান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার / উইঙ্গার
ক্লাবের তথ্য
বর্তমান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ
জার্সি নম্বর ১০
যুব পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন
১৯৯৯–২০০৮ ভাস্কো দা গামা
জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন*
বছর দল উপস্থিতি (গোল)
২০০৮–২০১৩ ইন্তারনাজিওনালে ২৮ (৩)
২০০৮–২০১০ → ভাস্কো দা গামা (ধারে) ১৯ (১)
২০১২ → এসপানিওল (ধারে) ১৬ (৫)
২০১৩–২০১৮ লিভারপুল ১৫২ (৪১)
২০১৮– বার্সেলোনা ৫২ (১৩)
২০১৯–বায়ার্ন মিউনিখ (ধারে) (০)
জাতীয় দল
২০০৯ ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-১৭ (৩)
২০১১–২০১২ ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ (৩)
২০১০– ব্রাজিল ৫৬ (১৬)
  • পেশাদারী ক্লাবের উপস্থিতি ও গোলসংখ্যা শুধুমাত্র ঘরোয়া লিগের জন্য গণনা করা হয়েছে এবং ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখ অনুযায়ী সঠিক।

† উপস্থিতি(গোল সংখ্যা)।

‡ জাতীয় দলের হয়ে খেলার সংখ্যা এবং গোল ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখ অনুযায়ী সঠিক।

কৌতিনিউর জন্ম ব্রাজিলের রিও দি জেনেরিও শহরে এবং সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন। কৌতিনিউ তার অসাধারণ প্রতিভা দেখান এবং ভাস্কো দা গামা ফুটবল ক্লাবের তরুণ দলে উত্তীর্ণ হন। ২০০৮-এ তিনি ৪০ লক্ষ ইউরোর বিনিময়ে ইতালীয় ক্লাব ইন্তারনাজিওনালের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এবং পরবর্তীকালে ভাস্কো দা গামায় ধারে ফেরত যান। যেখানে তিনি একজন প্রধান খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। ইন্টার মিলানের হয়ে তার অভিষেক হয় ২০১০-এ এবং "ইন্টার মিলানের ভবিষ্যৎ" হিসাবে দেখা দেন কিন্তু মূল একাদশে নিজেকে নিয়মিত করতে ব্যর্থ হন এবং ২০১২ সালে স্পেনীয় ক্লাব এসপানিওলে ধারে খেলতে যান।

জানুয়ারি ২০১৩-এ, তিনি ইংরেজ দল লিভারপুল এর সাথে ৮৫ লক্ষ পাউন্ডের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন। তিনি লিভারপুলে বিকাশ লাভ করেন; তার খেলার ধরন, ড্রিবলিং এবং দুরপাল্লার শটগুলির সমন্বয়স্বরূপ তিনি লিভারপুলের সমর্থক এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে 'লিটল ম্যাজিশিয়ান' ডাকনাম অর্জন করেন।[৩] ২০১৫-এ পিএফএ টিম অব দ্য ইয়ার-এ তার নাম থাকার পর, ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি খেলোয়াড় পেলে কৌতিনিউর বিরাট ভবিষ্যৎ এর ইঙ্গিত দেন।[৪] ২০১৮ সালে স্পেনীয় ক্লাব বার্সেলোনা তাকে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ পাউন্ডের বিনিময়ে কিনে নেয়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে কৌতিনিউ ধারে জার্মান দল বায়ার্ন মিউনিখ এ যোগ দেন।

কৌতিনিউ ২০১০ সালে ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের হয়ে সিনিয়র দলে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। সেই থেকে তিনি ৩০ টিরও বেশি ম্যাচে উপস্থিতি নিয়েছেন এবং ২০১৫ কোপা আমেরিকাকোপা আমেরিকা সেন্টেনারিও-এ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

প্রারম্ভের জীবনসম্পাদনা

এসমেরেল্ডা কৌতিনিউ ও স্থপতি জোস কার্লোস কোরেয়া এর তৃতীয় ও কনিষ্ঠ পুত্র ফিলিপে কৌতিনিউ ১২ জুন ১৯৯২-এ ব্রাজিলের রিও দি জেনেরিওতে জন্ম গ্রহণ করেন। রিও দি জেনেরিওর উত্তরের রোচা জেলায় পুরানো বস্তি শহর ও শিল্প গুদামের মাঝে তিনি বেড়ে উঠেন।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

১৮ বছর বয়সে কৌতিনিউ তার পিতা-মাতার সাথে ইতালিতে যান ইন্টার মিলানে যোগ দেওয়ার জন্য। সেখানে তার গার্লফ্রেন্ড অ্যাইন এর সাথে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয় তার এক বন্ধুর পার্টিতে। এস্পানিওল এ স্থানান্তরের সময় তার পিতা-মাতা ব্রাজিলে ফেরত আসেন। ২০১২ এর গ্রীষ্মে তিনি অ্যাইনকে বিবাহ করেন। কৌতিনিউ এর আইডল হচ্ছে রোনালদিনহো। তার আঙ্গুল থেকে বাইসেপ পর্যন্ত তার পিতা-মাতা, দুই ভাই ও তার স্ত্রী অ্যাইনের ট্যাটু অঙ্কিত রয়েছে। কৌতিনিউ খ্রিস্ট ধর্ম এর অনুসারী।

পরিসংখ্যানসম্পাদনা

ক্লাবসম্পাদনা

২০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।[৫]
ক্লাব মৌসুম লিগ কাপ মহাদেশীয় অন্যান্য মোট
উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল
ভাস্কো দা গামা (ধারে) ২০০৯ ১২ ১২
২০১০ ১৭ ৩১
মোট ১৯ ১৭ ৪৩
ইন্তারনাজিওনালে ২০১০–১১ ১৩ ২০
২০১১-১২
২০১২–১৩ ১০ ১৯
মোট ২৮ ১৮ ৪৭
এসপানিওল (ধারে) ২০১১–১২ ১৬ ১৬
লিভারপুল ২০১২–১৩ ১৩ ১৩
২০১৩–১৪ ৩৩ ৩৭
২০১৪–১৫ ৩৫ ৫২
৩০১৫–১৬ ২৬ ১৩ ৪৩ ১২
২০১৬–১৭ ৩১ ১৩ ৩৬ ১৪
২০১৭–১৮ ১৪ ২০ ১২
মোট ১৫২ ৪১ ১৩ ২৪ ১২ ২০১ ৫৪
বার্সেলোনা ২০১৭–১৮ ১৮ ২২ ১০
২০১৮–১৯ ৩৪ ১২ ৫৪ ১১
মোট ৫২ ১৩ ১১ ১২ ৭৬ ২১
সর্বমোট ২৬৭ ৬৩ ৩১ ১০ ৫৪ ১২ ৩১ ৩৮৩ ৯০

আন্তর্জাতিকসম্পাদনা

২২ জুন ২০১৮ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।
জাতীয় দল বছর উপস্থিতি গোল
ব্রাজিল ২০১০
২০১৪
২০১৫
২০১৬ ১১
২০১৭
২০১৮ ১৩
২০১৯ ১১
মোট ৫৬ ১৬

আন্তর্জাতিক গোলসম্পাদনা

স্কোর ও ফলাফলে ব্রাজিলের গোল প্রথমে দেয়া আছে:
গোল তারিখ স্থান প্রতিপক্ষ স্কোর ফলাফল প্রতিযোগিতা
১. ৭ জুন ২০১৫ আলিয়াঞ্জ পারেক, সাও পাওলো, ব্রাজিল   মেক্সিকো –০ ২–০ প্রীতি ম্যাচ
২. ৮ জুন ২০১৬ ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়াম, অরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   হাইতি –০ ৭–১ কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিও
৩. –০
৪. –১
৬ অক্টোবর ২০১৬ এরিনা দাস ডানা, নাটাল, ব্রাজিল   বলিভিয়া –০ ৫–০ ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
৬. ১০ নভেম্বর ২০১৬ এস্তাদিও মিনেইরাও, বেলো অরিজন্ঠে, ব্রাজিল   আর্জেন্টিনা –০ ৩–০
৭. ২৭ মার্চ ২০১৭ এরিনা করিন্থিয়ান্স, সাও পাওলো, ব্রাজিল   প্যারাগুয়ে –0 ৩–০
৮. ৩১ অাগস্ট ২০১৭ এরিনা ডো গ্রেনমিয়ো, পোর্টো আলেগ্রে, ব্রাজিল   ইকুয়েডর –০ ২–০
৯. ২৩ মার্চ ২০১৮ লুঝনিকি স্টেডিয়াম, মস্কো, রাশিয়া   রাশিয়া –০ ৩–০ বন্ধুত্বপূর্ণ
১০. ১০ জুন ২০১৮ আর্নেস্ট-হ্যাপেল-স্টেডিয়াম, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া   অস্ট্রিয়া –০ ৩–০
১১. ১৭ জুন ২০১৮ রোস্তভ এরিনা, রোস্তভ-ন্য-দানু, রাশিয়া    সুইজারল্যান্ড –০ ১-১ ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ
১২. ২২ জুন ২০১৮ ক্রেস্তভস্কি স্টেডিয়াম, সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়া   কোস্টা রিকা –০ ২–০

অর্জনসম্পাদনা

ক্লাবসম্পাদনা

ভাস্কো দা গামা
  • ক্যাম্পেওনাতো ব্রাজিলিয়েরো সেরি বি: ২০০৯[৬]
ইন্তারনাজিওনালে
  • কোপা ইতালিয়া: ২০১০–১১[৬]
  • সুপারকোপা ইতালিয়ানা: ২০১০[৬]
লিভারপুল
বার্সেলোনা

আন্তর্জাতিকসম্পাদনা

ব্যক্তিগতসম্পাদনা

  • পিএফএ ফ্যানস মাসসেরা খেলোয়াড়: ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  • পিএফএ বর্ষসেরা দল: ২০১৪–১৫
  • উয়েফা ইউরোপা লিগ মৌসুমসেরা দল: ২০১৫–১৬[৮]
  • লিভারপুল ফ্যানস বর্ষসেরা খেলোয়াড়: ২০১৪-১৫,[৯] ২০১৫–১৬[১০]
  • লিভারপুল প্লেয়ারস বর্ষসেরা খেলোয়াড়: ২০১৪–১৫,[১১] ২০১৫–১৬[১০]
  • সাম্বা দ'অর: ২০১৬[১২]
  • ফুটবল সমর্থক ফেডারেশন বর্ষসেরা খেলোয়াড়: ২০১৬[১৩]
  • ফিফপ্রো বিশ্ব একাদশ চতুর্থ দল: ২০১৭[১৪]
  • ফিফা বিশ্বকাপ সেরা দল: ২০১৮[১৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Premier League Clubs submit Squad Lists" (PDF)। Premier League। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪। পৃষ্ঠা 20। ২২ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. "Philippe Coutinho"Liverpool F.C.। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৫ 
  3. Carroll, James (৩০ এপ্রিল ২০১৪)। "Video: Get to know Philippe Coutinho"Liverpool FC। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৫ 
  4. "Pele on Philippe Coutinho and England's El Clásico"SB Nation। ২০ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৫ 
  5. Philippe Coutinho প্রোফাইল সকারওয়েতে. Retrieved 11 March 2018.
  6. Smith, Ben (২৬ জানুয়ারি ২০১৩)। "Liverpool agree a deal for Inter Milan's Philippe Coutinho"। BBC Sport। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৫ 
  7. McNulty, Phil (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। "Liverpool 1–1 Manchester City"। BBC Sport। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  8. "UEFA Europa League Squad of the Season"। UEFA। ২০ মে ২০১৬। 
  9. "Phil wins four prizes at Players' Awards"। Liverpool F.C.। ১৯ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৫ 
  10. "Quartet of accolades for Philippe Coutinho at LFC Players' Awards"। Liverpool F.C.। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০১৬ 
  11. "Philippe Coutinho claims quartet of awards at Liverpool's end-of-season ceremony including Player of the Year gong"Daily Mail। ১৯ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৫ [অনির্ভরযোগ্য উৎস?]
  12. Stillman, Tim (৩১ ডিসেম্বর ২০১৬)। "Philippe Coutinho wins the Samba Gold 2016"Sambafoot। Sambafoot। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  13. http://www.fsf.org.uk/। "Philippe Coutinho wins FSF Player of the Year Award | Football Supporters' Federation"www.fsf.org.uk। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৭ 
  14. "2016–2017 World 11: the Reserve Teams – FIFPro World Players' Union"। FIFPro। ২৩ অক্টোবর ২০১৭। ৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৭ 
  15. FIFA.com (১৮ জুলাই ২০১৮)। "FIFA World Cup Fan Dream Team"। ২৬ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৮ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা