শাহজাদা দানিয়াল যিনি দুলাল গাজী নামেও পরিচিত ছিলেন বিহারের সাবেক হাকিম যখন তার পিতা আলাউদ্দীন হোসেন শাহ শাহী বাংলার সুলতান ছিলেন। ১৪৯৮ সালের কামতা বিজয়ে অংশগ্রহণ করে দানিয়াল তার পিতার অধীনে সেই বিজিত রাজ্য নিজের মৃত্যু পর্যন্ত শাসন করেন।

শাহজাদা দানিয়াল
বিহারের হাকিম
রাজত্ব১৪৯৫–১৪৯৮
কামতার হাকিম
রাজত্ব১৪৯৮-১৫১৫
পূর্বসূরিনীলাম্বর সেন
উত্তরসূরিহারুপ নারায়ণ
জন্মদানিয়াল বিন হোসেন
শাহী বাংলা
মৃত্যুকামতা রাজ্য
রাজবংশহোসেন শাহী রাজবংশ
পিতাআলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ধর্মসুন্নি ইসলাম

প্রারম্ভিক জীবন এবং পটভূমি

সম্পাদনা

শাহজাদা দানিয়াল পঞ্চদশ শতকে একটি বাঙ্গালী সুন্নি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৪৯৪ সালে, তার পিতা হোসেন শাহী বাংলার উজির ছিলেন এবং সুলতান শামসউদ্দিন মোজাফফর শাহকে পরাজিত করে সালতানাতের আরেকটি রাজবংশ স্থাপন করেন। দানিয়ালের সতেরোটি ছোট ভাই এবং অন্তত এগারোটি বোনের মাঝে নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ এবং গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ পরবর্তীতে বাংলার সুলতান হন।

কর্মজীবন

সম্পাদনা

বাংলা সালতানাতের সম্মানিত শাহজাদা হিসাবে, দানিয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নিকটবর্তী জৌনপুর সালতানাতের পরাজিত সুলতান হোসেন শাহ শরকীকে আশ্রয় দেওয়ায় ১৪৯৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লী সালতানাতের পাঠান সুলতান সিকান্দার লোদি বাংলার দিকে একটি অভিযান শুরু করেন। আলাউদ্দিন হোসেন শাহ বাংলার সেনাবাহিনীর সেনাপতির দায়িত্ব দানিয়ালকে প্রদান করেন। উভ​য় সালতানাতের বাহিনী বাঢ় নগরীতে সাক্ষাৎ করে, এবং সেনাপতি দানিয়াল দুই পক্ষের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্থাপন করতে সফল হন। এভাবে দানিয়াল বাংলাকে একটি সম্ভাবিত বহিরাক্রমণ থেকে বাঁচাতেও সফল হয়েছিলেন। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাঢ় নগরীকে দুই সালতানাতের সীমানা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।[১]

 
মুঙ্গের শহরের শাহ নফার মাজারের নির্মাণকাজে দানিয়ালকে কৃতিত্ব দেয়া হয়।

৯০৩ হিজরিতে (১৪৯৭-১৪৯৮ খ্রীষ্টাব্দ), দানিয়াল মুঙ্গের কেল্লায় একটি খিলান নির্মাণ করেছিলেন এবং দরগাহ-ই-শাহ নফা (পীর নফা নামেও পরিচিত) এর পূর্ব দেয়ালে এই ঘটনার উল্লেখ শিলালিপিতে রক্ষিত আছে।[২] দানিয়ালকে নিয়ে বহু স্থানীয় কিংবদন্তিও আছে,[৩] এবং অনেকেরই ধারণা যে দরগাহের নির্মাতাও দানিয়াল ছিলেন।[৪]

১৪৯৮ সালে, তিনি আসামের হিন্দু খেন রাজবংশের রাজা নীলাম্বরের বিরুদ্ধে শাহ ইসমাঈল গাজীর সেনাপতিত্বে কামতা বিজয়ে অংশগ্রহণ করেন।[৫] বিজয়ের পরে, তার পিতা তাকে সেখানকার হাকিম নিযুক্ত করেন; যার বিস্তৃতি হাজো পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং মধ্য আসামেও তাদের প্রসারিত করার ইচ্ছা ছিল। [৬]

ঈদুল আযহা ৯০৫ হিজরীতে (জুলাই ১৫০০), দানিয়াল বঙ্গে একটি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।[৭] দানিয়াল প্রায় ১৭ বছর কামতা শাসন করেছিলেন। [৮] হারুপ নারায়ণের নেতৃত্বে আসামের দ্বিতীয় বারো-ভূইয়াঁদের থেকে ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধের ফলস্বরূপ, দানিয়াল এবং তার উজিরদের ১৫১৫ সালের মধ্যে পরাস্ত করে হত্যা করা হয়, এইভাবে এই এলাকার উপর সালতানাতের আধিপত্যের অবসান ঘটে। তবে দানিয়ালের উত্তরসূরি হিসাবে মুসুন্দার গাজী কামরূপে হুকুমত গঠন করেন। [৯]

আরও দেখুন

সম্পাদনা

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. Majumdar, R.C. (ed.) (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp.143, 192
  2. Ahmad Hasan Dani"Analysis of the Inscriptions"Asiatic Society Of Pakistan Vol-ii। পৃষ্ঠা 47। 
  3. "Pir Shah Nafah Shrine"Government of Bihar। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২২ 
  4. "MUNGER – Historical Pointers"। National Informatics Centre। Archived from the original on ১০ এপ্রিল ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০০৯ 
  5. Majumdar, R.C. (ed.) (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp.215-20
  6. Desai, Ziyaud-Din A. (২০০৩)। Purā-prakāśa: Recent Researches in Epigraphy, Numismatics, Manuscriptology, Persian Literature, Art, Architecture, Archaeology, History and Conservation : Dr. Z.A. Desai Commemoration Volume। Bharatiya Kala Prakashan। পৃষ্ঠা 244। আইএসবিএন 978-81-8090-007-5 
  7. Ekhtiar, Maryam, সম্পাদক (২০১১)। "240. Dedicatory Inscription from a Mosque"। Masterpieces from the Department of Islamic Art in the Metropolitan Museum of ArtNew York City: Metropolitan Museum of Art। পৃষ্ঠা 344। আইএসবিএন 9781588394347 
  8. Sarkar, J N (১৯৯২)। "Chapter IV: Early Rulers of Koch Bihar"। The Comprehensive History of Assam। Assam Publication Board। পৃষ্ঠা 46। 
  9. "But the rule of the Muslims was short. The Bhuyans made a united attack on Daniel's garrison and destroyed it to the last man."(Baruah 1986)