অস্ট্রেলিয়া

ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত একটি দেশ
(অষ্ট্রেলিয়া থেকে পুনর্নির্দেশিত)

কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়া বা অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র । এটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের মূল ভূখণ্ড, তাসমানিয়াসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত।[১৩] দেশটির মোট আয়তন ৭৬,১৭,৯৩০ বর্গকিমি (২৯,৪৪,৩০০ বর্গমাইল)।[১৪] আয়তনের দিক থেকে এটি ওশেনিয়া অঞ্চলের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র এবং পৃথিবীর ৬ষ্ঠ বৃহত্তম রাষ্ট্র। দেশটির উত্তরে তিমুর সাগর, আরাফুরা সাগর, ও টরেস প্রণালী; পূর্বে প্রবাল সাগর এবং তাসমান সাগর; দক্ষিণে ব্যাস প্রণালীভারত মহাসাগর; পশ্চিমে ভারত মহাসাগর। বৃহৎ আকৃতির ফলে অস্ট্রেলিয়ায় বেশ বিচিত্র জলবায়ু রয়েছে; এর মাঝখানে রয়েছে বৃহৎ মরুভূমি, উত্তর-পূর্বে রয়েছে বনাঞ্চল এবং দক্ষিন-পশ্চিমে রয়েছে পর্বতমালা। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা এবং সিডনী হলো বৃহত্তম শহর। দুইটি শহরই দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত।

কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়া

A blue field with the Union Flag in the upper hoist quarter, a large white seven-pointed star in the lower hoist quarter, and constellation of five white stars in the fly – one small five-pointed star and four, larger, seven-pointed stars.
পতাকা
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
A map of the eastern hemisphere centred on Australia, using an orthographic projection.
রাজধানীক্যানবেরা
৩৫°১৮′২৯″ দক্ষিণ ১৪৯°০৭′২৮″ পূর্ব / ৩৫.৩০৮০৬° দক্ষিণ ১৪৯.১২৪৪৪° পূর্ব / -35.30806; 149.12444
বৃহত্তম নগরীসিডনি
সরকারি ভাষাযুক্তরাষ্ট্রীয় স্তরে নেই
দাপ্তরিক ভাষাইংরেজি[টীকা ২]
ধর্ম
(২০১৬)[৩]
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ
সরকারযুক্তরাষ্ট্রীয় সংসদীয়
সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
দ্বিতীয় এলিজাবেথ
ডেভিড হারলি
স্কট মরিসন
আইন-সভাসংসদ
সিনেট
হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস
স্বাধীনতা 
১ জানুয়ারি ১৯০১
৯ অক্টোবর ১৯৪২
(৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
থেকে কার্যকর)
৩ মার্চ ১৯৮৬
আয়তন
• মোট
৭৬,৯২,০২৪ কিমি (২৯,৬৯,৯০৭ মা) (৬ষ্ঠ)
• পানি/জল (%)
১.৭৯ (২০১৫ অনুযায়ী)[৬]
জনসংখ্যা
• ২০২২ আনুমানিক
নিরপেক্ষ বৃদ্ধি ২,৫৯,২৫,৬০০[৭] (৫৩তম)
• ২০১৬ আদমশুমারি
২,৩৪,০১,৮৯২[৮]
• ঘনত্ব
৩.৪ /কিমি (৮.৮ /বর্গমাইল) (১৯২তম)
জিডিপি (পিপিপি)২০২১ আনুমানিক
• মোট
বৃদ্ধি $১,৪২,৭০০ কোটি[৯] (১৯তম)
• মাথাপিছু
বৃদ্ধি $৫৫,৪৯২[৯] (22nd)
জিডিপি (মনোনীত)২০২১ আনুমানিক
• মোট
বৃদ্ধি $১,৬১,১০০ কোটি[৯] (১৩তম)
• মাথাপিছু
বৃদ্ধি $৬২,৬১৯[৯] (৯ম)
জিনি (২০১৮)ধনাত্মক হ্রাস ৩২.৫[১০]
মাধ্যম · ১৬তম
এইচডিআই (২০১৯)বৃদ্ধি ০.৯৪৪[১১]
অতি উচ্চ · ৮ম
মুদ্রাঅস্ট্রেলীয় ডলার ($) (AUD)
সময় অঞ্চলইউটিসি+৮; +৯.৫; +১০ (বিভিন্ন[টীকা ৪])
• গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি)
ইউটিসি+৮; +৯.৫; +১০;
+১০.৫; +১১
(বিভিন্ন[টীকা ৪])
তারিখ বিন্যাসdd/mm/yyyy
yyyy-mm-dd[১২]
গাড়ী চালনার দিকবাম
কলিং কোড+৬১
আইএসও ৩১৬৬ কোডAU
ইন্টারনেট টিএলডি.au
গোল্ড কোস্ট, কুইন্সল্যান্ডের মতো উপকূলে মেট্রোপলিটন শহরে বসবাসকারী অধিকাংশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শহুরে জনসংখ্যা রয়েছে

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর। এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ধরে প্রায় ২০১০ কিমি জুড়ে বিস্তৃত। এটি আসলে প্রায় ২৫০০ প্রাচীর ও অনেকগুলি ছোট ছোট দ্বীপের সমষ্টি। কুইন্সল্যান্ডের তীরের কাছে অবস্থিত ফেয়ারফ্যাক্স দ্বীপ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অংশ।

অস্ট্রেলিয়া ৬টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত - নিউ সাউথ ওয়েল্স, কুইন্সল্যান্ড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া, ভিক্টোরিয়া, ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও আছে দুইটি টেরিটরি — অস্ট্রেলীয় রাজধানী টেরিটরি এবং উত্তর টেরিটরি। বহিঃস্থ নির্ভরশীল অঞ্চলের মধ্যে আছে অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলীয় অ্যান্টার্কটিকা, ক্রিসমাস দ্বীপ, কোকোস দ্বীপপুঞ্জ, কোরাল সি দ্বীপপুঞ্জ, হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ, এবং নরফোক দ্বীপ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বসতিস্থাপক ছিল এখানকার আদিবাসী জাতিগুলি। এরা প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ বছর আগে দেশটিতে অভিগমন করে। ১৭শ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত বহির্বিশ্বের কাছে দ্বীপটি অজানা ছিল। ১৭৮৮ সালে দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার পোর্ট জ্যাকসনে প্রথম স্থায়ী উপনিবেশ সৃষ্টি করা হয়; এটি ছিল ব্রিটিশ কয়েদিদের উপনিবেশ। এটিই পরবর্তীকালে বড় হয়ে সিডনী শহরে পরিণত হয়। ১৯শ শতক জুড়ে অস্ট্রেলিয়া এক গুচ্ছ ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে কাজ করত। ১৯০১ সালে এগুলি একত্র হয়ে স্বাধীন অস্ট্রেলিয়া গঠন করে। ব্রিটেনের রাণী তাদের দেশের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের প্রধান।

প্রশাসনসম্পাদনা

এখানে পার্লামেন্টেরিও গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র রয়েছে যেখানে দ্বিতীয় এলিজাবেথ রানী হিসেবে স্বীকৃত। রানীর প্রতিনিধি হিসেবে একজন গভর্নর জেনারেল থাকেন। প্রতি ৩ বছর সাধারণ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়।

বৈদেশিক সম্পর্কসম্পাদনা

দেশটির সঙ্গে অন্যান্য দেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই দেশের পাসপোর্টে ১০৯টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়, যা পাসপোর্ট শক্তি সূচকে ৭ম স্থানে রয়েছে। [১৫]

অর্থনীতিসম্পাদনা

উন্নত অর্থনীতির দেশ এটি। দেশটির স্থূল অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মান ভারতের অর্ধেক।

খেলাধুলাসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Australian National Anthem"। ১ জুলাই ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
    "16. Other matters – 16.3 Australian National Anthem"। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
    "National Symbols" (PDF)Parliamentary Handbook of the Commonwealth of Australia (29th সংস্করণ)। ২০০৫ [2002]। ১১ জুন ২০০৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০০৭ 
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; language নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  3. "Religion in Australia"। Australian Bureau of Statistics। ২৮ জুন ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০২১ 
  4. See entry in the Macquarie Dictionary.
  5. Collins English Dictionary। Bishopbriggs, Glasgow: HarperCollins। ২০০৯। পৃষ্ঠা 18। আইএসবিএন 978-0-00-786171-2 
  6. "Surface water and surface water change"Organisation for Economic Co-operation and Development (OECD)। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২০ 
  7. "Population clock"Australian Bureau of Statistics website। Commonwealth of Australia। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০২০  The population estimate shown is automatically calculated daily at 00:00 UTC and is based on data obtained from the population clock on the date shown in the citation.
  8. Australian Bureau of Statistics (২৭ জুন ২০১৭)। "Australia"2016 Census QuickStats   
  9. "Report for Selected Countries and Subjects: October 2021"। International Monetary Fund। অক্টোবর ২০২১। 
  10. "Income Distribution Database"stats.oecd.org (Database)। Organisation for Economic Co-operation and Development। ১৬ ডিসেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০২১ 
  11. "Human Development Report 2020" (PDF)United Nations Development Programme। ১৫ ডিসেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ 
  12. Style manual for authors, editors and printers (6th সংস্করণ)। John Wiley & Sons Australia। ২০০২। পৃষ্ঠা 171। আইএসবিএন 978-0-7016-3647-0 
  13. "Constitution of Australia"ComLaw। ৯ জুলাই ১৯০০। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১১3. It shall be lawful for the Queen, with the advice of the Privy Council, to declare by proclamation that, on and after a day therein appointed, not being later than one year after the passing of this Act, the people of New South Wales, Victoria, South Australia, Queensland, and Tasmania, and also, if Her Majesty is satisfied that the people of Western Australia have agreed thereto, of Western Australia, shall be united in a Federal Commonwealth under the name of the Commonwealth of Australia. 
  14. "Australia's Size Compared"Geoscience Australia। ২৪ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০০৭ 
  15. "Passport Power" 

টীকা তালিকাসম্পাদনা

  1. অস্ট্রেলিয়ার রাজকীয় সঙ্গীত "গড সেইভ দ্য কুইন", যা কেবল রাজকীয় পরিবারের সদস্যরা যখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন তখন পরিবেশন করা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত, "অ্যাডভান্স অস্ট্রেলিয়া ফেয়ার" বাজানো হয়।[১]
  2. ইংরেজি ভাষার দে জুরি মর্যাদা নেই।[২]
  3. আদমশুমারিতে ধর্ম সম্পর্কিত প্রশ্ন ঐচ্ছিক ছিল, তাই সবগুলো ধর্মের শতকরা পরিমাণ যোগ করলে ১০০% হয় না।[৩]
  4. তিনটি মূল সময় অঞ্চল থেকে কিছু ক্ষুদ্র পরিবর্তন রয়েছে; অস্ট্রেলিয়ায় সময় দেখুন।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা