পদাশ্রয়ী নির্দেশক

যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে পদাশ্রয়ী নির্দেশক, বা সংক্ষেপে নির্দেশক বলে।[১]

বাংলা ব্যাকরণের কিছু উল্লেখযোগ্য নির্দেশক হলো:

  • -টা, -টি: বিশেষ্য, সর্বনামবিশেষণের সঙ্গে '-টা', '-টি' নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: '-টো' ও '-টে'। যেমন: বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা, দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি, দুটো, তিনটে ইত্যাদি।
  • -খানা, -খানি: বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-খানা', '-খানি' নির্দেশক বসে। যেমন: ব্যাপারখানা, ভাবখানা একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি। যেসব ক্ষেত্রে '–টা' বা '-টি' বসে, সেসব ক্ষেত্রে খানা বা খানি বসতে পারে। যেমন, বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।
  • -জন: শুধু মানুষের বেলায় '-জন' নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন – বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন৷ সংখ্যার সঙ্গেও জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন – একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি। অধিক সংখ্যার বেলায় '-জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে। যেমন: পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।
  • -টুকু: '-টুক' নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: '-টু' বা 'টুক'। যেমন: সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু আধটু যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ