হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ

১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'গোলাপী এখন ট্রেনে' চলচ্চিত্রের সঙ্গীত।

"হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ" বাংলা ভাষায় রচিত একটি চলচ্চিত্র সংগীত১৯৭৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র গোলাপী এখন ট্রেনে ছায়াছবির জনপ্রিয় গান গুলির একটি। আলাউদ্দিন আলীর সুরে সাবিনা ইয়াসমিন এই গানে কণ্ঠ দেন। ছায়াছবির নির্মাতা আমজাদ হোসেন এই গানের গীতিকার ছিলেন।[১][২] চলচ্চিত্রে এই গানের চিত্রায়ণে ঠোঁট মিলিয়েছেন প্রখ্যাত অভিনয় শিল্পী ববিতাআনোয়ারা জামাল। এই গানের চিত্রায়ণ চলমান ট্রেনে করা হয়েছিল। সম্প্রচার টেলিভিশনের যুগে প্রবেশের পর এই গান অনেক রিয়েলিটি শোতে পরিবেশিত হয়েছে।[৩] জনপ্রিয়তার স্বীকৃতি স্বরূপ এই গানের প্রথম কলি বাংলা ভাষায় প্রবচন হিসেবে বিভিন্ন বক্তৃতা ও প্রবন্ধে ব্যবহার হয়ে আসছে (উদাহরণ ১, উদাহরণ ২)। এই গানটি ছাড়াও ঐ চলচ্চিত্রের "আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার" গানটি শ্রোতাদের মধ্যে এখনো জনপ্রিয়।

"হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ"
গোলাপী এখন ট্রেনে ভাইনাল.jpeg
গ্রামোফোন
গোলাপী এখন ট্রেনে অ্যালবাম থেকে
সাবিনা ইয়াসমিন কর্তৃক সঙ্গীত
ভাষাবাংলা
মুক্তিপ্রাপ্ত৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮
বিন্যাসগ্রামোফোন
রেকর্ডকৃত১৯৭৮, ঢাকা, বাংলাদেশ
ধারাচলচ্চিত্র সংগীত
লেবেলসূর ঝংকার
গান লেখকআমজাদ হোসেন
সুরকারআলাউদ্দিন আলী
প্রযোজকআলাউদ্দিন আলী

পটভূমিসম্পাদনা

ছায়াছবির নির্মাতা ও পরিচালক আমজাদ হোসেন প্রথমত এই ছবির গীতিকার হিসেবে গাজী মাজহারুল আনোয়ার, তাহেরা হক, মনিরুজ্জামান মনির ও মোহাম্মদ রফিকুজ্জামানের গান নির্বাচন করেন[৪]। ছায়াছবির চিত্রায়ণ করতে রেলগাড়ি যোগে ছবির কলাকুশলীদের নিয়ে ঢাকা থেকে জামালপুর যাওয়ার সময় আমজাদ হোসেন নিজেই এই গান লিখেন এবং পরবর্তীতে গান রেকর্ডের পর এই চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেন।[৫]

মুক্তিসম্পাদনা

সঙ্গীতটি ১৯৭৮ সালে সঙ্গীত প্রকাশনী সুর ঝংকার হতে গ্রামোফোন ভাইনাল রেকর্ড(নং-এসজে ২২১১১৯) আকারে চলচ্চিত্রটির সঙ্গীত এ্যালবামের অংশ হিসেবে মুক্তি পায়।[৬]

পুরস্কারসম্পাদনা

গোলাপী এখন ট্রেনে চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৭৯ সালে আলাউদ্দিন আলী শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক[৭], এই গানের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিন শ্রেষ্ঠ গায়িকা[৮] এবং গানের গীতিকার আমজাদ হোসেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা -এর পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ গীতিকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।[৯]

বছর পুরস্কার মনোনীত বিভাগ ফলাফল
১৯৭৯ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আমজাদ হোসেন শ্রেষ্ঠ গীতিকার বিজয়ী
আলাউদ্দিন আলী শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিজয়ী
সাবিনা ইয়াসমিন শ্রেষ্ঠ নারী কন্ঠশিল্পী বিজয়ী

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "আমজাদ হোসেন: একজন অসাধারণ গীতিকার"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-২৬ 
  2. "আমজাদ হোসেন : মানবদরদি চলচ্চিত্রজন"NTV Online। ২০১৯-০২-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২১ 
  3. "হায়রে কপাল মন্দ | Hayre Kopal Mondo | Pranti | Channel i | IAV" 
  4. "গোলাপী এখন ট্রেনে (Golapi Ekhon Train e)"বাংলা মুভি ডেটাবেজ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-২৬ 
  5. "সেইসব উজ্জ্বল দিনের স্মৃতি মনে পড়ছে খুব: ববিতা"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০১৮-১১-২১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-২৬ 
  6. "Various - গোলাপী এখন ট্রেনে"Discogs (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-২৮ 
  7. "মনে দাগ কেটে আছে 'আছেন আমার মোক্তার' গানটি"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-০৪ 
  8. "সংগীতের অহংকার সাবিনা ইয়াসমিন"। ২৪ জানুয়ারি ২০১৪। ২০১৫-১২-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-২৬ 
  9. "জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তদের নামের তালিকা (১৯৭৫-২০১২)"fdc.gov.bd। ২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-২৬ 

উদাহরণ সূত্রসম্পাদনা

  1. প্রথম আলো পত্রিকায় ২০১৫-০৮-০১ তারিখে প্রকাশিত ফারুক ওয়াসিফের নিবন্ধ বিএনপি: ‘হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ’
  2. কালের কন্ঠ পত্রিকায় ২০১৭-০৪-২৬ তারিখে প্রকাশিত আবুল কাশেম ফজলুল হকের নিবন্ধ ‘চোখ থাকিতে অন্ধ হায়রে কপাল মন্দ’

বহিঃসংযোগসম্পাদনা