ব্রায়ান ইল

নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার

ব্রায়ান উইলিয়াম ইল (ইংরেজি: Bryan Yuile; জন্ম: ২৯ অক্টোবর, ১৯৪১) পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ব্রায়ান ইল
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্রায়ান উইলিয়াম ইল
জন্ম (1941-10-29) ২৯ অক্টোবর ১৯৪১ (বয়স ৭৯)
পালমারস্টোন নর্থ, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৯৫)
২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৩ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট৩০ অক্টোবর ১৯৬৯ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৯/৬০ - ১৯৭১/৭২সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৭ ১২৩
রানের সংখ্যা ৪৮১ ৩৮৫০
ব্যাটিং গড় ১৭.৮১ ২৪.৬৭ ২.০০
১০০/৫০ ০/১ ১/২২ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৬৪ ১৪৬
বল করেছে ২,৮৯৭ ২৪,৫১৫ ৬৪
উইকেট ৩৪ ৩৭৫
বোলিং গড় ৩৫.৬৭ ২১.৮৯ ২৮.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৭
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৪৩ ৯/১০০ ২/৫৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১২/- ৭৩/- ২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ব্রায়ান ইল

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত ব্রায়ান ইলের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে নিউজিল্যান্ড দলের ভিত্তি আনয়ণে সচেষ্ট খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন। ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছিলেন ব্রায়ান ইল। তবে, রবিবাসরীয় অনুষ্ঠানের কারণে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কবলে তার খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানতে হয়।

পালমারস্টোন নর্থ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন ব্রায়ান ইল।[১] বামহাতি স্পিন বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, মাঝারি থেকে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন তিনি। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলেন।

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ওতাগোর বিপক্ষে ৭/৩৬ পান।[২] ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের সদস্যরূপে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে ৯/১০০ লাভ করেন।[৩] পূর্ববর্তী মৌসুমে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ৩/৩৩ ও ৭/৫৪ পান।[৪] ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন। ১৬৮ রানের ঐ ইনিংসটিই তার প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র শতরান সংগ্রহের ঘটনা ছিল। এছাড়াও, ঐ খেলায় তিনি ৬/৬৮ ও ১/১৩ পান।[৫]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সতেরোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ব্রায়ান ইল। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে অকল্যান্ডে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৩০ অক্টোবর, ১৯৬৯ তারিখে লাহোরে স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৯৬৫ ও ১৯৬৯ সালে ইংল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তান যান। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে শেষদিকে অকল্যান্ডে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেড ডেক্সটারের উইকেট লাভ করেন ও নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৬৪ রান তুলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এ সংগ্রহটিই পরবর্তীকালে তার টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ হিসেবে রয়ে যায়।[৬] ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে অকল্যান্ডে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। প্রথম পাঁচজন ব্যাটসম্যানের চারজনকে আউট করেন। ঐ ইনিংসে ৫৪ ওভারে ৪/৪৩ পান।

অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখিসম্পাদনা

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজে অংশ নেন। ২২.১৩ গড়ে ১৫ উইকেট লাভসহ ৪০.৫০ গড়ে ১৬২ রান সংগ্রহ করেন। প্রথম খেলায় নিউজিল্যান্ড দল সফরকারীদেরকে প্রথমবারের মতো পরাজিত করেন। এ পর্যায়ে তিনি ৫/৬২ ও ২/৫৭ পান এবং ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৮ ও ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।[৭]

১৯৬৯ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬৩.৮৩ গড়ে ৩৮৩ রান তুলে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন। তবে, তাকে কোন টেস্টের জন্যে মনোনীত করা হয়নি। তার পরিবর্তে হ্যাডলি হাওয়ার্থকে স্পিন আক্রমণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।[৮]

১৯৬৯ সালের এ সফরে দলীয় সঙ্গী ব্রুস মারেভিক পোলার্ডের সাথে তিনিও ধর্মীয় কারণে রবিবারে ক্রিকেট খেলতেন না। ১৯৬০-এর দশকের শেষার্ধ্ব থেকে ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে রবিবারে খেলা হবার প্রচলন ঘটলে তার খেলোয়াড়ী জীবনকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলতে হয়।[৯] হকস বে রিজিওনের ওয়াইরোয়ায় সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Spinners bowling through full circle after 49 years"Stuff.co.nz। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  2. "Central Districts v Otago 1962-63"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  3. "Central Districts v Canterbury 1965–66"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৬ 
  4. "Central Districts v Northern Districts 1964–65"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৬ 
  5. "Central Districts v Canterbury 1967–68"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৬ 
  6. "New Zealand v England, Auckland 1962-63"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  7. A. G. Wiren, "Australians in New Zealand, 1967", Wisden 1968, pp. 875-88.
  8. R.T. Brittenden, "New Zealanders in England, 1969", Wisden 1970, pp. 316–42.
  9. Appleby, Matthew। "Vic Pollard – the captain who might have been"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৬ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা