প্রধান মেনু খুলুন

হিন্দু পুরাণ অনুসারে, পুলস্ত্য (তামিল: புலத்தியர், সংস্কৃৃত: पुलस्त्य) ছিলেন ব্রহ্মার দশ মানষপুত্র তথা দশ প্রজাপতির একজন৷[২] আবার তিনিই ছিলেন প্রথম মন্বন্তরের সপ্তর্ষির (সাতজন মহাঋষি) একজন৷[৩]

পুলস্ত্য
হিন্দু পুরাণের চরিত্র
তথ্য
পরিবারব্রহ্মা (পিতা)
দাম্পত্য সঙ্গীমানিনী (হাবির্ভূ নামেও পরিচিতা)[১]
সন্তানবিশ্রবা, অগস্ত্য মুনি, রাক্ষসগণকিন্নরগণ

মহাভারত অনুসারে, রাক্ষসকুল এবং কিন্নরকুল উভয়ই ছিলে মুনি পুলস্ত্যেরই সন্তান৷

পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসম্পাদনা

শ্রীলঙ্কার পোলোনারুয়া অঞ্চলে মাটি খনন করে গ্রানাইট পাথরের তৈরী একটি মানবমূর্ত্তি পাওয়া যায়৷ প্রাথমিক ভাবে ঐতিহাসিকগণ মূর্তিটিকে প্রথম পরাক্রমবাহু বলে আন্দাজ করলেও পরে তা পুলস্ত্য মুনির মূর্তি বলে অনুমান করা হয়৷ এই মূর্তির যে রাজা পরাক্রমবাহুর নয়, তা অধ্যাপক সেনারথ পরাণবিতান প্রমাণ করেন৷ এটি ছাড়া পুলস্ত্য মুনর অন্যকোনো মূর্তি, খোদাই, চিত্র বা কারুকার্য সিংহল দ্বীপে এখনো অবধি পাওয়া যায় নি৷

পৌরাণিক সাহিত্যে উল্লেখসম্পাদনা

তাঁর উদ্যোগেই বেশ কিছু পুরাণ মানবসার্থে রচিত হয়েছিলো এবং তা মানবকুলের সংযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছিলো৷[৪] তিনি প্রজাপতি ব্রহ্মার থেকে বিষ্ণুর কাহিনী বিষ্ণুপুরাণ সংগ্রহ করেন এবং তা পরাশর মুনিকে শ্রুতিস্বরূপ শোনান৷ তিনি তাঁকে(পরাশর) পুরাণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান মানবকল্যাণে ব্যবহার করার আদেশ দেন৷

তার পুত্র ছিলন ঋষি বিশ্রবা এবং বিশ্রবাপুত্র অর্থাৎ তাঁর পৌত্ররা ছিলেন ধনদেবতা কুবের এবং রামায়ণে প্রধান খলচরিত্র রাবণ ইত্যাদি৷ যক্ষরাও পুলস্ত্য মুনির ঔরসজাত বলে মনে করা হয় পুলস্ত্য মুনি ঋষি কর্দমের নবকন্যার মধ্যে একজনকে পত্নী হিসাবে গ্রহণ করেন, যিনি হবির্ভূ নামে পরাচিত ছিলেন৷ পুলস্ত্যপুত্র বিশ্রবার দুই পত্নী ছিলেন যথা দেববর্ণিনী এরং নিকষা৷ দেববর্ণিনীর পুত্র কুবের হলেন ধনদেবতা এবং নিকষা পুত্র রাবণ, কুম্ভকর্ণবিভীষণ ছিলেন রাক্ষস এছাড়া তাঁর শূর্পণখা নামে একটি রাক্ষসী কন্যাও ছিলো৷

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "History of Kubera"। Manuscrypts। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১১ 
  2. Kisari Mohan Ganguli (1883 - 1896)। "The Mahabharata"। Sacred texts। 
  3. Inhabitants of the Worlds Mahanirvana Tantra, translated by Arthur Avalon, (Sir John Woodroffe), 1913, Introduction and Preface. The Rishi are seers who know, and by their knowledge are the makers of shastra and "see" all mantras. The word comes from the root rish Rishati-prapnoti sarvvang mantrang jnanena pashyati sangsaraparangva, etc. The seven great Rishi or saptarshi of the first manvantara are Marichi, Atri, Angira, Pulaha, Kratu, Pulatsya, and Vashishtha. In other manvantara there are other saptarishi. In the present manvantara the seven are Kashyapa, Atri, Vashishtha, Vishvamitra, Gautama, Jamadagni, Bharadvaja. To the Rishi the Vedas were revealed. Vyasa taught the Rigveda so revealed to Paila, the Yajurveda to Vaishampayana, the Samaveda to Jaimini, Atharvaveda to Samantu, and Itihasa and Purana to Suta. The three chief classes of rishi are the Brahmarshi, born of the mind of Brahma, the Devarshi of lower rank, and Rajarshi or Kings who became rishi through their knowledge and austerities, such as Janaka, Ritaparna, etc. Thc Shrutarshi are makers of Shastras, as Sushruta. The Kandarshi are of the Karmakanda, such as Jaimini.
  4. John Dowson (৫ নভেম্বর ২০১৩)। A Classical Dictionary of Hindu Mythology and Religion, Geography, History and Literature। Routledge। পৃষ্ঠা 244–। আইএসবিএন 978-1-136-39029-6