পদ (ব্যাকরণ)

আরর

ব্যাকরণে, পদ (শব্দ বর্গ , আভিধানিক বর্গ অথবা আভিধানিক বিষয়শ্রেণী) হচ্ছে একটি ভাষার ভাষাগত বিভাগ যা সেই ভাষার বাক্যের নির্মাণ পদ্ধতি এবং শব্দের সনাক্তকরণ, বিশ্লেষণ, এবং অন্যান্য ভাষাগত গঠনের বর্ণনা করে। বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকেই এমন ভাবে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়, যার জন্য প্রতিটি শব্দের মধ্যে সম্পর্ক এবং তাদের অর্থ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন ভাষায় বিশেষ্য ও ক্রিয়া প্রায়শ ব্যবহৃত পদ। কিন্তু এর পরেও বিভিন্ন ভাষায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আছে। উদাহরণস্বরূপ, জাপানিতে তিন প্রকারের পৃথক বিশেষণ পদ আছে। সেই তুলনায় বাংলা ও ইংরেজিতে বিশেষণের কোনো পার্থক্য নেই।

বাংলা শব্দ শ্রেণি :

বাংলা ব্যাকরণে পদ মূলত ২ প্রকার হলেও সাধারণ ভাবে পদ ৫ প্রকার। কিন্তু প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে পদ ৮ প্রকার। পদ মুলত ২ প্রকার: ১.সব্যয় পদ ও ২.অব্যয় পদ সব্যয় পদ আবার চার প্রকার: ২.বিশেষ্য ২.বিশেষণ ৩.সর্বনাম ও ৪.ক্রিয়া। অতএব পদ মুলত ৫ প্রকার।যথা: ১.বিশেষ্য ২.বিশেষণ ৩.সর্বনাম ৪.ক্রিয়া ও ৫.অব্যয়।

কিন্তু সাধারন ব্যাকরণিক শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী অব্যয় পদটি একাধিক ভুমিকা পালন করে।

পদান্বয়ী অব্যয় অনুসর্গ রুপে কাজ করে,সমচ্চয়ী অব্যয় পদটি সংযোজক হিসেবে কাজ করে এবং অনন্বয়ী অব্যয় পদটি আবেগবাচক শব্দের ভুমিকা পালন করে।আবার ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষণের একটি অংশ মনে করা হয়।কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ  আলাদা শব্দ  হিসেবে ব্যবহৃত  হওয়ার যোগ্যতা রাখে।তাই,প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে শব্দ আট প্রকার।যথা:

১.বিশেষ্য ২.বিশেষণ ৩.সর্বনাম ৪.ক্রিয়া ৫.ক্রিয়া বিশেষণ ৬.আবেগ ৭.সংযোজক ৮.অনুসর্গ

                           ১.বিশেষ্য

বিশেষ্য অর্থ নাম।কোন কিছুর নামকে বিশেষ্য বলে।যেমন কোন ব্যক্তি,বস্তু,স্থান,জাতি,সমষ্টি,কর্ম বা গুনের নাম। উদাহরণ স্বরূপ: কাজী নকরুল,ইতালি,লোহা,পানি,মধুরতা,দর্শন,সেনাবাহিনী, পুলিশ,লাইব্রেরী ইত্যাদি

                            ২.সর্বনাম 

বিশেষ্যের পরিবর্তে যা ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম বলে।যেমন:সে,ওই,কোথায় ইত্যাদি।

                            ৩.বিশেষণ

বিশেষণ বিশেষ্য,সর্বনাম ও ক্রিয়াকে বিশেষিত করে।যেমন:তাজা মাছ,সাদা গোলাপ,কলো পানি,দুই বিঘা,বেলে মাটি,প্রথম ইত্যাদি

                              ৪.ক্রিয়া 

যা দ্বারা কাজ করা বুঝায় তাকে ক্রিয়া বলে।যেমন:খাওয়া,চলা,খেলা ইত্যাদি।

                         ৫.ক্রিয়া বিশেষণ 

যা ক্রিয়ার ভাব,কাল বা সময়কে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।যেমন:ধীরে বাতাস বায়

                              ৬.আবেগ

যে শব্দ দ্বারা দুঃখ,কষ্ট,আনন্দ ইত্যাদি প্রকাশ হয়ে থাকে তাকে আবেগ শব্দ বলে।যেমন:আহ!ওহ!আচ্ছা! ইত্যাদি।

                             ৭.সংযোজক

সংযোজক দুটি শব্দের মধ্যে সংযোগ ঘটায়।যেমন:এবং,আর,কিন্তু ইত্যাদি।

                              ৮.অনুসর্গ

যা কোন শব্দের পরে বসে তাকে অনুসর্গ বলে ।যেমন:বনাম,সঙ্গে ইত্যাদি

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা