নয়নমনি

আমজাদ হোসেন রচিত ও পরিচালিত ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র

নয়নমনি ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।[১] আমজাদ হোসেন রচিত নিরক্ষর স্বর্গে উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি পরিচালনা করেছেন তিনি নিজেই। এ কে এম জাহাঙ্গীর খান নিবেদিত এই ছবিটি আলমগীর পিকচার্স লিঃ এর ব্যানারে নির্মিত হয়। ছবিটির প্রধান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক[২]ববিতা। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনোয়ার হোসেন,[৩] সুলতানা জামান, রওশন জামিল, সৈয়দ হাসান ইমাম, আনোয়ারা, এটিএম শামসুজ্জামান, ও টেলি সামাদ। চলচ্চিত্রটি ২য় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনটি বিভাগে এবং ৪র্থ বাচসাস পুরস্কার তিনটি বিভাগে পুরস্কার অর্জন করে।[৪][৫]

নয়নমনি
ভিসিডি কভার
পরিচালকআমজাদ হোসেন
প্রযোজকএকেএম জাহাঙ্গীর খান
চিত্রনাট্যকারআমজাদ হোসেন
উৎসআমজাদ হোসেন কর্তৃক 
নিরক্ষর স্বর্গে
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারসত্য সাহা
চিত্রগ্রাহকরফিকুল বারী চৌধুরী
সম্পাদকমুজিবুর রহমান দুলু
প্রযোজনা
কোম্পানি
আলমগীর পিকচার্স লিঃ
পরিবেশকআলমগীর পিকচার্স লিঃ
মুক্তি
  • ২৫ জুন ১৯৭৬ (1976-06-25)
স্থিতিকাল১৫২ মিনিট
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা

কাহিনী সংক্ষেপ

সম্পাদনা

নইমুদ্দির ঘরে ছেলে সন্তান জন্মানোর পর তার ঘরে আগুন লাগে। এতে করে গ্রামের মানুষ বলাবলি শুরু করে সেই সন্তান অলক্ষুণে। নইমুদ্দি তাই এমন সন্তানের মুখ দর্শন করতে চায় না ও আতুর ঘরে আগুন জ্বালিয়ে সব পুরিয়ে দিতে চায়। অবশেষে সে শান্ত হয়। ছেলের নাম রাখা হয় "নয়ন"। কিছু দিন পর তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। মোড়লের হস্তক্ষেপে সে জেল থেকে বের হয়ে সন্তানসহ বউকে তালাক দেয়। বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় সে আশ্রয় নেয় গ্রামের এক গায়েনের বাড়িতে। সেই গায়েনের বাড়িতে বড় হতে থাকে নয়ন। শুরু হয় তার দুরন্তপনা। একদিন তার খেলার সাথী মনিকে গুলতি মারার অপরাধে তাকে গ্রাম ছেড়ে যেতে হয়। বেশ কিছু বছর পর গ্রামে ফিরে এসে দেখে গ্রামে মোড়লের অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ। তাছাড়া মোড়ল জোর করে মনিকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু নয়নের জন্য মোড়ল তা পারে না। সে গোলাপ আলীসহ গ্রামের যুবকদের নিয়ে দল গঠন করে মোড়লকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য।

শ্রেষ্ঠাংশে

সম্পাদনা

নয়নমনি ছায়াছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন সত্য সাহা। গীত রচনা করেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, সৈয়দ আব্দুল হাদী, ফেরদৌসী রহমান, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, ও চিত্রা সুলতানা।

গানের তালিকা
নং.শিরোনামকণ্ঠশিল্পীদৈর্ঘ্য
১."এতো সুন্দর হেরেম বাদশা"ফেরদৌসী রহমান 
২."অনাথিনীর বুকের মানিক"সৈয়দ আব্দুল হাদী 
৩."কান্দিস কেনে মন"ইন্দ্রমোহন রাজবংশী 
৪."নানী গো নানী"সাবিনা ইয়াসমিন 
৫."বলো কোথায় থাকি"সাবিনা ইয়াসমিন, সৈয়দ আব্দুল হাদী 
৬."চুল ধরোনা খোঁপা খুলে যাবে"চিত্রা সুলতানা 
৭."কোন কেতাবে লেখা আছে"ইন্দ্রমোহন রাজবংশী 

পুরস্কার

সম্পাদনা
২য় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
৪র্থ বাচসাস পুরস্কার

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. চিন্ময় মুৎসুদ্দী (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "বাংলা চলচ্চিত্রে প্রেম"রাইজিংবিডি। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. লিয়াকত হোসেন খোকন (১৫ জানুয়ারি ২০১১)। "গ্রামীণ ছবির প্রবাদপুরুষ ফারুক"দৈনিক আমার দেশ। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১১ 
  3. "মুকুটহীন নবাবের বিদায়!"দৈনিক সংবাদ। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. রাশেদ শাওন (অক্টোবর ২৪, ২০১২)। "চার দশকে আমাদের সেরা চলচ্চিত্রগুলো"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২৮ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৬ 
  5. জোয়াদ, আবদুল্লাহ (২০১০)। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র: পাঁচ দশকের ইতিহাস। ঢাকা: জ্যোতিপ্রকাশ। পৃষ্ঠা ৪৭৪। আইএসবিএন 984-70194-0045-9 

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা