মরিস বার্ড

ইংরেজ ক্রিকেটার

মরিস কার্লোস বার্ড (ইংরেজি: Morice Bird; জন্ম: ২৫ মার্চ, ১৮৮৮ - মৃত্যু: ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩৩) লিভারপুলের সেন্ট মাইকেলস হ্যামলেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯১০ থেকে ১৯১৪ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

মরিস বার্ড
মরিস বার্ড.jpg
আনুমানিক ১৯২০ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে মরিস বার্ড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমরিস কার্লোস বার্ড
জন্ম(১৮৮৮-০৩-২৫)২৫ মার্চ ১৮৮৮
সেন্ট মাইকেলস হ্যামলেট, লিভারপুল, ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৯ ডিসেম্বর ১৯৩৩(1933-12-09) (বয়স ৪৫)
ব্রডস্টোন, ডরসেট, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার, কোচ
সম্পর্কজর্জ বার্ড (পিতা)
অস্টিন বার্ড (ভ্রাতা)
অ্যালেন বার্ড (ভ্রাতৃষ্পুত্র)
ওয়াল্টার বার্ড (কাকা)
চার্লস ক্লার্ক (কাকা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৬৪)
১ জানুয়ারি ১৯১০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট৩ মার্চ ১৯১৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১০ ১৯২
রানের সংখ্যা ২৮০ ৬৯৩৮
ব্যাটিং গড় ১৮.৬৬ ২৩.৭৬
১০০/৫০ -/২ ৭/৩৪
সর্বোচ্চ রান ৬১ ২০০
বল করেছে ২৬৪ ৭২৪৫
উইকেট ১৪৯
বোলিং গড় ১৫.০০ ২৫.৬৮
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৩/১১ ৫/৪৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/- ১১১/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩০ মে ২০২০

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও, কোচবিহারের মহারাজা একাদশ ও এমসি বার্ড একাদশের পক্ষে খেলেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন মরিস বার্ড

শৈশবকালসম্পাদনা

১৯০৪ থেকে ১৯০৭ সময়কালে হ্যারো একাদশের পক্ষে খেলেছেন। বেশ লম্বাটে ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন তিনি। হ্যারোতে থাকাকালে পৌনে দুই ঘণ্টায় অপরাজিত ১০০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াকুচিত্তে সোয়া দুই ঘণ্টায় ১৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সুন্দর ক্রীড়াশৈলী ও সময় উপযোগী ইনিংস ঘোষণার কারণে খেলা শেষ হবার বিশ মিনিট পূর্বে তার দল ৭৯ রানে জয় তুলে নেয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেকার বছরগুলোয় ক্রিকেটার হিসেবে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। কাউন্টি কিংবা টেস্ট খেলোয়াড়ের তুলনায় বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯০৭ সালে হ্যারো স্কুল দলে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। লর্ডসে সাংবার্ষিক খেলায় দুইটি সেঞ্চুরি করেন। এটন কলেজের বিপক্ষে ঐ সেঞ্চুরি বছরের সেরা আলোচিত ঘটনা হিসেবে সামাজিকভাবে তাকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল।[১] মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে একটি খেলায় এটনের পক্ষে খেলে পাঁচ উইকেট নিয়ে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেন। ১৯১১ সালে ২০-এর অল্প বেশি রান খরচায় রেকর্ডসংখ্যক ৪৭ উইকেট দখল করেছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯০৭ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত মরিস বার্ডের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯০৭-০৮ মৌসুমে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খুব কম খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর দুই বছর চক্ষুর অন্তরালে চলে যান।

১৯০৯ সালে সারে দলের সদস্যরূপে পুনরায় আবির্ভূত হন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে ইংল্যান্ডে ফিরে ১৯১০ সালে সারের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। ১৯১১ সালে দুই বছরের জন্যে কাউন্টি অধিনায়ক হিসেবে লেভেসন-গাওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হন। ডানহাতি আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়াও, মিডিয়াম-পেস বোলিং করে কিছু কার্যকরী উইকেট পান। তন্মধ্যে, ১৯১১ সালে নিজস্ব সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। ৩০ গড়ে ১,৪০৪ রান তুলতে পেরেছিলেন। বেশ চমৎকারভাবে আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। অফ সাইডে ড্রাইভ ও কাটে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দশটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন মরিস বার্ড। অংশগ্রহণকৃত সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহেন্সবার্গে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

তেমন আশাপ্রদ খেলা উপহার না দেয়া স্বত্ত্বেও এইচ. ডি. জি. লেভেসন গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ১৯০৯-১০ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাকে দলে রাখা হয়। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল। জোহেন্সবার্গে সিরিজের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩/১১ পান। তৃতীয় টেস্টে জ্যাক হবসের সাথে সপ্তম উইকেটে ৯৫ রান যুক্ত করেন। ফলশ্রুতিতে, তার দল তিন উইকেটে জয়লাভে সক্ষম হয়। কেপটাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৭ রান তুলেছিলেন।

১৯১২ সালে ওভালে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে দুই খেলায় ৭৬, ৬৮ ও ১১২ রান তুলেছিলেন। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে তার খেলার মানে কখনো তাকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়ার বিষয়ে গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করেনি। ১৯১৩-১৪ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বে পুনরায় দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের সুযোগ পান। ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬১ রান তুলেন। সপ্তম উইকেটে জনি ডগলাসের সাথে ১১৫ রানের জুটি গড়েন। তবে, পোর্ট এলিজাবেথে সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম তিন উইকেট লাভের পূর্ব-পর্যন্ত আর তেমন অবদান রাখতে পারেননি।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর খুব কমই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। সাবেক বিদ্যালয়ের কোচের দায়িত্ব পালনের পর সারেতে এ দায়িত্বে ছিলেন। যুদ্ধের পর হ্যারোতে দুই মৌসুমে এম. সি. কেম্পের পরিবর্তে কোচের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে, ওভালে একই দায়িত্ব পালন করেন।

৯ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ডরসেটের ব্রডস্টোন এলাকায় মরিস বার্ডের দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুর পূর্বে বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।[২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Eton v Harrow 1907"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  2. "Obituaries in 1933"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা