সাদুল্লাপুর উপজেলা

গাইবান্ধা জেলার একটি উপজেলা

সাদুল্লাপুর বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

সাদুল্লাপুর
উপজেলা
সাদুল্লাপুর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
সাদুল্লাপুর
সাদুল্লাপুর
বাংলাদেশে সাদুল্লাপুর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°২৩′৫″ উত্তর ৮৯°২৮′৩″ পূর্ব / ২৫.৩৮৪৭২° উত্তর ৮৯.৪৬৭৫০° পূর্ব / 25.38472; 89.46750স্থানাঙ্ক: ২৫°২৩′৫″ উত্তর ৮৯°২৮′৩″ পূর্ব / ২৫.৩৮৪৭২° উত্তর ৮৯.৪৬৭৫০° পূর্ব / 25.38472; 89.46750 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরংপুর বিভাগ
জেলাগাইবান্ধা জেলা
আসনগাইবান্ধা-৩
আয়তন
 • মোট২৩০.১২ কিমি (৮৮.৮৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)[১]
 • মোট২,৬৬,০৩৫
 • জনঘনত্ব১২০০/কিমি (৩০০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৩৫.০৭%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৫৭১০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫৫ ৩২ ৮২
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
আবু হোসেন সরকার তোরন,সাদুল্লাপুর,গাইবান্ধা।

অবস্থানসম্পাদনা

গাইবান্ধা জেলা সদর হতে ১১কি:মি: পশ্চিমে অবস্থিত এই উপজেলার উত্তরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলামিঠাপুকুর উপজেলা, পূর্বে গাইবান্ধা সদর উপজেলা, দক্ষিণে পলাশবাড়ী উপজেলা এবং পশ্চিমে এবং রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা অবস্থিত। এ উপজেলাটি প্রায় ২৫ ডিগ্রী ১৭ ফুট ও ২৫ ডিগ্রী ৩১ ফুট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯ ডিগ্রী ২০ ফুট ও ৮৯ডিগ্রী ৩২ ফুট পুর্ব দ্রাঘিমাংশর মধ্যে অবস্থিত।[২]

ইতিহাসসম্পাদনা

কথিত আছে বহুপুর্বে এই এলাকা জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল । হিন্দু রাজা ও জমিদারদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। এক সময় সাইদুল্লাহ নামে এক ইসলাম ধর্মীয় সাধক এই এলাকায় এসে ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাজ শুরু করেন । তার নামানুসারে উপজেলার নাম রাখা হয় সাদুল্লাপুর। [২]

প্রশাসনিক এলাকাসম্পাদনা

  • গ্রাম : ১৬৮টি
  • মৌজা : ১৬৪টি
  • ইউনিয়ন : ১১টি
  • পৌরসভা : নাই[২]

উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ:

  • ১নং রসুলপুর ইউনিয়ন।
  • ২নং নলডাঙ্গা ইউনিয়ন।
  • ৩নং দামোদরপুর ইউনিয়ন।
  • ৪নং জামালপুর ইউনিয়ন।
  • ৫নং ফরিদপুর ইউনিয়ন।
  • ৬নং ধাপেরহাট ইউনিয়ন।
  • ৭নং ইদিলপুর ইউনিয়ন।
  • ৮নং ভাতগ্রাম ইউনিয়ন।
  • ৯নং বনগ্রাম ইউনিয়ন।
  • ১০নং কামারপাড়া ইউনিয়ন।
  • ১১নং খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন।[৩]

ভাষা ও সংস্কৃতিসম্পাদনা

সাদুল্লাপুর উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে, এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। ঘাঘট নদীর উপকূলে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলের মানুষের ভাষা অত্যন্ত প্রাণচঞ্চল, কথার মধ্যে অনেকটাই মধুরতা রয়েছে, ভাষার মধ্যে এমন কোন কাঠিন্য ভাব নেই যা অন্য এলাকার মানুষের বুঝতে কষ্ট হয়।

ঘাঘট নদী উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কথিত আছে বহু পুর্বে এই এলাকা জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। হিন্দু রাজা ও জমিদারদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। সাদুল্লাপুরের ৮৫% মুসলমান ও অবশিষ্ট হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। এলাকার ৮০% লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। অন্যান্যরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। বহু পূর্ব হতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহনকারী এ উপজেলা সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। শিক্ষার দিক দিয়েও সাদুল্লাপুর উপজেলা পিছিয়ে নেই। শিক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় লোকদের উৎসাহে ও পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ কতকগুলি চিত্তবিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উপজেলার মধ্যে প্রায় ৬ কি.মি. রেলপথ রয়েছে।

ওরাওঁ এই নামের আদিবাসীরা নৃতাত্ত্বিক বিচারে আদি-অষ্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্থেলীয়) জনগোষ্ঠীর উত্তর পুরুষ। এদের গায়ের রং কালো, নাক চ্যাপটা, চুল কালো ও কুঞ্চিত, উচ্চতা মাঝারি। উপমহাদেশে ওরাওদের প্র্রধান বসতি উড়িয্যা, ছোটনাগপুর, রাজমহল ও বিহারের সন্নিহিত অঞ্চলে। নৃতত্ত্ববিদগণের মতে একই অঞ্চলের মুন্ডা, মালপাহাড়িসাঁওতালদের সংঙ্গে ওরাওদের ঘনিষ্ঠ জনতাত্ত্বিক সম্পর্ক রয়েছে। ভাষার দিক থেকেও এরা সবাই একই অস্ট্রিক পরিবারের অন্তভূর্ক্ত। কারো কারো মতে ‌‌কুরুখ ভাষার বিভাজিত একটি অংশের টোটেম রূপে ওরাওঁ কথাটা এসেছে। ওরাওঁআদিবাসীরা ঠিক কবে কি কারণে বাংলাদেশে এসে বসবাস শুরু করে সে সম্পর্ক নিশ্চিত কোন তথ্য নেই। বতর্মানে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলা ওরাওদের প্রধান বসতিস্থল। এছাড়াও গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুরের রসুলপুর ইউনিয়নে ১৫টি ওরাও পরিবার বসবাস করছে। তবে ১৮৮১ সালের লোকগণনায় দেখা যায় যে, উত্তরবঙ্গ স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে চিহ্নিত না করার কারণে বহুদিন এদের সঠিক জনসংখ্যা নির্ধারণ করা যায়নি। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে ওরাওঁ জনসংখ্যা নির্ধারণ করা যায়নি। ১৯৯১ সালের আদমগুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশে ওরাওঁ জনসংখ্যা ছিল প্রায় ছয় হাজার।[৪]

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

২,৬৬,০৩৫ জন (প্রায়) [৫]

পুরুষঃ ১,৩৪,৯৭৮ জন (প্রায়)[৫]

মহিলাঃ ১,৩১,০৫৭ জন(প্রায়)[৫]

মোট ভোটার: ১,৭২,০৫৬ জন[৬]

শিক্ষাসম্পাদনা

  • শিক্ষার হার : ৩৫.০৭% [৭]
    • পুরুষ : ৪০.০৪%
    • মহিলা : ৩০.০৮%
  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১৯৬টি[২]
  • বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১০৪টি
  • জুনিয়র বিদ্যালয়: ১৩টি
  • উচ্চ বিদ্যালয়(সহশিক্ষা): ৩৩টি
  • উচ্চ বিদ্যালয়(বালিকা): ১৯টি
  • উচ্চ বিদ্যালয়(বালক): ২টি
  • এবতেদায়ী মাদ্রাসা: ৬৮টি
  • দাখিল মাদ্রাসা: ৩৮ টি
  • আলিম মাদ্রাসা: ৫টি
  • ফাজিল মাদ্রাসা: ১টি
  • কলেজ (শিক্ষা): ৬টি
  • কলেজ (বালিকা): ১টি
  • কারিগরী কলেজ(সহশিক্ষা): ২টি
  • কারিগরী কলেজ মহিলা(সহশিক্ষা): ১টি

উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসম্পাদনা

  • সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজ
  • সাদুল্যাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
  • সাদুল্লাপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
  • সাদুল্লাপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়
  • সাদুল্লাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • খোর্দ্দ কোমরপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
  • জয়েনপুর আদর্শ কলেজ
  • ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
  • কামারপাড়া মহাবিদ্যালয়
  • কেশালীডাঙ্গা কে এন উচ্চ বিদ্যালয়
  • জিনিয়াস ক্যাম্পাস স্কুল এন্ড কলেজ
  • সাদুল্লাপুর প্রি ক্যাডেট স্কুল
  • নলডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজ
  • নলডাঙ্গা উমেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়
  • জিনিয়াস কিন্ডার গার্টেন এন্ড স্কুল
  • ইদ্রাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়
  • জিনিয়াস এডুকেয়ার

বাজারসম্পাদনা

হাটবাজারের সংখ্যা: ৩৬টি[৮]

বেশ কিছু বড় ও লোক্সমাগম্পুর্ণ হাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে বসে থাকে। এগুলোর মধ্যে

  • সাদুল্লাপুর হাটবাজার
  • নিয়ামত নগর ( লাল বাজার )
  • গোলাম মন্ডলে রহাট
  • মহিষবান্দি বাজার
  • নলডাঙ্গা হাটবাজার
  • কান্তনগর বাজার
  • নলডাঙ্গা কাঁচারী বাজার
  • নাজবাড়ী বাজার
  • মীরপুর হাটবাজা
  • ঘেগার বাজার
  • ধাপেরহাট হাটবাজার
  • বকসীগঞ্জ বাজারে
  • মহিপুর বাজার
  • পচার বাজার
  • কামারপাড়া হাটবাজার
  • ঢোল ভাঙ্গা হাটবাজার
  • খোর্দ্দকোমরপুর বাজার
  • ইদ্রাকপুর বাজার
  • মাদারহাট
  • আলিনার বাজার ( জনপ্রিয় ) ।

কৃতী ব্যক্তিত্বসম্পাদনা

  1. আবু হোসেন সরকার(জন্ম:১৮৯৪, মৃত্যু: ১৯৬৯)
  2. তুলসী লাহিড়ী(জন্ম: ১৮৯৭, মৃত্যু: ১৯৫৯)
  3. আতাউর রহমান বাদশা মিয়া(জন্ম:১৯৩৬ -মৃত্যু ১৯৯০)
  4. আবু তালেব মিঞা(জন্ম:১৯৩৬-মৃত্যু ২০০৭)
  5. প্রফেসর ড. এম.আর সরকার(প্রকৃত শিক্ষাবিদের প্রতিকৃতি)[৯]
  6. এজাজুল ইসলাম(অভিনেতা,ডাক্তার)

দর্শনীয় স্থানসম্পাদনা

  • নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
  • পীরের হাট মাজার
  • শাহজামাল চৌধুরী এর মাজার
  • জামালপুর শাহী মসজিদ
  • কামাড়পাড়া জমিদার বাড়ি
  • চতরা বিল
  • খেরুয়ার দিঘী
  • পাকুড়িয়ার বিল (ভাতগ্রামে অবস্থিত যা, গাইবান্ধা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিল)
  • ঘেগার বাজার মাজার

নদ নদীসম্পাদনা

ঘাঘট সাদুল্লাপুরের একমাত্র নদী

স্বাস্থ্যসম্পাদনা

  • উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র: ১টি (৫০ শয্যা বিশিষ্ট)[২]
  • স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র: ৬টি
  • পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র: ১০টি
  • কমিউনিটি ক্লিনিক: ১০টি

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে সাদুল্লাপুর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. http://sadullapur.gaibandha.gov.bd
  3. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  4. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  5. ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী
  6. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিস
  7. (২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী)
  8. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  9. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৪ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা