বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

বাংলাদেশের একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান
(এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ থেকে পুনর্নির্দেশিত)

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশের একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটি অফ পাকিস্তান নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তার নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পিছনে পৃথিবীবিখ্যাত ভারততাত্ত্বিক ও পুরাতাত্ত্বিক জনাব আহমদ হাসান দানী মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেনঃ জনাব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এ.বি.এম.হাবীবুল্লাহ, আব্দুল হালিম, এবং অনেকে। প্রতিষ্ঠাতারা চেয়েছিলেন এটি যেন বিশেষ করে এশিয়া বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।[১]

ঢাকার নিমতলীতে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি'র বর্তমান ভবন।

ইতিহাসসম্পাদনা

এশিয়ার মানুষপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণার জন্য ১৭৮৪ সালের ১৫ জানুয়ারি[২] তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্যার উইলিয়াম জোনস দি এশিয়াটিক সোসাইটি নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সার্বিকভাবে এশিয়া এবং বিশেষভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ওপর পদ্ধতিগত গবেষণা পরিচালনার জন্য একটি সমিতি প্রতিষ্ঠার ধারণা দেন এবং প্রাচ্যবিদ্যা অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে একটি নিয়মিত সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জোনসের প্রস্তাব ফোর্ট উইলিয়ামের অন্যান্য সহকর্মীর কাছ থেকে জোরালো সমর্থন লাভ করে। ১৭৮৪ সালের ১৫ জানুয়ারি সমমনা ৩০ জন ইউরোপীয় ব্যক্তিত্ব কলকাতা সুপ্রিম কোর্টের গ্র‍্যান্ড জুরি কক্ষে এক বৈঠকে মিলিত হন এবং এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জোনসের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় দি এশিয়াটিক সোসাইটি এবং উইলিয়াম জোনস এর প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন।[২]

১৮২৯ সালে রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটি অব গ্রেট ব্রিটেন প্রতিষ্ঠিত হয়। 'বোম্বে রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটি' নামে বোম্বেতে এর একটি শাখা ছিল। শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, টোকিও, আমেরিকা (ভিন্ন নামে ওরিয়েন্টাল একাডেমি) এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় (১৯৫২ সালে)। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এর পুনঃনামকরণ করা হয় বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

বিস্তারিতসম্পাদনা

প্রতিষ্ঠানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এনজিও ব্যুরো এবং ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে সামাজিক আইনের অধীনে নিবন্ধীকৃত। বাংলাদেশের প্রথিতযশা একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত হয়, যা সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়। এই কাউন্সিলের মেয়াদ ২ বছর। দৈনন্দিন ঘটনাবলী সাধারণ সম্পাদক এবং সম্পাদক ব্যবস্থাপনা করলেও যেকোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তে কাউন্সিল ভূমিকা রাখে। প্রতি মাসে বাধ্যতামূলকভাবে একবার কাউন্সিল বসে। অফিসের যাবতীয় কর্মীগণ এবং কাউন্সিলের সদস্যগণ সম্মানীর বিপরীতে কাজ করেন।

প্রকাশিত পুস্তকসম্পাদনা

  • শরীফ উদ্দিন আহমেদ (প্রধান সম্পাদক), সম্পাদক (২০১২)। রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর ও উত্তরকালঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন 978-984-512-014-2 

সভাপতিগণসম্পাদনা

সময়কাল সভাপতি
১৯৫২-৫৩ আব্দুল হামিদ
১৯৫৪ ড. মোঃ শহীদুল্লাহ
১৯৫৫ অধ্যাপক আব্দুল হালিম
১৯৫৬ বিচারপতি মোঃ ইব্রাহীম
১৯৫৭-৫৮ খান বাহাদুর আব্দুর রহমান খান
১৯৫৯ খান বাহাদুর আব্দুর রহমান খান
১৯৬০-৬১ অধ্যাপক আব্দুল হালিম
১৯৬২ ড. মোঃ শহীদুল্লাহ
১৯৬৩-৬৪ ড. মোঃ শহীদুল্লাহ
১৯৬৫ ড. মোহাম্মদ এনামুল হক
১৯৬৬ ড. মোহাম্মদ এনামুল হক
১৯৬৭ ড. মোঃ শহীদুল্লাহ
১৯৬৮ বিচারপতি আব্দুল মওদুদ
১৯৬৯-৭৩ অধ্যাপক এ.বি.এম হবিবুল্লাহ
১৯৭৪ সৈয়দ মর্তুজা আলী
১৯৭৫ অধ্যাপক এ.বি.এম হবিবুল্লাহ
১৯৭৬ কামরুদ্দীন আহমেদ
১৯৭৭-৭৮ কামরুদ্দীন আহমেদ
১৯৭৯ অধ্যাপক সিরাজুল হক
১৯৮০ অধ্যাপক মোঃ এনামুল হক
১৯৮১ খান বাহাদুর আব্দুল হাকিম
১৯৮২ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর
১৯৮৩ অধ্যাপক এ.আর মল্লিক
১৯৮৪-৮৫ অধ্যাপক এ.আর মল্লিক
১৯৮৬-৮৭ জনাব আ.ক.ম জাকারিয়া
১৯৮৮-৮৯ ড. এ.এম শরাফুদ্দীন
১৯৯০-৯১ ড. এ.এম শরাফুদ্দীন
১৯৯২-৯৩ অধ্যাপক এ.কে.এম নূরুল ইসলাম
১৯৯৪-৯৫ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম
১৯৯৬-৯৭ অধ্যাপক ওয়াকিল আহমদ
১৯৯৮-৯৯ অধ্যাপক এম. হারুনুর রশীদ
২০০০-০১ অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী
২০০২-০৩ অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী
২০০৪-০৫ অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ
২০০৬-০৭ অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ
২০০৮-০৯ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম
২০১০-১১ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম
২০১২-১৩ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
২০১৪-১৫ অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী
২০১৬-১৭ অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী
২০১৮-১৯ অধ্যাপক মাহফুজা খানম
২০২০-২১ অধ্যাপক মাহফুজা খানম

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সাজাহান মিয়া (২০১২)। "বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি"। সিরাজুল ইসলাম ও আহমেদ জামান। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ (২য় সংস্করণ)। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। 
  2. জানার আছে অনেক কিছু, পড়াশোনা, দৈনিক প্রথম আলো, ২ জুন ২০১৮

বহিঃসংযোগসম্পাদনা