বার্নি রজার্স

জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটার
(Barney Rogers থেকে পুনর্নির্দেশিত)

বার্নি গাই রজার্স (ইংরেজি: Barney Rogers; জন্ম: ২০ আগস্ট, ১৯৮২) হারারে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক জিম্বাবুয়ীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের শুরুরদিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

বার্নি রজার্স
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামবার্নি গাই রজার্স
জন্ম২০ আগস্ট, ১৯৮২
হারারে, জিম্বাবুয়ে
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬৯)
৬ জানুয়ারি ২০০৫ বনাম বাংলাদেশ
শেষ টেস্ট১১ মার্চ ২০০৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৭১)
২৩ নভেম্বর ২০০২ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই২ মার্চ ২০০৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৫ ৩৬ ৪৭
রানের সংখ্যা ৯০ ৪৭৮ ১,৯৮০ ১,০৯৭
ব্যাটিং গড় ১১.২৫ ৩১.৮৬ ৩৩.০০ ২৬.৭৫
১০০/৫০ ০/০ ০/৫ ৩/১২ ০/৮
সর্বোচ্চ রান ২৯ ৮৪ ১৪১ ৮৪*
বল করেছে ১৮ ৩২৪ ১,৯২৪ ৮৫৯
উইকেট - ৩৩ ২১
বোলিং গড় - ৫৩.৫০ ৩৬.৯৩ ৩৯.১৪
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট - - - -
সেরা বোলিং - ২/৫৫ ৪/৩৪ ৩/৩৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ৭/- ২৩/- ১৫/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ আগস্ট ২০২০

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন বার্নি রজার্স

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বার্নি রজার্সের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। খাঁটিমানের কৌশল অবলম্বনপূর্বক ব্যাটিংকর্মে অগ্রসর হতেন। প্রয়োজনে আক্রমণধর্মী খেলা উপহারে সচেষ্ট থাকতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে অফ স্পিন বোলিং করতেন।

উইকেটে স্বতঃস্ফূর্ত অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি পান ও কভার ড্রাইভ অঞ্চল দিয়ে খেলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৩ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন।[১] ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি হকি খেলায়ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে জিম্বাবুয়ে পক্ষে হকি খেলায় অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, অবসর সময়ে মৎস্য শিকার পছন্দ করেন তিনি।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে বার্নি রজার্সের জন্ম। ব্যাটিং কৌশলের উত্তরণে তার পিতা সর্বাপেক্ষা কৃতিত্বের দাবীদার। প্রকৃতপক্ষে সহজাত ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে জন্ম নেন। তবে, পিতার পরামর্শক্রমে বামহাতে ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত হন।[১][২] অ্যালিস্টেয়ার ক্যাম্পবেলের ন্যায় তিনিও বালক অবস্থাতেই ব্যাটিং কৌশল পরিবর্তন করেন। ব্রাইডন কান্ট্রি স্কুলে অধ্যয়ন করেন। এ পর্যায়ে শন আরভিনের সাথে তিনিও অল-রাউন্ডার হিসেবে প্রথম একাদশে খেলতেন। সেন্ট জোন্স কলেজে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপণ করেন। এখানে অবস্থানকালে প্রথম একাদশের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।

২০০১ সালে সিএফএক্স একাডেমিতে ভর্তি হন। প্রধান কোচ ডেভিড হটনকে বিমোহিত করেন। লোগান কাপে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নেন ও পাঁচ খেলার চারটিতেই অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।[১][২]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্ট ও পনেরোটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন বার্নি রজার্স। ৬ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে চট্টগ্রামে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

২০০৩ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাকে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য করা হয়। কিন্তু এ সফরে তিনি মোটেই সুবিধে করতে পারেন। টেস্ট সিরিজ শেষে দেশে ফিরে আসেন। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ডের পক্ষে খেলায় ছন্দ ফিরে পান। ঐ বছরের শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। তিনটি খেলায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন ও একটিতে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়ে দলকে বিজয়ী হতে ভূমিকা রাখেন।

বাংলাদেশ দলের বিপক্ষেও ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। তন্মধ্যে, অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে তৃতীয় ওডিআইয়ে জয়ের মাধ্যমে সিরিজ জয়ে দলকে নেতৃত্ব দেন। এরপর, হিথ স্ট্রিকের নেতৃত্বে বিদ্রোহী দলের সাথে যুক্ত হন ও ১৫জনের খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে জেডসিইউ তাকে বাদ দেয়। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেননি। গেভিন ইউইংচার্লস কভেন্ট্রি’র সাথে তিনিও বোর্ডের সাথে আর্থিক মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলেন।[২][৩][৪]

বাংলাদেশ গমনসম্পাদনা

বাংলাদেশ গমনে আসেন তিনি। তবে, টেস্ট সিরিজে তাকে দলে রাখা হয়নি। ওডিআই সিরিজে তিনি তার দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলাসহ তিন উইকেট নেন। তবে, ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও তার দল ২-৩ ব্যবধানে সিরিজে পরাভূত হয়। ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। দ্বিতীয় ওডিআইয়ে ৪৭ রান করেন।

২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পূর্বে চমৎকার রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তাকে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। এরপর আর তাকে দলে রাখা হয়নি ও কোন চুক্তিতে রাখা হয়নি। আবারও আর্থিক মতবিরোধের কারণে সেপ্টেম্বর, ২০০৫ সালে জেডসিইউ তার সাথে চুক্তিছিন্ন করে। এরফলে, তিনি নিজেকে অবসরগ্রহণকারী হিসেবে ঘোষণা করেন।[৫][৬][৭]

অবসরসম্পাদনা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ২০০৯ সালে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের পক্ষে তিনটি লিস্ট এ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।[৮][৯]

ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, সিএফএক্স একাডেমি বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় তিনি দূর্বোধ্য বোলার হিসেবে চিত্রিত হয়েছিলেন। জ্যাক ক্যালিসগ্যারি কার্স্টেনের পাশাপাশি শচীন তেন্ডুলকরকে আদর্শস্থানীয় ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব মনে করেন যারা দলের ইনিংসের ভিত এনে দিতে সচেষ্ট ছিলেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Ward J (2002) Barney Rogers - updated biography, ESPN, 2002-05-03. Retrieved 2020-07-29.
  2. Barney Rogers, CricInfo. Retrieved 2020-07-29.
  3. Rebel trio return to fold, BBC Sport, 2004-08-27. Retrieved 2020-07-29.
  4. Rogers returns to the fold, CricInfo, 2004-11-02. Retrieved 2020-07-29.
  5. Zimbabwe players still without contracts, CricInfo, 2005-10-04. Retrieved 2020-07-29.
  6. Door shut on four Zimbabwean cricketers' careers, CricInfo, 2005-09-04. Retrieved 2020-07-29.
  7. Williamson M (2005) Players lambast incompetent Zimbabwe board, CricInfo, 2005-09-11. Retrieved 2020-07-29.
  8. Lamb and Rogers set to play for Eagles, CricInfo, 2009-09-07. Retrieved 2020-07-29.
  9. Barney Rogers, CricketArchive. Retrieved 2020-07-29. (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা