তড়িৎকোষ

বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহকারী
(ব্যাটারি থেকে পুনর্নির্দেশিত)

তড়িৎকোষ বা বৈদ্যুতিক কোষ বা ইংরেজি পরিভাষায় ব্যাটারি (ইংরেজি: Electric battery) বলতে এমন একটি যন্ত্রাংশকে বোঝায় যেটিতে এক বা একাধিক তড়িৎ-রাসায়নিক কোষ থাকে, এবং যেটির বহির্ভাগে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা থাকে। সংযুক্ত হলে তড়িৎকোষ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র যেমন ফ্ল্যাশলাইট, মোবাইল ফোন, এমনকি বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করতে পারে।[১] যখন কোনও তড়িৎকোষ বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করে, তখন এটির বৈদ্যুতিকভাবে ধনাত্মক প্রান্তটিকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার এবং ঋণাত্মক প্রান্তটিকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বলে।[২] ঋণাত্মক হিসেবে চিহ্নিত প্রান্তটি হল ইলেকট্রনের উৎস; এটি বহিঃস্থ কোন বর্তনীর সাথে যুক্ত হলে ইলেকট্রনগুলি প্রবাহিত হওয়া শুরু করে এবং বহিঃস্থ যন্ত্রাংশটিতে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করে। তড়িৎকোষের ভেতরে ইলেকট্রোলাইটগুলি আধান বা আয়ন হিসেবে প্রবাহিত হয় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পূর্ণ করে বহিঃস্থ বর্তনীতে শক্তি সরবরাহ করে।[৩] ঐতিহাসিকভাবে ইংরেজি ভাষাতে ব্যাটারি বলতে একাধিক তড়িৎকোষবিশিষ্ট যন্ত্রাংশকে বোঝালেও বর্তমানে একটিমাত্র তড়িৎকোষবিশিষ্ট যন্ত্রকেও ব্যাটারি বলা হয়।[৪]

তড়িৎকোষ
Batteries.jpg
বিভিন্ন ধরনের তড়িৎকোষ বা ব্যাটারি (উপরে বাম থেকে নিচে ডান পর্যন্ত): দুইটি ডাবল এ ব্যাটারি, একটি ডি ব্যাটারি, একটি মুঠোয় ধরার হ্যাম রেডিও ব্যাটারি, দুইটি ৯-ভোল্ট ব্যাটারি (PP3), দুইটি ট্রিপল-এ ব্যাটারি, একটি সি ব্যাটারি, একটি ক্যামকর্ডার ব্যাটারি, একটি তারহীন ফোন-এর ব্যাটারি
ধরনশক্তির উৎস
কার্যনীতিতড়িৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়া, তড়িচ্চালক বল
প্রথম প্রস্তুতকরণের তারিখ১৯ শতক
ইলেকট্রনিক প্রতীক
Battery symbol2.svg
বৈদ্যুতিক বর্তনীর নকশাতে ব্যবহৃত তড়িৎকোষের প্রতীক

প্রাইমারী তড়িৎদ্বার হল এমন তড়িৎদ্বার যাদেরকে শুধুমাত্র একবারই ব্যাবহার করা যায়, কেননা ডিসচার্জের সময় তাদের পরিবর্তন অর্থাৎ তরিতদ্বারের যে পরিবর্তনটা হয় তা হল অপ্রত্যাবর্তী। অর্থাৎ বিক্রিয়াটির দিক উল্টো করা সম্ভব না। একটি খুবই সহজলভ্য উদাহরন হইল অ্যালকালাইন ব্যাটারী যা ব্যাবহৃত হয় টর্চগুলোতে। সেকেন্ডারী ব্যাটারীগুলো হল তারা যারা ডিসচার্জের সময় ক্ষয়ে যাওয়া রাসায়নিক শক্তি চার্জের সময় তড়িৎ শক্তি আবারও রাসায়নিক শক্তিতে পরিনত হয়।  আর এই প্রক্রিয়া করা যেতে পারে অসংখ্যবার। উদাহরণ হিসেবে আছে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী, লেড স্টোরেজ ব্যাটারী. আকারের উপর ভিত্তি করে করে এদের ব্যাবহার ভিন্ন ভিন্ন। মোবাইল ফোন বা ল্যাপ্টপের মত ছট ছট জায়গায় ব্যাবহার করা হয় লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী, আবার বড় বড় ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয় লেড স্টোরেজ ব্যাটারী, যেমন আইপিএস, বাস-ট্রাকের মত যানবাহনে ইত্যাদি।

ব্যাটারীগুলো বিভিন্ন আকার এবং আয়তন হতে পারে। একদম ছোটগুলো ব্যাবহার হয় হাতঘড়ি, হেয়ারিং এইড এর মত জিনিসগুলোতে। চিকন জায়গাগুলোতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী আর বড় জায়গাগুলোতে লেড স্টোরেজ ব্যাটারী ব্যাবহৃত হয়। অত্যধিক বড় কোনো প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পুরো একটা রুম জুড়ে ব্যাটারীগুলো বিস্তৃত থাকে। এমন দরকার থাকে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বা কোনো কম্পিউটার ডাটা এনালাইসিস কোম্পানীর ক্ষেত্রে।

সচরাচর, অন্যান্য সাধারন হাইড্রোকার্বন জ্বালানীর চেয়ে ব্যাটারীর আপেক্ষিক শক্তি ঘনত্ব কম থাকে। অটোমোবাইল শিল্পে যান্ত্রিক কাজের জন্য ইলেক্ট্রিক মোটরগুলো ব্যাবহার করা হয় এদের উচ্চ কর্মদক্ষতার জন্য।                                        

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Crompton, T. R. (২০০০-০৩-২০)। Battery Reference Book (third সংস্করণ)। Newnes। পৃষ্ঠা Glossary 3। আইএসবিএন 0080499953। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-১৮ 
  2. Pauling, Linus (১৯৮৮)। "15: Oxidation-Reduction Reactions; Electrolysis."। General Chemistry। New York: Dover Publications, Inc.। পৃষ্ঠা 539আইএসবিএন 978-0-486-65622-9 
  3. "Battery - Definition of battery by Merriam-Webster"merriam-webster.com 
  4. Pistoia, Gianfranco (২০০৫-০১-২৫)। Batteries for Portable Devices। Elsevier। পৃষ্ঠা 1। আইএসবিএন 0080455565। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-১৮