প্রধান মেনু খুলুন

কিথ ফ্লেচার

ইংরেজ ক্রিকেটার

কিথ উইলিয়াম রবার্ট ফ্লেচার (ইংরেজি: Keith Fletcher; জন্ম: ২০ মে, ১৯৪৪) ওরচেস্টারশায়ারের ওরচেস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ও বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন কিথ ফ্লেচার[২] দলে তিনি মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ ব্রেক বোলিংয়েও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলীয় সঙ্গীগণ তাকে ‘এসেক্সের দৈত্য’ ডাকনামে আখ্যায়িত করেন।[১][৩]

কিথ ফ্লেচার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামকিথ উইলিয়াম রবার্ট ফ্লেচার
জন্ম (1944-05-20) ২০ মে ১৯৪৪ (বয়স ৭৫)
ওরচেস্টার, ওরচেস্টারশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ৫৯ ২৪
রানের সংখ্যা ৩২৭২ ৭৫৭
ব্যাটিং গড় ৩৯.৯০ ৩৯.৮৪
১০০/৫০ ৭/১৯ ১/৫
সর্বোচ্চ রান ২১৬ ১৩১
বল করেছে ৪৭.৩
উইকেট
বোলিং গড় ৯৬.৫০ -
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ১/৬ -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫৪/– ৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৫ জুলাই ২০১৭

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

নিজ গ্রাম কলডিকোটে খেলতে শুরু করেন তিনি। এরপর তিনি হার্টফোর্ডশায়ারের রয়স্টোনে চলে যান। সেখানে ক্রিকেট ক্লাবের দ্বিতীয় একাদশে ১৩ বছর বয়সে খেলতে নামেন। খুব শীঘ্রই তিনি প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পান। রয়স্টোনের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন ও প্রথম একাদশে অভিষেকলগ্নে সেরা বোলিং ৯/২০ করেন। সতেরো বছর বয়সে এসেক্সের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা শুরু করেন। ১৯৭৪-৭৫ ও ১৯৮৮ - এ দুই মৌসুমে এসেক্স দলের অধিনায়কত্ব করেন ও সফলকাম হন।

খেলোয়াড়ী জীবনসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৫৯ টেস্ট ও ২৪টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছেন তিনি। ৩৯.৯০ গড়ে ৩,২৭২ রান তোলেন।

১৯৬৮ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সময় ইয়র্কশায়ারের জনতা তার পরিবর্তে ফিল শার্পের অন্তর্ভুক্তি চেয়েছিল। স্লিপে অবস্থানকালে ক্যাচ ফেলে দেন। এছাড়াও প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন।

বিংশতিতম টেস্টে তিনি তার প্রথম শতক হাঁকান। এরপর তিনি প্রতি চার টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন। জাতীয় দলের নেতৃত্বে থাকা টনি লুইসটনি গ্রেগের সময়ে তার ব্যাটিং বিচ্ছুরণ ঘটে। কিন্তু ১৯৭৭ সালে মাইক ব্রিয়ারলি’র অধিনায়কত্বকালীন তিনি স্থিমিত হয়ে যান। ব্রিয়ারলি’র অবসর ও ইয়ান বোথামের স্বল্পকালীন নেতৃত্বের চার বছর পর ফ্লেচার পুণরায় স্বরূপে আবির্ভূত হন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে ভারতে সফরে দলের অধিনায়ক হিসেবে যান। কিন্তু সিরিজটি তার ভালভাবে সম্পন্ন হয়নি। দূর্বল আম্পায়ারিংয়ের ফলে দ্বিতীয় টেস্টে আউট হন। সিরিজের মাঝখানে জিওফ্রে বয়কট দেশে ফিরে যান। দলের অর্ধেক সদস্য গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্রোহী দলের সফরে চলে যায়। ভারতের বিপক্ষে ছয় টেস্টের সিরিজটিতে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় তার দল। এরপর শ্রীলঙ্কায় একমাত্র টেস্টে খেলতে যান। দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি পিটার মে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করান।

অবসরসম্পাদনা

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পান। এ সময়ে ইংল্যান্ড দল ২৬ টেস্টের মধ্যে পনেরোটিতে পরাজিত হয় ও মাত্র পাঁচটিতে জয় পায়। পরে তিনি এসেক্সের প্রথম একাদশের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে সাবেক দলীয় সঙ্গী গ্রাহাম গুচ তার স্থলাভিষিক্ত হন।

ক্রিকেট লেখক কলিন ব্যাটম্যানের মতে, কিথ ফ্লেচার দলীয় সঙ্গীদের কাছ থেকে বিশ্বস্ততা ও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হয়েছেন। ১৯৭৪ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনীত হন তিনি।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 68–69। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "England Players by ODI Caps"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৪ 
  3. Cricinfo.com
  4. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা