আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলটি কার্যত পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্ব-শাসিত অঞ্চল। এই অঞ্চলের দক্ষিণে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ, পশ্চীমে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ; উত্তরে গিলগিট-বাল্টিস্তান প্রদেশ এবং পূর্বে ভারত-অধিকৃত কাশ্মীর অবস্থিত।

আজাদ কাশ্মীর
آزاد جموں و کشمیر
আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর
250px
আজাদ কাশ্মীরের অফিসিয়াল সীলমোহর
সীলমোহর
আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে লাল রঙে দেখানো হয়েছে। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত গিলগিত-বালতিস্তান সাদা রঙে দেখানো হয়েছে।
আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে লাল রঙে দেখানো হয়েছে। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত গিলগিত-বালতিস্তান সাদা রঙে দেখানো হয়েছে।
স্থানাঙ্ক: ৩৪°১৩′ উত্তর ৭৩°১৭′ পূর্ব / ৩৪.২২° উত্তর ৭৩.২৮° পূর্ব / 34.22; 73.28স্থানাঙ্ক: ৩৪°১৩′ উত্তর ৭৩°১৭′ পূর্ব / ৩৪.২২° উত্তর ৭৩.২৮° পূর্ব / 34.22; 73.28
রাজনৈতিক এককআজাদ জম্মু ও কাশ্মীর
প্রতিষ্ঠিত১৯৪৭
রাজধানীমুজাফ্ফরাবাদ
বৃহত্তম শহরনতুন মিরপুর
সরকার
 • ধরনপাকিস্তানি নিয়ন্ত্রণাধীন স্বশাসিত রাষ্ট্র[১][২][৩][৪][৫]
 • শাসকবিধানসভা
 • গভর্নরমাসুদ খান
 • চিফ মিনিস্টারফারুক হায়দার খান
আয়তন
 • মোট১৩,২৯৭ বর্গকিমি (৫,১৩৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০৮; ধারণাকৃত)
 • মোট৪৫,৬৭,৯৮২
 • জনঘনত্ব৩৪০/বর্গকিমি (৮৯০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলPKT (ইউটিসি+৫)
আইএসও ৩১৬৬ কোডPK-JK
প্রধান ভাষাসমূহ
বিধানসভার আসন৪৯
জেলার সংখ্যা১০
শহরের সংখ্যা১৯
ইউনিয়ন কাউন্সিলের সংখ্যা১৮২
ওয়েবসাইটwww.ajk.gov.pk

পূর্বতন দেশীয় রাজ্য কাশ্মীরের এক অংশ উত্তর-কারাকোরাম ভূমিভাগ চীনের হাতে অর্পণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অঞ্চল দুই ভাগে বিভক্ত: উত্তর অঞ্চলআজাদ কাশ্মীর। এই অঞ্চলের অধিকার নিয়ে ১৯৪৭ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই অঞ্চলটিকে ভারত পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর নামে চিহ্নিত করে।[৬]

ভূগোলসম্পাদনা

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের উত্তর অংশ হিমালয়ের নিম্নাঞ্চল নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে রয়েছে জমগড় বিন্দু (৪,৭৩৪ মিটার বা ১৫,৫৩১ ফুট)। যাই হোক, নিলুম উপত্যকার হ্যারি পর্বত বিন্দু হল এই রাজ্যের সর্বোচ্চ বিন্দু। আজাদ কাশ্মীরের বৈশিষ্ট হল এটি উর্বর, সবুজ ও পর্বতসমৃদ্ধ উপত্যকা, যা এই অঞ্চলকে উপমহাদেশের অন্যতম সুন্দর অঞ্চল করে তুলেছে।

এই অঞ্চলে শীত ও গ্রীষ্ম দুই সময়েই বৃষ্টিপাত হয়। মুজাফফারাবাদ ও পাট্টান হল পাকিস্তানের সবচেয়ে শীতলতম স্থান। সমগ্র অঞ্চলজুড়ে গড় বৃষ্টিপাত ১,৪০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে যায়, যা মুজাফফরবাদের নিকটবর্তী স্থানে সর্বাধিক গড় বৃষ্টিপাত। গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও বরফ গলার কারণে জিলুম ও লিপা নদীতে মৌসুমী বন্যা দেখা দেয়।

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯২৫ সালে হরি সিং কাশ্মীরের রাজা হন।  ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন কাশ্মীরের শাসক। ১৯৪৭ সালে ভারত-বিভাজনের অন্যতম শর্ত ছিল, ভারতের দেশীয় রাজ্যের রাজারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবেন, অথবা তারা স্বাধীনতা বজায় রেখে শাসনকাজ চালাতে পারবেন। ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তান-সমর্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার বিদ্রোহী নাগরিক এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পশতুন উপজাতিরা কাশ্মীর রাজ্য আক্রমণ করে।

কাশ্মীরের রাজা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও গভর্নর-জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে সহায়তা চাইলেন। কাশ্মীরের রাজা ভারতভুক্তির পক্ষে স্বাক্ষর করবেন, এই শর্তে মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরকে সাহায্য করতে রাজি হন। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর হরি সিং কাশ্মীরের ভারতভুক্তির চুক্তিতে সই করেন। ২৭ অক্টোবর তা ভারতের গভর্নর-জেনারেল কর্তৃক অনুমোদিত হয়। চুক্তি সই হওয়ার পর, ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ভারত বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপন করে। রাষ্ট্রসংঘ ভারত ও পাকিস্তানকে তাদের অধিকৃত এলাকা খালি করে দিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের প্রস্তাব দেয়। ভারত প্রথমে এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত গণপরিষদ ভারতভুক্তির পক্ষে ভোট দিলে ভারত গণভোটের বিপক্ষে মত দেয়। ভারত ও পাকিস্তানে রাষ্ট্রসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি তত্ত্বাবধানে আসে। এই গোষ্ঠীর কাজ ছিল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা ও তদন্তের রিপোর্ট প্রত্যেক পক্ষ ও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে কাশ্মীর থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহার ও গণভোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত গণভোটে অসম্মত হয় এবং এজন্য পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহারে অসম্মত হয়। ভারত গণভোট আয়োজনে অসম্মত হয় এজন্য যে, এটা নিশ্চিত ছিল যে গণভোটে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের বেশিরভাগ ভোটারই পাকিস্তানের পক্ষে ভোটদান করবেন ও এতে কাশ্মীরে ভারত ত্যাগের আন্দোলন আরো বেশি জোড়ালো হবে।

মুসলিম প্রধান কাশ্মীর ও অন্যান্য কারণকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়। এরপর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ হয়।

প্রশাসনিক বিভাজনসম্পাদনা

এটি ৩টি বিভাগে বিভক্ত। উত্তরে মুজাফ্ফরাবাদ, মধ্যভাগে পুঞ্চ এবং দক্ষিণভাগে মিরপুর, যা দশটি জেলায় বিভক্ত।[৭]

বিভাগ জেলা আয়তন (কিমি²) জনসংখ্যা (২০১৭-এর আদমশুমারি) সদর দপ্তর
মিরপুর মিরপুর ১,০১০ ৪৫৬,২০০ নতুন মিরপুর শহর
কোতলি ১,৮৬২ ৭৭৪,১৯৪ কোতলি
ভিম্বার ১,৫১৬ ৪২০,৬২৪ ভিম্বার
মুজাফফারাবাদ মুজাফফারাবাদ ১,৬৪২ ৬৫০,৩৭০ মুজাফফারাবাদ
হাট্টিয়ান ৮৫৪ ২৩০,৫২৯ হাট্টিয়ান বালা
নীলম উপত্যকা ৩,৬২১ ১৯,২৫১ আথমুকাম
পুঞ্চ পুঞ্চ ৮৫৫ ৫০০,৫৭১ রাওয়ালকোট
হাভেলি ৬০০ ১৫২,১২৪ কাহুতা
বাগ ৭৬৮ ৩৭১,৯১৯ বাগ
সুধানতি ৫৬৯ ২৯৭,৫৮৪ পালান্দ্রি
মোট ১০টি জেলা ১৩,২৯৭ ৪,০৪৫,৩৬৬ মুজাফফারাবাদ

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Richard M. Bird; François Vaillancourt (ডিসেম্বর ৪, ২০০৮)। Fiscal Decentralization in Developing Countries। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 127–। আইএসবিএন 978-0-521-10158-5 
  2. Bose, Sumantra (২০০৯)। Contested Lands। Harvard University Press। পৃষ্ঠা 193। আইএসবিএন 978-0-674-02856-2Azad Kashmir – 'Free Kashmir,' the more populated and nominally self-governing part of Pakistani-controlled Kashmir 
  3. "Territorial limits"Herald। মে ৭, ২০১৫। জুলাই ২৫, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৪, ২০১৫These are self-ruled autonomous regions. But restrictions apply. 
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; brit নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  5. "Kashmir profile"BBC News। নভেম্বর ২৬, ২০১৪। জুলাই ১৬, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৪, ২০১৫ 
  6. PoK students want seats in IIM/IITsRediff.com, 2006-05-23
  7. "Administrative Setup."। ajk.gov.pk। এপ্রিল ৯, ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯