প্রধান মেনু খুলুন

বিষ্ণু

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্থিতির দেবতা।

বিষ্ণু (সংস্কৃত: विष्णु) হিন্দু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ দেবতা। আদি শংকর প্রমুখ স্মার্ত পণ্ডিতদের মতে, বিষ্ণু ঈশ্বরের পাঁচটি প্রধান রূপের অন্যতম।[৩][৪][৫]

বিষ্ণু
পালনকর্তা
Vishnu Kumartuli Park Sarbojanin Arnab Dutta 2010.JPG
দেবনাগরীविष्णु
সংস্কৃত লিপ্যন্তরviṣṇu
অন্তর্ভুক্তিদেব (ত্রিমূর্তি)
আবাসবৈকুণ্ঠ
মন্ত্রॐ नमो नारायणाया
ওঁ নমঃ নারায়ণায়
অস্ত্রসুদর্শন চক্র , কৌমোদকী গদা, নারায়ণ আশ্রম নারায়ণাস্ত্র ,বৈষ্ণবাস্ত্র [১]
প্রতীকসমূহশালগ্রাম, পদ্ম
সঙ্গীলক্ষ্মী
বাহনগরুড়[১]
উৎসবহোলি, রাম নবমী, কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী, নরসিংহ জয়ন্তী[২]

বিষ্ণু সহস্রনামে [৬] বিষ্ণুকে পরমাত্মাপরমেশ্বর বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই গ্রন্থে তাঁকে সর্ব জীব ও সর্ববস্তুতে পরিব্যাপ্ত সত্ত্বা; অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তথা অনাদি অনন্ত সময়ের প্রভু; সকল অস্তিত্বের স্রষ্টা ও ধ্বংসকারী; বিশ্বচরাচরের ধারক, পোষক ও শাসক এবং বিশ্বের সকল বস্তুর উৎসপুরুষ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

পুরাণ অনুসারে, বিষ্ণুর গাত্রবর্ণ ঘন মেঘের ন্যায় নীল (ঘনশ্যাম); তিনি চতুর্ভূজ এবং শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম ধারী। ভগবদ্গীতা গ্রন্থে বিষ্ণুর বিশ্বরূপেরও বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।[৭]

পুরাণে বিষ্ণুর দশাবতারেরও বর্ণনা রয়েছে। বিষ্ণুর এই দশ প্রধান অবতারের মধ্যে নয় জনের জন্ম অতীতে হয়েছে এবং এক জনের জন্ম ভবিষ্যতে কলিযুগের শেষলগ্নে হবে বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করেন। বিষ্ণু সহস্রনামে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার উক্তিতে বিষ্ণুকে "সহস্রকোটি যুগ ধারিনে" বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ, বিষ্ণুর অবতারগণ সকল যুগেই জন্মগ্রহণ করে থাকেন। ভগবদ্গীতা অনুসারে, ধর্মের পালন[৮] এবং দুষ্টের দমন ও পাপীর ত্রাণের জন্য বিষ্ণু অবতার গ্রহণ করেন। হিন্দুদের প্রায় সকল শাখাসম্প্রদায়ে, বিষ্ণুকে বিষ্ণু বা রাম, কৃষ্ণ প্রমুখ অবতারের রূপে পূজা করা হয়।[৯]

হিন্দুধর্মের ত্রিমূর্তি[১০][১১] ধারণায় ব্রহ্মাকে বিশ্বচরাচরের সৃষ্টির প্রতীক, বিষ্ণুকে স্থিতির প্রতীক ও শিবকে ধ্বংসের প্রতীক রূপে কল্পনা করা হয়েছে।[১২][১৩] ভাগবত পুরাণ মতে, ত্রিমূর্তির এই তিন দেবতার মধ্যে বিষ্ণুর পূজাই সর্বাপেক্ষা অধিক ফলপ্রদ।[১৪]বিষ্ণু পুরাণ অনুসারে ভগবান বিষ্ণুই সর্ব‌চ্চো ঈশ্বর । ভগবান বিষ্ণু থেকেই ব্রহ্মা এবং শিবের উৎপত্তি ।

==ধ্যানমন্ত্র==ওমঃ নমোঃ ব্রাক্ষন্য দেবায় গোঃ ব্রাক্ষন্য হিতায়ঃ চঃ জগঃধ্বিতায় কৃষ্ণাাায়ঃ নমঃ নমঃ

পরিচ্ছেদসমূহ

দশাবতারসম্পাদনা

বিষ্ণু নয়বার পৃথিবী উদ্ধারের জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং কলিযুগে কল্কি অবতার হয়ে আসবেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই দশটি অবতার যথাক্রমে মৎস্য, কূর্ম , বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, বলরাম (মতান্তরে কৃষ্ণ), বুদ্ধ এবং কল্কি। [১৫]

বৈষ্ণব ধর্মসম্পাদনা

যারা বিষ্ণুর উপাসনা করেন, তাদের বৈষ্ণব বলা হয়। শ্রীচৈতন্য বঙ্গদেশে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তন করেন। সাহিত্য, চিত্রকলা, ভাস্কর্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিষ্ণু সুবিদিত। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন মন্দির ও জাদুঘরে বিষ্ণুর অনেক মূর্তি আছে।[১৬]

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. Constance Jones; James D. Ryan (২০০৬)। Encyclopedia of Hinduism। Infobase Publishing। পৃষ্ঠা 491–492। আইএসবিএন 978-0-8160-7564-5 
  2. Muriel Marion Underhill (১৯৯১)। The Hindu Religious Year। Asian Educational Services। পৃষ্ঠা 75–91। আইএসবিএন 978-81-206-0523-7 
  3. The Sri Vaishnava Brahmans, K. Rangachari (1931)p. 2
  4. A. Berridale Keith, The Yajur Veda - Taittiriya Sanhita 1914, full text
  5. The Sanhitâ of the Black Yajur Veda with the Commentary of Mâdhava ‘Achârya, Calcutta (Bibl. Indica, 10 volumes, 1854-1899)
  6. Sri Vishnu Sahasaranama - Transliteration and Translation of Chanting
  7. Prabhupada, AC Bhaktivedanta। "Bhagavad-gita As It Is Chapter 11 Verse 3"। vedabase.net। ২০০৮-০৫-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-১০  "see the cosmic manifestation"
  8. Bhagavad Gita 4.7 "...at that time I descend Myself"
  9. Matchett, Freda (২০০০)। Krsna, Lord or Avatara? the relationship between Krsna and Visnu: in the context of the Avatara myth as presented by the Harivamsa, the Visnupurana and the Bhagavatapurana। Surrey: Routledge। পৃষ্ঠা 254। আইএসবিএন 0-7007-1281-X  p. 4
  10. For definition of trimurti as "the unified form" of Brahmā, Viṣṇu and Śiva and use of the phrase "the Hindu triad" see: Apte, p. 485.
  11. For the term "Great Trinity" in relation to the Trimurti see: Jansen, p. 83.
  12. For quotation defining the trimurti see Matchett, Freda. "The Purāṇas", in: Flood (2003), p. 139.
  13. For the Trimurti system having Brahma as the creator, Vishnu as the maintainer or preserver, and Shiva as the transformer or destroyer see: Zimmer (1972) p. 124.
  14. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৩ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১০ 
  15. http://www.onushilon.org/myth/hindu/bishnu.htm
  16. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=বিষ্ণু

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  • Translation by Richard W. Lariviere (১৯৮৯)। The Nāradasmr̥ti। University of Philadelphia। 
  • Patrick Olivelle. "The Date and Provenance of the Viṣṇnu Smṛti." Indologica Taurinensia, 33 (2007): 149-163.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা