ব্যাকটেরিয়া

জীবসত্তা
(ব্যাক্টিরিয়া থেকে পুনর্নির্দেশিত)

ব্যাক্টেরিয়া (ইংরেজি: Bacteria; /bækˈtɪəriə/ (এই শব্দ সম্পর্কেশুনুন); একবচন: bacterium) হলো এক প্রকারের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত,অসবুজ, এককোষী অণুজীব। এরা এবং (আরকিয়া) হলো প্রোক্যারিয়ট (প্রাক-কেন্দ্রিক)।ব্যাকটেরিয়া আণুবীক্ষণিক জীববিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে বৃষ্টির পানির মধ্যে নিজের তৈরি সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে ব্যাকটেরিয়া পর্যবেক্ষণ করেন । ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী অণুজীবদের একটি বৃহৎ ক্ষেত্র গঠন করে। সাধারণত দৈর্ঘ্যে কয়েক মাইক্রোমিটার ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন ধরনের আকৃতি রয়েছে, গোলকাকৃতি থেকে দণ্ডাকৃতি ও সর্পিলাকার পর্যন্ত ব্যাপ্ত। পৃথিবীতে আবির্ভূত প্রথম প্রাণের ধরনের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া ছিল  এবং এর অধিকাংশ আবাসস্থলে এটি বিদ্যমান রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া মাটি,পানি,আম্লিক উষ্ণ ঝরনা,তেজস্ক্রিয় বর্জ্য এবং ভূত্বকের গভীর জীবমণ্ডলে বাস করে। ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর সাথে মিথোজীবীপরজীবী সংসর্গেও বাস করে। বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিত হয়নি এবং মাত্র প্রায় ২৭ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া পর্বের প্রজাতিগুলোকে গবেষণাগারে আবাদ করা যায়।

ব্যাকটেরিয়া
সময়গত পরিসীমা: Archean or earlier – Recent
EscherichiaColi NIAID.jpg
Scanning electron micrograph of Escherichia coli bacilli
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
ক্ষেত্র: ব্যাকটেরিয়া
Phyla[১]

Actinobacteria (high-G+C)
Firmicutes (low-G+C)
Tenericutes (no wall)

Aquificae
Deinococcus-Thermus
FibrobacteresChlorobi/Bacteroidetes (FCB group)
Fusobacteria
Gemmatimonadetes
Nitrospirae
PlanctomycetesVerrucomicrobia/Chlamydiae (PVC group)
Proteobacteria
Spirochaetes
Synergistetes

  • অজানা / অগোষ্ঠীভুক্ত

Acidobacteria
Chloroflexi
Chrysiogenetes
Cyanobacteria
Deferribacteres
Dictyoglomi
Thermodesulfobacteria
Thermotogae

ব্যাকটেরিয়া নিয়ে অধ্যয়ন ব্যাকটেরিওলজি হিসেবে জ্ঞাত, যেটি মাইক্রোবায়োলজির একটি শাখা।

প্রায় সকল প্রাণীর জীবন টিকে থাকার জন্য ব্যাকটেরিয়ার ওপর নির্ভরশীল যেহতু শুধু ব্যাকটেরিয়া ও কিছু আর্কিয়া ভিটামিন বি১২ সংশ্লেষ করার প্রয়োজনীয় জিনউৎসেচক ধারণ করে। ভিটামিন বি১২ কোবাল্যামিন নামেও পরিচিত। ব্যাকটেরিয়া এটি খাদ্য শৃঙখলের মাধ্যমে যোগান দেয়। ভিটামিন বি১২ জলে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন যেটি মানবদেহের প্রত্যেকটি কোষের বিপাকে জড়িত। এটি ডিএনএ সংশ্লেষণে এবং যুগপৎ ফ্যাটি অ্যসিডঅ্যামিনো এসিড বিপাকে একটি সহউৎপাদক। মায়েলিন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়ায় ভিটামিন বি১২ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সচরাচর এক গ্রাম মাটিতে ৪০ মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া এবং ১ মিলিলিটার মিঠা পানিতে এক মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া থাকে। পৃথিবীতে প্রায় আনুমানিক ৫x১০^৩০টি ব্যাকটেরিয়া আছে। যেগুলো একটি জৈববস্তুপুঞ্জ নির্মাণ করে যা সমুদয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর জৈববস্তুপুঞ্জকেও অতিক্রম করে। ব্যাকটেরিয়া পুষ্টিচক্রের অনেক পর্যায়ে পরিপোষক পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। যেমন, বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ। মৃতদেহ বিশ্লেষণ পুষ্টিচক্রের অন্তর্ভুক্ত; ব্যাকটেরিয়া এই প্রক্রিয়ার শটন বা পচন ধাপের জন্য দায়ী।

হাইড্রোথার্মাল ভেন্টস ও কোল্ড সিপস সমেত জীবসম্প্রদায়গুলোতে Extremophile ব্যাকটেরিয়া দ্রবীভূত যৌগকে যেমন, হাইড্রোজেন সালফাইড,মিথেন, শক্তিতে রুপান্তর করে বেঁচে থাকার জন্য দরকারি পরিতোষক পদার্থের যোগান দেয়।

মানুষ ও অধিকাংশ প্রাণীতে সর্বাধিক সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে ও একটি বৃহৎ সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া ত্বকে থাকে।

শরীরে অবস্থিত স্থূল সংখ্যাগুরু ব্যাকটেরিয়াই ইমিউনতন্ত্রের কার্যকারিতার ফলে অক্ষতিকর। যদিও অনেক ব্যাকটেরিয়া উপকারী বিশেষ করে অন্ত্রে, তথাপি কিছু ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতি রোগজনক এবং সংক্রামক ব্যাধির কারণ। যেমনঃ কলেরা, উপদংশ, এনথ্র্যাক্স, কুষ্ঠব্যাধি, বিউবোনিক প্লেগ ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত সর্বাপেক্ষা সাধারণ মারত্মক রোগসমূহ হলো শ্বসনতন্ত্রে সংক্রমণের ফলে ব্যাধিগুলো। শুধু যক্ষ্মারোগেই প্রতি বছরে প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ মারা যায়, বেশিরভাগই উপ-সাহারান আফ্রিকাতে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, আবার কৃষিক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ্যতাকে একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যায় পর্যবসিত করে। শিল্পক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এবং তেল পতন ভাঙনে, গাঁজন পদ্ধতিতে পনির ও দই উৎপাদনে এবং খননক্ষেত্রে সোনা, প্যালাডিয়াম, তামা ও অন্যান্য ধাতু পুনরুদ্ধারে ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ। আবার জৈব প্রযুক্তিতে, অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য যৌগ তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজনীয়।

ব্যাকটেরিয়াকে একদা Schizomycetes শ্রেণি গঠনকারী উদ্ভিদ হিসেবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আদিকোষী (প্রাককেন্দ্রিক) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।

প্রাণিকোষে ও অন্যান্য প্রকৃতকোষী কোষের মতো ব্যাকটেরিয়ায় নিউক্লিয়াস নেই এবং ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু নেই।

যদিও ব্যাকটেরিয়া পরিভাষাটি ঐতিহ্যগতভাবে সকল আদিকোষী জীবকে অন্তর্ভুক্ত করত, তথাপি বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তিত হয়ে যায়, ১৯৯০ এর দশকে আবিষ্কারের পর যে প্রোক্যারিওট অনেক প্রভেদযুক্ত দুটি জীবগোষ্ঠী দ্বারা গঠিত, যেগুলো একটি আদি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে জাত। এই বিবর্তনীয় রাজ্যদ্বয়কে ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়া বলা হয়।

 ব্যুৎপত্তিসম্পাদনা

গ্রিক শব্দ Bacterion = little rod থেকে শব্দটির উৎপত্তি ।

ব্যাকটেরিয়া শব্দটি নবীন ল্যাটিন ব্যাকটেরিয়াম এর বহুবচন, যেটি গ্রিক βακτήριον(ব্যাকটেরিয়ন) এর ল্যাটিন রূপ এবং βακτηρία(ব্যাকটেরিয়া) এর সংকোচন , যার মানে "লাঠি,দন্ড,বেত" । এহেন নামকরণের হেতু প্রথম আবিষ্কৃত ব্যাকটেরিয়া দন্ডাকৃতির ছিল ।[২][৩]

ব্যাকটেরিয়া সাধারণ বৈশিষ্টসমূহসম্পাদনা

  • ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত ছোট আকারের জীব, সাধারণত ০.২ - ৫ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ এরা আণুবীক্ষণিক (microscopic) ।
  • এরা এককোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে ।
  • ব্যাকটেরিয়া আদিকেন্দ্রিক (প্রাককেন্দ্রিক = Prokarytic) । কোষে 70s রাইবোজোম থাকে; কোনো ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু থাকে না ।
  • ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান পেপটিডোগ্লাইক্যান বা মিউকোপেপটাইড, সাথে পলিস্যাকারাইড, মুরামিক অ্যাসিড (Muramic acid) এবং টিকোয়িক অ্যাসিড (Teichoic acid) থাকে ।
  • এদের বংশগতীয় উপাদান (genetic material) হলো একটি দ্বিসূত্রক, কার্যত বৃত্তাকার ডিএনএ অণু, যা ব্যাকটেরিয়াল ক্রোমোজোম হিসেবে পরিচিত । এটি সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত, এতে ক্রোমোজোমাল হিস্টোন-প্রোটিন থাকে না । ব্যাকটেরিয়ার কোষে ডিএনএ অবস্থানের অঞ্চলকে নিউক্লিয়য়েড বলা হয় ।
  • এদের বংশবৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া দ্বি-ভাজন (binary fission) ।
  • এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর (autophytic) ।
  • এরা সাধারণত বেসিক রং ধারণ করতে পারে (গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ) ।
  • ফায ভাইরাসের প্রতি এরা খুবই সংবেদনশীল ।
  • এদের অধিকাংশই অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে ।
  • ব্যাক্টেরিয়া প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এন্ডোস্পোর বা অন্তরেণু গঠন করে । এ অবস্থায় এরা ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে ।
  • এদের কতক বাধ্যতামূলক অবায়বীয় অর্থাৎ অক্সিজেন থাকলে বাঁচতে পারে না। কতক সুবিধাবাদী অবায়বীয় অর্থাৎ অক্সিজেনের উপস্থিতিতেও বাঁচতে পারে । কতক বাধ্যতামূলক বায়বীয় অর্থাৎ অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না ।[৪]
  • আছে ঝিল্লিহীন নিউক্লিয়য়েড
  • যার মধ্যে রৈখিক ক্রোমোজোম নেই
  • আছে বৃত্তাকার ডিএনএ বা প্লাজমিড
  • ঝিল্লিযুক্ত (মেমব্রেন) কোনো অঙ্গাণু নেই এবং
  • নেই কোনো সাইটোকঙ্কাল

মানুষের দেহে কয়েক ট্রিলিয়ন কোষ আছে, তবে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা এর থেকে ১০-১০০ গুণ বেশি। গ্রাম স্টেইন দ্বারা দুরকম ব্যাকটেরিয়া সাধারণত আলাদা করা যায়।
সচরাচর এক গ্রাম মাটিতে ৪০ মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া এবং ১ মিলিলিটার মিঠা পানিতে এক মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া থাকে। পৃথিবীতে প্রায় আনুমানিক ৫×১০৩০টি ব্যাক্টেরিয়া আছে।[৫]

উৎপত্তি ও আদি বিবর্তনসম্পাদনা

আধুনিক ব্যাকটেরিয়ার পূর্বপুরুষেরা এককোষী অণুজীব ছিল এবং প্রায় চার বিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবীতে আবির্ভূত প্রথম জীবনের রূপ ছিল। প্রায় তিন বিলিয়ন সময় ধরে অধিকাংশ জীবই আণুবীক্ষণিক ছিল এবং ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়া পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তারকারী প্রাণের রুপ ছিল।

যদিও ব্যাকটেরিয়ার জীবাশ্ম বিদ্যমান আছে, যেমন স্ট্রোমালোইটস, তবু তাদের বৈশিষ্ট্যসূচক অঙ্গসংস্থানের ঘাটতি ব্যাকটেরিয়ার বিবর্তনের ইতিহাস পরীক্ষায় তাদেরকে ব্যবহৃত হওয়া রোধ করে বা একটি নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া প্রজাতির উদ্ভবের সময় নিরুপণে বাধা সৃষ্টি করে । তাসত্ত্বেও ব্যাকটেরিয়ার জাতিজনি পুনর্গঠনে জিন অনুক্রম ব্যবহৃত হতে পারে  আর এই গবেষণাগুলো নির্দেশ করে যে, ব্যাকটেরিয়া প্রথম অপসৃত হয় আর্কিয়া/প্রকৃতকেন্দ্রিক বংশধারা থেকে । ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়ার সবচেয়ে সাম্প্রতিক সাধারণ পূর্বপুরুষ সম্ভবত একটি হাইপারথার্মোফাইল(অত্যুষ্ণপ্রেমী) ছিল যেটি প্রায় ২.৫-৩.৫  বিলিয়ন বছর আগে বাস করত।  ব্যাকটেরিয়াও আর্কিয়া ও প্রকৃতকোষীর দ্বিতীয় বৃহৎ বিবর্তমূলক অপসারণে জড়িত ছিল।

অত্র, প্রকৃতকোষীরা প্রসূত হয় আদি ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতকেন্দ্রিক কোষের পূর্বপুরুষদের সাথে অন্তঃমিথোজীবী সম্পর্কে প্রবেশ করার পর, যেগুলো নিজেরা সম্ভবত আর্কিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল ।  এই সম্পর্ক আলফা-প্রোটিওব্যাকটেরিয়াল মিথোজীবীদের প্রারম্ভিক প্রকৃতকোষীদের দ্বারা গ্রাসকরণ বিজড়িত করে হয় মাইটোকন্ড্রিয়া অথবা হাইড্রোজিনোসাম গঠন করে, যেগুলো এখনো সব জ্ঞাত প্রকৃতকোষী জীবে পাওয়া যায় ( কখনো অত্যন্ত হ্রাসপ্রাপ্ত রূপে, যেমনঃ প্রাচীন অ্যামিটোকন্ড্রিয়াল প্রোটোজোয়াতে) ।

পরবর্তীতে, কিয়ৎ প্রকৃতকোষী যেগুলো ইতোমধ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াধারী ছিল, সেগুলোও সায়ানোব্যাকটেরিয়ার মতো জীবদের গ্রাস করে (Engulfing) এবং শৈবাল ও উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন পরিচালনা করে। এটি প্রাথমিক এন্ডোসিমবায়োসিস হিসাবে বিদিত।

অঙ্গসংস্থানসম্পাদনা

 
Bacterial morphology diagram

ব্যাকটেরিয়া আকার ও আকৃতির একটি বিস্তীর্ণ বৈচিত্র্য প্রদর্শন করে, যাকে অঙ্গসংস্থানবিদ্যা বলে। ব্যাকটেরিয়ার কোষ সুকেন্দ্রিক কোষের এক-দশমাংশ এবং দৈর্ঘ্যে সাধারণত ০.৫-৫.০ মাইক্রোমিটার। তবে কিছু ব্যাকটেরিয়া (যেমন- Thiomargarita namibiensis এবং Epulopiscium fishelsoni) অর্ধেক মিলিমিটারের বেশি দৈর্ঘ্য এবং খালি চোখে দৃশ্যমান।[৬] Epulopiscium fishelsoni দৈর্ঘ্যে ০.৭ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।[৭] সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ব্যাকটেরিয়া Mycoplasma গণের সদস্য, এরা দৈর্ঘ্যে মাত্র ০.৩ মাইক্রোমিটার হয় যা বৃহত্তম ভাইরাসগুলোর আকারের সমান।[৮] কিছু ব্যাকটেরিয়া আরও ক্ষুদ্র হয়। এই অতিকায় ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায়নি।[৯]
গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় cocci (একবচনে coccus। গ্রীক- kókkos ,দানা, বীজ। দণ্ডাকৃতি ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় bacilli (একবচনে bacillus, লাতিন- baculus, লাঠি)।


Vibrio ব্যাকটেরিয়া সামান্য বাঁকানো দন্ড বা কমাকৃতির মতো; অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া সর্পিলাকৃতি বা আঁটসাঁটভাবে কুন্ডলিত হতে পারে। একটি ক্ষুদ্রসংখ্যক অসচরাচর আকৃতি বর্ণিত আছে,  যেমনঃ তারকাকৃতি ব্যাকটেরিয়া ।

আকৃতির এই ব্যাপক বৈচিত্র্য ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ও কোষীয় কঙ্কাল দ্বারা নির্ধারিত হয় । ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি-বৈচিত্র গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি ব্যাকটেরিয়ার পরিতোষক পদার্থ আয়ত্ত করতে, তলসমূহে সংযুক্ত হতে, তরলের মধ্যে সাঁতরাতে, শিকারী হতে পালানো ইত্যাদির সক্ষমতাকে প্রভাবান্বিত করতে পারে।

অধিক ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি কেবল একক কোষ হিসাবেই বিরাজ করে, অন্যান্যরা বিশেষভাবে সজ্জিত থাকে।

Neissera জোড়া গঠন করে, স্ট্রেপটোকক্কাস শিকল গঠন করে এবং স্টেফাইলোকক্কাস একত্রে আঙ্গুরের গুচ্ছের মত পুঞ্জ গঠন করে। ব্যাকটেরিয়া বৃহত্তর বহুকোষীয় কাঠামো গঠন করতে পুঞ্জীভূত হতে পারে। যেমনঃ অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘায়ত তন্তু, মিক্সোব্যাকটেরিয়ার সমষ্টি, স্ট্রেপটোমাইসিসের জটিল হাইফি ইত্যাদি। শুধু নির্দিষ্ট কিছু শর্তাধীনে এমন বহুকোষীয় কাঠামোগুলো প্রায়ই দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, যখন অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকট থাকে, মিক্সোব্যাকটেরিয়া পারিপার্শ্বিক ব্যাকটেরিয়া কোষগুলোকে 'কোরাম সেনসিং' প্রক্রিয়ায়  শনাক্ত করতে পারে এবং প্রত্যেকে অপরের দিকে স্থানান্তরিত হয় এবং ৫০০ মাইক্রোমিটার দীর্ঘ পর্যন্ত ফ্রুটিং বডি গঠনে জমায়েত হয়। ফ্রুটিং বডিতে আনুমানিক ১০০,০০০ ব্যাকটেরিয়া কোষ থাকে।

গ্রাম পজিটিভ ব্যাক্টেরিয়াসম্পাদনা

এরা আদিমতর। এদের ঝিল্লির আবরণ একটি। পুরু পেপটিডোগ্লাইক্যান আস্তরণ তার বাইরে থাকে, যার সঙ্গে টিকোয়িক অ্যাসিড যুক্ত।

ব্যবহারসম্পাদনা

গ্রাম ন্যাগেটিভ ব্যাক্টেরিয়াসম্পাদনা

ঝিল্লির আবরণ দুটি। পাতলা পেপ্টাইডোগ্লাইকেন আস্তরণ দুটি ঝিল্লির মাঝখানে।

শ্রেণিবিভাগসম্পাদনা

(ক) আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়া চার প্রকার ৷ যথা:

১। কক্কাস (এসমস্ত ব্যাকটেরিয়া গোলাকার আকৃতির। এরা এককভাবে বা দলবেঁধে থাকতে পারে। এরা নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টি কারী ব্যাকটেরিয়া।)

২৷ ব্যাসিলাস (দন্ডাকার ব্যাকটেরিয়া)

৩৷ স্পাইরিলাম(সর্পিল আকৃতির ব্যাকটেরিয়া)

৪৷ কমা(এরা দেখতে কমার মত, উদাহরণ কলেরার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া)

(খ) রঞ্জনের ভিত্তিতে ২ প্রকার ৷

১৷ গ্রাম পজিটিভ (যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া ক্রিস্টাল ভায়োলেট রং ধরে রাখে সে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া )

২। গ্রাম নেগেটিভ (এরা ক্রিস্টাল ভায়োলেট রং ধরে রাখতে পারেনা)

সৃষ্টরোগসম্পাদনা

  • গরু-মহিষের যক্ষ্মা
  • ভেড়ার এনথ্র্যাক্স
  • হাঁস-মুরগির কলেরা ও গলাফোলা রোগ
  • গমের টুন্ডুরোগ
  • আখের আঠাঝরা রোগ
  • লেবুর ক্যাংকার
  • আলুর স্ক্যাব

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Bacteria (eubacteria)"Taxonomy Browser। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-১০ 
  2. "bacterium"on Oxford Dictionaries 
  3. "bacteria"Online Etymology Dictionary 
  4. জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র। হাসান বুক হাউস। ২০১৯। পৃষ্ঠা ১২৯–১৩০। 
  5. Whitman WB, Coleman DC, Wiebe WJ (১৯৯৮)। "Prokaryotes: the unseen majority"Proceedings of the National Academy of Sciences of the United States of America95 (12): 6578–83। doi:10.1073/pnas.95.12.6578PMID 9618454পিএমসি 33863 বিবকোড:1998PNAS...95.6578W 
  6. Schulz HN, Jorgensen BB (২০০১)। "Big bacteria"। Annu Rev Microbiol55: 105–37। doi:10.1146/annurev.micro.55.1.105PMID 11544351 
  7. Williams, Caroline (২০১১)। "Who are you calling simple?"। New Scientist211 (2821): 38–41। doi:10.1016/S0262-4079(11)61709-0 
  8. Robertson J, Gomersall M, Gill P (১৯৭৫)। "Mycoplasma hominis: growth, reproduction, and isolation of small viable cells"J Bacteriol.124 (2): 1007–18। PMID 1102522পিএমসি 235991  
  9. Velimirov, B. (২০০১)। "Nanobacteria, Ultramicrobacteria and Starvation Forms: A Search for the Smallest Metabolizing Bacterium"। Microbes and Environments16 (2): 67–77। doi:10.1264/jsme2.2001.67 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা