মুজিবুল হক মুজিব

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য

মুজিবুল হক (জন্ম: ৩১ মে, ১৯৪৭) হলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য। তিনি কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) থেকে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য[১] এবং সাবেক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

মুজিবুল হক মুজিব
Mujibul Haque Mujib.jpg
২০১৭-এ কুমিল্লার একটি অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক
মন্ত্রী, রেলপথ মন্ত্রণালয়
কাজের মেয়াদ
১২ জানুয়ারি ২০১৪ – বর্তমান
প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা
পূর্বসূরীসুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
উত্তরসূরীঅদ্যাবধি
কুমিল্লা-১১ আসনের
জাতীয় সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
২০০৮ – বর্তমান
পূর্বসূরীআব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
উত্তরসূরীদায়িত্বরত
কাজের মেয়াদ
১৯৯৬ – ২০০১
উত্তরসূরীআব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মমোঃ মুজিবুল হক
(1947-05-31) ৩১ মে ১৯৪৭ (বয়স ৭২)
কুমিল্লা, বাংলাদেশ
নাগরিকত্বব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী, বাঙালি
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
দাম্পত্য সঙ্গীহনুফা আক্তার রিক্তা
সন্তান
পেশারাজনীতি
ধর্মইসলাম

জন্ম ও শিক্ষাসম্পাদনা

মুজিবুল হক মুজিব ৩১ মে, ১৯৪৭ তারিখে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[২]

তিনি গ্রামের পার্শ্বেই উত্তর পদুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন যা ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এতদ্অঞ্চলের সর্বপ্রাচীন একটি স্কুল এবং সেখানেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। অতঃপর গ্রামের বাড়ি বসুয়ারা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কাশীনগর বসন্ত মেমোরিয়াল (বিএম) হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। এ স্কুল থেকেই তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অতঃপর ১৯৭০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে বি.কম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বি.কম পাসের পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন এবং ঢাকায় সি.এ (চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট) ফার্মে ভর্তি হয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সি.এ কোর্সে লেখাপড়া করেন

রাজনৈতিক জীবনসম্পাদনা

মুজিবুল হক মুজিব হাইস্কুল জীবনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তিনি ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। ছাত্র রাজনীতি শেষে তিনি যুবলীগে যোগ দান করেন। স্বাধীনতার পরে কুমিল্লা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মূল সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব দেন। তিনি কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের যুব সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা (দঃ) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। ২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মত এমপি নির্বাচিত হন। এবং পুনরায় হুইপের দ্বায়িত্ব পান।[২] এছাড়াও তিনি পিটিশন কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণসম্পাদনা

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিএলএফ অর্থাৎ মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে ভূমিকা রাখেন।

জনগণের প্রতিনিধিসম্পাদনা

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিনি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি একই আসনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে ৭ম সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮-২০০১ সালে তিনি মহান জাতীয় সংসদের হুইপ (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন) নিযুক্ত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি ২৫৯ কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে পুনরায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি মহান জাতীয় সংসদের হুইপ (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন) নিযুক্ত হন। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে তার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন এবং তাকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। গত ২১ শে নভেম্বর ২০১৩ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনীত করেন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেন। ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৩ তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্য মনোনীত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোঃ মুজিবুল হক কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) নির্বাচনী এলাকা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ নিয়ে তিনি ৩ বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জানুয়ারি, ২০১৪ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাকে মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনীত করেন এবং পুনরায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। এ নিয়ে তিনি তিনবার মন্ত্রিসভার সদস্য হন।

বৈবাহিক জীবনসম্পাদনা

৬৭ বছর বয়সে দীর্ঘ কুমার জীবনের জীবনের ইতি টেনে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মিরাখলা গ্রামের হনুফা আক্তার রিক্তাকে বিয়ে করেন। তার এই বিয়ে দেশব্যাপী বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি ২০১৬ সালের মে মাসে ৬৯ বছর বয়সে প্রথম কন্যা সন্তানের বাবা হন। ১৫ মে,২০১৮-এ রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে দুই ছেলের জন্ম দেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রী হনুফা আক্তার ।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "১০ম জাতীয় সংসদ সদস্য (মুজিবুল হক)"জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ 
  2. "রেলমন্ত্রী হচ্ছেন মুজিবুল"। দৈনিক যায়যায়দিন। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ 
  3. "রেলমন্ত্রীর ঘরে দুই নতুন অতিথি, এবার যমজ ছেলে"দৈনিক প্রথম-আলো.কম। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৮