তারা হিন্দু দেবী কালীর একটি বিশিষ্ট রূপ। ইনি দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় মহাবিদ্যা। কালীর মতোই তারা ভীষণা দেবী। তারামায়ের আটটি রূপ হল-তারা(বামাকালী),উগ্ৰতারা,নীলসরস্বতী,একজটাতারা,তারিণীতারা,নিত্যাতারা,বজ্রাতারা,কামেশ্বরীতারা। বৌদ্ধধর্মেও তারাদেবীর পূজা প্রচলিত। তারার মূর্তিকল্পনা কালী অপেক্ষাও প্রাচীনতর।[১] পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে অবস্থিত দেবী তারার মন্দির বিখ্যাত।তিনি দেবী পার্বতীর এক উগ্র রূপ। একজন বিখ্যাত তারা-সাধক হলেন বামাক্ষ্যাপা

তারা
Tara Behala.JPG
কলকাতার একটি কালীপূজা মণ্ডপে পূজিত তারা প্রতিমা
দেবনাগরীतारा
সংস্কৃত লিপ্যন্তরTara
অন্তর্ভুক্তিমহাশক্তি,মহাবিদ্যা,পার্বতী
অস্ত্রখড়্গ

মূর্তিতত্ত্বসম্পাদনা

হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য তার হিন্দুদের দেবদেবী: উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ বইয়ে বলেছেন, তন্ত্রসারে দেবী তারার যে রূপ বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নরূপ:

তারা প্রত্যালীঢ়পদা অর্থাৎ শববক্ষে দক্ষিণপদ স্থাপিতা। ভয়ংকরী, মুণ্ডমালাভূষিতা, খর্বা, লম্বোদরী, ভীষণা, কটিতে ব্যাঘ্রচর্মাবৃতা, নবযৌবনা, পঞ্চমুদ্রা শোভিতা, চতুর্ভূজা, লোলজিহ্বা, মহাভীমা, বরদা, খড়্গ কাতরি দক্ষিণহস্তে ধৃতা, বামহস্তদ্বয়ে কপাল ও নীলপদ্ম, পিঙ্গলবর্ণ একজটাধারিণী, ললাটে অক্ষোভ্য প্রভাতসূর্যের মতো গোলাকার তিন নয়নশোভা, প্রজ্জ্বলিত চিতামধ্যে অবস্থিতা, ভীষণদন্তা, করালবদনা, নিজের আবেশে হাস্যমুখী, বিশ্বব্যাপ্ত জলের মধ্যে শ্বেতপদ্মের উপর অবস্থিতা।"[১]

তন্ত্রসারে তারার আরও একটি ধ্যানমন্ত্র বর্ণিত হয়েছে: "শ্যামবর্ণা ত্রিনয়না দ্বিভূজা, বরমুদ্রা ও পদ্মধারিণী, চতুর্দিকে বহুবর্ণা ও বহুরূপা শক্তির দ্বারা বেষ্টিতা, হাস্যমুখী মুক্তাভূষিতা, রত্নপাদুকায় পাদদ্বয় স্থাপনকারিণী তারাকে ধ্যান করবে।"[১] বৃহদ্ধর্ম পুরাণে তারাকে কেবল শ্যামবর্ণা ও কালরূপিণী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[২] তন্ত্রসারে তারাকেই মহানীল সরস্বতী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[৩]

ভারতচন্দ্র রায় তার অন্নদামঙ্গল কাব্যে তারার যে রূপবর্ণনা করেছেন, তা নিম্নরূপ:

 
তারা

তারা রূপ ধরি সতী হইলা সম্মুখ।।
নীলবরণা লোলজিহ্বা করালবদনা। সর্পবান্ধা ঊর্দ্ধ এক জটাবিভূষণা।।
অর্দ্ধচন্দ্র পাঁচখানি শোভিত কপাল। ত্রিনয়ন লম্বোদর পরা বাঘছাল।।
নীল পদ্ম খড়্গ কাতি সমুণ্ড খর্পর। চারি হাতে শোভে আরোহণ শিবোপর।।[৪]

তারাপীঠের ব্রহ্মশিলায় খোদিত তারামূর্তিটি দ্বিভূজা, সর্পযজ্ঞোপবীতে ভূষিতা এবং তার বাম কোলে পুত্ররূপী শিব শায়িত।[৫]

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. হিন্দুদের দেবদেবী: উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ, তৃতীয় খণ্ড, হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য, ফার্মা কেএলএম প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ২০০৭, পৃ. ২৮৭-৯৭ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "hinduderdebdebi" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  2. "যান্তরীক্ষে শ্যামবর্ণা সা তারা কালরূপিণী", বৃহদ্ধর্ম পুরাণ, মধ্য, ৬।১২৮
  3. তন্ত্রসার, কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ, বঙ্গবাসী, কলকাতা, পৃ. ৫১৪-১৫
  4. অন্নদামঙ্গল কাব্যে দশমহাবিদ্যার বর্ণনা, উইকিসংকলন
  5. পশ্চিমবঙ্গের পূজাপার্বন ও মেলা, অশোক মিত্র সম্পাদিত, চতুর্থ খণ্ড, ভারত সরকার, নতুন দিল্লি, পৃ. ৩২৭

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা