দীপংকর তালুকদার

বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

দীপংকর তালুকদার এমপি একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ যিনি পঞ্চম, সপ্তম, নবমএকাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মাননীয় সংসদ সদস্য

দীপংকর তালুকদার এমপি
পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনের
সংসদ সদস্য
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৩ জানুয়ারী ২০১৯
পূর্বসূরীঊষাতন তালুকদার
কাজের মেয়াদ
২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ – ৫ জানুয়ারি ২০১৪
পূর্বসূরীমনি স্বপন দেওয়ান
উত্তরসূরীঊষাতন তালুকদার
কাজের মেয়াদ
১২ জুন ১৯৯৬ – ১ অক্টোবর ২০০১
পূর্বসূরীপারিজাত কুসুম চাকমা
উত্তরসূরীমনি স্বপন দেওয়ান
কাজের মেয়াদ
২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬
পূর্বসূরীবিনয় কুমার দেওয়ান
উত্তরসূরীপারিজাত কুসুম চাকমা
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২০০৯ – ২০১৪
প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা
উত্তরসূরীবীর বাহাদুর উশৈ সিং
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1952-12-12) ১২ ডিসেম্বর ১৯৫২ (বয়স ৬৮)
চম্পকনগর গ্রাম, রাঙ্গামাটি, পূর্ব পাকিস্তান
(বর্তমান বাংলাদেশ)
নাগরিকত্বপাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
দাম্পত্য সঙ্গীবিটা তালুকদার
প্রাক্তন শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশারাজনীতিবিদ, ব্যাবসায়ী

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

দীপংকর তালুকদার ১৯৫২ সালের ১২ ডিসেম্বর পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার চম্পকনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হেমন্ত প্রসাদ তালুকদার ও মাতার নাম বিদুৎপ্রভা তালুকদার।[১] তিনি শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনসম্পাদনা

দীপংকর তালুকদার ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ মেয়াদে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-৭৪ মেয়াদে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি উক্ত জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন ও বর্তমানে এ দায়িত্ব পালন করছেন।[২]

১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠিত হলে তাকে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিটি, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় সংসদ হাউস কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।[৩]

দীপংকর তালুকদার ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ৪৯২২১ ভোট পেয়ে প্রথমবারেরমত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৪] পরবর্তীতে একই আসন থেকে জুন ১৯৯৬ সালে সপ্তম,[৫] ২০০৮ সালে নবম[৬]২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন।[৭][৮] তবে, ২০০১ সালে আষ্টম২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।[৯]

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

দীপংকর ব্যক্তিগত জীবনে বিটা তালুকদারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "হলফনামা"নির্বাচন কমিশন। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৯ 
  2. "রাঙামাটি আসনে নৌকায় দীপংকর"দৈনিক পূর্বকোণ। ২৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৯ 
  3. "বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব দীপংকর তালুকদার, এম.পি."তথ্য বাতায়ন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৯ 
  4. "৫ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. "৭ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. "৯ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা"জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ২০১৬-১১-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০১-০১ 
  7. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৯ 
  8. "একাদশ সংসদ নির্বাচন"সমকাল (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৯ 
  9. "দীপঙ্কর তালুকদার"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]