নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ

বাংলার সুলতান

নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ (শাসনকাল:১৪৩৫-১৪৫৯) ছিলেন বাংলার একজন সুলতান। তিনি ছিলেন বাংলার সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহর বংশধর। ১৪৩৫ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর তিনি নাসিরুদ্দিন আবুল মুজাফ্ফর মাহমুদ শাহ উপাধি গ্রহণ করেন। তার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ২০ বছরের মধ্যে তার রাজবংশ ক্ষমতাচ্যুত হয়।

ইতিহাসসম্পাদনা

তার রাজত্বের সময় জৈনপুরের শারকি সুলতানরা দিল্লির লোদী সুলতানদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।[১] এই ঘটনার সময় নাসিরুদ্দিনের রাজ্য ছিলো শান্ত। তিনি এ সময়টা তার রাজ্যের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাটান। এছাড়াও তিনি বাংলার সামরিক বাহিনীর মনোবল পুনোরাদ্ধারে সমর্থ হন। ঔতিহাসিক নাজিমুদ্দিন আহমেদ ও ফিরিস্তারমতে নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ ছিলেন একজন আদর্শ সুলতান। অন্য আরেকজন ঔতিহাসিক গোলাম হোসাইন সেলিমের মতে তিনি তার ভালো প্রশাসনিক দক্ষতার বলে পূর্বের সুলতান শামসুদ্দিন আহমেদ শাহর রেখে যাওয়া ভঙ্গুর প্রশাসন পূণ:র্গঠিত করেন। নাসিরউদ্দিন ১৪৫৯ সালে ২৪ বছর রাজ্য শাসন করার পর মৃত্যুবরণ করেন।[২]

শাসিত এলাকাসম্পাদনা

তার রাজত্বের সময় খান জাহান আলী, খুলনাযশোর জয় করেন। বিভিন্ন মুদ্রায় পাওয়া তথ্য মতে, নাসিরুদ্দিনের রাজ্য ভাগলপুর থেকে পশ্চিমে, পূর্ব থেকে ময়মনসিংহসিলেট, উত্তরে গৌড় ও পাণ্ডুয়া এবং দক্ষিণে হুগলি পর্যন্ত তার রাজ্য বিস্তৃত ছিলো।[১]

ইসলামের প্রসারসম্পাদনা

খান জাহান আলীর সহযোগিতায় তিনি বাংলার বিভিন্ন অংশে মুসলমানদের বসতি স্থাপনে সাহায্য করেন। তারা মসজিদ, পানি উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন ধরনে খনন যেমন, খাল, কুপ ইত্যাদি এবং এরকম আরো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণ করেন। তার রাজত্বের সময়কার কিছু উল্লেখযোগ্য মসজিদ হলো:

  • ষাট গম্বুজ মসজিদ- খান জাহান আলী কর্তৃক স্থাপিত হয়।
  • ১৪৪৩ সালে জঙ্গিপুরের সরফরাজ খান মুর্শিদাবাদ জেলায় দুটি মসজিদ নির্মাণ করেন।
  • ১৪৫৫ সালে গৌড়তে হিলালি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।
  • ১৪৫৫ সালে ঢাকায় বখত বিনাত বিবি নামে একজন মহলি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন যা বিনাতি বিবির মসজিদ নামে পরিচিত।
  • ১৪৪৬ সালে ভাগলপুরে খুর্শিদ খান একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।[১]

এছাড়াও বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজার ও আল্লামা হযরত পানদুয়ার মাজার তার সময়কালেই নির্মাণ করা হয়। তিনি নিজে গৌড়তে নগরদুর্গ ও প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এগুলোর ছাড়াও পাথরের পাঁচ-তীরুদাজ সেতু, যা দুর্গের প্রধান বেষ্ঠনির অংশ ও কতোয়ালী দরজা তিনিই নির্মাণ করেন।[১]

নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ
পূর্বসূরী
শামসউদ্দিন আহমাদ শাহ
বাংলার শাসকগণ
১৪৩৫–১৪৫৯
উত্তরসূরী
রুকনউদ্দিন বারবাক শাহ

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ABM Shamsuddin Ahmed, Nasiruddin Mahmud Shah ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে, Banglapedia: The National Encyclopedia of Bangladesh, Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka, Retrieved: 2011-04-27
  2. KingListsFarEast