লরি মিলার

নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার
(Lawrie Miller থেকে পুনর্নির্দেশিত)

লরেন্স সমারভিল মার্টিন মিলার (ইংরেজি: Lawrie Miller; জন্ম: ৩১ মার্চ, ১৯২৩ - মৃত্যু: ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৬) তারানাকির নিউ প্লাইমাউথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

লরি মিলার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামলরেন্স সমারভিল মার্টিন মিলার
জন্ম(১৯২৩-০৩-৩১)৩১ মার্চ ১৯২৩
নিউ প্লাইমাউথ, তারানাকি, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৬(1996-12-17) (বয়স ৭৩)
ওয়েলিংটন, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি স্লো-মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬০)
৬ মার্চ ১৯৫৩ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট২১ আগস্ট ১৯৫৮ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৩ ৮২
রানের সংখ্যা ৩৪৬ ৪৭৭৭
ব্যাটিং গড় ১৩.৮৩ ৩৭.৬১
১০০/৫০ ০/০ ৫/৩৪
সর্বোচ্চ রান ৪৭ ১৪৪
বল করেছে ১৪৪
উইকেট
বোলিং গড় ২৫.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ৩৩/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৫ আগস্ট ২০২০

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটন ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন লরি মিলার

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত লরি মিলারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। প্রাদেশিক ক্রিকেটে প্রায়শঃই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমের এক পর্যায়ে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ৩৯৭ রানে অপরাজিত অবস্থায় ছিলেন। ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন।

দীর্ঘদেহী বামহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন লরি মিলার। বেশ বয়স নিয়ে ক্রিকেট খেলায় অগ্রসর হন। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে প্লাঙ্কেট শীল্ডে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এ পর্যায়ে তার বয়স ছিল ২৭ বছর। নিজস্ব প্রথম খেলায় মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৬ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এরপর, দ্বিতীয় খেলায় ৬৪ রান সংগ্রহ করে দলকে প্রথম জয়ের স্বাদ আস্বাদন করান।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে খেলেননি। তবে, ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও খেলতে নামেন। ওয়েলিংটনের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৩, ক্যান্টারবারির বিপক্ষে অপরাজিত ১২৮ ও অপরাজিত ৮৯, ওতাগোর বিপক্ষে ৭৭ ও ৩১ এবং অকল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৩ করেন। সব মিলিয়ে ১৫৭.০০ গড়ে ৪৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তেরোটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন লরি মিলার। ৬ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েলিংটনে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২১ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

বেশ সময় নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করেন। ৩০তম জন্মদিনের কিছুদিন পূর্বে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। দক্ষিণ আফ্রিকায় উপর্যুপরী চারবার শূন্য রানের সন্ধান পান। তবে, দুই রান তোলার মাধ্যমে শূন্য রান সংগ্রহের এ ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটাতে সক্ষম হন। তাসত্ত্বেও, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে নিজের গুরুত্বতা তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছিলেন।

১৯৫১-৫২ মৌসুমের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশ নেন তিনি। ১৭, ১৩ ও ৪৪ রান তুলেন। এরপর, ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাকে দলে রাখা হয়। তবে, সেখানে তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দেন। চার টেস্টে মাত্র ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, চারবার উপর্যুপরী শূন্য রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। জোহেন্সবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নিল অ্যাডককের বল আকস্মিকভাবে লাফিয়ে তার বুকে হৃদপিণ্ড বরাবর আঘাত হানে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মাটিতে পড়ে যান ও হাসপাতালে নীত হন। তবে, তাকে ঐ ইনিংসে আর খেলার সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে পঞ্চম উইকেট পতনের পর সোজা ক্রিজে নামেন এবং আরও অর্ধ-ঘণ্টা ব্যাটিং করেছিলেন তিনি।[১]

ঐ সফর শেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের খেলার ছন্দ ফিরে পান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪২ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলার পর ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে করেন ৬০ রান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখিসম্পাদনা

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নিউজিল্যান্ড গমনে আসে। অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৭ রান তুলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ২৫ রান। নিম্নমূখী রানের এ খেলায় অবশেষে নিউজিল্যান্ড দল ২৬ বছর চেষ্টার পর তাদের প্রথম টেস্ট জয়লাভে সক্ষমতা দেখায়।[২]

ঐ মৌসুমের শুরুতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনি তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৪ রান করেন। অকল্যান্ডের বিপক্ষে এ সংগ্রহের পর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের বিপক্ষে ১১৪ করেন। পূর্বেকার মৌসুম থেকে ওয়েলিংটনের পক্ষে খেলতে শুরু করেন তিনি।

অবসরসম্পাদনা

পাঁচ বছরের অধিক সময় নিয়ে ১৩ টেস্ট খেলেন। তবে, খুব কমই খেলায় প্রভাববিস্তার করতে পেরেছিলেন। কোন ইনিংসকেই পঞ্চাশের কোটা অতিক্রমে ব্যর্থ হন। ইনিংসপ্রতি ১৪ রানের কম গড়ে সংগ্রহ করতে পেরেছেন। ১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাকে নিউজিল্যান্ড দলে রাখা হয়। এ সফরে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ১১৪৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু, টেস্টগুলোয় ব্যর্থ হন। ফলশ্রুতিতে, এ সিরিজ শেষে তার টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, ইংল্যান্ডে তার প্রথম সফরটি ৩৫ বছর বয়সে ঘটে। আলতো বলকে কিভাবে আঘাত করতে হয়, তিনি তা জানেন। তবে, উচ্চমানসম্পন্ন বোলিংয়ের বিপক্ষে তিনি বেশ অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।[৩]

১৯৫০-এর দশকে প্লাঙ্কেট শীল্ডের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি ঘটিয়েছিলেন নিজেকে। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ৬৬.১০ গড়ে ৬৬১ রান এবং ওয়েলিংটনের পক্ষে ৪৭.৪৪ গড়ে ১৭০৮ রান তুলেন।[৪] ১৯৫২-৫৩, ১৯৫৬-৫৭ ও ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে রেডপাথ কাপ লাভ করেন।[৫]

ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি প্রথম-শ্রেণীর রাগবি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ৭৩ বছর বয়সে ওয়েলিংটন এলাকায় লরি মিলারের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Richard Boock, The Last Everyday Hero, Longacre, Auckland, 2012, pp. 19–20.
  2. "New Zealand vs West Indies 4th Test 1956 - Score Report"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৯ 
  3. Wisden 1959, p. 227.
  4. "First-class Batting and Fielding For Each Team by Lawrie Miller"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৮ 
  5. "Redpath Cup (Men's Batting)"New Zealand Cricket Museum। ২২ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা