প্রধান মেনু খুলুন

ঠাকুরগাঁও জেলা

বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের একটি জেলা
(ঠাকুরগাঁও থেকে পুনর্নির্দেশিত)

ঠাকুরগাঁ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।[২]

ঠাকুরগাঁও
জেলা
বাংলাদেশে ঠাকুরগাঁও জেলার অবস্থান
বাংলাদেশে ঠাকুরগাঁও জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৫৭′ উত্তর ৮৮°১৫′ পূর্ব / ২৫.৯৫০° উত্তর ৮৮.২৫০° পূর্ব / 25.950; 88.250স্থানাঙ্ক: ২৫°৫৭′ উত্তর ৮৮°১৫′ পূর্ব / ২৫.৯৫০° উত্তর ৮৮.২৫০° পূর্ব / 25.950; 88.250 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরংপুর বিভাগ
আয়তন
 • মোট১৮০৯.৫২ কিমি (৬৯৮.৬৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)[১]
 • মোট১৩,৮০,০০০
 • জনঘনত্ব৭৬০/কিমি (২০০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫২.০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫৫ ৯৪
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

ভৌগোলিক সীমানাসম্পাদনা

ঠাকুরগাঁও জেলার উত্তরে পঞ্চগড় জেলা, দক্ষিণে দিনাজপুর জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে দিনাজপুর জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহসম্পাদনা

ইতিহাসসম্পাদনা

 
ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীর পাড়ে অপরাজেয় ৭১ ভাস্কর্য।

টাংগন, শুক ও সেনুয়া বিধৌত এই জনপদের একটি ঠাকুর পরিবারের উদ্যোগে বৃটিশ শাসনমলে বর্তমান পৌরসভা এলাকার কাছাকাছি কোনো স্হানে একটি থানা স্হাপিত হয়। এই পরিবারের নাম অনুসারে থানাটির নাম হয় ঠাকুরগাঁও থানা। "ঠাকুর" অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের সংখ্যাধিক্যের কারণে স্হানটির নাম ঠাকুরগাঁও হয়েছে।

১৭৯৩ সালে ঠাকুরগ্রাম অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।[৩] ১৮৬০ সালে এটি মহকুমা হিসেবে ঘোষিত হয়। এর অধীনে ছয়টি থানা ছিল, এগুলো হলঃ ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, হরিপুর ও আটোয়ারী। ১৯৪৭ সালে এই ৬টি থানা এবং ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার ৩টি থানা ও কোচবিহারের ১টি থানা (পঞ্চগড়, বোদা, তেতুলিয়া ও দেবীগঞ্জ) নিয়ে ১০টি থানার মহকুমা হিসেবে ঠাকুরগাঁও নুতনভাবে যাত্রা শুরু করে। কিন্ত ১৯৮১ সালে আটোয়ারী, পঞ্চগড়, বোদা, দেবীগঞ্জ ও তেতুলিয়া নিয়ে পঞ্চগড় নামে আলাদা মহকুমা সৃষ্টি হলে ঠাকুরগাঁও মহকুমার ভৌগোলিক সীমানা ৫টি থানায় সংকুচিত হয়ে যায়। থানাগুলি হচ্ছেঃ ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর। ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী ঠাকুরগাঁও মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়।

এখানে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর (সাঁওতাল ও উরাও) মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে। জেলার নেকমরদ, রাণীশংকৈল এসব স্হানে সুপ্রাচীন সভ্যতার নির্দশন বিদ্যমান।

অর্থনীতিসম্পাদনা

প্রধান শস্যঃ ধান, গম, আলু, ভুট্টা, পাট, আখ। রপ্তানী পণ্যঃ ধান, চাল, আলু, আম।

শিল্পসম্পাদনা

শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঠাকুরগাঁও চিনি কল অন্যতম। এছাড়া জেলায় বিসিক শিল্প নগরী আছে; সেখানে কিছু কারখানা আছে। এরমধ্যে বিস্কুট ফ্যাক্টরী, সাবান ফ্যাক্টরী, প্লাস্টিক কারখানা, ফ্লাওয়ার মিল এবং জুট মিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সালন্দর ইউনিয়নে কাজী ফার্মস এর ফীড মিল আছে।

শিক্ষাসম্পাদনা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: বিশ্ববিদ্যালয়: ০; কলেজ : ২৭; মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ২৪১; মাদ্রাসা : ৭৪; সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: ১ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: ১ টি । ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ, ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ, ইকো পাঠশালা ও কলেজ, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খোশবাজার ছালেহীয়া দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসা[৪] উল্লেখযোগ্য।

কৃতি ব্যক্তিত্বসম্পাদনা

 
রাজা গণেশ।
 
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নদীসমূহসম্পাদনা

 
হরিপুর উপজেলায় বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তে নাগর নদী

ঠাকুরগাঁওয়ে অনেকগুলো নদী রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে টাঙ্গন নদী, ছোট ঢেপা নদী, কুলিক নদী, পুনর্ভবা নদী, তালমা নদী, পাথরাজ নদী, কাহালাই নদী, তীরনই নদী, নাগর নদী, তিমাই নদী, এবং নোনা নদী[৫][৬] এছাড়াও আছে শুক নদী, ছোট সেনুয়া নদী, আমনদামন নদী, লাচ্ছি নদী, ভুল্লী নদী এবং সোজ নদী

চিত্তাকর্ষক স্থানসম্পাদনা

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাসম্পাদনা

ঠাকুরগাঁও জেলায় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত দুটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা আছে। সেগুলো হচ্ছে ঢোলহাট মন্দিরজামালপুর জামে মসজিদ[৭] এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে হরিপুর রাজবাড়ি,[৮] রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি, বাংলা গড়, জগদল রাজবাড়ি, ঢোলহাট মন্দির, গড়গ্রাম দুর্গ প্রভৃতি।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানসম্পাদনা

 
হরিপুর উপজেলায় অবস্থিত হরিপুর রাজবাড়ির পেছনভাগ।
  • খুনিয়া দিঘী বধ্যভূমি রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা গ্রামে;
  • জাটিভাঙ্গা বধ্যভূমি, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুখানপুখুরী ইউনিয়নের জাটিভাঙ্গা গ্রামে;
  • বালিয়াডাঙ্গী সূর্য্যপূরী আমগাছ - প্রায় ২০০ বছরের পুরনো, হরিণ মারি গ্রামে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • ফান সিটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক - পীরগঞ্জ;
  • রাজভিটা - হাটপাড়া, জাবরহাট ইউনিয়ন, পীরগঞ্জ উপজেলা;
  • প্রাচীন রাজধানীর চিহ্ন - নেকমরদ, রানীশংকৈল উপজেলা;
  • নেকমরদ মাজার - রানীশংকৈল উপজেলা;
  • মহেশপুর মহালবাড়ি ও বিশবাঁশ মাজার ও মসজিদস্থল - রানীশংকৈল উপজেলা;
  • শালবাড়ি ইমামবাড়া - ভাউলারহাট, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা;
  • সনগাঁ মসজিদ - বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • ফতেহপুর মসজিদ - বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • মেদিনী সাগর মসজিদ - হরিপুর উপজেলা;
  • গেদুড়া মসজিদ - হরিপুর উপজেলা;
  • গোরক্ষনাথ মন্দির এবং কূপ - রানীশংকৈল উপজেলা;
  • হরিণমারী শিব মন্দির - বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • গোবিন্দনগর মন্দির - ঠাকুরগাঁও শহর;
  • ভেমটিয়া শিবমন্দির - পীরগঞ্জ পৌরসভা;
  • মালদুয়ার দুর্গ - রানীশংকৈল উপজেলা;
  • গড় ভবানীপুর - হরিপুর উপজেলা;
  • গড়খাঁড়ি - বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;
  • কোরমখান গড় - ঠাকুরগাঁও শহর;
  • সাপটি বুরুজ - ঠাকুরগাঁও উপজেলা;
  • দিঘি সমূহ - পুরো জেলা জুড়ে (গড়েয়াহাট দিঘি, লস্করা দিঘি, টুপুলী দিঘি, শাসলা ও পেয়ালা দিঘি, ঠাকুর দিঘি, আঠারো গান্ডি পোখর, আধার দিঘি, হরিণমারী দিঘি, রতন দিঘি, দুওসুও দিঘি, রামরাই দিঘি, খুনিয়া দিঘি, রানীসাগর, মেদিনীসাগর দিঘি)।

হাট-বাজার ও মেলাসম্পাদনা

  • প্রধান প্রধান হাট-বাজারসমূহ:— শিবগঞ্জ বাজার, খোচাবাড়ী হাট, রুহিয়া রামনাথ হাট, গড়েয়া হাট, কালমেঘ হাট, যাদুরানী হাট, ফাড়াবাড়ী হাট, বেগুনবাড়ী হাট, লাহিড়ী হাট।
  • মেলাসমূহ:— কালিমেলা, রুহিয়া আজাদ মেলা, নেকমরদ মেলা[৯]

চিত্রশালাসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরেঠাকুরগাঁও"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২৩ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৪  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. ঠাকুরগাঁও জেলা তথ্য বাতায়ন
  3. ধনঞ্জয় রায়, দিনাজপুর জেলার ইতিহাস, কে পি বাগচী অ্যান্ড কোম্পানি কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ২০০৬, পৃষ্ঠা ২১১
  4. দৈনিক লোকায়ন (ঠাকুরগাঁও জেলার একমাত্র পত্রিকা) ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (২১৫তম সংখ্যা)
  5. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৪০৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  6. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী"। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি (প্রথম সংস্করণ)। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃষ্ঠা ৬১৭। আইএসবিএন 984-70120-0436-4 
  7. "প্রত্নস্হলের তালিকা"বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরhttp://www.archaeology.gov.bd/। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬  |প্রকাশক= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  8. "হরিপুর জমিদার বাড়ী"উপজেলার তথ্য বাতায়ন। হরিপুর: উপজেলা তথ্য বাতায়ন। unknown। সংগ্রহের তারিখ 2016-12-22  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  9. www.thakurgaon.gov.bd
  • ঠাকুরগাঁও পরিক্রমাঃ ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ঠাকুরগাঁও ফাউন্ডেশন।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা