পাইকগাছা উপজেলা

খুলনা জেলার একটি উপজেলা

পাইকগাছা বাংলাদেশের খুলনা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

পাইকগাছা
উপজেলা
পাইকগাছা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
পাইকগাছা
পাইকগাছা
বাংলাদেশে পাইকগাছা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৩৫′৩১″ উত্তর ৮৯°২০′১৩″ পূর্ব / ২২.৫৯১৯৪° উত্তর ৮৯.৩৩৬৯৪° পূর্ব / 22.59194; 89.33694স্থানাঙ্ক: ২২°৩৫′৩১″ উত্তর ৮৯°২০′১৩″ পূর্ব / ২২.৫৯১৯৪° উত্তর ৮৯.৩৩৬৯৪° পূর্ব / 22.59194; 89.33694 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
জেলাখুলনা জেলা
আসনখুলনা-৬
সরকার
 • সংসদ সদস্যআক্তারুজ্জামান বাবু
আয়তন
 • মোট৩৮৩.৮৭ বর্গকিমি (১৪৮.২১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৪৭,৯৮৩
 • জনঘনত্ব৬৫০/বর্গকিমি (১,৭০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫২.৮০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৪০ ৪৭ ৬৪
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯৭১ সালের ৪ জুলাই পাইকগাছা উপজেলার প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র কপিলমুনি বাজারে রায়বাহাদুর বিনোদ বিহারী সাধুর বাড়ীতে রাজাকারের ক্যাম্প স্থাপিত হয়। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ঐ রাজাকার ক্যাম্পটি দখলের জন্য যুদ্ধকালীন কমান্ডার রহমত উল্যাহ দাদু ও তার সহযোগী ইউনুস আলী, স,ম, বাবর আলী, আবুলকালাম আজাদ, শাহাদৎ হোসেন বাচ্চু ও যুদ্ধাহত খোকার নেতৃত্বে ঐ রাজাকার ক্যাম্পটি দখলের সাড়াসী অভিযান শুরু করেন। তিন দিন একটানা যুদ্ধের পর রাজাকার ও শান্তি কমিটির ১৫৬ জন সদস্যকে হত্যার মাধ্যমে ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি যুদ্ধের অবসান হয়। ৭ নভেম্বর ১৯৮২ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরনের আওতায় পাইকগাছা উপজেলায় উন্নিত হয়।

নামকরণসম্পাদনা

সরল খাঁ যে এলাকায় বাস করতেন তার নাম হয় সরল। গরুর রাখালদের আবাসস্থল‘গোপালপুর’ গরু রাখার জন্য যেখানে গোশালা ছিল সে গ্রামের নাম ‘ঘোষাল,’ গদাইপুরের নিকটে যেখানে সৈন্যরা গড়কেটে ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ছিল সেটা ‘গড়পার’,প্রাসাদের বান্দিদের আবাসস্থল ‘বান্দিকাটি’,প্রাসাদে বাতি জ্বালানো কার্যে নিয়োজিত কর্মচারীরা যে এলাকায় থাকত‘বাতিখালী’,গাছে চড়ে পাইক-বরকন্দাজরা পাহারা দিত বলে ‘পাইকগাছা’রাজা  কৃষ্ণ চন্দ্র এর শাসন এলাকা  কৃষ্ণনগর নামে খ্যাত বর্তমান মিল কাটাখালী নামে পরিচিত,এবং লোক- লস্কর দিয়ে যে দীঘি খনন করা হয়েছিল সে এলাকা ‘লস্কর’ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এভাবেই পাইকগাছা উপজেলার নাম করণ করা হয়।[২]

অবস্থানসম্পাদনা

খুলনা জেলা সদর হতে পাইকগাছা উপজেলা ৬৫ কিঃ মিঃ দক্ষিণে অবস্থিত। পাইকগাছা উপজেলার আয়তন ৩৮৩.১৫ বর্গ কিঃ মিঃ। ইহা ২২°২৮’’ এবং ২২°৪৩’’ উত্তর-দক্ষিণ দ্রাঘিমাংশ এবং ৮৯°১৪’’এবং ৮৯°২৮’’ পূর্ব পশ্চিম দ্রাঘিমার মধ্যে পাইকগাছা উপজেলা অবস্থিত। উত্তরে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা, পূর্বে বটিয়াঘাটা উপজেলাদাকোপ উপজেলা, এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলাকালীগঞ্জ উপজেলা। খুলনা জেলা শহর হতে সড়ক পথে পাইকগাছা উপজেলার দুরত্ব ৬৫ কি.মি.। [২]

প্রশাসনিক এলাকাসম্পাদনা

ইউনিয়ন পরিষদ

নদ-নদীসম্পাদনা

পাইকগাছা উপজেলায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী। এখানকার নদীগুলো হচ্ছে শিবসা নদী, কপোতাক্ষ নদ, ভদ্রা নদী, দেলুতি নদী[৩][৪]

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

শিক্ষাসম্পাদনা

  • কপোতাক্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • কে ডি এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • লক্ষ্মীখোলা কলেজিয়েট স্কুল,লক্ষ্মীখোলা
  • ই.সি.ডি কিন্ডারগার্টেন স্কুল,গজালিয়া
  • ফাতেমা প্রিক্যাডেট কিন্ডারগার্টেন স্কুল,লক্ষ্মীখোলা
  • পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • আবু হোসেন কলেজ
  • আর.কে.বি.কে.হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েট ইনস্টিটিউশন,,রাড়ুলী
  • রাড়ুলী ভূবন মোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
  • শহীদ কামরুল মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বাঁকা
  • কপিলমুনি কলেজ
  • কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা
  • শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়
  • কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজ
  • পাইকগাছা সরকারি ক‌লেজ
  • কালিনগর কলেজ
  • হরিঢালী মহিলা কলেজ
  • ফসিয়ার রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজ
  • চাঁদখালী কলেজ
  • খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,খড়িয়া

অর্থনীতিসম্পাদনা

পাইকগাছার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানকার অধিকাংশ জমি এক ফসলি। শুধু মাত্র বর্ষা মৌসুমে চাষ হয়। তাছাড়াও চিংড়ি মাছ চাষ বাগদা চিংড়ির চাষ হয়। প্রধান কৃষি ফসল ধান, আলু, শাকসবজি। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি তিল, তিসি, কাউন, আখ। প্রধান ফল-ফলাদি: আম, জাম, কলা, কাঁঠাল, নারিকেল, পেঁপে, সুপারি, তরমুজ, লিচু, পেয়ারা, জামরুল, লেবু ইত্যাদি।

কৃতী ব্যক্তিত্বসম্পাদনা

  • জাফর আউলিয়া - পীর সাহেব।
  • শামসুর রহমান - সাবেক এমপি ও শিক্ষাবিদ।
  • অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস - সাবেক এমপি ও শিক্ষাবিদ।
  • রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু - বিখ্যাত দানবীর এবং কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) এর রুপকার।
  • প্রফুল্ল চন্দ্র রায় - বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও রসায়নবিদ।
  • কাজী ইমদাদুল হক - বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক।
  • শেখ আঃ রাজ্জাক আলী - সাবেক স্পীকার ও এম.পি.।
  • মেহের মুসল্লি - দানবীর।
  • শহীদ এম গফুর সাহেব- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক, দানবীর,
  • স.ম. বারর আলী - মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় সংসদের সাবেক কনিষ্ঠ এমপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

বিবিধসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে পাইকগাছা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারী ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "পাইকগাছা উপজেলা" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)http (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০১-২৫ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  4. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃষ্ঠা ৬০৯। আইএসবিএন 984-70120-0436-4 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা