নুসরাত ফাতেহ আলী খান

পাকিস্তানি সঙ্গীতশিল্পী, প্রাথমিকভাবে কাওয়ালির গায়ক (1948-1997)

উস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলি খান (অক্টোবর ১৩, ১৯৪৮ - আগস্ট ১৬, ১৯৯৭), (উর্দু: نصرت فتح علي خان‎‎) পাকিস্তানের কিংবদন্তিতুল্য সঙ্গীত শিল্পী, বিশেষ করে ইসলামের সুফিবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ আধ্যাত্বিক সঙ্গীত কাওয়ালির জন্য বিশ্বনন্দিত। তার অসাধারণ কণ্ঠের ক্ষমতার জন্য তাকে রেকর্ডকৃত কণ্ঠে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১][২][৩][৪] এবং তিনি একটানা কয়েক ঘণ্টাযাবত একই তালে কাওয়ালি পরিবশেন করতে পারেন। প্রায় ৬০০ বছরের পারিবারিক কাওয়ালি ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠে, তিনি কাওয়ালি সঙ্গীতকে বিশ্বসঙ্গীতে পরিণত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।[৫] তিনি শাহেন শাহকাওয়ালি, যার অর্থ কাওয়ালির রাজাদের রাজা, হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।[৬]

নুসরাত ফাতেহ আলী খান
নুসরাত ইংল্যান্ডের রয়েল আলবার্ট হলে কাওয়ালি পরিবেশন করছেন
প্রাথমিক তথ্য
জন্মনামপারভেজ ফাতেহ আলী খান
উপনামএনএফএকে, খান সাহেব, শাহেন শাহকাওয়ালি
জন্ম(১৯৪৮-১০-১৩)১৩ অক্টোবর ১৯৪৮
ফয়সালাবাদ, পাঞ্জাব, পাকিস্তান
মৃত্যু১৬ আগস্ট ১৯৯৭(1997-08-16) (বয়স ৪৮)
লন্ডন, যুক্তরাজ্য
ধরনকাওয়ালি, গজল, ফিউশন
পেশাসুরকার
বাদ্যযন্ত্রভোকাল, হারমোনিয়াম, তবলা
কার্যকাল১৯৬৫–১৯৯৭
লেবেলরিয়েল ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস, ওরিয়েন্টাল স্টার এজেন্সিস, ইএমআই, ভার্জিন রেকর্ডস

জীবনী সম্পাদনা

প্রাথমিক জীবন সম্পাদনা

নুসরাত ১৯৪৮ সাল ফয়সালাবাদের এক পাঞ্জাবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফতেহ আলী খান, একজন সংগীততত্ত্বিক, গায়ক, বাদক, এবং কাউয়াল, এর পঞ্চম সন্তান এবং ছেলে সন্তানদের মধ্যে প্রথম পুত্র সন্তান। খান পরিবার, যেখানে চার বড় বোনসহ এক ছোট ভাই ফররুখ ফতেহ আলী, কেন্দ্রীয় ফয়সালাবাদে বেড়ে উঠে। প্রথমদিকে, তার পিতা চাননি যে নুসরাত পারিবারিক পেশায় আসুক। তিনি চেয়েছিলেন নুসরাত অনেক সম্মানিত একটি পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করুক এবং একজন ডাক্তার হন, কারণ তিনি মনে করতেন, কাওয়ালি শিল্পীরা নিম্ন সামাজিক মর্যাদার অধিকারী। যাইহোক, নুসরাত কাওয়ালির প্রতি এমন এক প্রবণতা, এবং আগ্রহ দেখালেন যে তার পিতা অবশেষে নিজের ইচ্ছা ত্যাগ করেন।

কর্মজীবন সম্পাদনা

১৯৮৫ সালের গ্রীষ্মে খান লন্ডনে ওয়ার্ল্ড অফ মিউজিক, আর্টস অ্যান্ড ডান্স (WOMAD) উৎসবে পারফর্ম করেন।[৭] তিনি ১৯৮৫ এবং ১৯৮৮ সালে প্যারিসে অভিনয় করেছিলেন। জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে তিনি ১৮৮৭ সালে প্রথম জাপান সফর করেন। তিনি জাপানে ৫ তম এশিয়ান ঐতিহ্যবাহী পারফর্মিং আর্ট ফেস্টিভালে পারফর্ম করেন।[৮] এছাড়াও তিনি ১৯৮৯ সালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন একাডেমি অফ মিউজিক-এ পারফর্ম করেন, আমেরিকান শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন করেন।[৯]

খান, তার কর্মজীবন জুড়ে, আলম লোহার, নুর জাহান, এ.আর. রহমান, আশা ভোঁসলে, জাভেদ আখতার এবং লতা মঙ্গেশকরের মতো দক্ষিণ এশিয়ার অনেক শিল্পীর সাথে কাজ করেছেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ শিক্ষাবর্ষে, খান ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন, সিয়াটেল, ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এথনোমিউজিকোলজি বিভাগের একজন ভিজিটিং শিল্পী ছিলেন।[১০]

সংগীতজীবন সম্পাদনা

পুরস্কার ও সম্মাননা সম্পাদনা

ডিস্কোগ্রাফি সম্পাদনা

  • ১৯৮৮: ইন কনসার্ট ইন প্যারিস, ভয়েল ১
  • ১৯৮৮: সাহিন-শাহ রিয়েল ওয়ার্ল্ড/সিমা
  • ১৯৯০: মাস্ত মাস্ত রিয়েল ওয়ার্ল্ড/সিমা মাইকেল ব্রুক এর সাথে
  • ১৯৯১: Magic Touch OSA.
  • ১৯৯১: শাহবাজ রিয়েল ওয়ার্ল্ড/সিমা

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "World Music Legends Nusrat Fateh Ali Khan"। Globalrhythm.net। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  2. "Nusrat Fateh Ali Khan: National Geographic World Music"। Worldmusic.nationalgeographic.com। ১৭ অক্টোবর ২০০২। ২০ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১২ 
  3. Ghulam Haider Khan (৬ জানুয়ারি ২০০৬)। "A Tribute By Ustad Ghulam Haider Khan, Friday Times"। Thefridaytimes.com। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "Guru of Peace:An Introduction to Nusrat Fateh Ali Khan" 
  5. "Nusrat Fateh Ali Khan"। Worldmusic.nationalgeographic.com। ১৭ অক্টোবর ২০০২। ১৪ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  6. Hommage à Nusrat Fateh Ali Khan ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে (liner notes by Pierre-Alain Baud), 1999, Network, Germany.
  7. "Nusrat Fateh Ali Khan – The 7th Fukuoka Asian Culture Prizes 1996__Arts and Culture Prize"Asianmonth.com। ৭ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১২ 
  8. "Nusrat Online Blog | Nusart Fateh Ali Khan – Live At National Theatre Tokyo, 1987 Part 1"Nusratonline.com (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০১-৩১ 
  9. Manheim (২০০১)। Michel Andre Bossy; Brothers, Thomas; McEnore, John C., সম্পাদকগণ। Lives and Legacies: Artists, Writers, and Musicians। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 105আইএসবিএন 978-1573561549 
  10. "Official biography, University of Washington"Music.washington.edu। ১৬ আগস্ট ১৯৯৭। ২১ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১১ 

বহি:সংযোগ সম্পাদনা