লিচু

উদ্ভিদের প্রজাতি

লিচু বা লেচু (বৈজ্ঞানিক নাম Litchi chinensis) সেপিন্ডাসিয়া পরিবারের লিচি গণের একমাত্র সদস্য। এটা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের রসালো ফল

লিচু
Lychee
Litchi chinensis
Lychee (লিচু) of Rajshahi, Bangladesh, by Nakib Ahmed.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: উদ্ভিদ
(শ্রেণীবিহীন): সপুষ্পক উদ্ভিদ
(শ্রেণীবিহীন): য়ুদিকোটস
(শ্রেণীবিহীন): রোজিডস
বর্গ: সেপিন্ডালেস
পরিবার: সেপিন্ডাসিয়া
উপপরিবার: সেপিন্ডোইডা
গণ: লিচি
Sonn.
প্রজাতি: এল. কিনেন্সিস
দ্বিপদী নাম
লিচি কিনেন্সিস
Sonn.[১]


বাংলাদেশে ও ভারতের এটি গ্রীষ্মকালীন ফল এবং এখানে ফেব্রুয়ারিতে এর মুকুল আসে ও ফল সাধারনত মে মাসের দিকে পাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ,মালদা ও দিনাজপুর জেলায় প্রচুর পরিমাণে লিচু চাষ হয় এবং বাংলাদেশের সব স্থানেই লিচু হয়, তবে উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, রাজশাহী, নাটোর[২], মেহেরপুর, মাগুরা, মৌলভীবাজার ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা[৩] অঞ্চলে এর ভাল ফলন হয়। ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত মুর্শিদাবাদ থানার নতুনগ্রামের লিচু স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় , বেদানা লিচু সুস্বাদের জন্য বিখ্যাত। তাছাড়া চায়না ৩ লিচু বাংলাদেশের জনপ্রিয় জাতের লিচু।


লিচুর বীজের মধ্যে মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল গ্লাইসিন থাকে যা গ্লুকোজ স্বল্পতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে অপুষ্টিতে ভোগা ভারতীয় বা ভিয়েতনামীজ শিশুদের যারা লিচু খায় তাদের মধ্যে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এঞ্চেফ্যালোপ্যাথি, যা মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ফেলে। এর কারনে তাদের মৃত্যু ঘটার ইতিহাস রয়েছে।

বিবরণসম্পাদনা

লিচু একটি চির সবুজ গাছ। সাধারনত ১৫ মিটার (৪৯ ফুট) চেয়ে কম লম্বা হয় তবে কখনও কখনও ২৮ মিটার (৯২ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়।


এর পাতাগুলো ১২.৫-২০ সেমি. (৪ থেকে ৮ ইঞ্চি) লম্বা, প্রতিটি পাতায় ৪ থেকে ৮টি পর্যায়ক্রমিক পক্ষাল থাকে, তা উপবৃত্তাকার থেকে ভল্লাকার কিন্তু কচিপাতাগুলো সূচাগ্র। লিচু গাছের পাতা বিবর্তনের কারনে ল্যাউরেছেয়া পরিবারের গাছের পাতার মত একই রকম। বিবর্তনের মাধ্যমে এগাছের পাতা উন্নত বা বিকশিত হয়েছে যা জলকে সরিয়ে দেয়। বাকল কালচে ধূসর এবং শাখাগুলো লালচে বাদামী রঙের।

লিচুর ব্যাস সাধারণত ১-১.৫ ইঞ্চি। গাছ ১০-৩৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট হয়ে থাকে।[৪]

 
লিচু

বিস্তৃতিসম্পাদনা

লিচু হলো সেপিন্ডাসিয়া পরিবারের লিচি গণের একমাত্র সদস্য। এটি নিরক্ষীয় ও উপ-নিরক্ষীয় অঞ্চলে জন্মে থাকে। এর আদি নিবাস চীনে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল সহ বিশ্বের কর্কটক্রান্তিমকরক্রান্তিয় বহু দেশে লিচু চাষ করা হয়।[৫][৬]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Litchi chinensis Sonn."Germplasm Resources Information Network। United States Department of Agriculture। ১৯৯৫-১০-১৭। ২০০৯-০৫-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০১-১৯ 
  2. "নাটোরে প্রতিদিন ৫ কোটি টাকার লিচু কেনাবেচা | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০১ 
  3. Welle (www.dw.com), Deutsche। "ঈশ্বরদীর লিচু | DW | 09.06.2014"DW.COM। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০১ 
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; রোদ্দুরে নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  5. "কৃষি-২২: উন্নত পদ্ধতিতে লিচু চাষ"bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২৬সেপ্টেম্বর২০১১  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  6. "রসাল চায়না লিচু"kalerkantho.comদৈনিক কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৫ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা