স্কাড (ইংরেজি: Scud) হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজ। এটি স্নায়ুযুদ্ধের সময় নির্মাণ করা হয় এবং বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে রপ্তানি করা হয়। স্কাড শব্দটির উৎপত্তি ন্যাটো রিপোর্টিং নাম এসএস-১ স্কাড থেকে, যা পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্ষেপণাস্ত্রটির সাথে জুড়ে দেয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর রাশিয়ান নাম হল আর-১১ (প্রথম সংস্করণ), আর-১৭ এবং আর-৩০০ এলব্রুস (পরবর্তী সংস্করণগুলো)। স্কাড নামটি ব্যাপকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এবং সোভিয়েত ডিজাইনের ওপর ভিত্তিকরে অন্যান্য দেশ কর্তৃক নির্মিত বিভিন্ন ধরনের সংস্করণকে বুঝাতে ব্যবহার করা হয়।

স্কাড
Iskander Missile
আর-১৭ সিস্টেম (এসএস-১সি স্কাড-বি) থেকে পোলিশ ক্ষেপণাস্ত্র ডব্লিউজেট. ৮কে১৪
প্রকার যুদ্ধকৌশল সংক্রান্ত ক্ষেপণাস্ত্র
ব্যবহার ইতিহাস
ব্যবহারকারী দেখুন অপারেটর

উন্নয়নসম্পাদনা

স্কাড শব্দটির প্রথম ব্যবহার ন্যাটোর এসএস-১বি স্কাড-এ নামটিতে, যা দিয়ে আর-১১ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে বোঝানো হতো। এর আগের আর-১ নামক ক্ষেপণাস্ত্রটির ন্যাটো প্রদত্ত নাম ছিল এসএস-১ স্কানার, কিন্তু এটির ডিজাইন ছিল একেবারেই ভিন্ন - বলা যায় এটি জার্মানির ভি-২ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অবিকল নকল ছিল। আর-১১ তেও ভি-২ থেকে আহরিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু এটির নকশা ছিল নতুন। এটি ছিল আরো ছোট এবং এর আকৃতি ভি-২ এবং আর-১ অস্ত্রগুলো থেকে আলাদা ছিল। করোলিয়েভ ওকেবি আর-১১ এর উন্নয়ন করে এবং এটি সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৫৭ সালে । আর-১১ তে সবচেয়ে বৈপ্লবিক উদ্ভাবনটি ছিল এর ইঞ্জিন যার নকশাকার এ.এম. ইসায়েভ। ভি-২ এর একাধিককক্ষ বিশিষ্ট নকশা থেকে এটি ছিল অনেক সরল এবং এতে ইঞ্জিনের ঘরঘর শব্দ দূর করতে এন্টি-অসিলিয়েশন ব্যাফল সংযুক্ত করা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্যবহৃত অন্যান্য বৃহদাকার ক্ষেপণাস্ত্র থেকে এটি অনেক এগিয়ে ছিল।

এর পরবর্তী সংস্করণগুলো হচ্ছে ১৯৬১ সালে উন্নয়নকৃত আর-৩০০ এলব্রুস/ এসএস-১সি স্কাড-বি এবং ১৯৬৫ সালে উন্নয়নকৃত এসএস-১ডি স্কাড-সি, এর দুটো সংস্কারণই প্রচলিত উচ্চ-বিস্ফোরক, ৫- থেকে ৮০-কিলোটন ক্ষমতার আণবিক অস্ত্র কিংবা রাসায়নিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ছিল। ১৯৮০ সালে উন্নয়নকৃত এসএস-১ই স্কাড-ডি সংস্করণটি আরও নির্ভুল ভাবে দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ছিল। প্রতিটি সংস্করণের দৈর্ঘ্য ১১.৩৫ মিটার বা ৩৭.২ ফিট (ব্যতিক্রম স্কাড-এ, যার দৈর্ঘ্য ১ মিটার/ তিন ফিট তিন ইঞ্চি কম) এবং ব্যাস ০.৮৮ মিটার বা ২ ফিট ১১ ইঞ্চি। এগুলো একটি তরল-জ্বালানি রকেট ইঞ্জিন দিয়ে চলে যাতে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয় কেরোসিন এবং করোশন ইনহিবিটেড রেড ফিউমিং নাইট্রিক এসিড (IRFNA) এর সাথে ইউডিএমএইচ, তরল প্রজ্জ্বলক হিসাবে ব্যবহৃত হয় আনসিমেট্রিক্যাল ডাইমেথাইলহাইড্রাজিন।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সবোর্চ্চ গতিসীম ৫ মাক

সংস্করণ সমূহসম্পাদনা

সোভিয়েত ইউনিয়নসম্পাদনা

আর-১১সম্পাদনা

আর-১৭সম্পাদনা

স্কাড-সিসম্পাদনা

স্কাড-ডিসম্পাদনা

বৈশিষ্ট্যসম্পাদনা

উত্তর কোরিয়াসম্পাদনা

হোয়াসং-৫সম্পাদনা

হোয়াসং-৬সম্পাদনা

রোদং-১সম্পাদনা

যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারসম্পাদনা

প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রে যে গুটিকয়েক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে তার মধ্যে স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র একটি (এর অন্য সংস্করণগুলো সহ)। যুদ্ধক্ষেত্রে উৎক্ষেপনের দিক থেকে এটির অবস্থান দ্বিতীয়, ব্যবহারের দিক থেকে এর আগে রয়েছে শুধু ভি-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি (যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হল: এসএস-২১, এমজিএম-১৪০ এটিএসিএমএস এবং ৯কে৭২০ ইস্কান্দার)। স্কাড ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম নথিভুক্ত ব্যবহার জানা যায় ১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধে, সেসময় ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিসর স্বল্পসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। ১৯৮৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে লিবিয়া দু'টি স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে যার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপে অবস্থিত ইউএস কোস্টগার্ড নেভিগেশন স্টেশন; কিন্তু এগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বেশকিছু আঞ্চলিক যুদ্ধেও স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যার মধ্যে অর্ন্তভুক্ত আছে সোভিয়েত এবং আফগান সমাজতান্ত্রিক বাহিনীর আফগানিস্তানের যুদ্ধ এবং ইরান-ইরাক সংঘর্ষের তথাকথিত শহর-শহরের যুদ্ধে ইরানি ও ইরাকি বাহিনীর একে অপরের বিরূদ্ধে ব্যবহার। উপসাগরীয় যুদ্ধে ইসরাইল এবং সৌদি আরবে অবস্থিত জোট বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে ইরাক স্কাড ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার করে।

১৯৮৮ সালে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের লক্ষ্যবস্তুতে এক ডজনেরও বেশি স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এছাড়াও অল্প কিছু স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয় ১৯৯৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে, চেচনিয়ায় রুশ বাহিনী কর্তৃক ১৯৯৬ ও তৎপরবর্তী সময়ে এবং সামান্য কিছু ব্যবহৃত হয়েছে ২০১১ সালের লিবীয় গৃহযুদ্ধে

ব্যবহারকারীসম্পাদনা

 
আফগান ন্যাশনাল আর্মির একটি স্কাড উৎক্ষেপক।
 
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিপক্ষ বাহিনী হিসাবে ব্যবহৃত একটি স্কাড উৎক্ষেপক।

স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর সংস্করণগুলোর বর্তমান এবং সাবেক ব্যবহাকারীরা হচ্ছে:[১]

  আফগানিস্তান
(স্কাড-বি, স্কাড-সি?)
  আর্মেনিয়া
(স্কাড-বি, স্কাড-সি)
  বুলগেরিয়া
(স্কাড-বি) - অবসরপ্রাপ্ত
  গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
(স্কাড-বি)
  চেক প্রজাতন্ত্র
(স্কাড-বি) - অবসরপ্রাপ্ত
  পূর্ব জার্মানি
  মিশর
(স্কাড-বি, হোয়াসং-৬)
  হাঙ্গেরি
(স্কাড-বি) - অবসরপ্রাপ্ত
  ইরাক
(স্কাড-বি, আল-হুসেন, আল-আব্বাস)
  ইরান
(স্কাড-বি, হোয়াসং-৫, শাবাব-১, শাবাব-২, রোদং-১)
  কাজাখস্তান
(স্কাড-বি)
  লিবিয়া
(স্কাড-বি)
  উত্তর কোরিয়া
(স্কাড-বি, স্কাড-সি, হোয়াসং-৫, হোয়াসং-৬, রোদং-১)
  পোল্যান্ড
(স্কাড-বি) - অবসরপ্রাপ্ত
  রোমানিয়া
(স্কাড-বি) - অবসরপ্রাপ্ত
  রাশিয়া
- অবসরপ্রাপ্ত
  দক্ষিণ ইয়েমেন
  সোভিয়েত ইউনিয়ন
  স্লোভাকিয়া
(স্কাড-বি) - অবসরপ্রাপ্ত
  সিরিয়া
(স্কাড-বি, হোয়াসং-৬)
  ওমান
(স্কাড-বি)
  সংযুক্ত আরব আমিরাত
উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ২৫টি হোয়াসং-৫ কেনা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। সংযুক্ত আরব-আমিরাতের সামরিক বাহিনী এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মান নিয়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় এগুলো গুদামে মজুদ রাখা হয়।[২]
  ইউক্রেন
(স্কাড-বি)
  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
c. ১৯৯৫ সালে ৩০টি স্কাড-বি ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি উৎক্ষেপক বাহন সংগ্রহ করা হয় এবং লকহিড মার্টিন এগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিবর্তীত করে।[১]
  ভিয়েতনাম
(স্কাড-বি, হোয়াসং-৬?)
  ইয়েমেন
(স্কাড-বি)
টেমপ্লেট:দেশের উপাত্ত যুগোশ্লাভিয়া
(স্কাড-বি)-অবসরপ্রাপ্ত

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "SS-1 `Scud' (R-11/8K11, R-11FM (SS-N-1B) and R-17/8K14)"Jane's Information Group। ২৬ এপ্রিল ২০০১। ২০০৭-১২-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০২-১২ 
  2. Bermudez, Joseph S. (১৯৯৯)। "A History of Ballistic Missile Development in the DPRK: First Ballistic Missiles, 1979-1989"। James Martin Center for Nonproliferation Studies। ২০০১-১১-১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০২-১৪ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা