সিরাজগঞ্জ সদর পৌরসভা

সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পৌরসভা
(সিরাজগঞ্জ পৌরসভা থেকে পুনর্নির্দেশিত)

সিরাজগঞ্জ পৌরসভা বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি নগরভিত্তিক স্থানীয় সরকার সংস্থা যেটি সিরাজগঞ্জ পৌরসভা পরিচালনা করে থাকে। ১৮৬৯ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি ‘‘ক’’ শ্রেনীর পৌরসভা।সিরাজগঞ্জ শহর রাজশাহী বিভাগের তৃতীয় এবং বাংলাদেশের ১৪ তম বৃহৎ শহর। [১] সিরাজগঞ্জ পৌরসভা বাংলাদের প্রাচীন পৌরসভা গুলোর একটি এবং অন্যতম। [২]

সিরাজগঞ্জ পৌরসভা
পৌরসভা
দেশবাংলাদেশ
বিভাগরাজশাহী বিভাগ
জেলাসিরাজগঞ্জ জেলা
উপজেলাসিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা
সিরাজগঞ্জ পৌরসভা০১/০৪/১৮৬৯
সিরাজগঞ্জ ২৬৩ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা আংশিক ও কামারখন্দ উপজেলা
সরকার
 • মেয়রসৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা (আওয়ামিলীগ)
আয়তন
 • মোট২৮.৪৯ বর্গকিমি (১১.০০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০২১)
 • মোট৪,৫০,০০০
 • জনঘনত্ব১৬,০০০/বর্গকিমি (৪১,০০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৯৮.৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৬৭০০আংশি
ওয়েবসাইটদাপ্তরিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

সিরাজগঞ্জ শহর এটি যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে এবং ঢাকা শহর হতে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত। শহরটি সিরাজগঞ্জ সদর একই সাথে জেলার প্রধান শহর। এখানে ১৫টি ওয়ার্ড এবং ৫২টি মহল্লা রয়েছে।শহরের জনসংখ্যা ৪,৫০০০০ জন প্রায়।সিরাজগঞ্জ শহর দেশের ১৪ তম বৃহৎ শহর।

ইতিহাস

সম্পাদনা

১৮০৯ সালের দিকে খয়রতি মহল রুপে জমিদারী সেরেন্তায় লিখিতভূতের দিয়ার নামের মৌজা নিলামে ক্রয় করিয়া বেলকুচি থানার সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী নামক একজন জমিদার সিরাজগঞ্জ শহরের ভিত্তি স্থাপন করেন।তারই নাম অনুসারে আজকের সিরাজগঞ্জ।এ শহরের পূর্ব পাশ্ব দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা নদী।যার উপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে বঙ্গবঙ্গু সেতু।যাহা পূর্ব-পশ্চিম যোগাযোগের এ পর্যন্ত একমাত্র মাধ্যম।১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ মহুকুমার উrপত্তি এবং মি: এ বারী প্রথম মহুকুমা প্রশাসক ছিলেন।১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ পার্লামেন্ট প্রথম ভারত শাসন আইন প্রবর্তন করেন।১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ মিউনিসিপ্যালিটি স্থাপিত হয়,যার প্রথম চেয়ারম্যান মি: ট্রেসষ্ট্রো।শুরুতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা“গ‍‍‍ শ্রেণীর হলেও ১৯৯২ সালে ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে ক শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নতি হয়।যার আয়তন ২৮.৪৯ বর্গ কিলোমিটার।যদিও যমুনা নদীর করাল গ্রাসে বারবার বিদ্ধস্ত হয়েছে এ শহর,তবুও এর সৌন্ধর্য এতুটুকু কমে নাই।গ্রীষ্মের বৈকাল বেলায় নদীর তীর এ শহর বাসীর কাছে যেন হয়ে উঠে এক মিলন মেলায়। সে এক অপরুপ দৃশ্য। কবির ভাষায় তাই বলতে হয় সব হারিয়েছি, সব দিয়েছি, সব নিয়েছ তুমি, তবুও- কমে নাই এ শহর বাসির আনন্দ এত খানী। পারলে বন্ধু আসবে এ শহরে দেখবে নয়ন ভোরে, ভালবাসার কমতি নাই এ শহর বাসীর মনে। বর্তমানে এ পৌরসভার পৌর পিতা হিসাবে আছেন মো: মোকাদ্দেছ আলী ‍- মেয়র।এই পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কাটাখালী। যা অত্র পৌরসভার যাবতীয় গ্লানী ধুয়ে-মুছে বের করে নিয়ে যায় বাহিরে। ঠিক তারই উপর দিয়ে বৃটিশ নির্মান করেছেন এক অপূর্র শৈল্পীক ব্রীজ যার নাম ইলিয়াট ব্রীজ। তাছাড়া নির্মিত হয়েছে টুকু ব্রীজ-১, টুকু ব্রীজ-২ যা শহরের এপার ওপার জনসাধারণ মধ্যে গড়ে তুলেছে সেতুর বন্ধন। ইহা ছাড়া কবিতায় ও সাহিত্যে অমর কৃতি স্পাপন করেছেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও অংকের যাদু কর যাদব চক্রবর্তী। প্রখ্যাত রাজনিতীবিদ মওলানা ভাষানীর জন্ম কিন্তু এ শহরের ফুলবাড়ী গ্রামে বৃটিশ ঔপনিবেশিক পরাধীনতার শৃংখলা মুক্ত করার আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী সিরাজগঞ্জের অনেক কৃতি সন্তানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তন্মন্ধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন যারা অভিভাক্ত বাংলার কৃতি সন্তান বৃটিশ পার্লামেন্টের সদস্য (এম.এস.এ) ও তদানীতন পাকিস্তানের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী মরহুম আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ক্যাপ্টেন এম.এ মুনসুর আলী, মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ গোলাম রসুল হিলালী সৈয়দ আকবর আলী, নজিবর রহমান সাহিত্য রত্ন, রজনী কান্ত সেন, ও মোহাম্মদ বরকতুউল্লাহ সহ অনেক বাহুমুখী প্রতিভাধর ও স্বনামধন্য গুনী ব্যক্তিবর্গের পবিত্র জন্ম স্থান এ সিরাজগঞ্জ।সিরাজগঞ্জ পৌরসভার তথ্য ও সেবা কেন্দ্র বিষয়ক সিট: পৌরসভার নাম: সিরাজগঞ্জ স্থাপিত: ১৮৬৯।আয়তন: ২৮.৪৯ বর্গ কি: মি:।শ্রেণীপ্রথম।ওয়ার্ড সংখ্যা:১৫টি।উপজেলা: সিরাজগঞ্জ।জনসংখ্যা৪,৫০,০০০।

প্রশাসনিক এলাকা

সম্পাদনা

সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় ১৫ টি ওয়ার্ড এবং ৫২ টি মহল্লা রয়েছে।

ওয়ার্ডঃ ১৫টি[২]

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ

  • হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী রোড(এস.এস রোড),
  • মুজিব সড়ক
  • বি এ কলেজ রোড
  • এস.বি.ফজলুল হক রোড
  • আই.এইচ.সিরাজী রোড
  • ১নং খলিফাপট্টি
  • ২নং খলিফাপট্টি
  • হেলিপোর্ট রোড
  • যাদব চক্রবর্তী (জে.সি) রোড
  • আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এভিনিউ
  • এম.এ.মতিন সড়ক
  • দরগাহ রোড
  • থানা রোড
  • বাহিরগোলা রোড
  • আব্দুল লতিফ মির্জা সড়ক
  • হাজী আহম্মেদ আলী রোড
  • মুন্সি মেহেরউল্লাহ রোড
  • ষ্টেশন রোড
  • জুবলী রোড
  • স্টেডিয়াম রোড
  • কাজী নজরুল ইসলাম স্বরণী
  • ভাষানী রোড
  • শহীদ এম মনসুর আলী রোড
  • কালীবাড়ি রোড
  • হিলালী রোড
  • ফজল খান রোড
  • পি.টি.আই রোড
  • ডাক্তার হাবিবে মিল্লাত মুন্না সড়ক! ইত্যাদী।
  • আশরাফ হোসেন রোড

এলাকা/মহল্লা

সম্পাদনা
  • মাছুমপুর
  • মাহমুদপুর
  • দিয়ারধানগড়া
  • মোক্তারপাড়া
  • সয়াধানগড়া
  • সয়াগোবিন্দ
  • পুরান ভাঙ্গাবাড়ি
  • নতুন ভাঙ্গাবাড়ি
  • কাঠেরপুল
  • জুবলী বাগান লেন
  • আরশি নগর
  • রহমতগঞ্জ
  • শহীদগঞ্জ
  • ফুলবাড়ী
  • ধানগড়া
  • রাণীগ্রাম
  • জানপুর
  • কোবদাসপাড়া
  • গয়লা
  • গোসালা
  • আমলাপাড়া
  • কুশাহাটা
  • একডালা
  • দত্তবাড়ি
  • হোসেনপুর
  • ধানবান্ধী
  • মিরপুর
  • চররায়পুর
  • মালশাপাড়া। ইত্যাদি।

ওয়ার্ড সমূহ

সম্পাদনা

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

সম্পাদনা

আয়তন ও জনসংখ্যা

সম্পাদনা

মোট আয়তনঃসিরাজগঞ্জ পৌরসভার আয়তন ২৮.৪৯ বর্গ কি.মি.যা ১৫ টি ওয়ার্ডে বিভক্ত[২]

মোট জনসংখ্যাঃ ৪০০০০০+ জন[২]

শিক্ষার হার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

সম্পাদনা

প্রাচীনকাল থেকেই শিক্ষা, সংস্কৃতিতে সিরাজগঞ্জ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সিরাজগঞ্জ বাংলাদেশের নিরক্ষরমুক্ত ৭ টি জেলার মধ্যে একটি এবং দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে শিক্ষার হারে ৫ স্থানে রয়েছে।

শিক্ষার হারঃ৯৮%

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ

  • কারিগরী ইনষ্টিটিউট - ১টি
  • বাণিজ্যিক ইনষ্টিটিউট - ১টি
  • মেডিক্যাল কলেজ - ২টি
  • আলিয়া মাদ্রাসা - ১টি
  • ইসলামিয়া কলেজ - ১টি
  • মাদ্রাসা -৭ টি
  • হোমিও প্যাথিক কলেজ ১ টি
  • সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় - ১টি
  • সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়-১টি
  • বে-সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় - ১৩টি
  • কিন্ডারগার্টেন - ৪০টি

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ

মেডিকেল কলেজ

কলেজ ও বিদ্যালয়

এছাড়া সরকারি,বেসরকারি আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।

শিল্প/বানিজ্য

সম্পাদনা

সিরাজগঞ্জ শহরকে একসময় কলকাতানারায়ণগঞ্জ এর সমতুল্য পাট ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হতো। বর্তমানে এটি পাট ব্যবসার একটি প্রধান কেন্দ্র। এখানকার পাটকলগুলো তদানীন্তন বাংলা প্রদেশের প্রথম দিককার পাটকলের মধ্যে পড়ে।

বর্তমান সিরাজগঞ্জ শহর ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীক হলে ও যমুনা নদীতে সেতু নির্মাণ হওয়ার পরে শহর এবং শহরতলীতে ফ্লাওয়ারমিল,ফিড,সিমেন্ট,স্পিনিং ,টেক্সটাইল,রাইচমিল,তাঁত ইত্যাদি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের জাতীয় জুটমিল শহরের রায়পুরে অবস্থিত। শহরের হোসেনপুর,সারঘাটে অসংখ্য ফ্লাওয়ার মিল,রাইচমিল,বেকারি শিল্প প্রতিষ্টান রয়েছে। এছাড়া ও পৌরসভা এবং পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের ৪০০ একর জমির ওপর দেশের সবথেকে বড় বিসিক শিল্প পার্ক নির্মাণাধীন রয়েছে।

পৌরসভার যোগাযোগের মাধ্যম

সম্পাদনা

যোগাযোগের মাধ্যম:

  • ঠিকানা;মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ পৌরসভা, সিরাজগঞ্জ।
  • টেলিফোন নম্বর০৭৫১-৬২০৬০।
  • ফ্যাক্স নম্বর০৭৫১-৬২০৯৮।
  • মোবাইল নম্বর: ০১৭১৩-৪৯০৩১১।
  • ই-মেইল: www. Siraj.pouro@gmail.com

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. {{ওয়েব উদ্ধৃতি
  2. "এক নজরে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা"sirajganj.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২০