পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের একটি উন্নয়ন প্রকল্প যার উদ্দেশ্য ঢাকা মহানগরীর অদূরে পূর্বাচল এলাকায় একটি আধুনিক ‘টাউনশীপ’ স্থাপন করা। এর জন্য রূপগঞ্জ থানাকালিগঞ্জ থানা এলাকার ৬,১৫০ একর জমি নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে ২৬ হাজার আবাসিক ভবন স্থান এবং ৬২ হাজার এপার্টমেণ্ট নির্মাণ করা হবে। এই টাউনশীপকে ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।

জয় বাংলা চত্বর, পূর্বচল, সেক্টর ১০ (২০১৯)

এটি রাজউক এর একটি প্রকল্প। ১৯৯৫ সালে রাজধানী ঢাকার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প’ গৃহীত হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে ৬৮ শতাংশ। প্রকল্প অনুমোদনের পর বিভিন্ন কারণে বহুবার নকশা সংশোধন করা হয়েছে। বারবার সংশোধনের পর প্রকল্প ব্যয় ৭ হাজার ৭৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ‘প্রকল্পের আওতাধীন প্রধান প্রধান কার্যক্রম, যেমন ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ, নদীর তীর সংরক্ষণ ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ১০০ একর জায়গায় সুউচ্চ আইকনিক টাওয়ার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।[১][২][৩]

প্রকল্পের অবস্থানসম্পাদনা

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প প্রকল্পটি ঢাকা থেকে ১৬ কিমি দূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা এবং গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এর পাশ দিয়ে বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী বয়ে গেছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যসম্পাদনা

  • নগরীর আশেপাশে নগরবাসীর আবাসনের সুযোগ তৈরি করে ঢাকা শহরের জনসংখ্যার চাপ হ্রাস করা।
  • যথাযথ নগরায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা। পরিবেশ বান্ধব এবং টেকসই পরিবেশ তৈরি করা।
  • আবাসনের বিদ্যমান তীব্র সমস্যা হ্রাস করা।
  • আশেপাশে এবং আশেপাশের অঞ্চলে নগরায়নের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা প্রসারিত করা।
  • নতুন জনপদের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধি সম্প্রসারণ করা।
  • ভবিষ্যতের আবাসন চাহিদা হ্রাস করা।

ভূমি ব্যবহারসম্পাদনা

“পূর্বাচল নতুন শহর” স্থাপনের জন্য সরকার ছয় হাজার ২২৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ করছিল। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অংশে রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭ দশমিক ৩৬ একর ভূমি এবং গাজীপুর অংশে রয়েছে ১৫শ একর জমি। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ভূমির মধ্যে আবাসিক প্লটে ব্যয় হবে ৩৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ ভূমি। এছাড়া সড়ক তৈরীতে ব্যয় হবে ২৫.৯০ শতাংশ, সামাজিক অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় হবে ৩.০৪ শতাংশ, লেক তৈরিতে ব্যয় হবে ৭.১০ শতাংশ, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিকে প্লট তৈরিতে ব্যয় হবে ৬.৪১ শতাংশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ৬ শতাংশ ব্যয় ভূমি। জনেসমাগম ও খেলার মাঠের জন্য ব্যয় হবে ২.৫০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। অবশিষ্ট ১০.৩১ শতাংশ ভূমি সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। ঢাকা জেলার খিলক্ষেত থানায় কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে “পূর্বাচল নতুন শহর” পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণে ১৫০ একর জমি ব্যবহার করা হয়েছে।[৪]

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থাসম্পাদনা

সেক্টরের ১–৫, ১১ থেকে ১৪ এবং ১৭ এর সাইট বিকাশ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। অন্যান্য সেক্টরের জন্য সাইট বিকাশের কাজ এগিয়ে চলছে। গাজীপুর অংশে সাইট বিকাশের প্রাক্কলন সম্পন্ন হয়েছে এবং কার্যকর করার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ১ থেকে ৫, ১১, ১৩, ১৪ এবং ১ সেক্টর নম্বর সেক্টরে রাস্তা নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। অন্যান্য সেক্টরের জন্যও সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। ১ম পর্বে সাত নম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪ নং ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে। বাকি ব্রিজগুলি টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংযোগ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জল সরবরাহ, নিকাশী ও টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি ইউটিলিটি পরিষেবা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ৪, ৫ এবং ১ নং সেক্টরে প্লট হস্তান্তরটি ২০১১ সালের মার্চ মাসে শুরু হয়। ৩, ১১, ১২, ১৩ এবং ১৪ সেক্টরে প্লট হস্তান্তর দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 
সেক্টর -১৩ (২০১৯)

অনিশ্চয়তায় পড়ে থাকা ২৫,০০০ মালিককে প্লট হস্তান্তর করতে আরও পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। প্রকল্পটি শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০০৮। তবে এটি এখনও আরও বেশি সময় নিতে পারে কারণ এখন পর্যন্ত কেবল ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মানচিত্র অনুসারে, এখানে ১০ টি সেতু থাকবে, তবে এ সংক্রান্ত কোনও দরপত্র কার্যকর করা হয়নি। ১, ৪, ৫, ১১ এবং ১৭ সেক্টরের ১৪০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রকল্পের কেবল ১৫ কিলোমিটার রাস্তা সম্পন্ন হয়েছে। ৪, ৫ এবং ১৭ সেক্টরে প্লট হস্তান্তর শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, জল সরবরাহ, নিকাশী ও টেলিযোগাযোগের মতো ইউটিলিটি পরিষেবা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। [৫]

মূল পরিকল্পনার পরিবর্তনসম্পাদনা

শুরুতে পূর্বাচল নতুন শহর স্থাপনের জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা সময়ে সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনার অনেক কিছু বাদ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে নতুন নতুন উপ-প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় লক্ষ্য ছিলে যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ লাখ মানুষের বসবাস উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ক্রমশঃ পরিবর্তিত সর্বশেষ নকশা অনুসারে এ প্রকল্পে ২৭ লাখ মানুষ বাস করবে মর্মে লক্ষ্যমাত্রা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।[৬] যে সকল নতুন উপ-প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তার একটি হলো ‘দ্য বোট’ শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেটির ধারণ ক্ষমতা ৫০ হাজার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে এতদ্দুশ্যে মাত্র ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩৭.৪৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।[৭]

সমালোচনাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা