কাশ্মীর

দক্ষিণ এশিয়ার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত অঞ্চল

কাশ্মীর (বালটি, গোজরি, পোঞ্ছি / চিভালি, ডোগরি: कश्मीर; কাশ্মীরি: कॅशीर, کشیر; লাদাখি: ཀཤམིར; উইগুর: كەشمىر; শিনা: کشمیر) হল ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরপশ্চিমের একটি অঞ্চল। ১৯শ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত, কাশ্মীর শব্দটি ভৌগোলিকভাবে শুধু বিশাল হিমালয় এবং পীর পঞ্জল পর্বতমালার উপত্যকাকে নির্দেশনা করা হতো। আজ কাশ্মীর বলতে বোঝায় একটি বিশাল অঞ্চল যা ভারতীয়-শাসিত রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর (এর মধ্যে বিভাগসমূহ রয়েছে: কাশ্মীর উপত্যকা, জম্মু এবং লাদাখ), পাকিস্তানি-শাসিত গিলগিত-বালতিস্তান এবং আজাদ কাশ্মীর প্রদেশ এবং চীন-শাসিত আকসাই চীন এবং ট্রান্স-কারাকোরাম ট্রাক্ট অঞ্চলসমূহ নিয়ে গঠিত।[১][২][৩]

রাজনৈতিক মানচিত্র: কাশ্মীর অঞ্চলের জেলাসমূহ, পীর পঞ্জল পর্বতমালা, এবং কাশ্মীর উপত্যকা
নবম-সর্বোচ্চ: নঙ্গ পর্বত, আরোহণের জন্য মারাত্মক একটি পর্বত, এটি পাকিস্তানে গিলগিট-বালতিস্তানের কাশ্মীর অঞ্চলে অবস্থিত।

১ম সহস্রাব্দের প্রথমার্ধে কাশ্মীর অঞ্চল হিন্দুধর্ম ও পরে বৌদ্ধধর্মের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে, পরে নবম শতাব্দীতে কাশ্মীর শাইভিবাদের উত্থান ঘটে।[৪] ১৩৩৯ সালে শাহ মীর কাশ্মীরের প্রথম মুসলমান শাসক হন এবং সালতিন-ই-কাশ্মীর বা শাহ মীর রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন।[৫] কাশ্মীর ১৫৮৬ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যের অংশ ছিল,[৬] এবং পরে ১৮২০ সাল পর্যন্ত আফগান দুররানি সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।[৫] এই বছর রঞ্জিত সিঙের নেতৃত্বে শিখরা কাশ্মীর দখল করে।[৫] ১৮৪৬ সালে প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধে শিখরা পরাজিত হয় এবং জম্মুর রাজা গুলাব সিং অমৃতসর চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশদের কাছ থেকে এই অঞ্চল ক্রয় করে কাশ্মীরের নতুন শাসক হন। তার উত্তরসূরিরা ব্রিটিশদের অধীনে এই অঞ্চলের শাসন করে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পূর্ব পর্যন্ত। ভারত বিভাজনের পর সাবেক ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যের এই রাজ্যটি অমীমাংসিত অঞ্চলে পরিণত হয় এবং বর্তমানে এটি তিনটি দেশ কর্তৃক শাসিত হচ্ছে, দেশ তিনটি হল ভারত, পাকিস্তানচীন[১][২]

ব্যুৎপত্তিসম্পাদনা

কাশ্মীর শব্দটি প্রাচীন সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপত্তি হয়েছে এবং যাকে káśmīra নামে অভিহিত করা হয়।[৭] নীলমত পুরাণ অনুসারে সতী-সরস নামক হৃদের পানি থেকে এই উপত্যকার উৎপত্তি ঘটে।[৮][৯] অনিশ্চিত এক জনশ্রুতি অনুসারে কাস্‌মীর শব্দের স্থানীয় ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল পানি থেকে উদ্ভূত ভূমি।[১০]

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯২৫ সালে হরি সিং নামক এক হিন্দু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরের সিংহাসনে বসে। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের সময়েও মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মির সেই হিন্দু রাজার শাসনে ছিলো। সে সময় কাশ্মিরের প্রায় ৮০% মানুষ ছিল মুসলমান। দেশ বিভাগের সময় সেও কাশ্মিরের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। তা হতেও পারতো। কিন্তু হঠাৎই ১৯৪৭ সালের ২০ অক্টোবর কিছু পার্বত্য দস্যুদের আক্রমণের শিকার হয় দুর্ভাগা কাশ্মিরের অধিবাসীরা। সে সময় দস্যুদেরর হাত থেকে বাঁচতে ও ভারতীয় সেনাদের সাহায্য লাভের আশায় ভারতের সঙ্গে যোগ দেয় হরি সিং, অথচ কাশ্মিরের প্রায় ৮০% মুসলমান পাকিস্তানের সাথেই যোগ দেওয়ার পক্ষে ছিল। হরি সিং এর সেই ভারতের সাথে হাত মিলানোর অঘটন আজো কাশ্মিরিদের গলার কাঁটা হয়ে আছে। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর মহারাজা হরি সিং ‘ Instrument of Accession’ এ স্বাক্ষর করে যা পরের দিন ভারতের সাধারণ রাজ্যপ্রশাসক কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল। এই স্বাক্ষরের পরই হামলাকারীদের উচ্ছেদ করার জন্য ভারতীয় সৈন্যরা কাশ্মীরে প্রবেশ করে। কিন্তু তীব্র শীত থাকায় তারা সবাইকে বিতাড়িত করতে পারে নি। এমতাবস্থায়, ভারত বিষয়টিকে জাতিসংঘের নিকট উপস্থাপন করে। জাতিসংঘ তখন পাকিস্তান ও ভারত উভয়কেই তাদের দখলকৃত ভূমি খালি করে দিয়ে গণভোটের আয়োজন করতে বলে। কিন্তু ১৯৫২ সালে ভারত এ গণভোটকে নাকচ করে দেয়, কারণ তারা জানত যে গণভোটে জনগণের রায় ভারতের বিপক্ষেই যেত। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস নাগাদ জম্মুতে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল, সে সব নিয়ে জানতে গেলে এবং নিহত মুসলমানদের পরিসংখ্যান জানতে হলে তৎকালীন ব্রিটিশ সাংবাদিক, ব্রিটিশ পত্রিকাগুলির দ্বারস্থ হতে হয়।

   • ১৯৪৭ সালের ১৬ই জানুয়ারি হোরাস আলেক্সান্ডার ব্রিটিশ পত্রিকা 'The Spectator'-এ উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জম্মুতে নিহত মুসলিমের সংখ্যা ২ লক্ষেরও বেশি।
   • ১৯৪৮ সালের ১০ই আগস্ট বৃটিশ দৈনিক পত্রিকা 'The London Times'-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জম্মুতে কমপক্ষে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার মুসলিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
   • ‘The Statesman’ পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদক ইয়ান স্টেফেনস তাঁর 'Horned Moon' বইতেও জম্মুতে ২লক্ষের বেশি মুসলিম নিধনের পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছেন।

হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধধর্মসম্পাদনা

শাহ মীর রাজবংশসম্পাদনা

শামস-উদ-দীন শাহ মীর (শাসনকাল ১৩৩৯-৪২) ছিলেন কাশ্মীরের প্রথম মুসলমান শাসক এবং শাহ মীর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।

মুঘল শাসনামলসম্পাদনা

মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮৫-৮৬ সালে কাশ্মীরের আন্তঃ সুন্নী-শিয়া বিভাজনের সুযোগ দিয়ে কাশ্মীর জয় করেন।

আফগান শাসনামলসম্পাদনা

আফগান দুররানি রাজবংশ ১৭৫১ সাল থেকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে।

শিখ শাসনামলসম্পাদনা

১৮১৯ সালে কাশ্মীর উপত্যকা দুররানি সাম্রাজ্যের হাত থেকে পাঞ্জাবের রঞ্জিত সিঙের অধীনে শিখদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

করদ রাজ্যসম্পাদনা

১৯৪৭ ও ১৯৪৮সম্পাদনা

বর্তমান অবস্থা ও রাজনৈতিক বিভাজনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Kashmir: region, Indian subcontinent"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  2. "Kashmir territories profile" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  3. "Kashmir profile—timeline" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  4. Basham, A. L. (2005) The wonder that was India, Picador. Pp. 572. আইএসবিএন ০-৩৩০-৪৩৯০৯-X, p. 110.
  5. Imperial Gazetteer of India, volume 15. 1908. Oxford University Press, Oxford and London. pp. 93–95.
  6. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; :1 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. "A Comparative Dictionary of the Indo-Aryan Languages"। Dsalsrv02.uchicago.edu। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  8. আকবর, এম. জে. (১৯৯১), Kashmir, behind the vale, ভাইকিং, পৃষ্ঠা ৯ 
  9. রাইনা, মোহিনী কসবা (২০১৩), Kashur The Kashmiri Speaking People, ট্রাফোর্ড পাবলিশিং, পৃষ্ঠা ৩–, আইএসবিএন 978-1-4907-0165-3 
  10. স্নেডেন, ক্রিস্টোফার (২০১৫), Understanding Kashmir and Kashmiris, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, পৃষ্ঠা ২২–, আইএসবিএন 978-1-84904-342-7 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা