গৌরনদী উপজেলা

বরিশাল জেলার একটি উপজেলা

গৌরনদী বাংলাদেশের বরিশাল জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

গৌরনদী
উপজেলা
গৌরনদী বরিশাল বিভাগ-এ অবস্থিত
গৌরনদী
গৌরনদী
গৌরনদী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
গৌরনদী
গৌরনদী
বাংলাদেশে গৌরনদী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৫৮′৪০″ উত্তর ৯০°১৩′৫৯″ পূর্ব / ২২.৯৭৭৭৮° উত্তর ৯০.২৩৩০৬° পূর্ব / 22.97778; 90.23306 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগবরিশাল বিভাগ
জেলাবরিশাল জেলা
আয়তন
 • মোট১৫০.৫৪ বর্গকিমি (৫৮.১২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট১,৮৮,৫৮৬
 • জনঘনত্ব১,৩০০/বর্গকিমি (৩,২০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
১০ ০৬ ৩২
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

অবস্থানসম্পাদনা

উত্তরে কালকিনী উপজেলা, পূর্বে বাবুগঞ্জ উপজেলা, মুলাদি উপজেলাকালকিনী উপজেলা, দক্ষিণে উজিরপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে আগৈলঝারা উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকাসম্পাদনা

গৌরনদী উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম গৌরনদী থানার আওতাধীন।

পৌরসভা:
ইউনিয়নসমূহ:

ইতিহাসসম্পাদনা

গৌরনদী উপজেলার নামকরণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন লিখিত ইতিহাস নে সময় গৌরনদী সদরসহ বৃহত্তর গৌরনদী (আগৈলঝাড়া সহ) এলাকা ছিল নদী দ্বারা বেষ্টিত। গৌরনদীর পূর্বাঞ্চলে রয়েছে আঁড়িয়াল নদী। আর আঁড়িয়াল-খা এর শাখা নদী হচ্ছে পালরদী নদী। এক সময় পালরদী ছিল স্রোতস্বিনী নদী। গৌরনদীর প্রবীণজন ও ইতিহাসবিদদের সংজ্ঞা মতে, আঁড়িয়াল-খা নদীর শাখা নদী পালরদী নদীকে ঘিরেই গৌরনদীর নামকরণ করা হয়। এ নদীর সাথে গৌরনদীর সংযুক্ততা রয়েছে। আঁড়িয়াল-খা নদীর শাখা নদী পালরদী নদীর প্রবহমান পানির রং ছিল গৌড় বর্ণের। সে অনুসারে গৌড় এবং নদী যুক্ত হয়ে "গৌরনদী"র নামকরণ করা হয়েছে।

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী গৌরনদী উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১,৮৮,৫৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯২,২০৯ জন এবং মহিলা ৯৬,৩৭৭ জন। মোট পরিবার ৪১,৫৬১টি।[২]

শিক্ষাসম্পাদনা

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৭ টি বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২২ টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ০৭ টি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ০১ টি উচ্চ বিদ্যালয়(সহশিক্ষা ২০টি উচ্চ বিদ্যালয়(বালিকা) ০৫ টি দাখিল মাদ্রাসা ১১ টি আলিম মাদ্রাসা ০৩ টি অন্যান্য মাদ্রাসা ২৯৩ টি কামিল মাদ্রাসা ০১ টি কলেজ(সহপাঠ) ০৯ টি কলেজ(বালিকা) ০১ টি শিক্ষার হার ৬৫.০২% পুরুষ ৬৮.০৪% মহিলা ৬২%

অর্থনীতিসম্পাদনা

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৫১.৫৯%, অকৃষি শ্রমিক ২.৮৪%, শিল্প ১.৮২%, ব্যবসা ১৮.৯৩%, পরিবহন ও যোগাযোগ ৪.৪৮%, চাকরি ৯.৭৫%, নির্মাণ ২.৩২%, ধর্মীয় সেবা ০.২৮%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৩.৫০% এবং অন্যান্য ৪.৪৯%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৯.৮৪%, ভূমিহীন ৪০.১৬%। শহরে ৫৪.৯৫% ও গ্রামে ৭৫.৮৯% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, গম, আলু, পান, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি তিল, পাট, সরিষা, কলাই, আমন ধান।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, জাম, তাল, নারিকেল, পেঁপে।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার হাঁস-মুরগি ৩৫, গবাদিপশু ১২, মৎস্য ৩৮, হ্যাচারি ৪।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৩৮ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৩৯ কিমি, কাঁচারাস্তা ৩০০ কিমি; নৌপথ ১৯ নটিক্যাল মাইল।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, দুলকি।

শিল্প ও কলকারখানা ধানকল, আটাকল, বরফকল, চিড়াকল, স’মিল, ওয়েল্ডিং, বিড়িকারখানা, ব্যাটের কারখানা প্রভৃতি।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশের কাজ প্রভৃতি।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২৩, মেলা ৮। টরকীর হাট, কসবার গরুর হাট, মাহিলাড়া হাট এবং কবিরাজ বাড়ির মেলা (চাঁদশী), পৌষ সংক্রান্তির মেলা (বাটাজোর) ও মনসার মেলা (গৈলা) উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য ধান, পান, কলা, দধি।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বসম্পাদনা

ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ঐতিহ্যসম্পাদনা

  • গৌরনদী জমিদার বাড়ি (জমিদার মোহন লাল সাহার বাড়ি)।
  • খাঞ্জাপুর নগর জ‌মিদার আলহাজ্ব মোস‌লেম উ‌দ্দিন হাওলাদার এর বা‌ড়ি দি‌ঘি,
  • ‌মেদাকুল জ‌মিদার ভাগ্যকুল ভুইয়ার বা‌ড়ি,
  • কসবা মসজিদ (আল্লাহর মস‌জিদ), দি‌ঘি,
  • কমলাপুর মসজিদ হযরত খানজাহান আলীর পদচারন ও ধ্যান ইসলাম প্রচার ও মস‌জিদ নির্মান,
  • মা‌হিলাড়া সরকার মঠ,
  • আ‌শোকাঠী বিল্বগ্রাম মিত্রির দি‌ঘি,
  • চাদশীর মেলা,
  • সা‌কোকাঠী আধুনায় ইসাখার আস্তানা মস‌জিদ,
  • নল‌চিড়ার কামান ,
  • না‌ঠৈ বু‌ড়ির বা‌ড়ির মেলা,
  • ‌গৌরনদীর মি‌স্টি, দৈ (দ‌ধি), রশমালাই,‌ঘি,
  • ‌গৈলার দৈ, ঘি,
  • ‌ঘো‌ষেরহা‌টের দৈ, ঘি ,‌মি‌স্টি,
  • ‌গৌরনদীর নৌকা বাইচ,

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে গৌরনদী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১০ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০১৫ 
  2. "ইউনিয়ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। Archived from the original on ৮ ডিসেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা