প্রধান মেনু খুলুন

রেজিনাল্ড হ্যান্ডস

দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার

রেজিনাল্ড হ্যারি মাইবার্গ হ্যান্ডস (ইংরেজি: Reginald Hands; জন্ম: ২৬ জুলাই, ১৮৮৮ - মৃত্যু: ২০ এপ্রিল, ১৯১৮) কেপটাউনের ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯১৪ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

রেজিনাল্ড হ্যান্ডস
Reginald Hands.jpg
আনুমানিক ১৯১০ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে রেজিনাল্ড হ্যান্ডস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরেজিনাল্ড হ্যারি মাইবার্গ হ্যান্ডস
জন্ম(১৮৮৮-০৭-২৬)২৬ জুলাই ১৮৮৮
ক্লেয়ারমন্ট, কেপটাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু২০ এপ্রিল ১৯১৮(1918-04-20) (বয়স ২৯)
ফ্রান্স
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
সম্পর্কভ্রাতৃদ্বয়: ফিলিপ হ্যান্ডস
কেনেথ হ্যান্ডস
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৯৩)
২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯১৪ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা
রানের সংখ্যা ২৮৯
ব্যাটিং গড় ৩.৫০ ২৮.৯০
১০০/৫০ ০ / ০ ০ / ২
সর্বোচ্চ রান ৭৯*
বল করেছে
উইকেট
বোলিং গড় - -
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০ / ০ ৭ / ০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩০ অক্টোবর ২০১৮

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন রেজিনাল্ড হ্যান্ডস

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

স্যার হ্যারি হ্যান্ডস, কেবিই ও লেডি অ্যালেটা হ্যান্ডস, ওবিই দম্পতির সন্তানরূপে কেপটাউনের ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ফিলিপ হ্যান্ডস ও কেনেথ হ্যান্ডস নামীয় তাঁর অপর দুই জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছিল। ১৮৯৯ থেকে ১৯০৭ সময়কালে রন্দেবশের ডাইওসেসান কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ১৯০৬ সালে কলেজে থাকাকালে সেরা অল-রাউন্ড ক্রীড়াবিদ হিসেবে জ্যামাইসন পুরস্কার লাভ করেন।[১] ১৯০৭ সালে রোডস বৃত্তিধারী হিসেবে অক্সফোর্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজে অধ্যয়ন করেন। আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন ও মে, ১৯১১ সালে মিডল টেম্পল বারে যোগ দেন।[২]

খেলোয়াড়ী জীবনসম্পাদনা

১৯১৪ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ সালে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তাঁর। ১৯১৪ সালে ইংল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। এ সময়েই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে পুরো খেলোয়াড়ী জীবন সম্পন্ন হয় রেজিনাল্ড হ্যান্ডসের।

১৫ মাস স্থায়ী সংক্ষিপ্ত এ খেলোয়াড়ী জীবনে ১৯১২-১৩ মৌসুমে কারি কাপে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১৩-১৪ মৌসুমে জে. ডব্লিউ. এইচ. টি. ডগলাসের নেতৃত্বাধীন সফরকারী মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে খেলেন। ইংরেজ দলের এ সফরে হ্যান্ডস কেবলমাত্র একবার টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। পোর্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন তিনি। কার্যকরী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। সফরকারী ইংরেজ দল ১০ উইকেটে জয় পায়। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ও ৭ রান তুলেন। উভয় ইনিংসেই তিনি স্ট্যাম্পিংয়ের শিকারে পরিণত হন।[৩] উইজডেনে তাঁর স্মরণে কোন সংস্করণে প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ কিংবা একই টেস্টে অংশগ্রহণকারী তাঁর অপর ভাই পি. এ. এম হ্যান্ডসের বিষয়ে আলোকপাত করেনি।

ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি রাগবি ইউনিয়নেও পারদর্শী ছিলেন। ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯১০ সালে ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে ফ্রান্স ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। এছাড়াও ক্লাব পর্যায়ে ব্ল্যাকহিদ ও ম্যানচেস্টারের সদস্য ছিলেন। রোডস বৃত্তিধারী অপর দুই ভাইয়ের সাথে তিনিও ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাগবি ব্লু লাভ করেন।[৪]

বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণসম্পাদনা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ইম্পেরিয়াল লাইট হর্সে যোগ দেন ও জার্মান সাউথ ওয়েস্ট আফ্রিকায় (বর্তমানে - নামিবিয়া) চলে যান। এরপর তাঁকে এসএ হেভি আর্টিলারীতে স্থানান্তরিত করা হয় ও পশ্চিম রণাঙ্গনে রয়্যাল গ্যারিসন আর্টিলারীতে দ্বিতীয় পদবীধারী ছিলেন। ক্যাপ্টেন হিসেবে তাঁকে পদোন্নতি দেয়া হয় ও নিজ ব্যাটারিতে দ্বিতীয় পদবীধারী ছিলেন। ২১ মার্চ, ১৯১৮ তারিখে জার্মানদের চূড়ান্ত ও বড় ধরনের আক্রমণের মুখে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন ও দায়িত্ববিহীন অবস্থায় বিষক্রীয়ায় আক্রান্ত হন। দৃশ্যতঃ মিত্রশক্তি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।[৪] অতঃপর ২০ এপ্রিল, ১৯১৮ তারিখে ফ্রান্সের বুলন-সার-মার এলাকায় মাত্র ২৯ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটে।[১][৫]

পশ্চিম রণাঙ্গনে গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন ও ফ্রান্সে জীবনাবসান ঘটে তাঁর।[৫] তাঁর মৃত্যুর ফলে কেপটাউনের তৎকালীন মেয়র ও পিতা স্যার হ্যারি হ্যান্ডসের পরোক্ষ নির্দেশক্রমে দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়েছিল।

সামরিক জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯১৪-১৫ স্টার, ব্রিটিশ ওয়ার মেডেলভিক্টরি মেডেল লাভ করেন। ফ্রান্সের পাস দে কালাইসে অবস্থিত বুলন ইস্টার্ন সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়।[২] প্রাক্তন বিদ্যালয়ে প্রতি বছরই তাঁর স্মরণে একজন ছাত্রকে হ্যান্ডস মেমোরিয়াল এসে প্রাইজ প্রদান করা হয়।

তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ফিলিপ হ্যান্ডস দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ১৯১৩ থেকে ১৯২৪ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সাতটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা কেনেথ হ্যান্ডস প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করলেও টেস্টে খেলার সুযোগ পাননি।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Schulze, Heinrich (১৯৯৯)। South Africa's Cricketing Lawyers। [South Africa]: Halfway House। পৃষ্ঠা 106–109। আইএসবিএন 9780620250498 
  2. Mike Hagger। "Lest We Forget:The 27 England Rugby Internationals who died in World War 1" (PDF)। ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৮ 
  3. Walmsley, Keith (২০০৩)। Mosts Without in Test Cricket। Reading, England: Keith Walmsley Publishing Pty Ltd। পৃষ্ঠা 457। আইএসবিএন 0947540067 .
  4. Anton Taylor (মার্চ ২০১৮)। "Honouring a Century of Silence"The Old Diocesan1 (Mar 2018): 58–60। 
  5. "Geni.com profile" 

আরও দেখুনসম্পাদনা

গ্রন্থপঞ্জীসম্পাদনা

  1. World Cricketers - A Biographical Dictionary by Christopher Martin-Jenkins published by Oxford University Press (1996)
  2. The Wisden Book of Test Cricket, Volume 1 (1877–1977) compiled and edited by Bill Frindall published by Headline Book Publishing (1995)
  3. Who's Who of Cricketers by Philip Bailey, Philip Thorn & Peter Wynne-Thomas published by Hamlyn (1993)
  4. www.cricketarchive.com/Archive/Players
  5. The Complete Who's Who of England Rugby Union Internationals by Raymond Maule published by Breedon Books Publishing Company Ltd. (1992)

বহিঃসংযোগসম্পাদনা