প্রধান মেনু খুলুন

সৈয়দ আলী হোসেনী খামেনেয়ী (ফার্সি: سید علی حسینی خامنه‌ای‎‎; জন্ম: ১৭ জুলাই ১৯৩৯)[১] হলেন ইরানের বর্তমান (২য়) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা[২] এবং ইরানের ৮ কোটি শিয়া মুসলমানের আধ্যাত্মিক নেতা।[২][৩] ১৩ অক্টোবর ১৯৮১ থেকে ৩ আগস্ট ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি ইরানের ৩য় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফোর্বস সাময়িকী ২০১২ সালে তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ২১ জনের মধ্যে স্থান দেয়। [৪]

গ্রান্ড আয়াতুল্লাহ
সৈয়দ আলী হোসেনী খামেনেয়ী
سید علی حسینی خامنه‌ای
Ilham Aliyev meet Ali Khamenei - March 5, 2017 (4) (Cropped).jpg
আয়তুল্লাহ আলী খামেনেয়ী ২০১০ সালে।
ইরানের ২য় (বর্তমান) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা
দায়িত্বপ্রাপ্ত
অধিকৃত অফিস
৪ জুন ১৯৮৯
রাষ্ট্রপতিআকবর হাশেমি রাফসানজানি
মোহাম্মাদ খাতামি
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ
হাসান রুহানি
প্রধানমন্ত্রীমির হুসেইন মুসাভি
পূর্বসূরীরুহুল্লাহ খোমেনী
ইরানের ৩য় রাষ্ট্রপতি
কাজের মেয়াদ
১৩ অক্টোবর ১৯৮১ – ৩ আগস্ট ১৯৮৯
প্রধানমন্ত্রীমোহাম্মাদ রেজা মাহাভি কানি
মির হুসেইন মুসাভি
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতারুহুল্লাহ খোমেনী
পূর্বসূরীমোহাম্মাদ আলি রাজাজি
উত্তরসূরীআকবর হাশেমি রাফসানজানি
ইসলামিক রিপাবলিক পার্টির প্রধান
কাজের মেয়াদ
১৫ জুলাই ১৯৮১ – ১৫ মে ১৯৮৭
ডেপুটিমির হুসেইন মুসাভি
পূর্বসূরীমোহাম্মদ জাভেদ বাহোনার
উত্তরসূরীদল ভেঙে দেয়া হয়
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মসৈয়দ আলী হোসেনী খামেনেয়ী
(1939-07-17) ১৭ জুলাই ১৯৩৯ (বয়স ৭৯)
মাশহাদ, ইরান
রাজনৈতিক দলজামেয়ি রোওহানিয়েত মবারেয (১৯৭৭–বর্তমান)
অন্যান্য রাজনৈতিক দলইসলামিক রিপাবলিক পার্টি (১৯৭৯১৯৮৭)
সন্তানমোজতাবা
মোস্তফা
মাসুদ
মেয়সাম
হোদা
বুসরা
ধর্মশিয়া ইসলাম
স্বাক্ষর
ওয়েবসাইটব্যক্তিগত ওয়েবসাইট

আলী খামেনেয়ী ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ায় তিনি দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি।[৫][৬] খামেনেয়ী ১৯৮১-এর জুন মাসে একটি হত্যাচেষ্টার শিকার হন, সেখান থেকে তিনি বেঁচে গেলেও ডান হাতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।[৭][৮] খামেনেয়ী পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে ফতোয়া জারি করে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করা ইসলামী বিধান অনুযায়ী নিষিদ্ধ।[৯]

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষাসম্পাদনা

আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেয়ী ১৯৩৯ সালের ১৫ জুলাই মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। খামেনেয়ী ‘সৈয়দ’ খেতাব ধারণ করেন যা সরাসরি বংশানুক্রমে সুন্নি ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও শিয়া ইসলামের প্রথম ইমাম আলী ইবনে আবু তালিব হতে পাওয়া। খামেনেয়ীর পূর্বপুরুষদের বেশিরভাগই বর্তমান ইরানের তাফরেজ থেকে আগত এবং তাঁরা দেশান্তরিত হয়ে তাবরিজ শহরে বসবাস শুরু করেন।[১০] তাঁর পিতার নাম সৈয়দ জওয়াদ খামেনেয়ী এবং মাতার নাম খাদিজা মিরদামাদী।[১][১১][১২] মা-বাবার আট সন্তানের মধ্যে খামেনেয়ী দ্বিতীয়, এর মধ্যে তার দুই ভাই-ই ধর্মগুরু। তাঁর ছোট ভাই হাদী খামেনেয়ী একটি ইরানি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও ধর্মগুরু। [১৩]

প্রথম বয়সে খামেনেয়ী তাঁর গুরুগণ, যেমন: শেখ হাশেম কজভিনি এবং আয়াতুল্লাহ মিলানির কাছে ধর্মশিক্ষায় দীক্ষিত হন। ১৯৫৭ সালে মাশহাদ ত্যাগ করে তিনি বর্তমান ইরাকের শহর নাজাফের উদ্দেশে রওনা হন।[১৪] কিছু দিন নাজাফে থাকার পর তিনি কোম শহরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ইসলামি সামরিক একাডেমিতে ধর্মতত্ত্ব শেখেন। এই সময় তাঁর সতীর্থ ছিলেন রুহুল্লাহ খোমেনী। এরপরে তিনি ১৯৬৩ সালে ইসলামী কার্যকলাপের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং এর জন্য তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। আলী খামেনেয়ী সোভিয়েত ইউনিয়নের পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অফ রাশিয়া থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন,[১৫][১৬][১৭] যদিও এই বিষয়ে তাঁর ওয়েবসাইটে কোনও কিছুর উল্লেখ নেই।[১৮]

ভাষাগত দক্ষতা ও সাহিত্যানুরাগসম্পাদনা

অন্যান্য রাষ্ট্রনায়কদের তুলনায় খামেনেয়ীর ভাষাগত দক্ষতা ও সাহিত্য অনুরাগ একটু বেশিই বলা চলে। খামেনেয়ী উত্তম আরবি বলতে পারেন[১৯] এবং তাঁর মাতৃভাষা হচ্ছে ফার্সি। তিনি ফার্সিতে একধিক আরবি বই অনুবাদ করেছেন, এর মধ্যে বিখ্যাত মিশরীয় ইসলামী চিন্তাবিদ সৈয়দ কুতুবের কাজও রয়েছে। তিনি তাঁর পিতার মাতৃভাষা আজারবাইজানিতেও মোটামুটি শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারেন [২০] এবং কিছুটা ইংরেজি বোঝেন।[২১]

রাজনৈতিক জীবনসম্পাদনা

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর, তিনি পর পর সংস্কার কমিশনের সদস্য, উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সংস্কার রক্ষী বাহিনীর সেনাপ্রধান, তেহরানের ইসলামী ধর্মীয় নেতা, ইসলামী সংসদের স্পিকার ও সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা কমিশনে খোমেনীর প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন।

সৈয়দ আলী খামেনেয়ী ইরানী বিপ্লব চলাকালীন সময়ে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা এবং বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি খোমেনীর নেতৃত্বে রাজা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযানে অংশ নেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি বহুবার গ্রেফতার হন। ১৯৭৮ সালে তিনি বিদেশে আশ্রয় নেন।

১৯৮১ সালের জুন মাসে খুব কাছ থেকে হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা থেকে পালাতে সক্ষম হন, যখন তিনি সংবাদ সম্মেলন করছিলেন কাছাকাছি থাকা একটি টেপরেকর্ডার বোমা তার পাশে বিস্ফোরিত হয়। এর জন্য তার মূল্য দিতে হয়। তিনি তার ডান হাতের কার্যক্ষমতা সারাজীবনের জন্য হারান।[২২]

প্রার্থী ভোট %
সৈয়দ আলী হোসেনী খামেনেয়ী ১,৬০,০৩,২৪২ ৯৫.০২%
আলী আকবর পারভারেস ৩,৪২,৬০০ ২.০৩%
হাসান গৌফিরাদ ৭৮,৫৫৯ ০.৪৭%
রেজা জাভেরি ৬২,১৩৩ ০.৩৭%
ফাঁকা অথবা অকার্যকর ভোট ৩,৫৬,২৬৬ ২.১২%
মোট ১,৬৮,৪১,৮০০

১৯৮১ সালে মোহাম্মাদ আলি রাজাজি হত্যার পর, ওই বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ইরানের ৩য় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আলী খামেনেয়ী ব্যাপক ব্যবধানে ধর্মীয় নেতা হিসেবে জয়লাভ করেন। এই নির্বাচনে ইরানের ৯৫ শতাংশের উপরে অর্থাৎ ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তাঁকে ভোট দেয়। রুহুল্লাহ খোমেনী চেয়েছিলেন ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রপতি পদ থেকে আলাদা রাখতে, পরে অবশ্য তাঁকে মত বদলাতে হয়।

খামেনেয়ী তাঁর দেশ ইরানকে ১৯৮০র দশকে সংঘটিত ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হন। এই যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের ইরাক বর্তমান ও পূর্বের পরাশক্তিগুলোর সমর্থন পেলেও কৌশলগত দিক থেকে তারা ইরানের কাছে পরাজয় বরণ করে।

আলি খামেনেয়ী রুহুল্লাহ খোমেনীর উত্তরসূরি হিসেবে খোমেনীর ইন্তেকালের পর ১৯৮৯ সালের ৪ জুন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরমাণু ক্ষমতাসম্পাদনা

খামেনেই পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে ফতোয়া জারি করে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার ইসলাম মোতাবেক নিষিদ্ধ। ইরানের পরমাণু কার্যক্রম বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিতর্কের অংশ। ইসরায়েল ও ইসরায়েলরপন্থী কিছু পশ্চিমা দেশের অভিযোগ যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে অন্যদিকে ইরানের দাবি তাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু পশ্চিমা দেশ তাদের দাবি এখন পর্যন্ত পুরো প্রমাণ করতে সক্ষম না হওয়াতেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

দেশীয় নীতিসম্পাদনা

অনেকের মতে খামেনেয়ী রক্ষণশীল ইরানের প্রতিষ্ঠাতা। খামেনেয়ী দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, বিচার বিভাগ, জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনের প্রধান।

খামেনেয়ী পারমাণবিক ব্যবহার সম্পর্কে বলেন যে, তিনি বেসামরিক কাজে পারমাণবিক পদক্ষেপে বিশ্বাসী, কারণ তেল আর গ্যাস চিরকাল মজুদে থাকতে পারে না। [২৩][২৪]

৩০ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে সৈয়দ আলি খামেনেয়ী আহমাদিনেজাদের অর্থনৈতিক নীতি সমর্থন দিয়ে বলেন, "পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক “সঙ্কট” ইরনের চেয়ে বেশি ঘনীভূত, যুক্তরাষ্ট্রইউরোপ প্রতিনিয়ত মুদ্রাস্ফীতিসহ আরও অনেক বাণিজ্যিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে।"[২৫][২৬][২৭][২৮]

বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিসম্পাদনা

খামেনেয়ী ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির অন্যতম সহায়কারী ও সমর্থক। তিনি অন্যতম প্রথম ধর্মীয় নেতা যারা বিভিন্ন জৈবিক গবেষণা অণুমোদন ও সমর্থন দেন।[২৯][৩০]২০০৪ সালে খামেনেয়ী বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন সেই দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে।

মানবাধিকারসম্পাদনা

মানবাধিকারকে ইসলামী শিক্ষার মূল বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন আলী খামেনেয়ী। তিনি বলেন ইসলামী মানবাধিকার বেঁচে থাকার অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার এবং ন্যায়বিচার পাবার অধিকার দেয়। তিনি পশ্চিমাদের কঠোর সমলোচনা করেন যারা ইসলামী গণতন্ত্রকে জনগণের উপর অর্থনৈতিক অত্যাচার আর স্বৈরশাসন হিসেবে আখ্যা দেয়।[৩১]

পররাষ্ট্র নীতিসম্পাদনা

ইরানের পররাষ্ট্র নীতি সাধারণত খামেনেয়ীর সরাসরি সম্পৃক্ততা বা অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈদেশিক নীতিসম্পাদনা

 
খামেনেয়ী এবং রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন

২০০৬ সালের জুন মাসে সৈয়দ আলী খামেনেয়ী বলেন, "ইরান পারস্য উপসাগর থেকে শক্তি চালানে ব্যাহত করবে (বিশ্বের দৈনিক ২০ শতাংশের অধিক জ্বালানী তেলের সরবরাহ আসে ইরানী উপকূলের কাছাঁকাছি অবস্থিত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি থেকে,[৩২]) এর ফলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্মুখহীন হতে পারে, তিনি অনড় থেকে বলেন তেহরান তার পরমাণু জ্বালানী তৈরির অধিকার থেকে সরে আসবে না।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী (রমজান মাসের প্রথম শুক্রবারের জুম্মার নামাজের সময়) ইরাকে হামলার জন্য জর্জ বুশ এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের “দায়ী” উল্লেখ করে বলেন, "আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে বিচারের চেষ্টার করা হবে।"[৩৩] তিনি আরও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাক হামলার পর “অন্ধ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের” জন্য দায়ী করেন।[৩৪] তিনি ইরাকের নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলেন।

২০০৯ সালের ২১ মার্চ মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা দুই চিরায়ত শত্রু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক প্রবৃত্তি শুরু করার প্রস্তাব পাশ করেন। খামেনেয়ী এ সম্পর্কে বলেন যে আমেরিকার কথা পরিবর্তনই শুধু যথেষ্ট নয় এবং আরও বলেন, “আমরা দেখব এবং বিচার করব (নতুন মার্কিন প্রশাসনকে).........তারা পরিবর্তন করলে আমরাও আমদের মনোভাব পরিবর্তন করব।”[৩৫]

২০১১ সালের জুন মাসে খামেনেয়ী মার্কিন সরকারকে সন্ত্রাসবাদী বলে অভিযুক্ত করেন এবং সন্ত্রাসবাদের আমেরিকান সংজ্ঞা বাতিল করে দেন। তিনি উদ্ধৃত করে বলেন, “মার্কিন এবং ইউরোপীয় সরকারগুলো স্বাধীন রাষ্ট্র ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইরত ফিলিস্তিনিদের সন্ত্রাসবাদী বলে অভিহিত করে।” [৩৬]

জুন ২০১২-তে তিনি আবারও বলেন “ঘৃণা করি পশ্চিমাদের।”[৩৭]

৯/১১ হামলার নিন্দাসম্পাদনা

সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১ এর হামলার পর খামেনেয়ী এই কাজের সঙ্গে জড়িতদের নিন্দা করেন এবং সারা পৃথিবীর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিন্দা জানান। কিন্তু এই ঘটনার জন্য আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে জোরালোভাবে সতর্ক করেন।[৩৮] তিনি এই বিষয়ে উদ্ধৃত করে বলেন, “গণহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক কাজ যেখানেই করা হোক না কেন বা যার দ্বারাই অপরাধ সংঘটিত হোক না কেন এবং যারাই এর শিকার হোক না কেন, সারা পৃথিবী জুড়েই এটি নিন্দনীয়।” [৩৮]

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে অবস্থানসম্পাদনা

২০০০ সালের ১৫-ই ডিসেম্বর সৈয়দ আলী হোসেনী খামেনেয়ী বলেন, “ক্ষতিকর টিউমার রাষ্ট্রকে (ইসরায়েল) এই অঞ্চল থেকে অপসারণ করা উচিত।”[৩৯] ওই অনুষ্ঠানেই তিনি একটি প্রস্তাব পেশ করে বলেন “ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ফিরে আসা উচিত এবং মুসলমান, খৃষ্টান ও ইহুদীরা (অভিবাসী ইহুদী ব্যতীত) ঠিক করে তাদের নিজেদের জন্য একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।” "[৪০]

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

thumbnail|সামরিক জীবনের সময়ে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ব্যক্তিগত জীবনে আলি খামেনেয়ী ছয় সন্তানের পিতা।[৪১] তাঁর এক পুত্র মুজতবা বিয়ে করেন গোলাম আলী হাদ্দাদ আদেলের কন্যাকে।[৪২] খামেনেয়ী বলেছেন তিনি মাঝেমাঝে আমেরিকান সাময়িকী যেমন: টাইমনিউজউইক পড়ে থাকেন।[৪৩]

চিত্রসম্ভারসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "The Office of the Leader, Sayyid Ali Khamenei" (ইংরেজি ভাষায়)। Leader। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  2. "Iran" (ইংরেজি ভাষায়)। State। ২৩ জুলাই ২০১০। ১৯ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১০  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  3. "Profile: Ayatollah Seyed Ali Khamenei"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জুন ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  4. "The World's Most Powerful People"ফোর্বস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  5. "Profile: Iran's 'unremarkable' supreme leader Khamenei"বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ আগস্ট ২০১১  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  6. Ganji, Akbar, "The Latter-Day Sultan: Power and Politics in Iran", Foreign Affairs, November December 2008
  7. Khamenei has kept a low profile[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] Agence France Presse,২০ জুন ২০০৯. Retrieved 24 September 2009.[অকার্যকর সংযোগ]
  8. Maziar Bahari (৬ এপ্রিল ২০০৭)। "How Khamenei Keeps Control"Newsweek (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ অক্টোবর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১০  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  9. "An Iran option the US prefers to ignore"Asia Times (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ মার্চ ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ 2009-17-28  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  10. http://www.shia-online.ir/article.asp?id=17262&cat=1 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে (ফার্সি ভাষায়)
  11. Akbar Hashemi Rafsanjani। "پیام تسلیت هاشمی به آیت‌الله خامنه‌ای/ اعلام برنامه وزرای کشاورزی و نیرو به هاشمی" (ফার্সি ভাষায়)। ২০ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  12. Eternal Iran, in 1721. Patrick Clawson, 2005, আইএসবিএন ১-৪০৩৯-৬২৭৬-৬, p.5.
  13. Robin Wright, The Last Great Revolution: Turmoil and Transformation in Iran, Alfred A. Knopf, 2000 (ইংরেজি ভাষায়)
  14. "Historic Personalities of Iran: Seyed Ali Khamenei" (ইংরেজি ভাষায়)। Iran Chamber। ১১ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯ 
  15. http://www.youtube.com/watch?v=bN_oEJEp9Ro&feature=player_embedded
  16. Garver, John W (২০০৬)। China And Iran: Ancient Partners in a Post-Imperial World (ইংরেজি ভাষায়)। University of Washington Press। পৃষ্ঠা 100। আইএসবিএন 978-0-295-98631-9। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৩ 
  17. Berman, Ilan (২০০৫)। Tehran Rising: Iran's Challenge to the United States। Maryland: Rowman & Littlefield। পৃষ্ঠা 12। আইএসবিএন 978-0-7425-4904-3 
  18. |http://english.khamenei.ir//index.php?option=com_content&task=view&id=57&Itemid=20 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে
  19. "Khamenei sermon in Arabic"। Irannegah.com। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯ 
  20. "Khamenei speaking Azeri about poetry" (ইংরেজি ভাষায়)। Irannegah। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯ 
  21. Khamenei, Ali. "The History of Palestine and Its Occupation," Tehran Friday prayer sermons, 18 December 1999. Published 4 March 2008, Khamenei.ir – the Supreme Leader Seyed Ali Khamenei's official website. Retrieved 6 April 2009 Citation in the sixth paragraph from his speech: "In some American magazines and "Newsweek" – which I sometimes read" <http://english.khamenei.ir//index.php?option=com_content&task=view&id=702&Itemid=13 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ মে ২০১১ তারিখে (ইংরেজি ভাষায়)>
  22. "Meet 'The Decider' of Tehran. It's Not the Hothead You Expect", Nasr, Vali, commentary article, Outlook section, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, 9 December 2007, page B01, Retrieved 9 December 2007 (ইংরেজি ভাষায়)
  23. "Khamenei: Iran's Nuclear Program Important to Nation's Future"। Voice of America। ২০০৮-০৪-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  24. "Iran says will not halt uranium enrichment | International" (ইংরেজি ভাষায়)। Reuters। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। ১৯ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  25. "Iran leader defends government handling of economy | Reuters"। Reuters। ৩০ এপ্রিল ২০০৮। ২১ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  26. "Middle East Online" (ইংরেজি ভাষায়)। Middle East Online। ৩০ এপ্রিল ২০০৮। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  27. "Iranians turn threats into opportunities: Leader"তেহরান টাইমস১ মে ২০০৮। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  28. "Irna" (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  29. Barnard, Anne (২২ আগস্ট ২০০৬)। "Iran looks to science as source of pride – The Boston Globe"Boston Globe। ২৬ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  30. "Science over ethics? – Channel 4 News" (ইংরেজি ভাষায়)। Channel 4। ৮ মার্চ]] ২০০৬। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  31. Human Rights in Islam, Islamic Republic of Iran Broadcasting, 31 January 1997. Retrieved 8 January 2007 (ইংরেজি ভাষায়).
  32. "Iran Will Close Strait of Hormuz If Attacked, Fars Reports" (ইংরেজি ভাষায়)। LiveLeak Liveleak.com। ৭ জুলাই ২০০৮। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  33. Karimi, Nasser (১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭)। "Iran leader: Bush will be tried"দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  34. "Imam Khamenei: US trying to save Israel" (ইংরেজি ভাষায়)। Liveleak.com। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  35. "Iran sees no change in U.S. policy: Khamenei | International" (ইংরেজি ভাষায়)। Reuters। ২১ মার্চ ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০০৯  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  36. http://winnipeg.ctv.ca/servlet/an/local/CTVNews/20110625/iran-leader-khamenei-accuses-us-terrorism-110626/20110625/?hub=WinnipegHome (ইংরেজি ভাষায়)
  37. "Khamenei threatens Israel with 'lightning' revenge" 4 Jun 2012, South Africa Mail&Guardian (ইংরেজি ভাষায়)
  38. BBC News, Middle East, Iran condemns attacks on US, 17 September 2001 (ইংরেজি ভাষায়)
  39. Richter, Elihu D. (২০০৯-এর গ্রীষ্ম)। "Tehran's Genocidal Incitement against Israel"The Middle East Quarterly (ইংরেজি ভাষায়)। XVI (3): 49–51। সংগ্রহের তারিখ 14 August 2013  অজানা প্যারামিটার |coauthors= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  40. "Iran leader urges destruction of 'cancerous' Israel"সিএনএন (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০০ সালের ১৫-ই ডিসেম্বর। ৫ এপ্রিল ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০০৭  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  41. "Ayatollah Khamenei" (ইংরেজি ভাষায়)। NNDB। ৪ জুন ১৯৮৯। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  42. Mehrzad Boroujerdi। "Iran's Political Elite"United States Institute of Peace (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৩  অজানা প্যারামিটার |coauthors= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  43. Khamenei, Ali. "The History of Palestine and Its Occupation," Tehran Friday prayer sermons,১৮ ডিসেম্বর ১৯৯৯. প্রকাশিত ৪ মার্চ ২০০৮, Khamenei.ir. সংগৃহীত হয়েছে: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩ (ইংরেজি ভাষায়) <http://english.khamenei.ir//index.php?option=com_content&task=view&id=702&Itemid=13 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ মে ২০১১ তারিখে>

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

দাপ্তরিক
মিডিয়া
ভিডিও