প্রধান মেনু খুলুন

উইলিয়াম হাওয়ার্ড বিল ফ্রিন্ডল, এমবিই (ইংরেজি: Bill Frindall; জন্ম: ৩ মার্চ, ১৯৩৯ - মৃত্যু: ২৯ জানুয়ারি, ২০০৯) সারের এপসম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ ক্রিকেট স্কোরার ও পরিসংখ্যানবিদ ছিলেন।[১] বিবিসি রেডিওর টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল ধারাভাষ্যকার দলের অন্যতম সদস্যরূপে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান বিল ফ্রিন্ডল

বিল ফ্রিন্ডল
বিল ফ্রিন্ডল.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামউইলিয়াম হাওয়ার্ড ফ্রিন্ডল
জন্ম(১৯৩৯-০৩-০৩)৩ মার্চ ১৯৩৯
এপসম, সারে, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৯ জানুয়ারি ২০০৯(2009-01-29) (বয়স ৬৯)
ইংল্যান্ড
ডাকনামদ্য বিয়ার্ডেড ওন্ডার, বিয়ার্ডার্স
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাস্কোরার, পরিসংখ্যানবিদ, লেখক
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭২মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ৩০ মার্চ ২০১৭

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

সারের এপসম এলাকায় ফ্রিন্ডলের জন্ম। বিশিষ্ট ভিক্টোরীয় সাংবাদিক উইলিয়াম হাওয়ার্ড রাসেলের নামানুসারে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। বাবা গবেষণাগারের সহকারী ছিলেন ও পরবর্তীকালে গবেষণা রসায়নবিদ হয়েছিলেন।[২] টাডওয়ার্থ কাউন্টি প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর রেইগেট গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন শেষে কিংস্টন আর্ট স্কুলে স্থাপত্যকলায় পড়াশোনা করেন।[১]

ব্যক্তিগত জীবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন বিল ফ্রিন্ডল। বিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় কোন এক বৃষ্টির দিনের বিকেলে খেলায় ক্রিকেটের স্কোর লিপিবদ্ধ করেছিলেন। ১৯৫৮ সালে ন্যাশনাল সার্ভিসম্যান হিসেবে আরএএফে যোগদানের পর কর্পোরাল র‌্যাঙ্কে পদোন্নতি পান। নভেম্বর, ১৯৬৩ সালে দাপ্তরিক শাখায় হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা হন। ছয় বছরের দুই বছরই প্যারিসের বাইরে ফন্টেইনব্লিউতে অবস্থিত ন্যাটো সদরদপ্তরে কাটান। ১৯৬৫ সালে আরএএফ ত্যাগ করার সময় তাঁর মুখমণ্ডল দাঁড়িতে পুর্ণ ছিল।[১]

খেলোয়াড়ী জীবনসম্পাদনা

ফ্রিন্ডলের জীবনের শুরুর দিকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ জন্মে। আরএএফে থাকাকালে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে হ্যাম্পশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে একটি খেলায়ও অংশ নেন।[৩] গ্লুচেস্টারশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তিনি ছয় ওভারে ২২ রান দিলেও উইকেট লাভে ব্যর্থ হন। দ্বিতীয় ইনিংসে এক রান তুলে কট এন্ড বোল্ড হন।[৪] অনেকগুলো বছর ক্লাব ক্রিকেটে কার্যকরী ফাস্ট বোলার হিসেবে অংশ নেন। মূলতঃ দাতব্য খেলাতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তবে তাঁর ব্যাটিং অনেকটাই অগোছালো ছিল।[৫] মাল্টা মানিয়াকস নামের একটি সফরকারী দলের নেতৃত্ব দেন।[১] এছাড়াও এলভিনোস ও লর্ডস টাভেরনার্স দলের পক্ষে খেলেন তিনি।[৬]

টেস্ট ম্যাচ স্পেশালসম্পাদনা

১৯৬৬ সালে মুক্তধারার পরিসংখ্যানবিদ হিসেবে অংশ নেন ও ২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টে স্কোরিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকেই টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল দলের দীর্ঘস্থায়ী সদস্য হন। এ সময়ে ৩৫০ টেস্ট খেলা পরিচালনা করেন। একে তিনি খেলার প্রধান দিক হিসেবে বিবেচনা করতে থাকেন।[৭]

প্রকাশনাসম্পাদনা

বিয়ার্ডার্স - মাই লাইফ ইন ক্রিকেট শিরোনামে আত্মজীবনী রচনা করেন। জুন, ২০০৬ সালে অরিয়ন থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল। অন্যান্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে প্লেফেয়ার ক্রিকেট অ্যানুয়েল ২৩ বছর ধরে পরিচালনা করেন যা ১৯৮৬ সাল থেকে আমৃত্যু পর্যন্ত চলমান ছিল।[১] উইজডেন বুক অব টেস্ট ক্রিকেট, দ্য উইজডেন বুক অব ক্রিকেট রেকর্ডস, দ্য গিনেস বুক অব ক্রিকেট - ফ্যাক্টস এন্ড ফিটস ও ২২ বছর ধরে সম্পৃক্ত উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাকের ক্রিকেট রেকর্ডস শাখা পরিচালনা করেছেন। মেইল অন সানডের পক্ষে সংক্ষিপ্তকালের জন্য প্রতিনিধিরূপে কাজ করেন।[৮]

সম্মাননাসম্পাদনা

১৯৯৮ সালে পরিসংখ্যানে অসামান্য অবদান রাখায় স্টাফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সম্মানসূচক ডক্টর অব টেকনোলজি লাভ করেন।[৯] ক্রিকেটে অবদান ও সম্প্রচারে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখার প্রেক্ষিতে ২০০৪ সালে রাণীর জন্মদিনের সম্মাননায় অভিষিক্ত হন।[৮] বর্ষসেরা বিয়ার্ড পুরস্কারসহ[১০] বিয়ার্ড লিবারেশন ফ্রন্টের পক্ষে বেশকিছু পুরস্কার পান।[১১] অন্ধ ও আংশিক দৃষ্টিশক্তির অধিকারীদের নিয়ে গড়ে উঠা দাতব্য ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে ব্রিটিশ অন্ধ ক্রীড়ার প্রথম সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেছেন তিনি।[৮]

মূল্যায়ণসম্পাদনা

ব্রায়ান জনস্টন তাঁকে ‘বিয়ার্ড ওন্ডার’ ডাকনামে (সংক্ষেপে ‘বিয়ার্ডার্স’) ডাকতেন। সঠিকভাবে স্কোরকার্ড সংরক্ষণের পাশাপাশি মুহুর্তেই ক্রিকেটের ঘটনাগুলোকে ঘিরে গবেষণা করার দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারতেন ও তাঁর দাঁড়ি ছিল।[১] অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার দি ইন্ডিপিন্ডেন্টকে ফিন্ডলের স্মরণে বলেন যে, তিনি ক্রিকেট স্কোরারদের সর্ববয়োঃজ্যেষ্ঠ ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন।[৬]

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ফ্রিন্ডল তিনবার বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৬০ সালে মরিন ওয়েসন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। রেমন্ড আর্নেস্ট হাওয়ার্ড ও স্টুয়ার্ট উইলিয়াম নামীয় দুই পুত্র এবং ভেনেসা জেন নাম্নী এক কন্যা সন্তানের জনক হন তিনি। ১৯৭০ সালে বিবাহ-বিচ্ছেদের পর জ্যাকুলিন সিগারকে মে, ১৯৭০ সালে বিয়ে করেন। ১৯৮০ সালে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটলে ১৯৯২ সালে ডেবোরা ব্রাউনকে বিয়ে করেন। অ্যালিস ক্যাথেরিন নাম্নী এক কন্যার জন্ম হয় এ সংসারে।[১] টিএমএসের পাশাপাশি নৈশভোজনের পর অতিথি বক্তা হিসেবে ধারাভাষ্যকার কক্ষের গল্প পরিবেশন করতেন।

দেহাবসানসম্পাদনা

২৯ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে সুইনডনের গ্রেট ওয়েস্টার্ন হাসপাতালে দেহাবসান ঘটে তাঁর। এরপূর্বে লর্ডস টাভেরনার্স নিয়ে দুবাইয়ে দাতব্য ক্রিকেট সফরে সংক্ষিপ্তকাল অসুস্থতায় ভোগেন তিনি[১২] এ সময় তৃতীয় স্ত্রী ডেবিকে রেখে যান, যিনি প্রতিদিনই ধারাভাষ্যকার কক্ষে খাবার নিয়ে যেতেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে উইল্টশায়ারের আর্খফন্টের সেন্ট মাইকেল ও অল অ্যাঞ্জেলস চার্চে তাঁর শবানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Obituary: Bill Frindall"The Daily Telegraph। London। ৩০ জানুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৪-২৫ 
  2. Rob Steen, ‘Frindall, William Howard [Bill] (1939–2009)’, Oxford Dictionary of National Biography, Oxford University Press, Jan 2013 accessed 8 Jan 2013
  3. Player Profile: Bill Frindall from Cricket Archive retrieved 24 February 2009
  4. Gloucestershire Second XI v Hampshire Second XI – Second Eleven Championship 1972 from Cricket Archive retrieved 25 February 2009
  5. Obituary, The Times, 31 January 2009
  6. Obituary, The Independent, 3 February 2009
  7. "Bill Frindall"The Daily Telegraph। London। ৩০ জানুয়ারি ২০০৯। 
  8. Thompson, Anna; Brett, Oliver (১১ জুন ২০০৪)। "Bearded Wonder honoured"। BBC Sport। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৬ 
  9. "Honorary Doctors 1986–2005"। Staffordshire University। ২০০৮-০৭-০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৬ 
  10. "Remembering the Bearded Wonder"। BBC News। ৩০ জানুয়ারি ২০০৯। ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০২-০২ 
  11. Letter to The Guardian from Keith Flett, 12 February 2009
  12. "Bill Frindall: Long-serving scorer on 'Test Match Special'"The Independent। London। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা