হায়া সোফিয়া

ইস্তানবুলে অবস্থিত মসজিদ
(হাজিয়া সোফিয়া থেকে পুনর্নির্দেশিত)

হায়া সোফিয়া (/ˈhɑːɡiə sˈfə/; from the প্রাচীন গ্রিকἉγία Σοφία; লাতিন: Sancta Sophia বা লাতিন: Sancta Sapientia), বা আয়াসোফ্যা মসজিদ (তুর্কী: Ayasofya Cami) হল ইস্তাম্বুলের একটি প্রাচীনতম উপাসনালয় যা গ্রিক অর্থোডক্স চার্চ পিতৃতান্ত্রিক ক্যাথেড্রাল, একটি রোমান ক্যাথলিক, একটি উসমানীয় মসজিদ এবং একটি জাদুঘর ছিল। রোমের সম্রাট জাস্টিনিয়ান I এর রাজত্বকালে ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে একে নির্মিত করা হয়, তখন থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ স্থান এবং একটি সম্পূর্ণরূপে প্রথম ঝুলন্ত গম্বুজ। এটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের[২] প্রতীক হিসাবে বিবেচিত করা হয় এবং "স্থাপত্যের ইতিহাস পরিবর্তন" বলা হয়।[৩]

হায়া সোফিয়া
Ayasofya (তুর্কি)
Ἁγία Σοφία (গ্রিক)
Sancta Sophia (লাতিন)
Hagia Sophia Mars 2013.jpg
হায়া সোফিয়া, ইস্তানবুল
হায়া সোফিয়া ইস্তাম্বুল ফাতিহ-এ অবস্থিত
হায়া সোফিয়া
ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলায় অবস্থান
অবস্থানইস্তানবুল, তুরস্ক
নকশাকারকমালিটাসের আইসিডোর
ট্রেলসের অ্যান্থিমিয়াস
ধরন
উপাদানঅ্যাশলার, ইট
দৈর্ঘ্য৮২ মি (২৬৯ ফু)
প্রস্থ৭৩ মি (২৪০ ফু)
উচ্চতা৫৫ মি (১৮০ ফু)
শুরুর তারিখ৩৬০
সম্পূর্ণতা তারিখ৫৩৭; ১৪৮৩ বছর আগে (537)
নিবেদিতঈশ্বরের প্রজ্ঞা, লোগোস তথ্যসূত্র, পবিত্র ট্রিনিটির দ্বিতীয় ব্যক্তি[১]
ওয়েবসাইটhttp://fatih.gov.tr/ayasofya-camii
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
মানদণ্ডসাংস্কৃতিক: i, ii, iii, iv
তথ্যসূত্র৩৫৬
শিলালিপির ইতিহাস১৯৮৫ (৯ম সভা)

সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ (উসমানীয় সুলতান) মুহামেত কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর খ্রিস্টানদের কাছ থেকে আয়া সোফিয়া কিনে নিয়ে স্থাপনাটি মসজিদে রূপান্তর করেন। ১৪৫৩ সালের ১ জুনে মসজিদে রূপান্তরিত আয়া সোফিয়ায় প্রথমবারের মত জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ইমামতি করেন ফাতিহ-এর শিক্ষক শায়খ আক শামসুদ্দিন।[৪][৫][৬][৭]

ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের শাসনামলে আবারো মসজিদে রুপ দিতে সচেষ্ট হয় তুর্কি সরকার। তবে খ্রিষ্টানমুসলমানদের মাঝে এ নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। খ্রিষ্টানদের দাবি এটি প্রথমে গির্জা ছিল, তাই হায়া সোফিয়ার উপর তাদের অধিকার বেশি। অন্যদিকে মুসলমানরা বলছেন, বহুবছর এটি মসজিদ হিসেবে ছিল, তাই এরূপেই থাকবে হায়া সোফিয়া।

বিষয়টি সবশেষে গড়ায় আদালতে। এরই মধ্যে জাদুঘরটিকে মসজিদে রুপান্তরে শুক্রবার চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত[৮]

আদালতের এমন সিদ্ধান্তের পরপরই হায়া সোফিয়া স্থাপত্যকে মসজিদে পরিণত করতে ঘোষণা দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান । এক নির্বাহী আদেশও স্বাক্ষর করেন তিনি। তার এ আদেশের মাধ্যমে ৮৬ বছর পর হায়া সোফিয়ায় আযান শুনতে পেলো তুর্কিবাসী।[৯]

২০২০ সালের জুলাইয়ের দিকে স্থাপনাটিকে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি মসজিদ হিসাবে পুনরায় ঘোষণা করেছেন।[১০][১১] [১২] এটি বাইজেন্টাইন আর্কিটেকচারের রূপক হিসাবে বিবেচিত হয়[১৩] এবং বলা হয় "আর্কিটেকচারের ইতিহাস পরিবর্তনকারী"।[১৪]

ইতিহাসসম্পাদনা

এটি স্থাপন করা হয়েছিল মূলত অর্থোডক্স গির্জা হিসেবে। এই স্থাপনাটি অর্থোডক্স গির্জা হিসেবে স্থাপনের পর থেকে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। এর এটিকে ক্যাথলিক গির্জায় রুপান্তর করা হয় ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে, যা ১২৬১ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। তারপর এটি পুনরায় অর্থোডক্স গির্জায় রূপান্তর করা হয়, যার মেয়াদকাল ১২৬১-১৪৫৩ সাল পর্যন্ত। কিন্তু এর পর মানে পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি তুরস্ক মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে এই স্থাপনাটিকে মসজিদে রুপান্তর করা হয়। যার নতুন নামকরণ হয় "ইম্পিরিয়াল মসজিদ", যা প্রায় ৫০০ বছর স্থায়ী হয়। বর্তমানে তুরস্কের প্রধান মসজিদ সুলতান আহমেদ মসজিদ, যা "ব্লু মসজিদ" নামে পরিচিত। যা স্থাপিত হয় ১৬১৬ সালে। কিন্তু এই মসজিদ স্থাপনের পূর্বে "ইম্পিরিয়াল মসজিদ"-ই ছিল তুরস্কের প্রধান মসজিদ।

এরপর এই স্থাপনাটি ১৯৩৫ সালে আধুনিক তুরস্কের স্থপতি ও স্বাধীন তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি "মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক" যাদুঘরে রূপান্তর করেন। যা বর্তমানেও বিদ্যমান।[১৫]

মসজিদে রূপান্তরের পর এর দেয়ালে মার্বেল পাথরে অঙ্কিত যীশু খ্রিস্টের অনেক গুলো ছবি সিমেন্ট দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। ছবিগুলো প্রায় ৫০০ বছরের জন্য সিমেন্টের নিচে চাপা পড়ে। কিন্তু এই স্থাপনাটিকে যাদুঘরে রূপান্তরের পর ছবিগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়। ফলে যীশুখ্রিস্টের ছবিগুলো অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে অঙ্কিত "আল্লাহুমুহাম্মদ" এর আরবিতে অঙ্কিত মার্বেল পাথরও এর পাশাপাশি সংরক্ষিত হয়। তাই এই নামগুলোর পাথর অনেক বেশি উজ্জ্বল থাকে।

এরপর থেকে এই স্থাপনায় নতুন নিয়ম প্রবর্তন হয়। প্রধান নিয়মটি হল। "এই স্থাপনার মূল অংশ বা হলরুম ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, সেটি মুসলিম অথবা খ্রিস্টান ধর্ম উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু এই স্থাপনার উভয় ধর্মের জন্য আলাদা সংরক্ষিত জায়গা রয়েছে। অর্থাৎ এই কমপ্লেক্ষটিতে একটি মসজিদ ও একটি গির্জা নির্মাণ করা হয়। যা শুধুমাত্র যাদুঘরের কর্মচারী কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত।"

৩১ মার্চ ২০১৮, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান কুরআন তিলাওয়াত করে মুহামেত সহ হায়া সোফিয়ার জন্য করা সকলের রহুের মাগফেরাতে মোনাজাত করেন।[১৬] এবং ১০ জুলাই ২০২০ সালের রোজ শুক্রবার তুরস্কের শীর্ষআদালত এটাকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের রায় ঘোষণা করেন। আদলতের রায়ের পর মসজিদে আজান দেওয়া হয়েছে যা প্রায় ৮৬ বছর পর।[১৭]

ভ্রমণসম্পাদনা

মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার পর তুরস্কের অন্য সব মসজিদের মতোই হায়া সোফিয়া উন্মুক্ত থাকবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য।[৯] মসজিদে রূপান্তর হওয়ার পূর্বে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হতো হায়া সোফিয়া। সেসময় রবিবার-বৃহস্পতিবার সকাল ৯.৩০ থেকে বিকাল ৪.৩০ পর্যন্ত খোলা থাকতো । এর প্রবেশ মূল্য ছিল ২৫ তুর্কি লিরা (প্রায় ৳১,০০০)। এটি তুরস্কের সবচেয়ে বেশি পর্যটক ভ্রমণশীল স্থান।[১৮]

ঐতিহাসিক সংরক্ষিত ছবিসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Curta, Florin; Holt, Andrew (২০১৬)। Great Events in Religion: An Encyclopedia of Pivotal Events in Religious History [3 volumes] (English ভাষায়)। ABC-CLIO। পৃষ্ঠা 299। আইএসবিএন 978-1-61069-566-4Hagia Sophia was consecrated on December 27, 537, five years after construction had begun. The church was dedicated to the Wisdom of God, referring to the Logos (the second entity of the Holy Trinity) or, alternatively, Christ as the Logos incarnate. 
  2. Fazio, Michael; Moffett, Marian; Wodehouse, Lawrence (২০০৯)। Buildings Across Time (3rd সংস্করণ)। McGraw-Hill Higher Education। আইএসবিএন 978-0-07-305304-2 
  3. Simons, Marlise (২২ আগস্ট ১৯৯৩)। "Center of Ottoman Power"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০০৯ 
  4. Ajansı, İlke Haber (undefinedundefinedundefined)। "Tarihçi Şama: 'Ayasofya'nın ilelebet cami olarak hizmet vermesi Fatih'in vasiyetidir'"İLKHA (তুর্কী ভাষায়)।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  5. "আয়া সোফিয়া: সুলতান ফাতিহ ও প্রেসিডেন্ট এরদোগান"Jugantor 
  6. "আয়া সোফিয়া ক্রয় করেন সুলতান ফাতিহ, বললেন তুরস্কের গবেষক | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho 
  7. "Fatih Sultan Mehmet'in Ayasofya Vasiyeti! | GAZETE VATAN"www.gazetevatan.com 
  8. "ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করল তুরস্ক"Channel 24 (Bangla ভাষায়)। 
  9. "৮৬ বছর পর হায়া সোফিয়ায় আযান শুনলো তুর্কিবাসী" 
  10. "World reacts to Turkey reconverting Hagia Sophia into a mosque"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-১১ 
  11. Gall, Carlotta (২০২০-০৭-১০)। "Erdogan Signs Decree Allowing Hagia Sophia to Be Used as a Mosque Again"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-১১ 
  12. "Turkey: Court strikes down Hagia Sophia museum decree" 
  13. Fazio, Michael W. (২০০৯)। Buildings across time : an introduction to world architecture। Moffett, Marian., Wodehouse, Lawrence. (৩য় সংস্করণ)। Boston, Mass.: McGraw-Hill Higher Education। আইএসবিএন 0-07-305304-Xওসিএলসি 223381546 
  14. Simons, Marlise (১৯৯৩-০৮-২২)। "Center of Ottoman Power"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-১১ 
  15. Magdalino, Paul, et al. "Istanbul: Buildings, Hagia Sophia" in Grove Art Online. Oxford Art Online. http://www.oxfordartonline.com. accessed 28 February 2010.
  16. Turkish President Erdoğan recites Islamic prayer at the Hagia Sophia
  17. [১]
  18. "Hagia Sophia still Istanbul's top tourist attraction"। hurriyet। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

  বহিঃ ছবিসমূহ
  360° panoraITS A BISHic view (ভার্চুয়াল ট্যুর)