প্রধান মেনু খুলুন

পশ্চিম রণাঙ্গন (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধের মূল রণাঙ্গন ছিল পশ্চিম ফ্রন্ট । ১৯১৪ সালের আগস্ট মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জার্মান সেনাবাহিনী লুক্সেমবার্গবেলজিয়াম আক্রমণ করার মাধ্যমে পশ্চিম রনাঙ্গনে যুদ্ধ আরম্ভ করে এবং তারপর ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। জার্মার আগ্রাসন মার্নের যুদ্ধের সাথে নাটকীয়ভাবে রুখে দাঁড়ায়। 'রেস টু দি সি' এর যুদ্ধের পর উভয় পক্ষ নর্থ সি থেকে সুইস-ফ্রান্স সীমান্ত পর্যন্ত প্রসারিত একটি আকাবাকা সুরক্ষিত পরিখা খনন করে, যা ১৯১৭ সাল ও ১৯১৮ ছাড়া তেমন একটা পরিবর্তিত হয়েছিল না বললেই চলে।

পশ্চিম রণাঙ্গন
মূল যুদ্ধ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
Canadian tank and soldiers Vimy 1917.jpg
ক্যানাডীয় পদাতিক সেনাদের সাথেভিমী রিজের যুদ্ধে মার্ক ২
তারিখ
  • ৪ আগস্ট ১৯১৪ - ১১ নভেম্বর ১৯১৮
অবস্থানবেলজিয়াম, দক্ষিন-পূর্ব ফ্রান্স, আলস্কা-লরায়েন, লুক্সেম্বার্গ, পশ্চিম জার্মানি
ফলাফল

মিত্রীয় বিজয়

যুধ্যমান পক্ষ
সেনাধিপতি
শক্তি
১৫,৯০০,০০০ ১৩,২৫০,০০০[১]
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
  • সামরিক ক্ষয়ক্ষতি:
  • ৭,৫০০,০০০
  • বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি:
  • ৫৩৪,৫০০
  • সামরিক ক্ষয়ক্ষতি:
  • ৫,৫০০,০০০
  • বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি:
  • ৪২৪,০০০

১৯১৫ এবং ১৯১৭ এর মধ্যে এই রনাঙ্গনে বেশ কিছু সংঘাত সংঘটিত হয় । এই হামলাগুলোতে ব্যাপক কামান ব্যাবহার এবং বিশাল পদাতিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল । পরিখাখনন, মেশিনগান স্থাপন, কাঁটাতার স্থাপন এবং কামান আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে ব্যাপক হত্যাজজ্ঞ সঙ্ঘটিত হলেও তেমন কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি । এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সংঘাতগুলো ছিল ১৯১৬ সালে ভেরদুনের যুদ্ধ যেখানে হতাহত ছিল ৭০০,০০০ (আনুমানিক) ,১৯১৪ সালের সোমের যুদ্ধ যেখানে দশ লক্ষ(আনুমানিক) হতাহত হয় এবং ১৯১৭ সালে ৪৮৭,০০০ হতাহতের (আনুমানিক) প্যাশ্চেন্ডেলের যুদ্ধ।

পশ্চিমা ফ্রন্টে যুদ্ধক্ষেত্রের রদ্ধুশ্বাস অবস্থা ভেঙ্গে অগ্রগতি লাভের জন্য উভয় পক্ষই বিষাক্ত গ্যাস, বিমান ও ট্যাঙ্ক সহ নতুন সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে । উন্নত কৌশল গ্রহণ এবং পশ্চিমা বাহিনীগুলির ক্রমবর্ধমান দুর্বলতার ফলে ১৯১৮ সালে গতিশীলতা ফিরে আসে। ১৯১৮ সালের জার্মান বসন্ত আক্রমন ব্রিস্ট-লিটভস্কের চুক্তির ফলে সম্ভব হয়েছিল, যা পূর্ব ফ্রন্টে রাশিয়া ও রোমানিয়ায় কেন্দ্রীয় শক্তিগুলির যুদ্ধ শেষ করে। হারিকেন বিমান থেকে তীব্র বোমা বিস্ফোরণ এবং অনুপ্রবেশের কৌশলগুলি ব্যবহার করে, জার্মান বাহিনী পশ্চিমে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) প্রবেশ করে, যা ছিল ১৯১৪ সাল থেকে যেকোনো পক্ষের ক্ষেত্রে অর্জিত সর্বাধিক অগ্রগতি, তবুও ফলাফলটি অনির্ধারিত ছিল।

১৯১৮ সালের শতদিনব্যাপী অভিযানে মিত্র বাহিনীর অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি জার্মান সেনাবাহিনীর হঠাৎ পতন ঘটায় এবং জার্মান কমান্ডারদের হুঁশিয়ারি দেয় যে পরাজয় অনিবার্য ছিল। জার্মান সরকার ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর যুদ্ধবিরতিতে আত্মসমর্পণ করে এবং ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে শর্তগুলি নিষ্পত্তি হয়।

পরিচ্ছেদসমূহ

১৯১৪সম্পাদনা

যুদ্ধ পরিকল্পনা - ফ্রন্টিয়ার্স যুদ্ধসম্পাদনা

ফরাসি বেয়নেট হামলা
জার্মান পদাতিক সেন্য, ৭ আগস্ট,১৯১৪

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে জার্মান সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ বেলজিয়ামের মধ্যে দিয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়ে ফ্রান্সকে আক্রমণ করার জন্য শ্লাইফেন প্ল্যানের একটি সংশোধিত সংস্করণটি কার্যকর করেছিল এবং তারপর দক্ষিণ দিকে ঘুরে আসছিল যাতে ফরাসি সেনারা জার্মান সীমান্তে আটকা পড়ে। [২] পশ্চিম ফ্রন্ট হল এমন এক জায়গা যেখানে ইউরোপ, জার্মান ও ফরাসি সামরিক বাহিনীগুলোর সর্বাধিক শক্তিশালী সৈন্যদলগুলো মোতায়েন করা হয়েছিল এবং যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। [৩]১৮৩২ সালে লন্ডনের চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটেন বেলজিয়ামের নিরপেক্ষতার নিশ্চায়তা দেয়। এই কারণে ৪ আগস্ট মধ্যরাত্রে তার আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ব্রিটেনকে যুদ্ধে যোগ দিতে হয়েছিল। জার্মান জেনারেল আলেকজান্ডার ভন ক্লক এবং কার্ল ভন বুউলোর নেতৃত্বে বাহিনীগুলো ৪ আগস্ট ১৯১৪ সালে বেলজিয়াম আক্রমণ করে। ২ আগস্ট তারিখে লাক্সেমবার্গ বিরোধিতা ছাড়াই দখল করে নেয়। বেলজিয়ামের প্রথম যুদ্ধটি ছিল লীগের অবরোধ , যা ৫ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। লীগ দৃঢ় প্রতিরোধ জার্মান সেনাবাহিনীকে অবাক করে দিয়েছিল। যদিও জার্মান ভারী অস্ত্রোসরঞ্জাম কয়েক দিনের মধ্যে প্রধান দুর্গ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল। [৪] লিগ এর পতনের পর, বেলজিয়ামের বেশিরভাগ সেনা নামুরের গ্যারিসন ফাকা করে এন্টওয়ার্পে ফিরে যায় ।বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস ২০ আগস্ট জার্মানদের হাতে পতিত হয়।২০-২৩ আগস্ট থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নামুর নামক স্থানে আরেকটি অবরোধ সঙ্ঘটিত হয় । [৫]

ফ্রান্স এই রনাঙ্নাঙ্গনে পাচটি সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল। ফরাসি পরিকল্পনা XVII এর উদ্দেশ্য ছিল আলসেস-লরেন এর দখল। [২] ৭ আগস্ট, সপ্তম কর্পস মালাউহ এবং কলমরকে ধরে রাখার জন্য আলসেস আক্রমণ করেছিল। ১৪ আগস্ট প্রথম ও দ্বিতীয় বাহিনীর লোরেনের সারেবর্গ-মোরেঞ্জে আক্রমণের মাধ্যমে প্রধান আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু হয়। [৬] শ্লাইফেন পরিকল্পনা অনুসারে জার্মানরা ফরাসিদের মারাত্মক ক্ষতিসাধন পুর্বক ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করছিল। ফ্রেঞ্চ তৃতীয় ও চতুর্থ বাহিনী সার নদীর দিকে অগ্রসর হয় এবং ব্রিয়ি এবং নুফচাটোকে আক্রমণ করার মাধ্যমে স্যারবুর্গকে দখল করার চেষ্টা করে, কিন্তু এটি প্রতিহত হয়। [৫] ৭ ই আগস্ট ফরাসি বাহিনী মালহাউসকে দখল করে নেয় তবে জার্মান রিজার্ভ বাহিনী মালহাউসের যুদ্ধে পরবর্তিতে তাদের পশ্চাদপসরণে বাধ্য করেছিল। [৭]

জার্মান সেনাবাহিনী বেলজিয়ামের মধ্য দিয়ে ঢুকে পড়ে, বেসামরিক নাগরিকদের নির্মমভাবে হত্যা করে এবং গ্রামগুলি ধংস করে ফেলে। সংবাদপত্রগুলো জার্মান আক্রমণ, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং সম্পত্তি ধ্বংস করার নিন্দা জানায় , যা " বেলজিয়ামের ধর্ষণ " নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল । [৮] [ক] বেলজিয়াম, লাক্সেমবার্গ এবং আর্দেনেসের মধ্য দিয়ে যাত্রা করার পর জার্মানরা আগস্টের শেষ দিকে উত্তর ফ্রান্সে অগ্রসর হয় , যেখানে তারা জোসেফ জোফ্রেয়ের অধীনে ফরাসি সেনাবাহিনী এবং ফিল্ড মার্শাল জন ফ্রেঞ্চএর অধীনে ব্রিটিশ এক্সপিডিশন ফোর্সেস বিভাগের সাথে মিলিত হয়।ফ্রন্টিয়ারসের যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত একটি ধারাবাহিক যুদ্ধ ঘটে, যার মধ্যে চার্লারইয়ের যুদ্ধ এবং মন্সের যুদ্ধ অন্তর্ভুক্ত। পূর্বের যুদ্ধে ফ্রেঞ্চ পঞ্চম সেনা জার্মানির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বাহিনী দ্বারা প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং অবশিষ্ট অংশ জার্মানির অগ্রসর বিলম্বিত করে।

মারের প্রথম যুদ্ধসম্পাদনা

জার্মান সেনাবাহিনী প্যারিসের ৭০ কিমি (৪৩ মা) মধ্যে এসেছিল কিন্তু মার্নের প্রথম যুদ্ধে (6-12 সেপ্টেম্বর), ফরাসি ও ব্রিটিশ সৈন্যরা প্রথম এবং দ্বিতীয় বাহিনীগুলির মধ্যে উপস্থিত একটি ফাঁককে কাজে লাগিয়ে করে জার্মান আক্রমণকে পশ্চাৎপদ করতে সক্ষম হয়েছিল যা জার্মানির ফ্রান্স অভিযানকে শেষ করে দেয়। [১০] জার্মান সেনাবাহিনী এসনে নদীর উত্তরে পশ্চাদপসরণ করে । এই জার্মান পশ্চাদপসরণের পর বিরোধী বাহিনী ধুর্ততার সাথে পারস্পরিকভাবে এক রণকৌশল তৈরি করে, যা রেস ফর সি নামে পরিচিত এবং দ্রুত তাদের পরিখাগুলি সুইস সীমান্ত থেকে উত্তর সাগরে প্রসারিত করে। [৫] জার্মানি দ্বারা দখলকৃত অঞ্চলটি ফরাসি শূকর-লোহা উৎপাদনে ৬৪ শতাংশ, ইস্পাত উৎপাদনে ২৪ শতাংশ এবং কয়লা শিল্পে ৪০ শতাংশ অবদান রাখত যা ফরাসি শিল্পকে মারাত্মক আঘাত দেয়। [১১]

প্রে এর প্রথম যুদ্ধসম্পাদনা

১৯ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত, জার্মান বাহিনীগুলো ইপ্রেসের প্রথম যুদ্ধে তাদের ১৯১৪ সালের চূড়ান্ত সফল প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, যা ব্যয়বহুল পারস্পরিক অচলাবস্থায় পরিণত হয়েছিল। [১০] যুদ্ধের পর, ইরিচ ভন ফালকহেনেন বিচার করেছিলেন যে জার্মানির পক্ষে সামরিকভাবে যুদ্ধ জেতা আর সম্ভব ছিল না এবং ১৯১৪ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান। চ্যান্সেলর, থিওবল্ড ভন বেথম্যান-হলওয়েজ ; জেনারেলফেলমার্শাল পল ভন হিডেনবার্গ, ওবরেস্ট (ইস্টার্ন ফ্রন্ট হাই কমান্ড) কমান্ডিং; এবং তার উপপরিচালক, ইরিচ লুডেন্ডোরফ, বিশ্বাস করেন যে বিজয়টি নিষ্পত্তিমূলক যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য ছিল। পোল্যান্ডে লডজ আক্রমণের সময় ফালকহেনান আশা করেছিলেন যে রাশিয়া শান্তি প্রসারের জন্য উপযুক্ত হবে। বেথমান-হলয়েগ এর সঙ্গে তার আলোচনার মধ্যে, ফ্যাল্কেনহানের মতে জার্মানি এবং রাশিয়ার মধ্যে তেমন বড় কোন দ্বন্দ্ব ছিল না এবং জার্মানির প্রকৃত শত্রু ফ্রান্স এবং ব্রিটেন ছিল । হেন্ডেনবার্গ এবং লুডেন্ডোরফ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে রাশিয়া ধারাবাহিক অভিজানের দ্বারা পরাজিত হতে পারে, যার পরে জার্মানি ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে পরাজিত করা যেতে পারে। [১২]

গ্যাস যুদ্ধসম্পাদনা

১৮৯৯ ও ১৯০৭ সালের হেজ কনভেনশনগুলি সকল যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। ১৯১৪ সালে ফরাসি ও জার্মানী উভয়ই অল্প পরিসরে বিভিন্ন টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল, যা প্রাথমিক চুক্তির দ্বারা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল না, কিন্তু এটি কার্যকরও ছিল না। [১৩] বেলজিয়ান শহরের ইপ্রেসের কাছাকাছি ফরাসিদের বিরুদ্ধে আরও প্রাণঘাতী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল। [১৪]

ফ্রেঞ্চ ও ব্রিটিশদের সাথে জার্মানির অচলবস্থা বজায় রাখার পরিকল্পনা করা সত্ত্বেও, উবার্টেমের ডিউক অ্যালবার্ট, চতুর্থ সেনার অধিনায়ক ইপ্রেস আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। এপ্রিল ১৯১৫ এর ইপ্রেসের দ্বিতীয় যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল ইস্টার্ন ফ্রন্টে আক্রমণকারীদের কাছ থেকে মনোযোগ সরান এবং ফ্রাঙ্কো-ব্রিটিশ পরিকল্পনাকে ব্যাহত করা। দুই দিনের বোমা বিস্ফোরণে জার্মানরা ১৬৮ লং টন (১৭১ টন) ক্লোরিন গ্যাস ছেড়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে এটি সামান্য জ্বালাময়ী হলেও, এটি উচ্চ সংশ্লেষ বা দীর্ঘায়িত এক্সপোজার মধ্যে মানুষের শ্বাসরোধ করতে পারে। বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ার কারণে, গ্যাসটি নো ম্যান'স ল্যান্ড এর উপর দিয়ে খুবই ধিরে প্রবাহিত হতে থাকে এবং ফরাসি পরিখাগুলোতে চলে যায়। [১৫] সবুজ হলুদ মেঘ কিছু রক্ষাকর্মীদের হত্যা শুরু এবং পিছনদিকের সৈন্যরা আতঙ্কে ৩.৭-মাইল (৬ কিমি) সীমান্ত অরক্ষিত রেখে পালিয়ে যায়। জার্মানরা তাদের সাফল্যের পর্যায়ে অপ্রস্তুত ছিল এবং যথেষ্ট পরিমাণে রিজার্ভের অভাবে অরক্ষিত সিমান্তের ফায়দা নিতে পারেনি। ডানদিকে কানাডিয়ান সৈন্যরা তাদের বাম অংশকে ফিরে এনে জার্মান আগ্রাসন থামিয়ে দেয়। [১৬]

বিমান যুদ্ধসম্পাদনা

বিমান যুদ্ধের জন্য বিশেষ বিমানগুলি 1915 সালে চালু করা হয়েছিল। বিমানগুলি ইতোমধ্যে স্কাউটিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ১ এপ্রিল, ফরাসি পাইলট রোল্যান্ড গ্যারোস ছিলেন একটি মেশিন-গান ব্যবহার করে শত্রু বিমানটিকে গুলি করা প্রথম ব্যক্তি। [১৭] কয়েক সপ্তাহ পরে গ্যারোস জার্মান সীমান্তে অবতারন করে। তার বিমানটি ধরা পড়ে এবং তা ডাচ প্রকৌশলী এন্থনি ফকারকের কাছে পাঠানো হয়, যিনি খুব শীঘ্রই সেটিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেন, যাহার মধ্যে যন্ত্রচালক গিয়ার সংযোজন করা হয়,মেশিন গানটি প্রপেলারের সাথে সিঙ্ক্রোনাইজ করা হয় যাতে ব্লেডগুলি মেশিনগানের লাইনের বাইরে থাকা অবস্থায় গুলি বের হয়। এই কার্যকর অগ্রগতিটি ফোককার, প্রথম একক সীট যোদ্ধা বিমানটিতে সংযুক্ত করা হয় ম্যাক ইমিমানম্যান ১ আগস্ট তারিখে ইন্ডিকারের প্রথম হত্যা করেছিলেন। [১৮] যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ আরও উন্নত অস্ত্র, ইঞ্জিন, বিমানের ফ্রেম এবং উপকরণ তৈরি করেছিল।

১৯১৬সম্পাদনা

 
1916 সালে পশ্চিম ফ্রন্টে জার্মান সৈনিক

ফালকহেনান বিশ্বাস করেছিলেন যে শত্রুবুহ্যভেদ আর সম্ভব হবে না এবং তার পরিবর্তে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দ্বারা ফরাসি পরাজয়ের জোরালো মনোযোগ আকর্ষণ করেন। [১৯] তার নতুন লক্ষ্য ছিল " ফ্রান্সে সাদা রক্তপাত"। [২০] সেমতে, তিনি দুটি নতুন কৌশল গ্রহন করেন। প্রথম কৌশল ছিল বিদেশ থেকে আগত মিত্রীয় রসদ সরবরাহ সাবমেরিন যুদ্ধের মাধ্যমে বন্ধ করা। [২১] দ্বিতীয় কৌশল ছিল সর্বাধিক হতাহতের দিকটি বিবেচনা করে ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করা। ফালকহেনান এমন একটি ফরাসি অবস্থান আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন যাতেজাতীয় সম্মান ও কৌশলের কারণে ফরাসিরা পশ্চাদ্ধাবন না করতে পারে এবং এভাবে ফরাসিদের ফাঁদে ফেলেন। ভেরডুন শহরটি এই জন্য নির্বাচিত হয়েছিল কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ ছিল যা জার্মান লাইনের কাছাকাছি ছিল এবং এটি প্যারিসের সরাসরি রুটটিকে সুরক্ষিত করেছিল। [১২]

ফালকহেনান যুদ্ধ সীমা ৫–৬ কিলোমিটার (৩–৪ মা) এ সংকুচিত করেন যাতে আর্টিলারি আক্রমণ অধিক ফলপ্রসু হয় এবং পাল্টা আক্রমণ প্রতিরোধ করা সহজ হয়।পর্যাপ্ত সংখ্যক সৈন্যদলকে খাওয়ানোর জন্য তিনি প্রধান রিজার্ভের কঠোর নিয়ন্ত্রণও রাখেন। [২২] তাদের আক্রমণের প্রস্তুতির জন্য, জার্মানরা দুর্গের কাছে বিমানের জড়ো করেছিল। প্রথম পর্যায়ে, তারা ফরাসি বিমানগুলোকে বায়ু স্থান থেকে সরাতে পেরেছিল, যা জার্মান আর্টিলারি-পর্যবেক্ষণ বিমান এবং বোম্বারদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করার সুযোগ করে দেয়। মে মাসে, ফ্রান্স নিওুপোর্ট বিমানের সাথে এসকাদ্রিলিস ডি চেস স্থাপন করে এবং ভেরদুনের উপর বায়ু একটি যুদ্ধক্ষেত্রের রূপে পরিণত হয়, কারণ উভয় পক্ষ বায়ু শ্রেষ্ঠত্বের জন্য লড়াই করেছিল। [২৩]

ভেরদুন যুদ্ধসম্পাদনা

 
ফরাসি সৈন্যরা শত্রু আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে

বরফের কারণে নয়দিনের বিলম্বের পর ১৯১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভেরদানের যুদ্ধ শুরু হয়। আট ঘন্টা বোমা বর্ষনের পরে জার্মানরা খুব বেশি প্রতিরোধের আশা না করে ধীরে ধীরে ভারদুন ও এর দুর্গগুলিতে অগ্রসর হয়েছিল। [১৯] তারা বিক্ষিপ্ত ফরাসি প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল। জার্মানরা ফোর্ট ডুয়ামন্টকে দখল করে নিয়েছিল এবং তারপরে অতিরিক্ত ফরাসি সৈন্যবাহিনী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত জার্মান অগ্রযাত্রা থামিয়েছিল। [২৪]

জার্মানরা ময়ূসের পশ্চিম তীরে লে মর্ট হোমে তাদের ফোকাস পরিবর্তন করে, যা ফরাসি কামান প্রতিস্থাপনের রুটটিকে অবরোধ করে। মারাত্মক কিছু যুদ্ধের পরে,মে মাসে জার্মানরা পাহাড়ের দখল নিয়ে নেয়। প্রতিরক্ষামূলক কমান্ডার ফিলিপ পেটেন থেকে আক্রমণাত্মক স্বভাবের রবার্ট নিভেল এর হাতে ফরাসি ক্ষমতা পরিবর্তিত হলে ২২ মে তারিখে ফরাসিরা ফোর্ট ডাউঅামন্টকে পুনরায় ক্যাপচার করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু আক্রমণটি সহজে প্রতিহত করা হয়েছিল। ৭ জুন জার্মানরা ফোর্ট ভক্স দখল করে ।

গ্রীষ্মকালে, ফরাসি ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। রোলিং ব্যারেজের বিকাশের সাথে ফরাসিরা নভেম্বরে ফোর্ট ভক্স পুনরুদ্ধার করেছিল এবং ডিসেম্বর ১৯১৬ সালের মধ্যে তারা জার্মানদের ফোর্ট ডুয়ামন্ট থেকে ২.১ কিলোমিটার (১.৩ মা) পিছু হটায়। ভেরডুনের যুদ্ধ ফরাসি সংকল্প এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়। [২৫]

সোমের যুদ্ধসম্পাদনা

 
গিঁচি এর কাছাকাছি ব্রিটিশ পদাতিক অগ্রযাত্রা। আর্নেস্ট ব্রুকস এর ছবি।

বসন্তে, অ্যালাইড কমান্ডাররা ভেরদুনের বিশাল ক্ষতি মোকাবেলায় ফরাসি সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ছিল। সোমে নদীর আশেপাশের আক্রমণের মূল পরিকল্পনা ব্রিটিশদের প্রধান প্রচেষ্টা করার জন্য সংশোধন করা হয়েছিল। এটি ফরাসি এবং রাশিয়ানরা চাপ কমানোর জন্য কার্যকর হয়। এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাতের পর, ১ জুলাই পিকার্ডিতে ব্রিটিশ বিভাগগুলি আলবার্টের যুদ্ধের সাথে সোমের যুদ্ধ শুরু করে, তাদের সহযোগিতায় ডানদিকে ছিল পাঁচটি ফরাসি বিভাগ। এই হামলাটির আগে সাত দিনের ভারী কামান হামলা পরিচালনা করা হয়। অভিজ্ঞ ফরাসি বাহিনী অগ্রগতিতে সফল হয়েছিল কিন্তু ব্রিটিশ আর্টিলারি না পেরেছিল কাটা তারের বেড়া বিস্ফোরিত করতে , না পেরেছিল জার্মান পরিখাগুলো পরিকল্পনা হিসাবে কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে একদিনের মধ্যে তারা সর্বাধিক সংখ্যক হতাহত (নিহত, আহত এবং অনুপস্থিত) ভোগ করে, প্রায় ৫৭,০০০। [৫]

ভেরডনের হারের পাঠ হতে মিত্রশক্তির কৌশলগত উদ্দেশ্য বায়ু শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে পরিণত হয়েছিল এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, জার্মান বিমানগুলি সোমের আকাশ থেকে নিশ্চিহ্ন করা হয়। মিত্রীয় বিমান হামলার সাফল্য জার্মান আর্মিতে পুনর্গঠনের ত্যাগিদ সৃষ্টি করে এবং উভয় পক্ষের পৃথক যুদ্ধের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে বিমানের বড় গঠনগুলি ব্যবহার করা শুরু করে। [২৩] জার্মানির লাইনের সুসংগঠন সত্ত্বেও ব্রিটিশরা কিছু সাফল্য লাভ করে, যুদ্ধটি জুলাই ও আগস্ট জুড়ে চলতে থাকে। আগস্ট নাগাদ, জেনারেল হেইগ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে সাফল্য অসম্ভাব্য এবং পরিবর্তে একটি ধারাবাহিক ছোট ছোট অভিযানের জন্য কৌশল পরিবর্তন করেন। [২৬]

সোমে যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংকের প্রথম ব্যবহার হয়েছিল। [২৭] মিত্ররা একটি আক্রমণ তৈরি করেছিল যা ১৩ ব্রিটিশ ও সাম্রাজ্য বিভাগ এবং চারটি ফরাসি কর্পস অন্তর্ভুক্ত করবে। এই হামলার প্রাথমিক অগ্রগতি কিছু স্থানে ৩,২০০–৪,১০০ মিটার (৩,৫০০–৪,৫০০ গজ) পর্যন্ত। [২৮] যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে অক্টোবরে এবং নভেম্বরের শুরুর দিকে আবারো প্রাণহানি ঘটে। সবাই বলেছিল, সোমে যুদ্ধ মাত্র ৮ কিলোমিটার (৫ মা) এর বুহ্যভেদ করেছিল এবং মূল উদ্দেশ্য পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ব্রিটেনের প্রায় ৪২্‌০০০ লোক নিহত এবং প্রায় ২০০,০০০ ফরাসি মারা গিয়েছিল। এটি অনুমিত যে জার্মানরা ৪৬৫,০০০ হারিয়ে গেছে, যদিও এই সংখ্যাটি বিতর্কিত। [২৯]

১৯১৭সম্পাদনা

 
ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের মানচিত্র, ১৯১৭

হিডেনবার্গ লাইন জার্মান ফ্রন্ট লাইনর ২ [২২] থেকে ৫০ কিলোমিটার (৩০ মা) পিছনে তৈরি হয়েছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি জার্মান বাহিনী লাইন থেকে পশ্চাদপসরণ শুরু করে এবং 5 এপ্রিল এ প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়, যা একটি ধ্বংসস্তূপ অঞ্চলকে মিত্রবাহিনী দ্বারা দখল করার জন্য পিছনে ফেলে দেয়।

এদিকে, ৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯১৫ সালের শুরুতে, Lusitania ডুবে যাওয়ার পর,যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণে আটলান্টিকের মধ্যে তার অবাধ সাবমেরিন যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়। খাদ্য সংকটের কারণে জার্মান জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের সাথে সাথে, ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার সাবমেরিন যুদ্ধ শুরু করে। তারা হিসাব করেছিল যে ব্রিটেনের সাবমেরিন এবং যুদ্ধজাহাজ অবরোধ ছয় মাসের মধ্যে দেশটিকে যুদ্ধ থেকে সরতে বাধ্য করবে এবং আমেরিকান বাহিনী পশ্চিমা ফ্রন্টে একটি গুরুতর ফ্যাক্টর হতে এক বছর সময় লাগবে।এই পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে সফলতা লাভ করেছিল, ব্রিটেনের কনভয় সিস্টেম ঠিক হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটি ব্যাপক শিপিং ক্ষতির সম্মুখিন হয়। [৫]

 
ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে ব্রিটিশ সেনা (আগস্ট 1917)

১৯১৭ সাল নাগাদ, পশ্চিমা ফ্রন্টে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর আকার ছিল ফ্রান্সের বাহিনীর দুই-তৃতীয়াংশে। [১১] ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে বিএএফ আরাসের যুদ্ধ শুরু করে। [২৬] কানাডিয়ান কর্পস এবং 5 ম বিভাগটি ভিমি রিজে জার্মান লাইন আক্রমণ করে, দক্ষিণে প্রথম আর্মি ট্রেঞ্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করে। পরে ১৯১৬ সালের সোমের যুদ্ধ হতে শেখা পাঠ ব্যাবহার করে জার্মান সেনারা মিত্রবাহিনীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয় ।

১৯১৬-১৭ সালের শীতকালে, জার্মান বায়ু কৌশল উন্নত করা হয়, ভ্যালেনসিঞ্জে একটি যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ স্কুল খোলা হয় এবং টুইন বন্দুকগুলির সাথে উন্নত বিমানটি চালু করা হয়। ফলাফলটি বিশেষ করে ব্রিটিশ, পর্তুগিজ, বেলজিয়ান এবং অস্ট্রেলীয়দের পক্ষে যারা বিমান বাহিনী, দরিদ্র প্রশিক্ষণ এবং দুর্বল কৌশল নিয়ে সংগ্রাম করছিল, তাদের পক্ষে বিপর্যয়মূলক ক্ষতির কাছাকাছি ছিল। ফলস্বরূপ, সোমের উপর বায়ু সফলতা পুনরাবৃত্তি করা হয় না এবং জার্মানদের দ্বারা বিপুল ক্ষতি আরোপ হয়। আরাসের আক্রমণের সময় ব্রিটিশরা ৩১৬ জন বিমান সেনা হারিয়েছিল এবং কানাডিয়ানরা হারিয়েছিল ১১৪ জন যেখানে জার্মানদের ক্ষতি ছিল ৪৪ জন । [২৩] এটি রক্তাক্ত এপ্রিল হিসাবে রয়েল এয়ার কর্পস এর নিকট পরিচিত হয়ে ওঠে। [৩০]

ফ্ল্যান্ডার্স অভিযানসম্পাদনা

 
দুজন ব্রিটিশ সেনা দুই জার্মান সৈন্যদের মৃতদেহ ধরে একটি বঙ্কারের দিকে চালিত।

নেভিলের যুদ্ধের ফরাসি অংশ কৌশলগত বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হলে যখন ফরাসি সৈন্যরা বিদ্রোহ শুরু করে তখন জুন মাসে ব্রিটিশরা এইনে যুদ্ধরত ফরাসি সেনাদের উপর থেকে চাপ কমানোর জন্য ফ্লান্ডার্স এর অভিযান শুরু করে। [২৬] ১৯১৪ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজিত ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য ইপ্রেসের দক্ষিণে ম্যাসিনস রিজে ৭ জুন ব্রিটিশ আক্রমণ শুরু হয়। ১৯১৫ সাল থেকে বিশেষজ্ঞ রয়েল ইঞ্জিনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার টানেলিং কোম্পানিগুলি উক্ত শৈলশীরা এর নিচ দিয়ে টানেল খনন করছিল এবং প্রায় ৫০০ টন (৪৯০ লং টন) জার্মান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিচে ২১ টি বিস্ফোরক লাগিয়েছিল। [৩১] কামান বোমা হামলার কয়েক সপ্তাহ পর, ১৯ টি বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটায় যা প্রায় ৭০০০ জার্মান সেনাকে হত্যা করে।

১৯১৭ সালের ১১ জুলাই, উপকূলের নিয়ুপোর্টে ইউন্টারহেনম্যান স্ট্র্যান্ডফেষ্ট(অপারেশন বিচপার্টি) এর সময়, জার্মানরা একটি শক্তিশালী ফুসকুড়ি জাতীয় সালফার মাস্টার্ড (হলুদ ক্রস) গ্যাস চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধে একটি নতুন অস্ত্র চালু করে। কামান স্থাপনার ফলে নির্বাচিত লক্ষ্যগুলোতে অত্যাধিক ঘনত্বে গ্যাসটি ব্যাবহার উপযোগী হয় । মাস্টার্ড গ্যাসটি স্থায়ী ছিল এবং কয়েক দিনের জন্য এলাকাটি দূষিত করতে পারে, তারা ব্রিটিশদের কাছে এটি অস্বীকার করে। মিত্রশক্তিগুলো রাসায়নিক রাসায়নিক যুদ্ধের জন্য গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করে কিন্তু জার্মানির কপি করে মাস্টার্ড গ্যাস ব্যবহার শুরু করার জন্য ১৯১৮ সালের শেষ পর্যন্ত দেরি করে। [৩২]

৩১ জুলাই থেকে ১০ নভেম্বর ইপ্রেসের তৃতীয় যুদ্ধে পাসচেনডেলের প্রথম যুদ্ধ অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পাসচেনডেলের দ্বিতীয় যুদ্ধ চরম সীমায় পৌছায়। [৩৩] যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইপ্রেসের পূর্বের উপকূলে অধিগ্রহণ করা এবং রাপারস ও থৌরউটে অগ্রসর হয়ে পশ্চিমের গ্যারিসনে সরবরাহ করা প্রধান রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া । সফল হলে উত্তর বাহিনী বেলজিয়ান উপকূলে জার্মান সাবমেরিন ঘাঁটি বিজয় করতে পারত। পরে এটি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইপ্রেসের আশেপাশের প্রান্তে অগ্রসর হওয়া পর্যন্তই সীমিত ছিল, কারণ অস্বাভাবিকভাবে ভেজা আবহাওয়া ব্রিটিশ অগ্রগতির গতি কমিয়ে দেয়। কানাডীয় কর্পস দ্বিতীয় ANZAC কর্পসকে যুদ্ধে নামিয়ে দেয় এবং বৃষ্টি, কাদা এবং অনেক হতাহতের সত্ত্বেও ৬ নভেম্বর, [২৬] পাসেসেন্ডেল গ্রামটি দখল করে নেয়। জার্মান প্রতিরোধের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত স্বল্প লাভের জন্য উভয় পক্ষে অনেক হতাহত হয় কিন্তু দখলকৃত ভূমিটি ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ন। শুকনো মৌসুমের মধ্যে ব্রিটিশ অগ্রগতি অপ্রতিরোধ্য ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে ভিজা অগাস্ট এবং অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া শরৎ বৃষ্টিতে জার্মানরা কেবলমাত্র ব্যয়বহুল আত্মরক্ষামূলক সাফল্য অর্জন করেছিল, যা অক্টোবরের শুরুতে জার্মান কমান্ডারদের সাধারণ পশ্চাতপসরনের প্রস্তুতি শুরু করতে বাধ্য করেছিল।

ক্যাম্ব্রাই এর যুদ্ধসম্পাদনা

২০ নভেম্বর ব্রিটিশরা প্রথম ব্যাপক ট্যাংক আক্রমণ চালু করে ক্যাম্ব্রাই যুদ্ধে । [৩৪] মিত্রবাহিনী ৩২৪ টি ট্যাংক (এক তৃতীয়াংশ রিজার্ভে) এবং বারো বিভাগের সাথে দুটি জার্মান বিভাগের বিরুদ্ধে হারিকেন বোমা বিস্ফোরণের পরে অগ্রসর হয়। বিশেষ "গ্রাপ্নেল ট্যাংক" জার্মান কাতাটারের বেড়া টেনে সরিয়ে দেয়। এই আক্রমণটি ব্রিটিশদের জন্য একটি সাফল্য ছিল যেখানে মাত্র ৪,০০০ ব্রিটিশ হতাহত নিয়ে চার মাসে তৃতীয় ইপ্রেসের যুদ্ধের চেয়ে ছয় ঘণ্টায় বেশি ভেতরে প্রবেশ করেছিল। [৩৪] ৩০শে নভেম্বর পাল্টা জার্মান আক্রমণ শুরু হয়, যা দক্ষিণে ব্রিটিশদের ফিরিয়ে দেয় এবং উত্তরে ব্যর্থ হয়। ফিরে আসা সত্ত্বেও, আক্রমণটি মিত্রদের জন্য একটি সাফল্য হিসাবে দেখা হয় এবং প্রমাণ করে যে ট্যাঙ্কগুলি পরিখা প্রতিরোধকে অতিক্রম করতে পারে। জার্মানরা বুঝতে পেরেছিল যে জোটের ট্যাংকগুলি ব্যবহার করে তারা যে কোনও প্রতিরক্ষামূলক কৌশলকে মাউন্ট করতে পারে। এই হামলায় পশ্চিমাঞ্চলে জার্মান স্টসট্রপ্পেনের প্রথম গণযুদ্ধ দেখা যায়, যারা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ভেঙ্গে ফেলতে পদাতিক অনুপ্রবেশের কৌশল অবলম্বন করেছিল, প্রতিরোধ পরিহার করে এবং ব্রিটিশদের পিছনে দ্রুত অগ্রসর হয়। [৩৪]

১৯১৮সম্পাদনা

 

১৯১৮ সালে জার্মান অভিযানের চিত্র
রয়ে জার্মান ট্যাঙ্ক ,২১ মার্চ ১৯১৮

কাম্বারির জার্মান প্রতিরোধের সফল ভেদন ও অনুপ্রবেশের পর, লুডেনডফ এবং হেনডেনবার্গ এই সিদ্ধান্ত নিলেন যে, জার্মানির বিজয়ের একমাত্র সুযোগ ছিল বসন্তকালে পশ্চিমা রনাঙ্গনের দিকে একটি নিষ্পত্তিমূলক আক্রমণের মধ্যে, আমেরিকার সৈন্য শক্তি জোরদার হওয়ার আগেই। ১৯১৮ সালের ৩ মার্চ, ব্রেস্ট-লিটোভস্কের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং রাশিয়া যুদ্ধ থেকে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়। এটি সংঘর্ষের উপর এখন একটি নাটকীয় প্রভাব ফেলে কারণ পশ্চিমে স্থাপনের জন্য ইস্টার্ন ফ্রন্ট থেকে 33 টি বিভাগকে পাঠানো হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতই জার্মানরা ব্রেস্ট-লিটভস্কের চুক্তির বিধান অনুসারে রাশিয়ান অঞ্চল দখল করে নেয় তবে এটি তাদের সেনাবাহিনীর পুনর্বাসনকে সীমিত করে তোলে। জার্মানরা পশ্চিমে ১৯২ টি বিভাগ নিয়ে মিত্রদের ১৭৮ বিভাগের উপর একটি সুবিধা অর্জন করেছিল, যা জার্মানিকে লাইন থেকে পুরনো ইউনিটগুলি টেনে আনতে এবং স্টুরমট্রপেন (40 টি পদাতিক এবং 3 টি ক্যাভিয়ারি বিভাগ পূর্বের জার্মান দখলদারিত্বের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল) হিসাবে আটকে রাখতে সুযোগ করে দেয়। [৩৫]

মিত্রদের কমান্ডের একতা ছিল না এবং মনোবল ও জনশক্তি সমস্যা থেকে ভুগছিল, ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী কঠোরভাবে হ্রাস পেয়েছিল এবং বছরের প্রথমার্ধে আক্রমণ করার মতো অবস্থায় ছিল না, যখন বেশিরভাগ নতুন মার্কিন সৈন্য কেবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল , লাইনে মাত্র ছয় সম্পূর্ণ বিভাগ ছিল। [২৬] লুডেন্ডোরফ একটি আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোমে বড় আক্রমণের মাধ্যমে তাদের ফরাসিদের থেকে আলাদা করে চ্যানেল বন্দরে ফেরত পাঠাবেন। [২৬] [৩৬] আক্রমণটিতে ছিল ৭০০ টিরও বেশি বিমান, [৩৭] ট্যাংক এবং সাবধানে পরিকল্পিত আর্টিলারি ব্যারেজ সহ গ্যাস। [২৬] [৩৬]

ফলাফলসম্পাদনা

সামরিক হতাহত
পশ্চিম ফ্রন্ট 1914-1918 [৩৮] [৩৯] [খ]
জাতীয়তা নিহত আহত পি.ও.ডাবেলউ
ফ্রান্স 1,300,000 আনু. 3,000,000 508.000
যুক্তরাজ্য 512.600 1.528.500 223.600
বেলজিয়াম 38.200 44.700 10,200
অস্ট্রেলিয়া 48.900 130.900 -
কানাডা 56.400 149.700 -
নিউজিল্যান্ড 12.900 34.800 -
দক্ষিন আফ্রিকা 3,250 8.720 2,220
ভারত 6.670 15.750 1,090
পর্তুগাল 1,690 13.750 6.680
আমেরিকা 51.800 230.100 4.430
ইতালি 4,375 6.359 -
রাশিয়া 4,542 [গ] - -
শ্যামদেশ 19 - -
মিত্রশক্তি ~ 2.041.000 ~ 5.163.000 -
জার্মানি 1.493.000 3.116.000 774.000
অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি 2,500 10,000 5,000
কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ~ 1.495.000 ~ 3.126.000 ~ 779,00
সর্বমোট 3.536.000 8.262.000 -

হতাহতসম্পাদনা

পশ্চিম ফ্রন্টের ট্রেঞ্চ যুদ্ধ হাজার হাজার বিকলাঙ্গ সৈনিক ও যুদ্ধ বিধবা রেখে যায়। জীবনের অভূতপূর্ব ক্ষতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের জনপ্রিয় দৃষ্টিভঙ্গির উপর স্থায়ী প্রভাব পড়েছিল, যার ফলে পরবর্তীতে অ্যাডল্ফ হিটলারের প্রতি আক্রমণাত্মক নীতি অনুসরণ করা থেকে মিত্রবাহিনী বিরত হয়েছিল। [৪১] বেলজিয়ামে ৩০,০০০ বেসামরিক লোক নিহত এবং ফ্রান্স ৪০,০০০ (৩,০০০ সওদাগরসহ)। [৪২] ব্রিটিশরা ১৬২৮৯ জন বেসামরিক মানুষকে হারিয়েছে, বায়ু ও নৌবাহিনীর হামলায় ১২৬০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, সমুদ্রের ৯০৮ বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে এবং ১৪,৬৬১ বেসামরিকের সামুদ্রিক মৃত্যু হয়েছে। [৪৩] [৪৪] আরও ৬২,০০০ বেলজিয়ান, ১০৭,০০০ ব্রিটিশ এবং ৩০০,০০০ ফরাসি বেসামরিক যুদ্ধের কারণে মারা যান। [৪৫]

  1. ILO 1925, পৃ. 29।
  2. Hamilton ও Herwig 2003
  3. Stevenson 2005
  4. Griffith 2004
  5. Griffiths 1986
  6. Griffiths 2003
  7. Smith, Audoin-Rouzeau এবং Becker 2003
  8. Horne ও Kramer 2001
  9. Zuckerman 2004, পৃ. 23।
  10. Strachan 2001
  11. Kennedy 1989
  12. Foley 2005
  13. Richter 1994
  14. Doughty 2005
  15. Fuller 1992
  16. Sheldon 2012
  17. Spick 2002
  18. Wise 1981
  19. Lyons 2000
  20. Knox 2007
  21. Hull 2005
  22. Marshall 1964
  23. Campbell 1981
  24. Martin 2001
  25. Jackson 2001
  26. Baldwin 1962
  27. Miles 1992
  28. Prior ও Wilson 2005
  29. Watson 2008
  30. Hart 2005
  31. Bostyn 2002
  32. Sheldon 2007
  33. Liddle 2013
  34. Miles 1991
  35. Herwig 1997
  36. Carlyon 2006
  37. Murphy 2005
  38. Ellis 2001
  39. Churchill 1938
  40. Churchill 1938, পৃ. 558।
  41. Adamthwaite 1989
  42. Grey 1991
  43. ASB 1922
  44. Ellis 1993
  45. Hersch 1927


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি, বা বন্ধকরণ </ref> দেয়া হয়নি