সুন সু

Chinese military writer

সুন সু (/sn ˈdz, sn ˈs/ soon DZOO, soon SOO;[১][২][৩] চীনা: 孫子; ফিনিন: Sūnzǐ) (উচ্চারণ [swə́n tsɨ̀]), ছিলেন পুর্ব চাউ এর শাসনামলে প্রাচীন চীনের একজন সেনানায়ক, যুদ্ধকৌশলী, লেখক এবং দার্শনিক। তাকে দ্য আর্ট অফ ওয়ার নামক যুদ্ধবিদ্যার প্রাচীন চৈনিক বইটির লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর্ট অব ওয়ার ছিল একটি প্রভাবশালী কীর্তি, যা উভয় প্রাচ্য ও পশ্চিমা দর্শন এবং সামরিক চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলে। তার কীর্তিগুলোতে স্ট্রাটাজেম, বিলম্ব, যুদ্ধকৌশল, গুপ্তচর ও যুদ্ধের বিকল্পের ব্যবহার, জোট তৈরি এবং অব্যাহত রাখা, প্রতারনার ব্যবহার এবং অধিক শক্তিশালী শত্রুদের নিকট সাময়িক সময়ের জন্য পরাজয় স্বীকার করার মতো যুদ্ধের বিকল্পগুলো অধিক প্রাধান্য লাভ করে।[৪] চীনা এবং পূর্ব এশীয় সংস্কৃতিতে তাকে একজন কিংবদন্তি ঐতিহাসিক সামরিক ব্যক্তিত্ব বলে শ্রদ্ধা করা হয়। তার জন্মগত নাম ছিল সুন ওউ (চীনা: 孫武) এবং তাকে তার পরিবারের বাহিরে ভদ্র নাম, চ্যাংকিং (চীনা: 長卿) নামে অভিহিত করা হতো।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] তিনি পশ্চিমা বিশ্বে সুন সু নামে বেশি পরিচিত, যা আসলে একটি পদবি (সম্মান) যার অর্থ “প্রভু সুন”।

সুন সু
A statue of Sun Tzu
সুন সু'র মূর্তি, জাপান
জন্মখ্রিষ্টপূর্ব ৫৪৪
মৃত্যুখ্রিষ্টপূর্ব ৪৯৬
পেশাসমরনায়ক ও যুদ্ধকৌশলী
সময়কালWarring States
বিষয়সমরবিদ্যা
উল্লেখযোগ্য রচনাবলিরণকৌশল"
সুন সু
Sunzi (Chinese characters).svg
প্রাচীন (উপরে), সাধারণ ঐতিহ্যবাহী (মাঝখানে) এবং সরল (নিচে) সিল স্ক্রিপ্টে "সুন সু" লেখা
চীনা নাম
ঐতিহ্যবাহী চীনা 孫子
সরলীকৃত চীনা 孙子
আক্ষরিক অর্থ"মুস্টার সুন"
Sun Wu
ঐতিহ্যবাহী চীনা 孫武
সরলীকৃত চীনা 孙武
Changqing
ঐতিহ্যবাহী চীনা 長卿
সরলীকৃত চীনা 长卿
ভিয়েতনামীয় নাম
ভিয়েতনামী Tôn Vũ
Tôn Tử
কোরীয় নাম
হাঙ্গুল손무
손자
হাঞ্জা孫武
孫子
জাপানি নাম
কাঞ্জি 孫武
孫子
হিরাগানা そんぶ
そんし

সুন সুর ঐতিহাসিক বাস্তবতা নিশ্চিতভাবে জ্ঞাত নয়। হান সাম্রাজ্যের ইতিহাসবিদ সিমা কিয়ান সহ অনেক ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি ওউ এর রাজা হেলো এর মন্ত্রী ছিলেন এবং ৫৪৪-৪৯৬ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। আধুনিক বিশেষজ্ঞগণ তার অস্তিত্ব মেনে নেন এবং দ্য আর্ট অফ ওয়ারের টিকে থাকা লেখাগুলোর ধরন এবং এতে বর্ণিত যুদ্ধের বিবরণীর উপর ভিত্তি করে তারা এটিকে প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্য কালের শেষের দিকের বলে মনে করেছেন।[৫] ঐতিহ্যবাহী বিবরণী থেকে বোঝা যায় যে তার বংশধর সুন বিন যুদ্ধকৌশলের উপর একটি গ্রন্থ লেখে। সেটির নামও ছিল দ্য আর্ট অফ ওয়ার। সুন ওউ এবং সুন দুজনই প্রচলিত চীনা লেখায় সুন সু বলে আখ্যায়িত হওয়ায় ১৯৭২ সালে সুন বিনের এ বইটি পুনরুদ্ধার হওয়া পর্যন্ত কিছু ইতিহাসবিদ তাদের অভিন্ন বলে মনে করত।

সুন সু এর কীর্তি প্রথম থেকেই প্রসংশা পেয়ে যাচ্ছে এবং পূর্ব এশিয়ার যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিংশ শতাব্দীতে দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পশ্চিমা সমাজেও ব্যবহৃত হয়। সংস্কৃতি, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র সহ এটি পৃথিবীর অনেক প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছে।[৬][৭][৮][৯]

জীবনীসম্পাদনা

সবচেয়ে প্রাচীন সূত্রগুলোর মধ্যে সুন সু এর জন্মস্থান সংক্রান্ত কোনো সাদৃশ্যতা পাওয়া যায় না। শরৎ বসন্ত ইতিবৃত্ত এবং সিমা কিয়ান এর একজন মহান ইতিহাসবিদের নথিতে তিনি সি রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। [১০]শরৎ বসন্ত কালের শেষের দিকে তার জন্ম হয় এবং তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৫১২ সালের কাছাকাছি সময় থেকে শুরু করে ষষ্ঠ শতাব্দি পর্যন্ত ওউ এর রাজা, হেলু এর সেনাপতি এবং যুদ্ধকৌশলী হিসেবে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত ছিলেন বলে এ দুটি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তার অর্জিত বিজয়গুলো থেকে দ্য আর্ট অফ ওয়ার লেখার অনুপ্রেরণা লাভ করেন। এ বইটি পরবর্তী প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্য কালের সবচেয়ে বেশি পঠিত সামরিক গ্রন্থ হয়ে ওঠে, যখন প্রাচীন চীনের ৭টি রাজ্য, চাও, চী, চীন, সু, হান, ওয়েই এবং ইয়ান একে অপরের সাথে পূর্ব চীনের অধিকাংশ উর্বর অংশ নিয়ন্ত্রণের জন্য যুদ্ধ অনবরত যুদ্ধ করছিল।[১১]

সিমা কিয়ানের থেকে প্রাপ্ত সুন সু'র একটি মোটামুটি বিখ্যাত কাহিনী অনুসারে তার প্রকৃতিকে এভাবে চিত্রিত করা যায়: রাজা ওউ সুন সুকে দায়িত্বে নিযুক্ত করার পূর্বে তাকে ৩৬০ জন উপপত্নীর একটি হারেমকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সৈনিকে পরিণত করার আদেশ দিয়ে তাকে পরীক্ষা করেন। তিনি তাদেরকে দুটি সংঘে বিভক্ত করেন এবং রাজার সবচেয়ে পছন্দের দুজন উপপত্নীকে এই দুটো সংঘের সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করেন। সুন সু তাদের ডান দিকে মুখ ঘুরাতে বললে তারা মুখ চেপে হাসে। তখন সুন সু বলেন যে, সৈনিকরা আদেশ বুঝছে কিনা তা নিশ্চিত করার সেনাপতির, এক্ষেত্রে তার। তিনি আবারো আদেশ দিলে, তারা আবারো মুখ চেপে হাসে। তারপর তিনি রাজার আপত্তি সত্ত্বেও তার দুই সবচেয়ে পছন্দের উপপত্নীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে যদি সৈনিকরা সেনাপতির আদেশ বুঝেও তা মান্য না করে, তাহলে তা সেনাপতির দোষ। তিনি আরও বলেন যে একবার কেউ সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত হলে তার উদ্দেশ্য সম্পন্ন করাই তার দায়িত্ব, রাজা আপত্তি করলেও। সেই দুজন উপপত্নীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর নতুন সেনাপতি নির্বাচন করা হয়। এরপর দুটো সংঘই তাদের আরো তুচ্ছতার মূল্য সম্পর্কে সর্তক হয়ে যায় এবং নিখুতভাবে আদেশ পালন করে।[১২]

সিমা কিয়ানের মতে সুন সু পরে তার তত্ত্বগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর, তার কর্মজীবনের সফলতা এবং তিনি যে তার পরিক্ষিত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে দ্য আর্ট অফ ওয়ার লিখেছেন তা প্রমাণ করেন।[১২] শিযি এর কয়েক শতক আগে লেখা, সুযাও -এ বোযু যুদ্ধের ঘটনাগুলোর আরো বিবৃতি প্রদান করে কিন্তু সেখানে সুন সুকে একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি। [১৩]

অস্তিত্বসম্পাদনা

 
১৯৭২ সালে উদ্ধার করা জাদুঘরে সংরক্ষিত ইনকি শান বাঁশের পুঁথি, যার মধ্যে রয়েছে দ্য আর্ট অফ ওয়ার

ঐতিহাসিক সুও সোয়ান এ তার কথা উল্লেখ না থাকার বিষয়টিকে ভিত্তি ১২শ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময় থেকে চীনা বিশেষজ্ঞগণ সুন সু এর ঐতিহাসিক অস্তিত্বকে নিয়ে সন্দেহ পোষন করতে শুরু করেন। কারণ সুও সোয়ান এ শরৎ বসন্ত কালের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুন ওউ (孫武) নামটি মহান ইতিহাসবিদের নথির পূর্বে কোনো লেখা পাওয়া যায় নি এবং একটি বানানো ডাক নাম হতে পারে, যার অর্থ: পলাতক যোদ্ধা। “সুন” উপনামটি সেটির সমার্থক শব্দ পলাতক (xùn 遜) বোঝাতে ব্যাখ্য করা যায় এবং “ওউ” মানে প্রাচীন চীনের “যোদ্ধা” বা “সাহসী” হওয়ার বৈশিষ্ট্য, যা ওউ জিক্সু এর কাহিনীতে নায়কের ডোপেলগেঙ্গার হিসেবে তার চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।[১৪] বোযুর যুদ্ধ হলো তার সাথে সম্পর্কিত একমাত্র যুদ্ধ কিন্তু এ যুদ্ধে তার অংশগ্রহনের কোনো নথি নেই।[১৫]

 
বোযু যুদ্ধের অবস্থা

সন্দেহকারীদের মতে, লেখাগুলোয় ভুল এবং কালবৈষম্য আছে এবং দ্য আর্ট অফ ওয়ার বইটি প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন যুদ্ধকৌশলী এবং লেখকদের একটি সংকলন। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর লেখক বিভিন্ন। এই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সুন, একজন ছদ্মনাধারী লেখক, চু এর বিশেষজ্ঞ, ওউ জিক্সু, শি এবং ওউ এ অবস্থিত তাত্ত্বিকদের একটি বিদ্যালয়, সুন বিন এবং অন্যরা।[১৬] সুন বিন আসলেই সামরিক বিষয়সমুহের একজন কর্তৃপক্ষ ছিলেন, যিনি ইউহিমেরিজম হিসেবে সুন সু এর ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব সৃষ্টির অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন।[১৪] শিজি এবং ওউ ইউ চানসু এর মতো পরবর্তী সূত্রগুলোতে “সুন ওউ” নামটি আর পাওয়া যায় না কিন্তু সুন সু এর সময়ের অনেক পরে লেখা হয়।[১৭]

দ্য মেথড অফ সিমা সহ অন্যান্য কাজে এ বিষয়টির ব্যবহার সুন সু এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১৮] রাফ সোইয়ার এর মতে, সুন সু এর শুধু অস্তিত্বই ছিল না, বরং বইটির ভিত্তিও তিনিই লিখেছেন, যাতে তার নাম রয়েছে।[১৯] বড় যুদ্ধ, লেখায় বর্ণিত বাস্তবধর্মী কৌশল এবং চীনে বিরাজমান ছোট যুদ্ধগুলোর মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে বলে বিতর্ক আছে। সুন ওউ এর শিক্ষা তার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকে অথবা কোনো ছোট বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়, যেখানে সুন বিন অধ্যায়ন করতেন। সেই বংশধর অথবা শিষ্যরা সেটিকে সংশোধন করেন এবং প্রকৃত লেখাটির কিছু অংশ বর্ধিত করেন।[১৯]

সন্দেহ পোষনকারীদের মতে সনাতনবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্য আর্ট অফ ওয়ার এ বর্ণিত প্রযুক্তি (যেমন, অন্য সময়ের ক্রসবো এবং অনুল্লেখিত অশ্বারোহী), দর্শন ধারণা, ঘটনাসমুহ, সামরিক কৌশল সুন ওউ এর সময়ের নয়।[২০][২১] এছাড়াও শরৎ বসন্ত কালের পেশাদার সেনাপতিদের কোনো নথিও নেই। এগুলোই একমাত্র অক্ষত থাকা নথি, তাই সুন সু এর সেনাপতিত্ব এবং পদের উপর সন্দেহ থেকে যায় তাদের।[২১] এতে দ্য আর্ট অফ ওয়ার কখন রচনা করা হয়েছে তা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। প্রথম ঐতিহ্যবাহী ধারণা ছিল যে সুন ওউ বইটি ৫১২ খ্রিষ্টাব্দে লিখেছেন এবং বইটি শরৎ বসন্ত কালের শেষ বছরগুলোতে (৭২২-৪৮১ খ্রিষ্টপূর্ব সক্রিয় ছিলেন। সেমুয়েল গ্রিফিট এর মতো বিশেষজ্ঞদের মতে, বইটি প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্য কালের মধ্য থেকে শেষের দিকের (৪৮১-২২১ খ্রিষ্টপূর্ব)। আরেকটি বিদ্যালয় দাবি করে যে, বইয়ের পাতাগুলো ৫ম খ্রিষ্টপূর্বের শেষের দিকে প্রকাশিত হয়। সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১৯৭২ সালে ইনকি শান থেকে উদ্ধার করা বাঁশের পুঁথিতে এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই মত সামনে আসে।[২২]

দ্য আর্ট অফ ওয়ারসম্পাদনা

 
বাঁশের উপর লেখা দ্য আর্ট অফ ওয়ার একটি সংস্করণ

ঐতিহ্যগতভাবে সুন সুকে দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর লেখক ‍হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে যুদ্ধ পরিচালনা এবং জয়ের জন্য যুদ্ধের দর্শন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি একটি যুদ্ধ কৌশলের উপর তৈরি একটি অসাধারণ শিল্প এবং প্রথম প্রকাশনা, অনুবাদ এবং বন্টন শুরুর পর থেকে অনেক সেনাপতি এবং তাত্ত্বিক এটিকে উদ্ধৃত এবং নির্দেশ করেন।[২৩]

বইটি কখন লেখা হয়েছে এবং বইটির লেখক কে এসব নিয়ে অনেক লেখা রয়েছে কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলো থেকে বোঝা যায় যে,অন্তত হান সাম্রাজ্যের প্রথম দিকেই বইটি সেটির বর্তমান অবস্থায় মোটামুটিভাবে পরিণত হয়েছে।[২৪] যেহেতু আজ পর্যন্ত দ্য আর্ট অফ ওয়ার কখন সম্পন্ন হয় নিশ্চিত করা অসম্ভব, তাই এটির লেখক এবং সম্পন্ন হওয়ার সময় নিয়ে থাকা ভিন্ন তত্ত্বগুলোর কোনো সমাধান নেই।[২৫] অনেক আধুনিক বিশেষজ্ঞের মতে, এতে শুধু এর প্রকৃত লেখকের চিন্তাই নয়, বরং লি কুয়ান এবং ডু মু এর মতো সামরিক তাত্ত্বিকদের মতামত এবং স্বচ্ছতাও বর্ণিত হয়েছে।

চীনের সংঘবদ্ধ হওয়া এবং খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দিতে ছিন শি হুয়াং এর বই পোড়ানোর পূর্বে ছয়টি বড় কীর্তি অক্ষত ছিল। অনেক পরের সোং সাম্রাজ্য এই ছয়টি বইকে একটি তাং লেখার সাথে সম্মিলিত করে সাত সামরিক শিল্প একটি সংগ্রহে সংরক্ষণ করা হয়। সংকলনটির একটি কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে দ্য আর্ট অফ ওয়ার পূর্ব আধুনিক চীনে নৈতিক সামরিক তত্ত্বের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এ কারণে রাজকীয় সামরিক পদে নিয়োগের জন্য বইটি পড়ার প্রয়োজন হতো।[২৬]

সুন সু এর দ্য আর্ট অফ ওয়ার -এ এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুদ্ধ এবং যুদ্ধ কৌশলের উপর লেখা পশ্চিমা বইগুলোতে দেখা যায় না।[২৭] যেমন: একাদশ অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, একজন নেতাকে অবশ্যই শান্তিপ্রিয় এবং দুর্বোধ্য হতে হবে আর তার দুর্বোধ্য পরিকল্পনাগুলো বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। লেখাটিতে এ ধরনের বক্তব্যের পরিমাণ অনেক থাকায় এটি পূর্ব এশীয় বিষয়সমুহে কম জ্ঞানের অধিকারী পশ্চিমা পাঠকদের বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে। এ বক্তব্যের অর্থ তাওবাদী চিন্তাধারা বা অনুশীলনের মাধ্যমে এগুলোর অর্থ আরো বোঝা সম্ভব। সুন সু একজন আদর্শ সেনাপতিকে একজন আলোকিত তাওবাদী গুরু হিসেবে বিবেচনা করতেন। এ কারণে দ্য আর্ট অফ ওয়ারকে তাওবাদী কৌশলের একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বইটি রাজনৈতিক নেতা এবং ব্যবসা ব্যবস্থাপনার সাথে সংযুক্তদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এতে কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হলেও জন শাসন এবং পরিকল্পনার বিষযটিও স্পর্শ করা হয়েছে। এতে যুদ্ধ কৌশলের বর্ণনা থাকলেও এটি কূটনীতি এবং অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক তৈরি রাষ্ট্রের ভালো থাকার জন্য জরুরি বলে সমর্থন করে।[২৩]

১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে, নির্মাণ শ্রমিকরা একটি আকস্মিক ঘটনা স্বরূপ শানতুং -এ অবস্থিত ইংফিশান এর সমাধি আবিষ্কার করে ফেলে।[২৮][২৯] সেখান থেকে বিশেষজ্ঞরা অসাধারণভাবে সংরক্ষিত বাঁশের স্লিপের উপর লেখার একটি সংগ্রহ খুজে পান। সেগুলোর মধ্যে দ্য আর্ট অফ ওয়ার এবং সুন বিন এর সামরিক পদ্ধতিগুলো ছিল।[২৯] যদিও হান সাম্রাজ্যের বইগুলোতে সুন বিন এর সামরিক পদ্ধতিগুলোকে তখনো অক্ষত এবং সুনের এর বংশধরের লেখা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো এর আগে হারিয়ে গিয়েছিল। সুন সু এর সাথে সুন বিন এর সম্পর্ক এবং প্রাচীনকালের শেষের দিকের সময়ে চীনের সামরিক চিন্তার বর্ধন ঘটানোর জন্য সুন বিনের কীর্তির পুনঃআবিষ্কারকে ‍বিশেষজ্ঞরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেন।[৩০] এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্য কালের অক্ষত থাকা সামরিক তত্ত্বগুলোকে বর্ধিত করে। সুন বিন এর গ্রন্থই শুধু প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্য কালের একমাত্র লেখা যা অক্ষত অবস্থায় বিংশ শতাব্দিতে পাওয়া গেছে এবং প্রত্যেকটি অক্ষত লেখা দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

কীর্তিসম্পাদনা

সুন সু এর আর্ট অফ ওয়ার অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিকে প্রভাবিত করেছে। চীনা ইতিহাসবিদ, সিমা কিয়ান চীনের প্রথম সম্রাট ছিন শি হুয়াং প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্য কালের সমাপ্তিতে এ বইটি অমূল্য ছিল বলে বিবেচনা করতেন। বিংশ শতাব্দিতে চীনা কমুনিস্ট নেতা, মাও জে ডং তার ১৯৪৯ সালে চিয়াং কাই-শেক এবং কুওমিনটাং এর বিরুদ্ধে জয়ে দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর অবদান আছে বলে দাবি করেন। গেরিলা যুদ্ধ সম্পর্কে তার লেখাগুলো এই বইটি দ্বারা প্রভাবিত ছিল, যা আরো পৃথিবীজুড়ে কমুনিস্ট বিদ্রোহগুলোকে প্রভাবিত করে।[৩১]

দ্য আর্ট অফ ওয়ার জাপানে আসে ৭৬০ খ্রিস্টাব্দে এবং জাপানের সেনাপতিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।। ওডা নোবুনাগা, তোয়োতোমা হিডেয়োসি এবং তাকুগাওয়া লেয়াসুকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে এটি জাপানের একতাবদ্ধ হওয়ায় ভূমিকা রাখে।[৩১] মেইজি পুনর্গঠনের পূর্বে সামুরাই জন্য এটি শিখানোর দক্ষতা একটি সম্মানের বিষয় ছিল। এ বইটি সোগান এবং ডাইমিও সমর্থন এবং অনুারন করেছেন। বহরের প্রধান, টোগো হিইয়াচিরো এই বইটির একজন নিয়মিত পাঠক ছিলেন। তিনি রুশ–জাপান যুদ্ধে জাপানের জয় নিয়ে আসেন।[৩২]

হো চি মিন দ্য আর্ট অফ ওয়ার -কে ভিয়েতনামের অফিসারদের পড়ার জন্য অনুবাদ করেন। তার সেনাপতি, ভো নগুয়েন গিয়াপ একইভাবে সুন সু এর কৌশলগুলোর একজন একজন নিয়মিত অনুসরণকারী ছিলেন।[৩৩][৩৪][৩৫]

যুক্তরাষ্ট্রের জাপান, উত্তর কোরিয়া এবং উত্তর ভিয়েতনাম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়ে দ্য আর্ট অফ ওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বিভাগ তাদের কমান্ড এন্ড জেনারেল স্টাফ কলেজ এর মাধ্যমে তাদের সদর দফতরগুলোতে পাঠাগার তৈরির আদেশ দেয় যাতে সৈনিকরা তাদের আর্ট অফ ওয়ার শিক্ষা অব্যাহত রাখতে পারে। দ্য আর্ট অব ওয়ার -কে যেকোনো ব্যবস্থাপনায় রাখার মতো কীর্তির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং স্টায় অফিসারদের তাদের অধ্যায়নের উপরে একটি ছোট লেখা অন্য অফিসারদের কাছে উপস্থাপন করার আদেশ দেওয়া হয়।[৩৬] এভাবে সুন সু এর আর্ট অফ ওয়ার মেরিন কোর প্রোফেশনাল রিডিং প্রোগ্রামে তালিকাভূক্ত হয়।[৩৭] ১৯৯০ এর দশকে উপসাগরীয় যুদ্ধে জেনারেল নোরমান সুওয়ার্সকোফ জুনিয়র এবং কোলিন পাওয়েল সুন সু এর প্রতারণা, গতি এবং দুর্বলতায় আঘাত করা সম্পর্কিত নীতিগুলো বাস্তবায়ন করে।[৩১] যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো সুন সু এর কীর্তিকে সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি এবং দ্য আর্ট অফ ওয়ারকে বৃহত্তর চীনা সমাজের প্রেক্ষিতে বুঝতে পারেনি বলে সমালোচনা করা হয়।[৩৮]

১৯৮৭ সালে, ওয়াল স্ট্রিট ছবির নায়ক, গোর্ডন প্রায়ই একটি আক্রমণাত্মক বাণিজ্যিক কৌশল হিসেবে দ্য আর্ট অফ ওয়ার থেকে অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করেন।[৩৯]

তাওবাদী বক্তৃতা দ্য আর্ট অব ওয়ার এর অন্তর্ভূক্ত একটি উপাদান। দ্য আর্ট অফ ওয়ার এবং সুন জি এর ব্যাপারে স্টিভেন সি. কোম্বস এর মতে,“এ লেখা দুটিতে সতর্কমূলক বক্তব্ রয়েছে,[৪০] এগুলোতে যুদ্ধকে বক্তৃতার রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এরা দুটিই দর্শন ভিত্তিক শিল্প”।[৪০] কোম্ব লিখেছেন, “হৃদয় এবং মনের যুদ্ধ হিসেবে যুদ্ধ প্রবর্তনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।”[৪০] ইতিহাস জুড়ে দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর কৌশলগুলোর প্রয়োগ এই দার্শনিক বক্তৃতার কারণ। তাওবাদ দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর প্রধান নীতি। কোম্ব প্রাচীন তাওবাদী চীনা ভাষাকে অ্যারিস্টটলের ঐতিগ্যবাহী বক্তৃতার সাথে তুলনা করেছেন, বিশেষ করে প্রবর্তনার দিক থেকে তাদের বৈসাদৃশ্যের জন্য। দ্য আর্ট অফ ওয়ার এ তাওবাদী বক্তৃতাকে “শান্তিপূর্ণ এবং নিষ্ক্রিয়” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা বক্তৃতার পরিবর্তে নিস্তব্ধতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।[৪০] এটি এক ধরনের সতর্ক ভাব প্রকাশ। দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর সতর্কতা সংঘর্ষ এড়িয়ে চলে এবং প্রকৃতি ও আকৃতিতে আধ্যাত্মিক, যা তাওবাদের মূল নীতিগুলো অনুসরণ করে।[৪১]

মার্ক ম্যকনেইলি “সুন সু এবং দ্য আর্ট অফ ওয়ার” -এ লিখেছেন যে, চীনের একুশ শতাব্দিতে শক্তিশালী হওয়ার ‍বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে সুন সু এবং চীনের ইতিহাস জুড়ে তার গুরুত্বের ব্যাখ্যা দেওয়া জটিল। আধুনিক চীনে বিশেষজ্ঞরা চীনের বর্তমান সংগ্রাম এবং সুন সু এর সময়ের যুদ্ধগুলোর মধ্যে একটি সরাসরি সম্পর্ক লক্ষ করে। এ কারণে তারা তত্ত্ব আবিষ্কার করতে ঐতিহাসিক যুদ্ধকৌশলের পাঠ এবং দ্য আর্ট অফ ওয়ার এর উপর নির্ভর করে। সুন সু এর শিক্ষা এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী চীনা লেখকদের কীর্তি চীন এবং চীনের নেতাদের উন্নতির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। যা সুন সু এবং এই লেখকদের কীর্তির জন্য একটি অনুভূত গুরুত্ব।[৪২]

২০০৮ সালে, চীনা টেলিভিশনের প্রযোজক, জাং জিসং সুন সু এর জীবন কাহিনী নিয়ে একটি ৪০ পর্বের ধারাবাহিক নাটক তৈরি করেন, যাতে সু ইয়ায়েন সুন সু চরিত্রে অভিনয় করেন।[৪৩]

এজ অব এমপাইয়ারস ২: ডেফিনিটিভ এডিশন নামক ভিডিও গেমটিতে সুন সু এর আর্ট অফ ওয়ার এর উপর ভিত্তি করে কিছু চ্যালেঞ্জ মিশন রয়েছে, যা কৌশল এবং পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে।[৪৪]

টীকাসম্পাদনা

  1. "Zi" (子; "Tzu" in Wade-Giles transliteration) was used as a suffix for the family name of a respectable man in ancient Chinese culture. In this case, "Zi" is not the personal name. It is a rough equivalent to "Sir" and is commonly translated into English as "Master".
  2. "Sun Tzu". Columbia Electronic Encyclopedia (2013).
  3. টেমপ্লেট:Cite American Heritage Dictionary
  4. Ancient warfare edited by John Carman and Anthony Harding, page 41
  5. Sawyer, Ralph D. (২০০৭), The Seven Military Classics of Ancient China, New York: Basic Books, পৃষ্ঠা 421–22, আইএসবিএন 978-0-465-00304-4 
  6. Scott, Wilson (৭ মার্চ ২০১৩), "Obama meets privately with Jewish leaders", The Washington Post, Washington, D.C., ২৪ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৩ 
  7. Obama to challenge Israelis on peace, United Press International, ৮ মার্চ ২০১৩, সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৩ 
  8. Garner, Rochelle (১৬ অক্টোবর ২০০৬), "Oracle's Ellison Uses 'Art of War' in Software Battle With SAP", Bloomberg, ২০ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১৩ 
  9. Hack, Damon (৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৫), "For Patriots' Coach, War Is Decided Before Game", The New York Times, সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১৩ 
  10. Sawyer 2007, পৃ. 151.
  11. McNeilly 2001, পৃ. 3–4.
  12. Bradford 2000, পৃ. 134–35.
  13. Zuo Qiuming, "Duke Ding", Zuo Zhuan (চীনা and ইংরেজি ভাষায়), XI 
  14. Mair, Victor H. (2007). The Art of War: Sun Zi's Military Methods. New York: Columbia University Press. pp. 9–10. আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩১-১৩৩৮২-১.
  15. Worthington, Daryl (১৩ মার্চ ২০১৫)। "The Art of War"। New Historian। ৩ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা।  13 March 2015
  16. Sawyer 2005, পৃ. 34–35.
  17. Sawyer 2007, পৃ. 176–77.
  18. Sawyer 1994, পৃ. 149–50.
  19. Sawyer 2007, পৃ. 150–51.
  20. Yang, Sang. The Art of War. Wordsworth Editions Ltd (5 December 1999). pp. 14–15. আইএসবিএন ৯৭৮-১৮৫৩২৬৭৭৯৬
  21. Szczepanski, Kallie। "Sun Tzu and the Art of War"। Asian History।  4 February 2015
  22. Morrow, Nicholas (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "Sun Tzu, The Art of War (c. 500–300 B.C.)"। Classics of Strategy। ২০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০২১ 
  23. McNeilly 2001, পৃ. 5.
  24. Sawyer 2007, পৃ. 423.
  25. Sawyer 2007, পৃ. 150.
  26. Sawyer 1994, পৃ. 13–14.
  27. Simpkins ও Simpkins 1999, পৃ. 131–33.
  28. Yinqueshan Han Bamboo Slips (চীনা ভাষায়), Shandong Provincial Museum, ২৪ এপ্রিল ২০০৮, ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা 
  29. Clements, Jonathan (২১ জুন ২০১২), The Art of War: A New Translation, Constable & Robinson Ltd, পৃষ্ঠা 77–78, আইএসবিএন 978-1-78033-131-7 
  30. Sydney Wen-Jang Chu; Cheng-Yu Lee (১৬ জানুয়ারি ২০১৩)। "Just another Masterpiece: the Differences between Sun Tzu's the Art of War and Sun Bin's the Art of War"健行學報33 (1)। আইএসএসএন 1817-6755 
  31. McNeilly 2001, পৃ. 6–7.
  32. Tung 2001, পৃ. 805.
  33. "Interview with Dr. William Duiker", Sonshi.com, সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১ 
  34. McCready, Douglas M. (মে–জুন ২০০৩), "Learning from Sun Tzu", Military Review, ২৯ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা 
  35. Forbes, Andrew; Henley, David (২০১২), The Illustrated Art of War: Sun Tzu, Chiang Mai: Cognoscenti Books, এএসআইএন B00B91XX8U  অজানা প্যারামিটার |name-list-style= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  36. U.S. Army (c. 1985), Military History and Professional Development, U.S. Army Command and General Staff College, Fort Leavenworth, Kansas: Combat Studies Institute, 85-CSI-21 85  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য). The Art of War is mentioned for each unit's acquisition in "Military History Libraries for Duty Personnel" on page 18.
  37. "Marine Corps Professional Reading Program", U.S. Marine Corps 
  38. Hall, Gavin। "Review – Deciphering The Art of War"LSE Review of Books। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৫ 
  39. "Oliver Stone's Wall Street and the Market for Corporate Control"Economics in Popular Film (course)। Mount Holyoke। নভেম্বর ২১, ২০০১। 
  40. Combs, Steven C. (আগস্ট ২০০০)। "Sun-zi and the Art of War: The Rhetoric of Parsimony"। Quarterly Journal of Speech86 (3): 276–94। এসটুসিআইডি 145097995ডিওআই:10.1080/00335630009384297 
  41. Galvany, Albert (অক্টোবর ২০১১)। "Philosophy, biography, and Anecdote: On the Portrait of Sun Wu"Philosophy East and West61 (4): 630–46। এসটুসিআইডি 171035936ডিওআই:10.1353/pew.2011.0059 
  42. McNeilly 2001, পৃ. 7.
  43. Bing Sheng (চীনা ভাষায়), sina.com 
  44. "Age of Empires 2: Definitive Edition review – reverent treatment"pcgamesn.com। ১২ নভেম্বর ২০১৯। 

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  • Ames, Roger T. (১৯৯৩)। Sun-tzu: The Art of Warfare: The First English Translation Incorporating the Recently Discovered Yin-chʻüeh-shan Texts। New York: Ballantine Books। আইএসবিএন 978-0345362391 
  • Bradford, Alfred S. (২০০০), With Arrow, Sword, and Spear: A History of Warfare in the Ancient World, Praeger Publishers, আইএসবিএন 978-0-275-95259-4 
  • Gawlikowski, Krzysztof; Loewe, Michael (১৯৯৩)। "Sun tzu ping fa 孫子兵法"। Loewe, Michael। Early Chinese Texts: A Bibliographical Guide। Berkeley: Society for the Study of Early China; Institute of East Asian Studies, University of California, Berkeley। পৃষ্ঠা 446–55। আইএসবিএন 978-1-55729-043-4 
  • McNeilly, Mark R. (২০০১), Sun Tzu and the Art of Modern Warfare, Oxford University Press, আইএসবিএন 978-0-19-513340-0 .
  • Mair, Victor H. (২০০৭)। The Art of War: Sun Zi's Military Methods। New York: Columbia University Press। আইএসবিএন 978-0-231-13382-1 
  • Sawyer, Ralph D. (১৯৯৪), The Art of War, Westview Press, আইএসবিএন 978-0-8133-1951-3 .
  • Sawyer, Ralph D. (২০০৫), The Essential Art of War, Basic Books, আইএসবিএন 978-0-465-07204-0 .
  • Sawyer, Ralph D. (২০০৭), The Seven Military Classics of Ancient China, Basic Books, আইএসবিএন 978-0-465-00304-4 .
  • Simpkins, Annellen; Simpkins, C. Alexander (১৯৯৯), Taoism: A Guide to Living in the Balance, Tuttle Publishing, আইএসবিএন 978-0-8048-3173-4  অজানা প্যারামিটার |name-list-style= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য).
  • Tao, Hanzhang; Wilkinson, Robert (১৯৯৮), The Art of War, Wordsworth Editions, আইএসবিএন 978-1-85326-779-6 .
  • Tung, R. L. (২০০১), "Strategic Management Thought in East Asia", Warner, Malcolm, Comparative Management:Critical Perspectives on Business and Management, 3, Routledge .

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

অনুবাদ