কালীগঞ্জ উপজেলা, গাজীপুর

গাজীপুর জেলার একটি উপজেলা

কালীগঞ্জ বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

কালীগঞ্জ
উপজেলা
কালীগঞ্জ,গাজীপুর
ডাকনাম: কালীগঞ্জ
কালীগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কালীগঞ্জ
কালীগঞ্জ
বাংলাদেশে কালীগঞ্জ উপজেলা, গাজীপুরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৫৫′১৩″ উত্তর ৯০°৩৪′১৫″ পূর্ব / ২৩.৯২০২৮° উত্তর ৯০.৫৭০৮৩° পূর্ব / 23.92028; 90.57083স্থানাঙ্ক: ২৩°৫৫′১৩″ উত্তর ৯০°৩৪′১৫″ পূর্ব / ২৩.৯২০২৮° উত্তর ৯০.৫৭০৮৩° পূর্ব / 23.92028; 90.57083 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
জেলাগাজীপুর জেলা
আসনগাজীপুর১/গাজীপুর২
সরকার
 • এমপি এবং মা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।মেহের আফরোজ চুমকি (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ/বাংলাদেশ জাতীয়বাদি দল/জামায়াতে ইসলাম/জাতীয় পার্টি)
আয়তন
 • মোট২১৭.৫১ বর্গকিমি (৮৩.৯৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৩৯,৬৬০
 • জনঘনত্ব১,১০০/বর্গকিমি (২,৯০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হারঅধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজে নিয়জিত। তবে ক্রমান্বয়ে এ অঞ্চলের মানুষ কৃষি কাজ ছাড়াও আন্যান্য কাজের দিকে ঝুকছে। গ্রামের সকল শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।
 • মোট৭২.২০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড১৭২০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৩৩ ৩৪
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

অবস্থানসম্পাদনা

কালীগঞ্জে অবস্থান- পূর্বে ঘোড়াশাল শীতলক্ষ্যা নদী, পশ্চিমে-টঙ্গী,উত্তরে কাপাসিয়া , দক্ষিণে রূপগঞ্জ থানা ।

রাজধানী শহর সংলগ্ন টংগী শিল্প অঞ্চলের পূর্বে ২০ কিঃমিঃ দূরে ঐতিহ্যবাহী মসলিন কটন মিল ও তাঁত সমৃদ্ধ ছায়া-ঢাকা জনপদ কালীগঞ্জ উপজেলা। কালীগঞ্জ উপজেলার অবস্থান ২৩°৫২৩' হতে ২৪°২' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°২৮' হতে ৯০°৩৯' পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। গাজীপুর জেলার মোট ভূমির শতকরা ১০.৫৩ ভাগ নিয়ে সর্ব ক্ষুদ্র উপজেলা কালীগঞ্জ। ২১৭.৩৪ বর্গ কিঃমিঃ আয়তন বিশিষ্ট এ উপজেলার উত্তরে কাপাসিয়া উপজেলা, দক্ষিণে রূপগঞ্জ উপজেলাপলাশ উপজেলা,পূর্বে পলাশ উপজেলা,পশ্চিমে রূপগঞ্জ উপজেলা, গাজীপুর সদর উপজেলাশ্রীপুর উপজেলা। পূর্ব-দক্ষিণে শীতলক্ষ্যা নদী আর পশ্চিমে বালু নদীর অবস্থান উপজেলার মনোরম আবহাওয়া ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রশাসনিক এলাকাসম্পাদনা

এ উপজেলায় ১ টি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়ন রয়েছে।

ইতিহাসসম্পাদনা

ইতিহাস থেকে জানা যায়, নদী সংলগ্ন বাণিজ্য কেন্দ্র সাধারণত ‘‘গঞ্জ’’ নামে পরিচিত ছিল। আর শক্তি সাধনার পীঠস্থান বঙ্গভূমি অবহমান কাল ধরেই শক্তিদেবী কালীর নামের সাথে যুক্ত করেছে অসংখ্য জনপদকে। স্থানের নামকরণের এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে কালীগঞ্জের নামকরণের যথার্থতা প্রতিপন্ন হয়। কেননা কালীগঞ্জ সদরে শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী ঐতিহাসিক হাট ও কালীমন্দির আজও সেই তথ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। অবশ্য এ সম্পর্কে ভিন্নমতও প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করে কালীগঞ্জের নামকরণ হয়েছে ভাওয়াল পরগণার প্রতাপশালী সামন্ত রাজা কালীনারায়ণ রায়ের নামানুসারে। প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্বূক্ত জনবসতি এই অঞ্চলে সুপ্রাচীন কাল থেকেই ছিল তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক বিজিত ও বিতাড়িত লক্ষণ সেন ও তার বংশধররা দীর্ঘ দিন পূর্ববঙ্গে রাজত্ব করেছিল। এ সময় অত্র অঞ্চলের অধিকাংশ জনগণ ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। পরে বাংলায় মুসলিম রাজত্বকালে গাজীপুর অনেকগুলো চেদি রাজ্যে বিভক্ত হয়। কালীগঞ্জ ছিল স্বাধীন সামন্ত রাজ্যের রাজা খাইডা ডোসকার অধীনে। এই চেদি রাজ্যের বৌদ্ধ ধর্মামলম্বী কিছু লোক পাওয়া যায় যারা চন্ডাল উপজাতি নামে পরিচিত। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মিঃ ওয়াইজ নগরী ও পার্শ্ববর্ত্বী এলাকায় একটি পরিসংখ্যান চালিয়ে পাঁচ হাজার চন্ডালের সন্ধান পেয়েছিলেন। শেষ সামন্ত শাসন রানী ভবানীকে পরাজিত করে পালোয়ান গাজী সমগ্র গাজীপুরে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তারই পুত্র কারফরমা শাহ গাজী অত্র এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন এবং ইসলাম ধর্ম দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করে। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী এলাকায় খ্রীষ্ট ধর্ম প্রচারে সুৃচনা হয়। বর্তমানে দেশের উলে­খযোগ্য সংখ্যক খ্রীষ্টান কালীগঞ্জ এলাকায় বাস করে। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্ঠান জনগোষ্টীর বাইরেও এই উপজেলায় কিছু আদিবাসী যেমন নিষাদ, ডোম, সাওতাল, কোচ, রাজবংশী, মান্দী সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ মিলত যাদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এছাড়াও পূবাইল ব্রিজের নিচে নৌকায় বসকাসকারী একশ্রেণীর বেদে সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব লক্ষণীয়, যারা মুসলমান সম্প্রদায়ভূক্ত অথচ জাতিগত বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে আদিবাসী[২]


ভাষা ও সাহিত্যসম্পাদনা

ভাষা ও সাহিত্য রত্নাগর্ভা কালীগঞ্জ, যার বুকে জম্ম নিয়েছে অনেক ইতিহাস। ভাষা ও সাহিত্য চর্চাতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ও করছে কালীগঞ্জ উপজেলা।   বাংলা ভাষার প্রথম অভিধানঃ কালীগঞ্জের গর্ব আঠার শতকের প্রথম তিনের দশকে পর্তুগীজ পাদ্রী ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁউ নাগরী গীর্জায় বসে রচনা করেন বাংলা ভাষায় এক দ্বিভাষিক অভিধান ও খন্ডিত ব্যাকরণ ‘‘ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগেল্লা ই পর্তুগীজ ( Vocabulario Em Edioma Bengalla E Portuguese)” বা বাংলা পর্তুগীজ শব্দকোষ ও বাগধারা। অভিধানটিতে বহুলাংশে প্রধানত ভাওয়াল অঞ্চলের প্রাত্যহিক শব্দ স্থান পেয়েছে। সমগ্র ভারত বর্ষে এটাই ছিল প্রথম প্রকাশিত (১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান বর্ণমালায় মুদ্রিত) বাংলা ভাষায় অভিধান যা নিজেই প্রকাশ করেন।              বাংলা ভাষার প্রথম গদ্য গ্রন্থ্যঃ বাংলা সাহিত্যের সুতিকাগার হল কালীগঞ্জ। ফরিদপুরের ভূষনার হিন্দু রাজকুমার (নাম জানা যায়নি) অপহরণের পর পরবর্তীতে খ্রীষ্টান হয়ে নামকরণ হয় দোম আমত্মনি দো রোজারিও। তিনি ১৭৩৩ সালে নাগরী গীর্জায় বসে বাংলা ভাষায় প্রথম গদ্য গ্রন্থ্যঃ ‘‘ ব্রাম্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’’ রচনা করেন। জনৈক খ্রীষ্টান অথবা রোমান ক্যাথলিক এবং জনৈক ব্রাম্মণ বা হিন্দুদের আচার্যের মধ্যে শাস্ত্র সম্পর্কীয় তর্ক ও বিচার এই গ্রন্থের বক্তব্য। কালীগঞ্জের বাংলা বলার অতীত ঢংয়ে রচিত হয়েছে এই বই। ১৭৩৩ সালে রচিত হলেও লিসবনে রোমান বর্ণমালায় ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁউ কর্তৃক প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে।             বাংলা ভাষার দ্বিতীয় গদ্য গ্রন্থ্যঃ বাংলা ভাষার প্রথম অভিধানের রচয়িতা পর্তুগীজ পাদ্রী ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁউ ১৭৩৪ সালে নাগরী গীর্জায় বসে রচনা করেন বাংলা ভাষার দ্বিতীয় গদ্য গ্রন্থ্যঃ ‘‘কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ’’। পুসিত্মকাটি যীশু খৃস্ট ও তাঁর শিষ্যদের মধ্যে কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে রচিত। এটিও তিনি ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে রোমান বর্ণমালায় ছাপার হরফে প্রকাশ করেন।             দোম আমত্মামিত্মর পালাগানঃ বাংলা ভাষার প্রথম গদ্য গ্রন্থ্যের রচয়িতা দোমআমেত্মানির দো রোজারিও লক্ষ্য করলেন স্থানীয় ভাবে ধর্ম প্রচারের জন্য দরকার গণমানুষের কথামালা। সেই কালে তা সম্ভব ছিল পালাগানের মাধ্যমে। ফলে তিনি সরল ভাবে রচনা করলেন পালাগান। ধীরে ধীরে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।             এছাড়া কথ্য ভাষায় আঠার শতকের ত্রিশের দশকে বাইবেলের কিছু অংশের অনুবাদও করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ হ্যানা ক্যাথরিন ম্যানহাল কর্তৃক রচিত ‘‘ করুনা ও ফুলমনির বিবরণ’’ গ্রন্থ্যটি ও ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।             আধুনিক কালে কালীগঞ্জের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিকদের মধ্যে আবু জাফর সামসুদ্দিন, আব্দুল আজিজ বাগমার, হুমায়ুন খান, বুলবুল চৌধুরী এবং ভাষা সৈনিক আলাউদ্দীন  হোসেন অন্যতম।           ভাষা ও সাহিত্য জগতের বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্বঃ রত্নাগর্ভা কালীগঞ্জ যুগে যুগে জন্ম দিয়েছে ভাষা ও সাহিত্য জগতের উল্লেখ যোগ্য ব্যাক্তিত্বের, যেমনঃ             ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁউঃ বাংলা সাহিত্য, ভাষা এমনকি ভারতবর্ষের সাহিত্য শিক্ষাঙ্গনে পর্তুগীজ পাদ্রী ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁউ এর নাম অত্যমত্ম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে। তিনি আঠার শতকে সুদুর পর্তুগাল থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য কালীগঞ্জের নাগরী এসেছিলেন। নাগরীতে বসে ধর্ম প্রচারের সাথে সাথে কালীগঞ্জের কথ্য ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের দ্বিভাষিক অভিধান ও খন্ডিত ব্যাকরণ এবং দ্বিতীয় গদ্য গ্রন্থ্য কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ রচনা করেন। তৎকালে কোন প্রেস না থাকায় তিনি ১৭৪৩ সালে তার ও দোম আমত্মনি দো রোজারিও এর জন্য পর্তুগালের লিসবন থেকে মুদ্রণ করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন।             দোম আমেত্মানি দো রোজারিও ১৬৬৩ খ্রীস্টাব্দে মগ জলদস্যুরা ভূষণার রাজবাড়ী লুন্ঠনের সময় শিশু রাজকুমারকে অপহরণক করে আরাকানে নিয়ে যান। তৎকালে আরাকানে বসবাসকারী পর্তুগীজ পাদ্রী ম্যানুয়েল দো রোজারিও টাকার বিনিময়ে রাজকুমারকে ক্রয় করেন। খ্রীষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করে নাম দেন দোম আমেত্মানি রোজারিও। তিনি কালীগঞ্জের বাংলা কথ্য ভাষায় লিখিত প্রথম গদ্য গ্রন্থ‘‘ ব্রাম্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’’ ১৭৩৩ সালে নাগরী গীর্জায় বসে রচনা করেন।             আবু জাফর সামসুদ্দিনঃ আবু জাফর মোহাম্মদ সামসুদ্দিন ওরফে আবু জাফর সামসুদ্দিন ১৯১১ সালের ১২ই মার্চ কালীগঞ্জের দক্ষিণবাগ গ্রামে জম্মগ্রহন করেন। পিতার নাম মোহাম্মদ আববাস আলী ভূঁইয়া ও মাতার নাম মোছাঃ আফিফা খাতুন, দাদা ছিলেন বিখ্যাত মাওলানা কেরামত আলীর খলিফা বা স্থানীয় প্রতিনিধি। ঢাকা কলেজের ছাত্র থাকাকালীন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি গ্রহণ তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সরকারী চাকুরী দিয়ে জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে সাহিত্য ও সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করে ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে পরিত্যক্ত সাক্ষী (১৯৪৭), ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান(১৯৬৩), পদ্মা-মেঘনা-যমুনা(১৯৭৪), মুক্ত(১৯৪৮), শংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৬), আত্নজীবনী আত্নস্মৃতি (১৯৮৯), প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সাহিত্য ও সাংবাদিকতা সাধনার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ২১শে পদক, আলাওল  সাহিত্য পুরস্কারসহ বিবিধ পদক লাভ করেন। ১৯৮৮ সালের ২৪শে আগষ্ট এই মহান কৃতি পুরুষ ইহলোক ত্যাগ করেন।                 আলাউদ্দীন হোসেনঃ বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক আলাউদ্দীন হোসেনের জন্ম ১৯৩১ সালে কালীগঞ্জের ভাদার্ত্তী গ্রামে। রোটারিয়ান আলাউদ্দিন হোসেন গাজীপুর রোটারী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। তার লেখা প্রবন্ধ বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত।             আব্দুল আজিজ বাগমারঃ জম্ম ২২শে মে ১৯৪৬ সনে কালীগঞ্জে। তিনি স্বাধীকার ও স্বাধীনতা সম্পর্কিত বহু গ্রন্থের রচয়িতা, যেমন, বাঙ্গালী কি চান ?, শকুন শৃগালের আবার বাংলা আক্রমন, তিহার জেলে ত্রিশ দিন, বিপন্ন মানবতা, স্বাধীনতার স্বপ্ন উম্মেষ ও অর্জন, মুক্তিযুদ্ধ ও আতিয়া ইত্যাদির রচয়িতা। [৩] প্রফেসর কালাম মাহমুদ এর মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ, ধ্বনি বিজ্ঞান ,ইত্যাদি। [৪]

ইউনিয়ন পরিচিতিসম্পাদনা

বক্তারপুর ইউনিয়ন বক্তারপুরঃ ধারণা করা হয়, বরকত গাজীর নামানুসারে এই গ্রামের নামকরণ করা হয়েছিল বরকতপুর। পরবর্তীকালে অপভ্রংশ হয়ে বক্তারপুর হয়েছে। আবার অনেকের ধারণা পূর্বে ঈশা খাঁ এখানে অনেক বজরা নিয়ে গোপনে বসবাস করতেন। তখন নাম হয় বজ্রাপুর, তা’ থেকে বক্তারপুর। স্থানটি গাজীদের সুরম্য স্থাপনায় ছিল পরিপূর্ণ । কালের করাল গ্রাসে আজ তা ভূগর্ভে প্রোথিত। জনশ্রুতি আছে ঈশা খাঁর মৃত্যুর পর তাকে এখানেই সমাহিত করা হয়। ঐতিহাসিক যোতিন্দ্র মোহন রায় উল্লেখ করেছেন ‘‘ বজ্রাপুরে পিতা ঈশা খাঁর মতই পুত্র মাসুম খাঁ নানা দুযোর্গময় সময়ে আশ্রয় নিয়েছেন এবং এখান থেকেই ছিল, পরে তার ছেলে মাসুম খাঁর আমলে মোঘলসেনা শাহবাজ খাঁ ১৫৮৩ সালে ধবংশ করেন।

      • নাগরী ইউনিয়ন***

নাগরীঃ উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিম প্রামেত্ম বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত। খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত একটি ঐতিহাসিক জনগপদ যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ খ্রীস্টান মিশনারীর মর্যাাদায় আসীন। নাগরীতে ষোড়শ শতকের শেষ দিকে পুর্তগীজ খ্রীস্টানরা আসত্মানা ফেলে এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতিক্রমে ১৬৬৪ সনে তারা প্রথম গীর্জা স্থাপন করেন। পরে ১৬৮০ সনে পাকা ইমারত হয় নাগরীর সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনো চার্চ। এখান থেকে কালীগঞ্জের আঞ্চলিক বাংলা ভাষার প্রথম বাইবেল অনুদিত হয়। সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার দ্বিভাষিক অভিধান ও প্রথম গদ্য ছাপার বইও প্রকাশিত হয়।

      • কালীগঞ্জ সদর উপজেলা ***
কালীগঞ্জঃ উপজেলা সদর অবস্থিত। এখানে পূর্বে মসলিন উৎপাদিত হত। শত বছরের প্রাচীন স্কুল আর আর এন (রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায়) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মসলিন কটন মিল এখানে অবস্থিত। কালীগঞ্জ ছিল এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নীল চাষের এলাকা। ইংরেজ কুঠিয়ালদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জের নীল চাষীগণ প্রতিবাদ মুখর হয়ে বিদ্রোহ করেছিল।

তুমুলিয়াঃ কালীগঞ্জ উপজেলাধীন শীতলক্ষ্যা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। এখানে রয়েছে দেশের বিখ্যাত ১৮৪৪ খ্রীস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত সাধু যোহনের চার্চ। চার্চ ভবনটি দেখতে খুবই সুন্দর।

      • জামালপুর ইউনিয়ন***
জামালপুরঃ কালীগঞ্জের জামালপুর বাজারটি ছিল মসলিন সংগ্রহের কেন্দ্র। পূর্বের ধারা বহন করে হিন্দু যোগী বা নাথ এবং মুসলমান তাঁতীগণ উৎকৃষ্টি মানের তোয়ালে, লুঙ্গি, ধুতি, চাঁদর ইত্যাদি তৈরি করে।

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

(ক) মোট জনসংখ্যাঃ ২,৩৯,৬৬০ জন, পুরুষ- ১,২২,৮৪০ জন, মহিলা- ১,১৬,৮২০ জন। (খ) ধর্ম ভিত্তিক জনসংখ্যাঃ মুসলিম -১,৯৫,৭৬৪, হিন্দু- ২৭,৯৭০ জন, খ্রিষ্টান- ১৫,৬৯১ জন, অন্যান্য- ১৩২ জন।(গ) মোট খানার সংখ্যা- ৪৭,৮৪১ জন্ম হারঃ ২.১৩% মোট ভোটার সংখ্যাঃ ১,৫৫,০৭০ জন, পুরুষ- ৭৮,৯৪১, মহিলা- ৭৬,১২৯ জন।

★★ এ উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেছে প্রখ্যাত কিছু ব্যক্তিত্ব:

  1. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর অন্যতম আইনজীবী মইজউদ্দীন আহমেদের জন্ম এ উপজেলায়। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় এ ব্যক্তি শাহাদত বরন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
  2. ডাকসুর সাবেক ভিপি আক্তারুজ্জামানের জন্মও এ উপজেলায়। তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
  3. ৯০' স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী তীব্র আন্দোলনের রাজপথের নেতা ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুল হক মিলনের জন্ম এখানে। তিনি সাবেক সংসদসদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি প্রভাবশালী নেতা।
  4. জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি আজম খান এখানকার সন্তান।
  5. সাংসদ ও সফল প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির জন্ম এ উপজেলায়। একটানা তিনবার তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন।
  6. সাহিত্যক আবু জাফর শামসুদ্দীনে জন্ম ও বেড়ে উঠা কালীগঞ্জ এর দক্ষিণবাগ গ্রামে। তার সমাধি এখানেই অবস্থিত।
  7. চলচ্চিত্র অভিনেতা ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান বা ফারুকের জন্ম এখানে।
  8. এশিয়ার নোবেল ম্যাগসেসে পুরস্কার(১৯৯৯) জয়ী এন্জেলা গোমেজের জন্ম কালীগঞ্জে।

(সংযোজন:আব্দুল্লাহ;জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)

আরও দেখুনসম্পাদনা

তহ্যসুত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "একনজরে কালীগঞ্জ উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১০ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  2. http://kaliganj.gazipur.gov.bd/site/page/ec2751c7-2012-11e7-8f57-286ed488c766/কালিগঞ্জ উপজেলার পটভূমি
  3. http://kaliganj.gazipur.gov.bd/site/page/ed6ce3ca-2012-11e7-8f57-286ed488c766/ভাষা ও সংষ্কৃতি
  4. https://www.rokomari.com/book/author/12343/প্রফেসর-কালাম-মাহমুদ

http://www.bangladesh.gov.bd/ http://www.kaliganj.gazipur.gov.bd

বহিঃসংযোগসম্পাদনা