মুসলিম লীগের ভাঙ্গন

ভারত ও পাকিস্তানের মুসলিম লীগের ভাঙ্গন

মুসলিম লীগ মূলত নিখিল ভারত মুসলিম লীগ হিসাবে ব্রিটিশ ভারতে একটি মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নিখিল ভারত মুসলিম লীগই ছিল পাকিস্তান আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান প্রতিষ্টিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর এই দলটির মূল উত্তরসূরি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে মুসলিম লীগ (পাকিস্তান)। তবে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ভারতীয় নেতারা ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগ নামে ভারতে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের উত্তরসূরী রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে। মুসলিম লীগ (পাকিস্তান) প্রায় ১১ বছর ধরে পাকিস্তান শাসন করে। কিন্তু পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি হলে জেনারেল আইয়ুব খান মুসলিম লীগ (পাকিস্তান) ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে আইয়ুব খান ১৯৬২ সালে মুসলিম লীগের একাংশ নিয়ে মুসলিম লীগের উত্তরসূরি হিসেবে পাকিস্তান মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি কনভেনশন মুসলিম লীগ এবং কাউন্সিল মুসলিম লীগ নামক দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। কনভেনশন মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনকে সমর্থন করেছিল অন্যদিকে কাউন্সিল মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ আইয়ুব বিরোধী হিসেবে আবির্ভূত হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই মুসলিম লীগ বহু দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে যায়।

প্রথমদিকে ১৯০৬ সালে ভারতবর্ষের মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য গঠিত দলটি তাদের জন্য পৃথক স্বাধীন দেশ অর্জনের লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিল। এর সাফল্য সত্ত্বেও, লীগ দুটি বড় দুর্বলতায় ভুগেছে। একটি করছে সুসংজ্ঞায়িত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির অভাব এবং অন্যটি হচ্ছে একটি শক্তিশালী দলীয় সংস্থার অভাব।

মুসলিম লীগের বিভক্তিসম্পাদনা

পাকিস্তানে একটি অস্থিতিশীল দলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়ার প্রবণতা। কারণ পাকিস্তানের মতো বহু-জাতিগত রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলি গণতন্ত্রের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রাজনৈতিকভাবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী।

১৯৪৯ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক দ্বারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠিত হলে মুসলিম লীগে প্রথম বারের মতো ভাঙ্গন ঘটে। পাকিস্তানে মুসলিম লীগের আধিপত্যের বাঙালি বিকল্প হিসাবে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দলটি পূর্ব পাকিস্তানে দ্রুত জনপ্রিয়তা ও সমর্থন অর্জন করে এবং শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যবাদী চেতনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে বাঙালি জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব দেয়।

পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে মুসলিম লীগের মধ্যেই বিভক্ত হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল। এটি এমন একটি দল যার ভাগ্য অনেকাংশেই দলীয় নেতৃত্ব বা জনগণের চেয়ে বাহিরের প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে লীগের ভাঙ্গা-গড়া প্রতিষ্টিত শক্তির কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিল। সুতরাং আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, মুসলিম লীগ বা এর কোন উপদল কেবল ক্ষমতায় থাকলেই ঐক্যবদ্ধ থাকে। ইদানীং আসিফ আলি জারদারির অধীনে পাকিস্তান পিপলস পার্টি অনেক ক্ষেত্রে পুরানো কনভেনশন মুসলিম লীগের মতো হয়ে উঠেছে।

দল-উপদলসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা