কৃষ্ণগহ্বর

অকল্পনীয় মহাকর্ষের অধিকারী মহাজাগতিক বস্তু
(কৃষ্ণ গহ্বর থেকে পুনর্নির্দেশিত)
অতিবৃহৎ উপবৃত্তাকার ছায়াপথ মেসিয়ে ৮৭ এর কেন্দ্রে অবস্থিত অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরটির ভর সূর্যের ৭০০ কোটি গুণ।[১] ১০ এপ্রিল ২০১৯ সালে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ দ্বারা প্রকাশিত প্রথম ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে।[২][৩] ছবিতে কৃষ্ণগহ্বরটির অর্ধচন্দ্রাকার নিঃসরণ বলয় এবং কেন্দ্রীয় ছায়া দেখা যাচ্ছে, যা এর ঘটনা দিগন্তের যথাক্রমে ফোটন বলয় এবং বন্দী ফোটন বিশিষ্ট অঞ্চলের মহাকর্ষীয়ভাবে বিবর্ধিত দৃশ্য। কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণনের ফলে এই অর্ধচন্দ্রের মত আকার সৃষ্টি হয়; এবং এই কেন্দ্রীয় ছায়ার ব্যাস ঘটনা দিগন্তের ২.৬ গুণ।[৩]

কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণ বিবর (ব্ল্যাক হোল নামেও পরিচিত) মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা।[৪] এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকেও (যেমন: আলো) নয়। প্রকৃতপক্ষে এই স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশি হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল বলকে অতিক্রম করে। ফলে এ থেকে কোন কিছুই পালাতে পারে না। অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রথম তৎকালীন মহাকর্ষের ধারণার ভিত্তিতে কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্বের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।[৫][৬]

সাধারণ আপেক্ষিকতা
Spacetime curvature.png
সাধারণ আলোচনা
Schwarzschild black hole
মহাকর্ষীয় লেন্স প্রভাবের অনুকরণ (বৃহত্তর চলচ্চিত্র)

সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে, কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান যেখান থেকে কোন কিছু, এমনকি আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না। এটা তৈরি হয় খুবই বেশি পরিমাণ ঘনত্ব বিশিষ্ট ভর থেকে। কোন অল্প স্থানে খুব বেশি পরিমাণ ভর একত্র হলে সেটা আর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে পারে না। আমরা মহাবিশ্বকে একটি সমতল পৃষ্ঠে কল্পনা করি। মহাবিশ্বকে চিন্তা করুন একটি বিশাল কাপড়ের টুকরো হিসেবে এবং তারপর যদি আপনি কাপড়ের উপর কোন কোন স্থানে কিছু ভারী বস্তু রাখেন তাহলে কি দেখবেন? যেইসব স্থানে ভারি বস্তু রয়েছে সেইসব স্থানের কাপড় একটু নিচু হয়ে গিয়েছে। এই একই বাপারটি ঘটে মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে। যেসব স্থানে ভর অচিন্তনিয় পরিমাণ বেশি সেইসব স্থানে গর্ত হয়ে আছে। এই অসামাণ্য ভর এক স্থানে কুন্ডলিত হয়ে স্থান-কাল বক্রতার সৃষ্টি করে। প্রতিটি গ্যালাক্সির স্থানে স্থানে কম-বেশি কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিতের কথা জানা যায়। সাধারণত বেশীরভাগ গ্যালাক্সিই তার মধ্যস্থ কৃষ্ণগহ্বরকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণয়মান।

কৃষ্ণগহ্বর শব্দের অর্থ কালো গর্ত। একে এই নামকরণ করার পেছনে কারণ হল এটি এর নিজের দিকে আসা সকল আলোক রশ্মিকে শুষে নেয়। কৃষ্ণগহ্বর থেকে কোন আলোক বিন্দুই ফিরে আসতে পারে না ঠিক থার্মোডায়নামিক্সের কৃষ্ণ বস্তুর মতো।

অনেকদিন পর্যন্ত কৃষ্ণগহ্বরের কোন প্রত্যক্ষ দর্শন পাওয়া গিয়েছিল না, কারণ এ থেকে আলো বিচ্ছুরিত হতে পারে না যেকারণে একে দেখা সম্ভব নয়, কিন্ত এর উপস্থিতির প্রমাণ আমরা পরোক্ষভাবে পেয়েছিলাম। কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিতের প্রমাণ কোন স্থানের তারা নক্ষত্রের গতি এবং দিক দেখে পাওয়া যায়। মহাকাশবিদগণ ১৬ বছর ধরে আশে-পাশের তারামন্ডলীর গতি-বিধি পর্যবেক্ষণ করে গত ২০০৮ সালে প্রমাণ পেয়েছেন অতিমাত্রার ভর বিশিষ্ট একটি কৃষ্ণগহ্বরের যার ভর আমাদের সূর্য থেকে ৪ মিলিয়ন গুন বেশি এবং এটি আমাদের আকাশগঙ্গার মাঝখানে অবস্থিত।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে লাইগো সংগঠন মহাকর্ষীয় তরঙ্গের প্রথম প্রত্যক্ষ সনাক্তকরণের ঘোষণা দেয়, যা ছিল দুটি কৃষ্ণগহ্বরের একত্রীভবনের প্রথম পর্যবেক্ষণ।[৭] ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ১১ টি মহাকর্ষীয় তারঙ্গিক ঘটনা পর্যবেক্ষিত হয়েছে যার মাঝে ১০ টি ঘটনা কৃষ্ণগহ্বরের একত্রীভবনের ফলে এবং ১ টি ঘটনা দ্বৈত নিউট্রন তারা একত্রীভবনের ফলে সৃষ্ট।[৮][৯] ২০১৭ সালে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ দ্বারা মেসিয়ে ৮৭ ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের পর্যবেক্ষণের পর, দীর্ঘ বিশ্লেষণ শেষে ১০ এপ্রিল ২০১৯ সালে প্রথমবারের মত একটি কৃষ্ণবিবর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রত্যক্ষ চিত্র প্রকাশিত হয়।[৩]

কৃষ্ণগহ্বর গবেষণার ইতিহাসসম্পাদনা

 
একটি অ-ঘূর্ণন কৃষ্ণগহ্বরের সাধারণ চিত্রণ।

বিপুল পরিমাণ ভর বিশিষ্ট কোন বস্তু, যার মহাকর্ষের প্রভাবে আলোক তরঙ্গ পর্যন্ত পালাতে পারে না- এ ধারণা সর্বপ্রথম প্রদান করেন ভূতত্ত্ববিদ জন মিচেল (John Michell)। তার লেখা একটি চিঠিতে ১৭৮৩ সালে তিনি রয়েল সোসাইটির সদস্য এবং বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিসকে (Henry Cavendish) এ সম্পর্কে জানান।

১৭৯৬ সালে গণিতবিদ পিয়েরে সিমন ল্যাপলেস একই মতবাদ প্রদান করেন তার Exposition du système du Monde বইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে। কিন্তু পরবর্তী সংস্করণগুলোতে এ সম্পর্কিত ধারণা রাখা হয় নি। কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কিত এ ধরনের মতামত ঊনবিংশ শতাব্দিতে প্রকটভাবে উপেক্ষিত হয়। কারণ আলোর মতো ভরহীন তরঙ্গ কিভাবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে সেটা বোধগম্য ছিল না।

 
বড় ম্যাগেলানিক মেঘের সামনে একটি ব্ল্যাকহোলের সিমুলেটেড ভিউ। মহাকর্ষীয় লেন্সিং এফেক্টটি নোট করুন, যা মেঘের দুটি বর্ধিত তবে অত্যন্ত বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। উপরের অংশে, মিল্কিওয়ে ডিস্কটি একটি চকে বিকৃত হয়ে দেখা দেয়।

সাধারণ আপেক্ষিকতাসম্পাদনা

১৯১৫ সালে, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি বিকাশ করেছিলেন, যা আগে দেখিয়েছিল যেমাধ্যাকর্ষণ আলোর গতিতে প্রভাব ফেলে। মাত্র কয়েক মাস পরে, কার্ল শোয়ার্জচাইল্ড আইনস্টাইন ক্ষেত্রের সমীকরণগুলির একটি সমাধান পেয়েছিলেন, যা একটি বিন্দু ভর এবং একটি গোলাকৃতির ভরের মহাকর্ষ ক্ষেত্র বর্ণনা করে। শোয়ার্জচাইল্ডের কয়েকমাস পরে হেন্ডরিক লরেঞ্জের শিক্ষার্থী জোহানেস ড্রসটি স্বাধীনভাবে পয়েন্ট ভরটির জন্য একই সমাধান দিয়েছেন এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে আরও বিস্তৃতভাবে লিখেছিলেন। এই সমাধানকে এখন এক শোকার্জস্কিল্ড ব্যাসার্ধ বলা হয়, যেখানে এটি একবচনে পরিণত হয়েছিল, যার অর্থ আইনস্টাইন সমীকরণের কিছু পদ অসীম হয়ে ওঠে তার এক অদ্ভুত আচরণ ছিল। এই পৃষ্ঠের প্রকৃতিটি তখন বেশ বোঝা যাচ্ছিল না। ১৯২৪ সালে আর্থার এডিংটন দেখিয়েছিলেন যে স্থানাঙ্কের পরিবর্তনের পরে এককত্বটি অদৃশ্য হয়ে গেছে (দেখুন এডিংটন – ফিনকেলস্টেইন স্থানাঙ্ক), যদিও জর্জেস লেমাত্রে বুঝতে পেরেছিলেন যে 1945 সালে শোয়ার্জস্কিল্ড ব্যাসার্ধের এককত্বই ছিল একটি শারীরিক সমন্বয়মূলক এককতা। আর্থার এডিংটন 1926 সালের একটি বইতে শোয়ার্জচাইল্ড ব্যাসার্ধের সাথে সংক্ষিপ্তভাবে ভরযুক্ত একটি তারার সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, উল্লেখ করে যে আইনস্টাইনের তত্ত্বটি বেটেলজিউসের মতো দৃশ্যমান তারকাদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত বড় ঘনত্বকে শাসন করতে দেয় কারণ "250 মিলিয়ন কিমি ব্যাসার্ধের একটি তারকা পারে সূর্যের মতো সম্ভবত এত বেশি ঘনত্ব নাও থাকতে পারে প্রথমতঃ মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত বড় হবে যে আলো এ থেকে বাঁচতে সক্ষম হবে না, রশ্মি পৃথিবীতে পাথরের মতো তারার দিকে ফিরে পড়েছিল।দ্বিতীয়ত, লাল স্থানান্তর ift বর্ণালী রেখাগুলির এত দুর্দান্ত হবে যে বর্ণালীটি অস্তিত্বের বাইরে চলে গেল তৃতীয়ত, ভরটি স্পেস-টাইম মেট্রিকের এত বেশি বক্রতা তৈরি করবে যে স্থানটি তারার চারপাশে বন্ধ হয়ে যাবে, আমাদের বাইরে রেখেছিল (অর্থাত্ কোথাও নেই) । "

১৯৩১ সালে সুব্রহ্মণ্য চন্দ্রশেখর গণ্য করে বিশেষ আপেক্ষিকতা ব্যবহার করে বলেছিলেন যে একটি নির্দিষ্ট-সীমাবদ্ধ ভরগুলির (বর্তমানে চন্দ্রশেখর সীমা বলা হয় ১.৪ মেঘ) উপরে ইলেক্ট্রন-অধঃপরিবর্তনশীল কোনও দেহের স্থির সমাধান নেই। তাঁর যুক্তিগুলি এডিংটন এবং লেভ ল্যান্ডাউয়ের মতো তাঁর সমসাময়িকদের অনেকেই বিরোধিতা করেছিলেন, তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে এখনও কিছু অজানা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া বন্ধ করবে। এগুলি আংশিকভাবে সঠিক ছিল: চন্দ্রশেখরের সীমা থেকে কিছুটা বেশি বিশাল একটি সাদা বামন একটি নিউট্রন তারকাতে পতিত হবে, [32] যা নিজেই স্থিতিশীল। তবে ১৯৩৯ সালে রবার্ট ওপেনহাইমার এবং অন্যান্যরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে চন্দ্রশেখরের উপস্থাপিত কারণে নিউট্রন নক্ষত্রগুলি অন্য একটি সীমা (টলম্যান-ওপেনহাইমার – ভলকফের সীমা) এর চেয়েও বেশি ধসে পড়বে এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে পদার্থবিজ্ঞানের কোনও আইন অন্তত কিছুটা হস্তক্ষেপ করবে না এবং কমপক্ষে কিছু বন্ধ করবে। ব্ল্যাকহোলগুলিতে ভেঙে পড়া তারা [৩৩] তাদের আসল গণনাগুলি, পাওলি বর্জন নীতিটির ভিত্তিতে, এটিকে 0.7 M☉ হিসাবে দিয়েছে; পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী বল মধ্যস্থতাযুক্ত নিউট্রন-নিউট্রন বিকিরণের বিবেচনার ফলে অনুমানটি প্রায় 1.5 মিলিয়ন থেকে 3.0 মিলিয়ন মাইন্ডে উন্নীত হয়। [34] নিউট্রন স্টার মার্জার GW170817 এর পর্যবেক্ষণগুলি, যা কিছুক্ষণের পরে একটি ব্ল্যাকহোল তৈরি করেছে বলে মনে করা হয়, তারা TOV সীমা অনুমানটিকে ~ 2.17 M☉ এ পরিমার্জন করেছে|

ওপেনহাইমার এবং তাঁর সহ-লেখকগণ শোয়ার্জস্কিল্ড ব্যাসার্ধের সীমানায় একাকীত্বটির ব্যাখ্যা করেছিলেন যে ইঙ্গিত দেয় যে এটি একটি বুদবুদের সীমানা যেখানে সময় থেমেছিল। এটি বাহ্যিক পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি বৈধ দৃষ্টিকোণ, তবে অনুপ্রবেশকারী পর্যবেক্ষকদের জন্য নয়। এই সম্পত্তির কারণে, ধসে পড়া নক্ষত্রগুলিকে "হিমশীতল তারা" বলা হত, কারণ বাইরের পর্যবেক্ষকরা ততক্ষণে নক্ষত্রের পৃষ্ঠকে হিমশীতল দেখতে পাবেন যেখানে তার পতনটি শোয়ার্জচাইল্ড ব্যাসার্ধে নিয়ে যায় |

ঘটনা দিগন্তসম্পাদনা

সাধারণ আপেক্ষিকতা মতে, ঘটনা দিগন্ত হচ্ছে কোন একটি ঘটনার স্থান-কাল এর সীমানা যার বাইরে অবস্থিত কোন পর্যবেক্ষকের উপর এর কোন প্রভাব পড়ে না। সাধারণ কথায় একে বলা যায় "প্রত্যাবর্তনের শেষ বিন্দু" যেখানে মধ্যাকর্ষন টান এতই শক্তিশালী হয় যে, কোন কণার পক্ষে আর দূরে যাওয়া সম্ভব হয় না। ঘটনা দিগন্ত বিষয়টি মূলত কৃষ্ণগহ্বর এর সাথে সংযুক্ত। ঘটনা দিগন্তের ভেতর থেকে নিক্ষিপ্ত আলো এর বাইরের পর্যবেক্ষকের কাছে পৌঁছুতে পারে না। একইভাবে, এর বাইরে থেকে আসা কণার গতিও ধীর হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয় এবং তা দিগন্ত কে পুরোপুরি অতিক্রম করে না, বরং সময়ের সাথে সাথে এটির লোহিত সরণ বাড়তে থাকে। কণাটি বিরুপ প্রভাব অনুভব করে না এবং একটি সসীম মানের প্রকৃত সময়ে দিগন্ত অতিক্রম করে।

কৃষ্ণগহ্বরের আশেপাশে আরও বিশিষ্ট ধরনের কিছু দিগন্ত যেমন, পরম দিগন্ত এবং আপাত দিগন্ত দেখা যায়। এছাড়া আরও কিছু স্বতন্ত্র ধারণা থেকে প্রাপ্ত কোশি দিগন্ত এবং খুনে দিগন্ত; কাড় দ্রবণ এর ফোটন পরিমন্ডল এবং আর্গো-পরিমন্ডল; বিশ্বতত্ত্ব সংক্রান্ত কণা দিগন্ত ও মহাজাগতিক দিগন্ত; বিচ্ছিন্ন দিগন্ত এবং গতিশীল দিগন্ত কৃষ্ণবিবরের গবেষণায় গুরুত্বপুর্ন। বিষ্ফোরণ।


কৃষ্ণগহ্বরের গঠনসম্পাদনা

 
করোনার সাথে ব্ল্যাকহোল, এক্স-রে উত্স (শিল্পীর ধারণা)

স্বাভাবিকভাবে কোনো একটি নক্ষত্র চুপসে গেলে কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়। তবে নক্ষত্রগুলোর ভর হয় অনেক। আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র সূর্যের বিস্তৃতি প্রায় 1.3×10^9 km এবং এর ভর প্রায় 2×10^30 kg এর কাছাকাছি। নক্ষত্রগুলোর অস্বাভাবিক ভরের জন্য এদের মধ্যাকর্ষণও অনেক। কেননা আমরা জানি মধ্যাকর্ষনের সাথে ভরের একটি অনন্য সম্পর্ক রয়েছে। কারণঃ

F=Gm1m2/r^2 …………(2)

এটি নিউটনের মধ্যাকর্ষন সূত্র। এখানে G এর মান ধ্রুবক। G= 6.673×10^-11 যা খুব ছোট। যাই হোক, যখন তুমি m1m2 তে সূর্য এবং পৃথিবীর ভর রাখবে এবং r তাদের মধ্যবর্তী দুরত্ব হলে এদের মধ্যে আকর্ষন মান হবেঃ 3.76×10^22N ।

যখন নক্ষত্রের বাইরের তাপমাত্রার চাপে ভেতরের মধ্যাকর্ষন বাড়তে থাকে তখন, তখন সেই বলের কারণে নক্ষত্র চুপসে যেতে শুরু করে। সব ভর একটি বিন্দুতে পতিত হতে শুরু করে। এটি ধীরে ধীরে ছোট এবং অধিক ঘনত্বে আসতে শুরু করে এবং এক সময় সমস্ত ভর একটি ছোট্ট বিন্দুতে ভিড় করে যার নাম সিঙ্গুলারিটি।

 
পাতলা প্রশস্ততা ডিস্ক দ্বারা প্রসারিত শোয়ার্জস্কিল্ড ব্ল্যাকহোলের দিগন্তের বাইরে থেকে নাসা সিমুলেটেড ভিউ।

সব চুপসে পড়া নক্ষত্রই কিন্তু কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়না। কৃষ্ণগহ্বর হবে কিনা তা নির্ভর করে তার ভরের উপর। যাই হোক, কৃষ্ণগহ্বর হতে হলে নক্ষত্রকে বা বস্তুকে একটি নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধে আসতে হবে। নিচে সমীকরণটি দেওয়া হলো যার সাহায্যে আমরা নির্ণয় করতে পারি কৃষ্ণগহ্বর হতে হলে কোনো বস্তু বা নক্ষত্রের ব্যাসার্ধে আসা দরকারঃ Rs=2GM/c^2 ………………………………(3) যেখানে M বস্তু বা নক্ষত্রটির ভর। G মহাকর্ষিয় ধ্রুবক। C আলোর বেগ। এই ব্যাসার্ধ পরিমাপের সূত্রটির মান Schwarzschild radius, পদার্থবিজ্ঞানী Karl Schwarzschild এই সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন ১৯১৬ সালে। তার নাম অনুসারে এর নাম রাখা হয়।

পদার্থের উত্সাহসম্পাদনা

কৌণিক গতি সংরক্ষণের কারণে, বৃহত্তর কোন বস্তু দ্বারা তৈরি মহাকর্ষের ভালে পড়ে যাওয়া গ্যাস সাধারণত বস্তুর চারপাশে একটি ডিস্কের মতো কাঠামো তৈরি করে। শিল্পীদের প্রভাব যেমন করোনার সাথে একটি ব্ল্যাকহোলের সাথে উপস্থাপনের সাথে ব্ল্যাকহোলকে সাধারণত এমনভাবে চিত্রিত করা হয় যেন এটি একটি ফ্ল্যাট-স্পেস বডি যার পিছনে ডিস্কের অংশটি লুকিয়ে রাখে, তবে বাস্তবে মহাকর্ষীয় লেন্সিং এর চিত্রটিকে ব্যাপকভাবে বিকৃত করে দেবে অভ্যাস ডিস্ক

এই জাতীয় ডিস্কের মধ্যে, ঘর্ষণটি কৌণিক গতি বহির্মুখী হয়ে যায়, ফলে পদার্থটি আরও অভ্যন্তরে পতিত হয়, ফলে সম্ভাব্য শক্তি নির্গত হয় এবং গ্যাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।


যখন বাড়ানো বস্তুটি নিউট্রন তারকা বা একটি কৃষ্ণগহ্বর হয়, তখন কমপ্যাক্ট অবজেক্টের সাথে তার সান্নিধ্যের কারণে অভ্যন্তরীণ প্রশস্ততা ডিস্কের গ্যাস খুব উচ্চ গতিতে প্রদক্ষিণ করে। ফলে প্রাপ্ত ঘর্ষণটি এত তাৎপর্যপূর্ণ যে এটি অভ্যন্তরীণ ডিস্কটিকে তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে যেখানে এটি প্রচুর পরিমাণে তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ (মূলত এক্স-রে) নির্গত করে। এই উজ্জ্বল এক্স-রে উত্সগুলি দূরবীন দ্বারা সনাক্ত করা যেতে পারে। অভিজাতকরণের এই প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে কার্যকর শক্তি উত্পাদনকারী প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে একটি; জমা হওয়া সামগ্রীর বাকী পরিমাণের 40% পর্যন্ত রেডিয়েশন হিসাবে নির্গত হতে পারে [[১1১] (পারমাণবিক সংমিশ্রণে বাকী ভরগুলির কেবলমাত্র 0.7% শক্তি হিসাবে নির্গত হবে।) অনেক ক্ষেত্রে, অ্যাক্রিশন ডিস্কগুলির সাথে মেরুগুলির সাথে নির্গত আপেক্ষিক জেটগুলি থাকে, যা প্রচুর শক্তি বহন করে। অপর্যাপ্ত তথ্যের কারণে এই জেটগুলি তৈরির প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভালভাবে বোঝা যায় না [[১2২]

সেই হিসাবে, মহাবিশ্বের অনেক বেশি শক্তিশালী ঘটনাটি কৃষ্ণগহ্বরের উপর পদার্থের সংশ্লেষকে দায়ী করা হয়েছে। বিশেষত, সক্রিয় গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস এবং কোয়ারসকে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের এক্রেশন ডিস্ক বলে মনে করা হয়। [১3৩] একইভাবে, এক্স-রে বাইনারিগুলি সাধারণত বাইনারি স্টার সিস্টেম হিসাবে স্বীকৃত হয় যেখানে দুটি তারার মধ্যে একটি তার সংগীতের কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি সংক্ষিপ্ত বস্তু object [১3৩] এটিও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে কিছু আল্ট্রালুমিনাস এক্স-রে উত্স অন্তর্বর্তী-ভর ব্ল্যাকহোলগুলির সংশ্লেষ ডিস্ক হতে পারে।

নভেম্বরে ২০১১ সালে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের চারপাশে কাসার অ্যাক্রিশন ডিস্কের সরাসরি প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের খবর পাওয়া গেছে |

আরো দেখুনসম্পাদনা

টীকাসম্পাদনা


তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Oldham, L. J.; Auger, M. W. (মার্চ ২০১৬)। "Galaxy structure from multiple tracers - II. M87 from parsec to megaparsec scales"। Monthly Notices of the Royal Astronomical Society457 (1): 421–439। arXiv:1601.01323 doi:10.1093/mnras/stv2982বিবকোড:2016MNRAS.457..421O 
  2. Overbye, Dennis (১০ এপ্রিল ২০১৯)। "Black Hole Picture Revealed for the First Time - Astronomers at last have captured an image of the darkest entities in the cosmos - Comments"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৯ 
  3. The Event Horizon Telescope Collaboration (১০ এপ্রিল ২০১৯)। "First M87 Event Horizon Telescope Results. I. The Shadow of the Supermassive Black Hole"The Astrophysical Journal Letters87 (1)। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৯ 
  4. Wald 1984, পৃ. 299–300
  5. Wald, R. M. (১৯৯৭)। "Gravitational Collapse and Cosmic Censorship"। arXiv:gr-qc/9710068  [gr-qc]। 
  6. Overbye, Dennis (৮ জুন ২০১৫)। "Black Hole Hunters"NASA। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৫ 
  7. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; PRL-20160211 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  8. Ethan Siegel (4 December 2018) Five Surprising Truths About Black Holes From LIGO
  9. "Detection of gravitational waves"LIGO। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১৮ 

আরো পড়ুনসম্পাদনা

জনপ্রিয় পাঠসম্পাদনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই এবং মনোগ্রাফসম্পাদনা

পর্যালোচনা কাগজপত্রসম্পাদনা

  • Gallo, Elena; Marolf, Donald (২০০৯)। "Resource Letter BH-2: Black Holes"। American Journal of Physics77 (4): 294। arXiv:0806.2316 doi:10.1119/1.3056569বিবকোড:2009AmJPh..77..294G 
  • Hughes, Scott A. (২০০৫)। "Trust but verify: The case for astrophysical black holes"। arXiv:hep-ph/0511217   Lecture notes from 2005 SLAC Summer Institute.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

ভিডিও

টেমপ্লেট:Black holes টেমপ্লেট:Relativity টেমপ্লেট:String theory topics