মুরলী কার্তিক

ভারতীয় ক্রিকেটার
(Murali Kartik থেকে পুনর্নির্দেশিত)

মুরলী কার্তিক (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; তামিল: முரளி கார்த்திக்; জন্ম: ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬) ভারতের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ২০০০ থেকে ২০০৭ সালে ভারত দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মূলতঃ ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতি অর্থোডক্স বোলার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বলকে আলতোভাবে ফেলা এবং স্পিন ও বাউন্সে পারদর্শী তিনি। তবে, অনিল কুম্বলেহরভজন সিংয়ের ন্যায় সেরা বোলারদের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সেরা বছরগুলোয় অনুপস্থিত ছিলেন।[১] এছাড়াও, তিনি বামহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৯টি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে কিছুটা সফলতার স্বাক্ষর রাখলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধারার পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি।[১]

মুরলী কার্তিক
Murali kartik bowling.jpg
২০১০ সালে সমারসেটের সদস্য থাকাকালে কার্তিকের বোলিংচিত্র
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম (1976-09-11) ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬ (বয়স ৪৩)
মাদ্রাজ, তামিলনাড়ু, ভারত
উচ্চতা৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২২৬)
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট২০ নভেম্বর ২০০৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৪৪)
১৬ মার্চ ২০০২ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ ওডিআই১৮ নভেম্বর ২০০৭ বনাম পাকিস্তান
একমাত্র টি২০আই
(ক্যাপ ১৯)
২০ অক্টোবর ২০০৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৬-২০১৪রেলওয়েজ
২০০৫-২০০৬ল্যাঙ্কাশায়ার
২০০৭-২০০৯মিডলসেক্স
২০০৮-২০১০কলকাতা নাইট রাইডার্স
২০১০-২০১১সমারসেট
২০১১-২০১২পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া
২০১২সারে
২০১৩রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (দল নং ২২২)
২০১৪কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩৭ ২০৩ ১৯৪
রানের সংখ্যা ৮৮ ১২৬ ৪,৪২৩ ৭৭৩
ব্যাটিং গড় ৯.৭৭ ১৪.০০ ২০.১৯ ১১.৮৯
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ০/২১ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৪৩ ৩২* ৯৬ ৪৪
বল করেছে ১,৯৩২ ১,৯০৭ ৪২,৫৪৭ ৯,৬১৯
উইকেট ২৪ ৩৭ ৬৪৪ ২৪৯
বোলিং গড় ৩৪.১৬ ৪৩.৫৬ ২৬.৭০ ২৮.২৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩৬
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৪/৪৪ ৬/২৭ ৯/৭০ ৬/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ১০/– ১৪৩/– ৬৬/–
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

কনিষ্ঠ দল বাছাই পদ্ধতিতে দিল্লি দলের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। এরপর তিনি রেলওয়ের বয়সভিত্তিক দলে স্থানান্তরিত হন। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। ঘরোয়া পর্যায়ে কয়েকটি সফলতম মৌসুম অতিবাহিত করার পর ২০০০ সালের শুরুরদিকে কুম্বলের বোলিং সহযোগী হিসেবে টেস্ট অভিষেক ঘটে। তবে, তিনি শৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় নিপতিত হন ও জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি থেকে বহিষ্কৃত হন। অন্যদিকে, একই বছর জাতীয় দলের নবনিযুক্ত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী তার উপর আস্থাহীন হলে দলের বাইরে রাখা হয়। অফ স্পিনার হরভজনকে ২০০১ সালে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে তারা ভূমিকা রাখেন। এরফলে অফ স্পিনারের অন্তর্ভূক্তি ও কার্তিককে বিতাড়িত হতে হয়।

পরবর্তী চার বছর কার্তিক জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে ছিলেন। ২০০২ সালে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে তার। স্বল্পকাল দলে অবস্থান করার পর দলের বাইরে চলে যান ও ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন মূলতঃ নিম্নমানের খেলা প্রদর্শনের কারণে। ২০০৩ সালের শেষদিকে পুণরায় তাকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। সীমিত ওভারের খেলায় অংশ নেন ও প্রায় ছয় মাস ভারত দলের অর্ধেক খেলায় যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি হরভজন গুরুতর আঘাত পেলে একটি টেস্ট খেলার সুযোগ পান।

২০০৪ সালের শেষদিকে কার্তিক ভারতের পক্ষে তিন টেস্টে অংশ নেন। এ পর্যায়ে দলে তিনজন স্পিনারের উপস্থিতি ছিল। মুম্বইয়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। তবে, দুই খেলার পর পুণরায় বাদ পড়েন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল পরীক্ষামূলকভাবে একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড় যুক্ত করার নিয়ম প্রবর্তন করলে জাতীয় দলে একটি স্থান ফাঁকা থাকায় ২০০৫ সালের শেষদিকে কয়েকমাসের জন্যে কার্তিক ওডিআই দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। কিন্তু, কার্তিক দলের ঐ অবস্থান পূরণে সক্ষমতা দেখাতে পারেননি ও পরবর্তীতে অবশ্য এ নিয়ম পরিত্যাগ করা হয়েছিল। ২০০৯ সালের শেষদিকে কার্তিক আবারও ওডিআই দলে ফিরে আসেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬/২৭ নিয়ে একটি জয় এনে দেন। তবে, এর পরপরই আবারও দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে ও আবারও দলের বাইরে যেতে বাধ্য হন। এরপর থেকে তাকে ভারত দলের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটে কার্তিক ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেন ও বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার, মিডলসেক্স, সমারসেট ও সারে ক্লাবে খেলেছেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Rajesh, S। "Murali Kartik"Cricinfo। ৯ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা